শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে বড় অগ্রগতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে বড় অগ্রগতি

শুরুতে ফিফার সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের কারণে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ দেখানো নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এবার সুখবরই মিলেছে।  এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মিডিয়া স্বত্ব পাওয়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ফলে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কম দামে সরাসরি ফিফার সঙ্গে নতুন করে দর-কষাকষির সুযোগ পাচ্ছে। তাতে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে যাচ্ছে।

সোমবার দ্য ডেইলি স্টারকে স্প্রিংবকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোপাল পাডিয়া বলেছেন, ‘হ্যাঁ, বিষয়টি সত্য। বাংলাদেশে স্বত্ব বিক্রি করতে না পারায় আমি স্বত্ব ছেড়ে দিয়েছি।’

মার্চে প্রায় ৭২ লাখ ১১ হাজার মার্কিন ডলারের (প্রায় ৮৮ কোটি টাকা) এই চুক্তি হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা অন্তত তিন দফা অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় চুক্তিটি বাতিল হয়।

চুক্তি বাতিলের পর এখন বাংলাদেশের টি স্পোর্টস ও স্টার নিউজের যৌথ উদ্যোগে এবং দুবাইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কেনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে সামনে এসেছে।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ও বাজার বিশ্লেষণের পর ফিফা বাংলাদেশের জন্য তাদের চাওয়া মূল্য কমাতে সম্মত হয়েছে এবং বর্তমানে উভয় পক্ষের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা চলছে।

এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারও ফিফার কাছে বিনামূল্যে স্বত্ব চেয়েছিল। কিন্তু ফিফা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি যুক্তি দিয়েছে, এই স্বত্ব থেকে পাওয়া আয়ের একটি বড় অংশ তারা প্রতি বছর স্থানীয় ফুটবল ফেডারেশনকে দিয়ে থাকে। তাই বিনামূল্যে স্বত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও চীনের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। তবে সম্প্রতি ফিফা চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে ২০২৬ ও ২০৩০ পুরুষ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ ও ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।

অন্যদিকে, ভারতে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে আলোচনাও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত এশিয়ার কয়েকটি বাজারে সম্প্রচারের লক্ষ্যে ফিফা আরও নমনীয় বাণিজ্যিক কৌশল গ্রহণ করাতেই অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে যাচ্ছে।

Ads small one

৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন

নিকোলাস বিশ্বাস

২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস। ২০২৬ সালে বিশ্ব এমন এক সময়ে দিবসটি পালন করছে, যখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীর সংকটের মুখে। যুদ্ধ বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করছে, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্মিলিত উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে, মানবাধিকার সুরক্ষায় দেখা যাচ্ছে দ্বৈতনীতি এবং জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও আর্থিক চাপও টেকসই উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করা এবং সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার ৮১ বছর পরও এই লক্ষ্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তবে প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যকার ব্যবধান প্রশ্ন তুলছে—জাতিসংঘ কি তার প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষম?

প্রতিনিধিত্ব ও কার্যকারিতার সংকট

বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ১৯৩। ভ্যাটিকান সিটি ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য নয়; তারা পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা ভোগ করছে। ১৯৪৫ সালে ৫১টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা সংস্থাটিতে বাংলাদেশ যোগ দেয় ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। সর্বশেষ সদস্যরাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান, যা ২০১১ সালের ১৪ জুলাই জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

সাধারণ পরিষদে প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের একটি করে ভোট থাকলেও বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সব রাষ্ট্রের প্রভাব সমান নয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোয় ক্ষমতার অসম বণ্টন স্পষ্ট। তাই প্রশ্নটি জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়; বরং সংস্থাটি কতটা কার্যকর, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে পারে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

বিশ্বে যুদ্ধ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অথচ ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা প্রায়ই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। যখন সম্মিলিত দায়িত্বের চেয়ে জাতীয় ও কৌশলগত স্বার্থ প্রাধান্য পায়, তখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। পরিবার হারায় স্বজন, মানুষ হারায় ঘরবাড়ি, শিশুরা হারায় শিক্ষার সুযোগ এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

শান্তি মানে শুধু যুদ্ধ বন্ধ হওয়া নয়; এর অর্থ নিরাপদে ঘরে ফেরা, ভয়মুক্ত জীবনযাপন এবং মর্যাদার সঙ্গে নতুন করে জীবন গড়ে তোলার সুযোগ পাওয়া। সংঘাত প্রতিরোধে আগাম সতর্কতা, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও মধ্যস্থতা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে স্বল্প প্রতিনিধিত্ব পাওয়া অঞ্চলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ব্যাপক নৃশংসতার ঘটনায় ভেটো ব্যবহারে সংযম প্রতিষ্ঠা জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

