বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

জ্বালানি সংকটে ভোমরা বন্দরে ট্রাক সংকট, পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকটে ভোমরা বন্দরে ট্রাক সংকট, পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল
ইব্রাহিম খলিল : জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে দেখা দিয়েছে পরিবহন সংকট। ডিজেলের স্বল্পতার কারণে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল, বাড়ছে ট্রাকভাড়া ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাক পণ্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত, বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০টিতে নেমে এসেছে। দূরপাল্লার ট্রাকগুলো সময়মতো ফিরতে না পারায় পরিবহন ব্যবস্থায় ধীরগতি তৈরি হয়েছে। ফলে বন্দরে খালাস হওয়া পণ্য সময়মতো সরানো যাচ্ছে না এবং পণ্যের স্তূপ জমে থাকছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক রিপন হোসেন বলেন, দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রান্সপোর্টগুলো ঠিকমতো গাড়ি দিতে পারছে না। অল্প কিছু গাড়ি দেওয়া হলেও অনেক সময় সেগুলো মাঝপথে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের দিকে যতগুলো গাড়ি পাঠাচ্ছি, তার অর্ধেক পথেই গিয়ে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। সাতক্ষীরা থেকে স্বল্প পরিমাণ তেল নিয়ে গাড়ি ছাড়লেও তা গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না। ফলে মাল দেরিতে পৌঁছাচ্ছে এবং কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাল দেরিতে পৌঁছানোর কারণে অনেক পার্টি কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত কেটে নিচ্ছে। এতে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি। জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে আমাদের ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সাতক্ষীরা ভোমরা ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদিন কিরণ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাকভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, আগে এক ট্রাক মাল ঢাকায় পৌঁছাতে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা খরচ হতো। বর্তমানে সেই খরচ বেড়ে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে আমরা ট্রাক পাঠাতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলে তেল সংকট তীব্র হওয়ায় এসব রুটে ট্রাক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তেল সংকটের কারণে তিন থেকে চার দিন পরপর একটি করে ট্রাক ভোমরায় ঢুকছে। অনেক সময় ফল, আদা ও অন্যান্য কাঁচামাল রাস্তায় তেল ফুরিয়ে পড়ে থাকছে, বলেন তিনি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বন্দরে খালাস হওয়া বিপুল পরিমাণ পণ্য ট্রাকের অভাবে সময়মতো সরানো যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত সময়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ট্রাকচালক বাবু বলেন, ভোমরা থেকে মাল নিয়ে বাইরে গেলে অনেক জায়গায় তেল পাওয়া যায় না। এতে আমাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়ও কমে যাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক। আরেক ট্রাকচালক সুমন হোসেন বলেন, আগে যেখানে দুই দিনে একটি ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন সেখানে এক সপ্তাহেও একটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, গতকাল রাতে পাম্পে সিরিয়াল দিয়েছি, দুপুর হয়ে গেছে তবুও তেল পাইনি। কখন পাব, তারও নিশ্চয়তা নেই।
ট্রাকচালক আশিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় ঠিকমতো খাওয়া-ঘুমও হচ্ছে না। তিনি বলেন, আগে চট্টগ্রাম ঘুরে আসতে প্রায় ১৮০ লিটার তেল লাগত। এখন অল্প অল্প করে তেল নিতে নিতে মোট প্রায় ২১০ লিটার পর্যন্ত লাগছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পচনশীল পণ্য। সময়মতো পরিবহন না হওয়ায় কাঁচামরিচ, আদা, ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, ভোমরা স্থলবন্দর এখন পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজে রূপান্তর হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা নানা সুবিধা পাচ্ছেন এবং বাণিজ্য কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ঠিক এ সময় জ্বালানি সংকট আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পরিবহন সংকটের কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে সরকারকে বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বন্দরের কার্যক্রমে আরও স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।

Ads small one

দুই প্রজন্মের পাঠশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
দুই প্রজন্মের পাঠশালা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

শিক্ষা শুধু পাঠ্যবই শেষ করা কিংবা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার নাম নয়। শিক্ষা মানুষের ভেতরে বিবেক, মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস ও মানবিকতা তৈরি করে। আর সেই মানুষ তৈরির কাজে শিক্ষকের ভূমিকা অনন্য। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষক–শিক্ষার্থী সম্পর্কেও এসেছে বড় পরিবর্তন। সেই পরিবর্তন আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, সেটিই এখন ভাবার বিষয়।

