তাপদাহে শুকিয়েছে পুকুর, উপকূলজুড়ে ব্যবহার উপযোগী পানির হাহাকার
পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু, মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে গত সাত মাস ধরে ভারী কোনো বৃষ্টি নেই। তীব্র তাপদাহে শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে খাল-বিল আর পুকুর। ফলে খাওয়ার পানির পাশাপাশি এখন গৃহস্থালি কাজের পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের দৈনন্দিন কাজে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।
জেলেখালি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাস ম-লের পুকুরের তলানিতে জমে থাকা সামান্য ঘোলা পানি দিয়ে পরিবারের থালা-বাসন ধোয়ার কাজ চলছে। স্থানীয়রা জানান, এই পানি অত্যন্ত দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর, কিন্তু কোনো বিকল্প নেই। ওই গ্রামের কৃষক চিত্তরঞ্জন মৃধা আক্ষেপ করে বলেন, “গত ৩০ বছরেও আমাদের ব্যবহারের পুকুর এভাবে শুকিয়ে যেতে দেখিনি। ঘরের নারীদের থালা-বাসন ও কাপড় ধোয়ার জন্য এখন অন্তত এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করে দূরের বড় পুকুরে যেতে হচ্ছে।”
একই গ্রামের মালতী রানী জানান, খাওয়ার পানি অনেক দূর থেকে সংগ্রহ করতে হয়। সেই পানি দিয়েই ধোয়া হয় খাওয়ার পাত্র। আর পুকুরের নোংরা পানিতে চলে অন্যান্য ধোয়া-মোছার কাজ। হেতালখালি গ্রামের লতা রানী দৈনিক পত্রদূতকে বলেন, “চিংড়ি ঘেরের কারণে সারা বছরই আমাদের পানির কষ্ট থাকে। কিন্তু গরমে গত দুই-তিন মাস সেই কষ্ট চরমে পৌঁছেছে।”
শুধু মানুষের ব্যবহারের পানিই নয়, সংকটে পড়েছে গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণীরাও। কচুখালীর শচীন ম-ল দৈনিক পত্রদূতকে বলেন, “এত তাপদাহ আগে কখনো দেখিনি। খাওয়ার পানির সংকটের সঙ্গে এখন গরু-বাছুরের জন্য পানির ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিহীনতা ও লবণাক্ত চিংড়ি ঘেরের বিস্তার এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের বড় একটি অংশ লবণ পানির ঘেরবেষ্টিত। ফলে মিষ্টি পানির আধার খুবই কম। যেসব পুকুর সচল ছিল, সেগুলোও তাপদাহে শুকিয়ে গেছে।”
সংকট নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিটি গ্রামে বড় পরিসরে গৃহস্থালি ব্যবহারের উপযোগী পুকুর খননের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। উপকূলের এই ‘অদৃশ্য বিষ’ হয়ে ওঠা পানির সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছেন পরিবেশ কর্মীরাও।