বহুপাক্ষিকতায় আস্থা ফেরানো

জাতীয়তাবাদ, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার অবক্ষয় বৈশ্বিক সহযোগিতাকে দুর্বল করছে। কিছু সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তিকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখে; অন্যদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সব ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করে না। আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও দৃশ্যমান ফলাফল। অন্যদের কাছে জবাবদিহি দাবি করা ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোকেও নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এই বিতর্ক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ‘অহংকারী পরজীবী’ বলে সমালোচনা করেন বলে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জাতিসংঘ সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিরাপত্তা পরিষদে সব অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংস্কারের আহ্বান জানান এবং স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দেন বলে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাইবার হুমকি প্রমাণ করে, স্বার্থের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। দায়িত্বশীল বহুপাক্ষিকতা জাতীয় স্বার্থকে অস্বীকার করে না; বরং তা সুরক্ষায় সহায়তা করে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হওয়া উচিত।

মানবাধিকার হতে হবে সর্বজনীন

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমতার অভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন এখনো অসম। কোনো কোনো সরকার সমালোচনা এড়াতে সার্বভৌমত্বের যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে, নজরদারি, অনলাইন সেন্সরশিপ ও ডিজিটাল দমন-পীড়ন ব্যক্তি-স্বাধীনতার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।

রাজনৈতিক সুবিধা বিবেচনা না করে সর্বক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষা করতে পারলেই জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের দৃষ্টিতে সমতা কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার হাতিয়ার হতে পারে না। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

টেকসই উন্নয়নে বৈশ্বিক সংহতি

জাতিসংঘের ২০৩০ সালের এজেন্ডা ও ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা দারিদ্র্য, বৈষম্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করেছে। কিন্তু অর্থনৈতিক অভিঘাত, ঋণসংকট, অপর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন অগ্রগতিকে মন্থর করছে। পরিবেশগত সংকটে যাদের অবদান সবচেয়ে কম, অনেক ক্ষেত্রে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, স্বল্পসুদে উন্নয়ন অর্থায়ন এবং অসহনীয় ঋণের বোঝা কমানো জরুরি। উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব আর্থিক সহায়তার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

তবে শুধু বৈদেশিক সহায়তাই যথেষ্ট নয়। জাতীয় নেতৃত্ব, সুশাসন ও জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের দায়িত্ব হলো অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং উন্নয়নের সুফল যেন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।

ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন মোকাবিলা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’—বর্তমান চ্যালেঞ্জের সারকথা তুলে ধরে। মানুষের জীবনে দৃশ্যমান অগ্রগতিই আস্থা ফেরানোর প্রধান শর্ত। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, ফলাফলের জন্য জবাবদিহি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার বাড়াতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জনসেবা উন্নত করতে পারে, তবে এর ব্যবহার মানবাধিকার ও স্বচ্ছতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।

সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক ও সাংবাদিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত শুধু আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ন্যায্য বৈশ্বিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখা।

মানবতার প্রতি নতুন অঙ্গীকার

জাতিসংঘ দিবস কেবল বার্ষিকী উদ্‌যাপনের দিন নয়; বরং প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান পর্যালোচনার উপলক্ষ। জাতিসংঘ নিখুঁত কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, কিন্তু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার জন্য একটি অভিন্ন বৈশ্বিক মঞ্চের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা পরিত্যাগ করলে বৈশ্বিক সংকট দূর হবে না; বরং সেগুলো মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

৮১ বছরে পদার্পণ করা জাতিসংঘের প্রয়োজন প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শের প্রতি নতুন অঙ্গীকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন এবং সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দেওয়ার মানসিকতা। এর সাফল্য নির্ধারিত হবে শুধু গৃহীত প্রস্তাব দিয়ে নয়; বরং যুদ্ধের দুর্ভোগ কমছে কি না, মানবাধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, উন্নয়নশীল দেশগুলো ন্যায্য সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত হচ্ছে কি না—তার ভিত্তিতে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের বক্তব্যের মর্মার্থ হলো, ‘শান্তির পরিমাপ শুধু স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের জীবনে আসা পরিবর্তনের মাধ্যমেও করতে হবে।’ বিশ্বের প্রয়োজন এমন একটি জাতিসংঘ, যা কেবল মুষ্টিমেয় মানুষের স্বার্থে নয়, বরং সবার জন্য কাজ করবে এবং বাস্তব ফলাফল নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবে।

লেখক পরিচিতি: নিকোলাস বিশ্বাস একজন ফ্রিল্যান্স গণমাধ্যমকর্মী এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত।
যোগাযোগ: gonomaddzam@gmail.com

ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয় জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয় জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।