 

একজন প্রবীণ শিক্ষক রফিকুল স্যার। বয়স আশির কোঠায়। শরীর নুয়ে গেছে, কিন্তু চোখে এখনো শিক্ষকের সেই মমতা। একদিন তাঁর পুরোনো ছাত্র মিজান দেখা করতে এলেন।  মিজান এখন নিজেও একজন কলেজ শিক্ষক। মিজানকে দেখে বৃদ্ধ শিক্ষকের চোখ ভিজে উঠল। কথায় কথায় ফিরে এল বহু বছর আগের স্মৃতি। মিজান তখন পড়াশোনায় দুর্বল ছিলেন। রফিকুল স্যার শুধু শ্রেণিকক্ষে পড়িয়ে দায়িত্ব শেষ করেননি। বাড়িতে গিয়ে পড়িয়েছেন, প্রয়োজন হলে খাতা-কলম কিনে দিয়েছেন, অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেছেন। অর্থাৎ শিক্ষক তখন শুধু শিক্ষক ছিলেন নাÑছিলেন অভিভাবক, পরামর্শদাতা এবং কখনো কখনো পরিবারের একজন আপনজন।

 

কিন্তু সময় বদলেছে। মিজানের ছেলে তানভীর এখন কলেজে পড়ে। দাদার মতো শ্রদ্ধেয় সেই শিক্ষককে দেখে সে-ও শিক্ষকতা সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা জানায়। তার কথায় উঠে আসে নতুন বাস্তবতাÑশিক্ষকরা পড়ান, কিন্তু অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীর জন্য সময় থাকে না। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে কখনো বলা হয়, ‘কোচিংয়ে এসো।’ এই ছোট্ট কথোপকথনের মধ্যেই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তনের ছবি ফুটে ওঠে।

 

একসময় শিক্ষক–শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ভিত্তি ছিল শ্রদ্ধা, স্নেহ, বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা। এখন অনেক ক্ষেত্রে সেখানে যুক্ত হয়েছে ফলাফল, প্রতিযোগিতা, নম্বর, ভর্তি পরীক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনের বাস্তবতা। তবে অতীতকে পুরোপুরি আদর্শ আর বর্তমানকে পুরোপুরি খারাপ হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরে যাওয়া যাবে না। আগের সময়ের শিক্ষাব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা ছিল। আজকের শিক্ষকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি চাপের মধ্যে কাজ করেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, পাঠ্যসূচি বিস্তৃত হয়েছে, মূল্যায়ন ব্যবস্থা জটিল হয়েছে, প্রশাসনিক দায়িত্ব বেড়েছে।

 

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনও শিক্ষকদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়Ñশিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর জন্য সময়ই না পান, তাহলে শিক্ষা কতটা পূর্ণতা পাবে? বাংলাদেশে শিক্ষার সবচেয়ে বড় সংকট হয়তো অবকাঠামোর ঘাটতি নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা কেন দেওয়া হচ্ছে, সেই দর্শনের সংকট। আমরা শিক্ষাকে ক্রমেই পরীক্ষাকেন্দ্রিক করে ফেলছি। শিশুর হাতে বই দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে ফলাফল ও প্রতিযোগিতার চাপও তুলে দিচ্ছি।

 

শিক্ষার্থীর প্রশ্ন করার আনন্দ, নতুন কিছু আবিষ্কারের আগ্রহ কিংবা ভুল থেকে শেখার সুযোগের চেয়ে নম্বর বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে শিখছেÑ‘কত নম্বর পেলাম?’ কিন্তু সে হয়তো জানতে পারছে নাÑ‘আমি কী শিখলাম?’ এখানেই শিক্ষকতার প্রকৃত চ্যালেঞ্জ। একজন শিক্ষক শুধু গণিতের সূত্র, বিজ্ঞানের সংজ্ঞা, ইতিহাসের সাল কিংবা ব্যাকরণের নিয়ম শেখাবেনÑএতেই তাঁর দায়িত্ব শেষ নয়। তিনি শেখাবেন কীভাবে ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করতে হয়। কীভাবে ভিন্নমতকে সম্মান করতে হয়। কীভাবে অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে হয়। কীভাবে নিজের সাফল্যের পাশাপাশি অন্যের প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিতে হয়। একটি ভালো শিক্ষকতা একজন শিক্ষার্থীর পুরো জীবনকে বদলে দিতে পারে। বাংলাদেশে এমন শিক্ষকের অভাব নেই।

 

প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষক সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময় দেন। দরিদ্র শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ান, ঝরে পড়া ঠেকাতে পরিবারকে বোঝান, মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। তাঁদের অবদান কোনো পরীক্ষার ফলাফলের তালিকায় ধরা পড়ে না। অথচ দেশের মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম। সমস্যা হচ্ছে, এই মানবিক শিক্ষকতার জায়গাটি অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। একজন শিক্ষককে যদি কেবল পাঠ্যসূচি শেষ করা এবং পরীক্ষার ফল ভালো করার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই ফলাফলকেন্দ্রিক হয়ে উঠবেন। কিন্তু শিক্ষকের মূল্যায়নে যদি শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা, সৃজনশীলতা, সহমর্মিতা এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও গুরুত্ব পায়, তাহলে শিক্ষকতার পরিধিও বদলাবে। এখানে অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।

 

অনেক অভিভাবক সন্তানের সাফল্যকে শুধু পরীক্ষার নম্বর দিয়ে বিচার করেন। সন্তান প্রথম হয়েছে কি না, জিপিএ কত, ভর্তি পরীক্ষায় কোথায় সুযোগ পেয়েছেÑএসব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু সন্তান কেমন মানুষ হচ্ছে, তার মধ্যে সহমর্মিতা আছে কি না, সে অন্যকে সম্মান করতে শেখেছে কি নাÑএসব প্রশ্ন অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। শিক্ষার উদ্দেশ্য যদি মানুষ তৈরি করা হয়, তাহলে পরিবার ও বিদ্যালয়কে একই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোচিংনির্ভরতা। অতিরিক্ত কোচিং যখন শ্রেণিকক্ষের বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়, তখন শিক্ষার মূল প্রতিষ্ঠানই দুর্বল হয়ে পড়ে। কোচিং থাকবে কি থাকবে নাÑএই বিতর্কের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কেন একজন শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের বাইরে অতিরিক্ত নির্ভরতার প্রয়োজন অনুভব করছে? শ্রেণিকক্ষে যদি পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা, প্রশ্ন করার সুযোগ এবং ব্যক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এর জন্য শিক্ষকদের ওপর শুধু দায় চাপালে চলবে না। তাঁদের প্রয়োজন পর্যাপ্ত সময়, প্রশিক্ষণ, সম্মানজনক কর্মপরিবেশ এবং বাস্তবসম্মত দায়িত্ববণ্টন।

 

আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিও বড় পরিবর্তন এনেছে। একজন শিক্ষার্থী এখন কয়েক সেকেন্ডে বিশ্বের নানা প্রান্তের তথ্য পেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইন শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্টÑসবই শিক্ষার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। কিন্তু তথ্য পাওয়া আর জ্ঞান অর্জন এক বিষয় নয়। ইন্টারনেট তথ্য দিতে পারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উত্তর দিতে পারে; কিন্তু কোন তথ্য সত্য, কোনটি মিথ্যা, কোনটি নৈতিক এবং কোন সিদ্ধান্তটি মানবিকÑসেটি বোঝানোর ক্ষেত্রে একজন ভালো শিক্ষকের প্রয়োজন এখনো অটুট। তাই ভবিষ্যতের শিক্ষককে প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে না; বরং প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে আরও মানবিক শিক্ষক হতে হবে। দুই প্রজন্মের এই গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি এখানেই। রফিকুল স্যার তাঁর ছাত্র মিজানকে শুধু পড়াননি; তিনি তাঁর মধ্যে একজন শিক্ষক হওয়ার বীজ বপন করেছিলেন। মিজান যদি তাঁর নিজের ছাত্রদের মধ্যে সেই একই মানবিকতা ছড়িয়ে দিতে পারেন, তাহলে একটি প্রজন্মের শিক্ষকতা পরবর্তী প্রজন্মে উত্তরাধিকার হিসেবে পৌঁছে যাবে। এটাই শিক্ষার সবচেয়ে সুন্দর উত্তরাধিকার।

 