ইউরোপ থেকে নথিপত্রহীন বা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি ফেরত এসেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেরত এসেছেন সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, গত কয়েকবছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা সবচেয়ে বেশি লোক তারা পেয়েছেন ইতালি, গ্রিস ও জার্মান থেকে। যারা ফেরত এসেছেন তাদেরকে বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও পরে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হয় যাতে তারা ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।‌ পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে যেন লোকজন ইউরোপে না যায় সেজন্য সারাদেশে সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি ইউরোপ বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

শতবর্ষের দোরগোড়ায় শামসুর রাহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
শতবর্ষের দোরগোড়ায় শামসুর রাহমান

তারিক ইসলাম

২৩ অক্টোবর কবি শামসুর রাহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। আর মাত্র তিন বছর পর, ২০২৯ সালে, বাংলা সাহিত্যের এই দিকপাল পা দেবেন জন্মশতবর্ষে। কবির মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পর তাঁর জন্মবার্ষিকী নিয়ে আলোচনা কেবল প্রথাগত শ্রদ্ধা নিবেদন কিংবা স্মৃতিচারণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, থাকাও উচিত নয়। বরং কালপঞ্জির এই বিশেষ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তাঁর সৃষ্টি ও বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকারের আলোকে আমাদের বর্তমানকে বোঝার আন্তরিক চেষ্টা চালানো জরুরি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন—কবির জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনে আমাদের জাতীয় প্রস্তুতি কতটুকু?

শামসুর রাহমান কেবল বিপুল সৃষ্টিশীলতার অধিকারী একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন আধুনিক বাঙালির আত্মপরিচয় ও মুক্তবুদ্ধির অন্যতম আলোকবর্তিকা। নাগরিক জীবন ও নিভৃত প্রেমের সূক্ষ্ম অনুভূতির পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকে তাঁর কলম ছিল সোচ্চার। ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেই তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি।

‘স্বাধীনতা তুমি’ কিংবা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’—এগুলো শুধু কালজয়ী কবিতা নয়; স্বাধীন বাংলাদেশের রক্তঝরা ইতিহাস ও চেতনার অমর দলিল।

কোনো নির্দিষ্ট সংকীর্ণ মতাদর্শে নিজেকে আবদ্ধ না রেখে তিনি আজীবন অন্যায়, ধর্মান্ধতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তচিন্তার পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতেও তিনি কখনো দ্বিধা করেননি।

আজকের জটিল সামাজিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে শামসুর রাহমানের অবদানের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্পষ্ট। আমরা যখন নৈতিক সংকট, সহনশীলতার অভাব এবং মতপ্রকাশের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি, তখন কবির সেই আপসহীন সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদের পথ দেখাতে পারে। তাঁর সাহিত্য বারবার মনে করিয়ে দেয়, একজন কবির কাজ কেবল নান্দনিক শব্দমালা সাজানো নয়; বরং সমাজের কল্যাণ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধ থাকাও শিল্পের অন্যতম দায়িত্ব।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ২০২৯ সালে কবির জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনে আমরা কতটা প্রস্তুত? শামসুর রাহমানের বিপুল সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ এবং বিশ্বদরবারে নতুন করে তুলে ধরার উদ্যোগ এখনো প্রত্যাশিত গতি পায়নি। জন্মশতবর্ষের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলককে সামনে রেখে এখনই কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

১. ডিজিটাল আর্কাইভ ও প্রামাণ্য রচনাবলি: কবির ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কবিতা, গদ্য, কলাম, অনুবাদ ও সাক্ষাৎকার প্রামাণ্যভাবে সংকলন করে আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ করা।

২. আন্তর্জাতিক মানের অনুবাদ: বিশ্বের প্রধান ভাষাগুলোতে তাঁর নির্বাচিত কবিতা ও গদ্যের মানসম্মত অনুবাদের ব্যবস্থা করা, যাতে আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর সাহিত্যকর্ম নতুন করে মূল্যায়িত হয়।

৩. তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গভীর গবেষণার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর মুক্তচিন্তা ও সাহিত্যকর্মের মূল বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

৪. স্মৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ: পুরান ঢাকার যে পরিবেশে কবি তাঁর কালজয়ী সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, সেই ঐতিহাসিক স্থানগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং সেগুলোকে সাহিত্যচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

শামসুর রাহমান আমাদের কাছে কেবল অতীতের কোনো ধ্রুপদি স্মৃতি নন; তিনি বর্তমানকে অনুধাবন করা এবং ভবিষ্যতের পথ খুঁজে নেওয়ার এক অবিনশ্বর বাতিঘর। তাঁর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—তাঁকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার ফ্রেমে আটকে রাখব না। বরং তাঁর অসাম্প্রদায়িক দর্শন, মুক্তচিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আমাদের চিন্তা ও সংস্কৃতিতে জীবন্ত রাখব। জন্মশতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই বোধ ধারণ করাই হবে কবির প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।

লেখক: তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।