আমাদের মনে রাখতে হবে, ভালো শিক্ষা মানে শুধু ভালো ফল নয়; ভালো মানুষ তৈরি করাও ভালো শিক্ষার মাপকাঠি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের পুরোনো রূপ হয়তো আর হুবহু ফিরবে না। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, শিক্ষার পদ্ধতি বদলেছে। কিন্তু সম্পর্কের মূল ভিত্তিÑশ্রদ্ধা, বিশ্বাস, স্নেহ ও দায়িত্ববোধÑকেন হারিয়ে যাবে? একজন শিক্ষক যদি তাঁর শিক্ষার্থীর নাম মনে রাখেন, তার সমস্যার কথা শোনেন, ভুল করলে শুধরে দেন এবং সবচেয়ে কঠিন সময়ে বলেনÑ‘তুমি পারবে’, তাহলে সেই শিক্ষার্থী হয়তো বহু বছর পরও সেই শিক্ষককে ভুলবে না।

 

রফিকুল স্যারের মতো শিক্ষকরা তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নন; তাঁরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে একটি প্রশ্নও রেখে যানÑআমরা কি এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারছি, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্যও শিক্ষকের কাছে যেতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হবে।কারণ পাঠশালা বদলাবে, বই বদলাবে, প্রযুক্তি বদলাবে, শিক্ষার পদ্ধতি বদলাবে। কিন্তু একজন শিক্ষকের হৃদয় থেকে শিক্ষার্থীর হৃদয়ে যে আলো পৌঁছে যায়, তার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার ভবিষ্যৎ আধুনিক হোক, কিন্তু তার হৃদয় যেন মানবিক থাকে।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজে আইসিটি ল্যাব উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজে আইসিটি ল্যাব উদ্বোধন

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: ‘ডিজিটাল শিক্ষায় সমৃদ্ধ হোক আগামীর প্রজন্ম’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে শ্যামনগর সরকারি মহসীন ডিগ্রী কলেজে আইসিটি ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে।

সম্প্রতি কলেজে এ আইসিটি ল্যাব উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.এ কে এম আব্দুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য সচিব ড.প্রতাপ কুমার রায়, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মোহাম্মদ আলমোকাররম বিল্লাহ, আইসিটি শিক্ষক রাফজান জানিসহ কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

গত রোববার আইসিটি ল্যাব উদ্বোধনসহ আইসিটি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.এ কে এম আব্দুর রহমান।

কর্মশালায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ল্যাব ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা বলেন শুধু পাঠ্য বই নির্ভর না হয়ে প্রযুক্তি নির্ভর দক্ষতা বাড়ানো এ কর্মশালার উদ্দেশ্য।

প্রথম দিনে ল্যাব ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীরা বলেন আইসিটি শুধু একটি বিষয় নয়, লেখাপড়া থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

৫৮ বছরের কলেজ, ৩ হাজার শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ মাত্র ১৫টি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
৫৮ বছরের কলেজ, ৩ হাজার শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ মাত্র ১৫টি

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত সংকট কাটেনি যশোরের মনিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে। তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র ১৫টি। এর মধ্যে একটি পুরোনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি পরীক্ষা, ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার ও আবাসন সুবিধার সংকটও রয়েছে।

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০১৮ সালে সরকারিকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই বছরের ৮ আগস্ট থেকে বেসরকারি আমলে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনে কলেজটির ৬৩ জন শিক্ষককে সরকারিকৃত কলেজে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি পরিচয় পেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সে তুলনায় হয়নি বলে কলেজ-সংশ্লিষ্টরা জানান।

প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজের তিনটি ভবনের একটি পরিত্যক্ত। বর্তমানে একটি দুইতলা ও একটি চারতলা ভবনের প্রায় ১৫টি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি, অনার্স ও বিএম/কারিগরি শাখার বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরিচালনায় এসব কক্ষ নিয়ে চরম চাপ তৈরি হয়েছে।

নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা, অনার্স, ডিগ্রি ও বিএম পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও কলেজটি ব্যবহৃত হয়। এতে সীমিত অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগও প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত।

কলেজে কোনো আবাসিক সুবিধা না থাকায় দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন একাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হল, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও ছাত্রাবাস নির্মাণ এখন জরুরি।

সরেজমিনে এমপি গাজী এনামুল

২৪ আগস্ট মনিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শন করেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। তিনি কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং জরাজীর্ণ ভবন পরিদর্শন করেন। কলেজ-সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ সময় তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দেন।

কলেজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট দূর করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষা-পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।