রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালায় অন্যের ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি অবৈধভাবে জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
তালায় অন্যের ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি অবৈধভাবে জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ

তালার নুরু বিশ^াস ও যুব জামায়াতের নেতা ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে অন্যের ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায় বিচার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন, তালার হাজরাকাটি গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাব সরদারের পুত্র সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রব সরদার।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, স্থানীয় হাজরাকাটি মৌজায়, জেএল নং -১৪৫, এসএ খতিয়ান নং-৪৫৮, এসএ দাগ ৬১, ০.২১ একর ও ৬২ দাগে ০.১৭ একর মোট ০.৩৮ একর জমির মধ্যে ০.২৭ একর জমি যাহার ডিপি খতিয়ান নং ১১৬০, হাল ৬৮, ৬৯ দাগে ০.২৭ একর নিজস্ব জমিতে ৪০ টি দোকান ঘর আছে যার মধ্যে ৩টি পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করে নিজে ব্যবসা করি এবং ভাড়াটিয়া দিয়ে ২৬ বছর যাবৎ শান্তিপূর্ণ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি।

 

গত ০৬ আগস্ট ২০২৪ রাত অনুমান ৮টার দিকে ২৫জন ব্যক্তি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী লোহার হাতুড়ী, গ্যাসলাইট, পেট্রোল ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার মার্কেটে অনধিকার প্রবেশ করে শক্তির মহড়া পরিদর্শন করে দোকানঘর ভাংচুর ও দোকানে থাকা মালামাল ও নগদ টাকা পয়সা লুটপাট করে এবং পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করলে সিআইডি সাতক্ষীরা এর উপর তদন্ত দিলে তদন্ত করে সিআর মামলা দ্রুত বিচার নং-৩৬/২৪/২০২৪, ধারা-আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার আইন-২০০২ এর ৪/(১)(২)/৫ ধারা চার্জশীট দাখিল করে।

এর জের ধরে হাজরাকাটি গ্রামের শামছুদ্দীনের পুত্র যুব জামায়াত নেতা ইয়াকুব আলী শেখ, আটারাই গ্রামের মৃত মোমিন উদ্দীনের পুত্র জুলফিকার আলী শেখ, মৃত আব্দুর রহমান বিশ^াসের পুত্র নূর ইসলাম বিশ্বাস, মোঃ হাফিজুর রহমান, মৃত জাফর সরদারের পুত্র মোঃ শফিকুল সরদার, মৃত আবু গাজীর পুত্র মোঃ রবিউল গাজী, মৃত মনিরউদ্দীন মোড়লের পুত্র মতিয়ার মোড়লসহ কতিপয় ব্যক্তিরা চাঁদার দাবিতে উক্ত সম্পত্তিতে প্রবেশ করে সেখানে নির্মিত দোকান ঘরের সকল ভাড়াটিয়াদের নিকট চাঁদা দেওয়ার কথা বয়ে যায় এবং ৫ নভেম্বর ২৫ তারিখের মধ্যে চাঁদা দেওয়ার হুমকি প্রদর্শণ করে।

 

পূর্বে নির্ধারিত তারিখে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় অনুরূপভাবে অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভাড়াটিয়া সাহাবুদ্দীন জোয়ার্দ্দার, আলামিন জোয়ার্দ্দার, উভয় পিতা-মৃত মহিউদ্দীন জোয়ার্দ্দার, সাজ্জাদ শেখ-পিতা- ইউসুফ শেখ, বাবলু শেখ, পিতা-মৃত সবুর শেখ, ছোরমান গাজী, পিতা-মৃত ছিয়ামউদ্দীন গাজী, হানেফ গাজী, পিতা-মৃত সুরত গাজী, কিনা রজক, পিতা-অনিল রজক, বিও রজক, নিমাই রজক, উভয় পিতা নন্দ রজক, ছোট খোড়া, পিতা-মৃত সোনাই শেখ, রনি শেখ, পিতা- ছোট খোড়াদের নিকট থেকে চাঁদা উত্তোলন করে আসছে। বাধা দিলে খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে।

 

আমার ভাড়াটিয়া আছাদুল খাঁ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ১ ও ৩ নং আসামী ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখে মারপিট করে ঘর থেকে বের করে দেয়। এ নিয়ে ১৮ মার্চ ২০২৫ আমার অভিযোগের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা সেনা ক্যাম্পে দায়িত্বরত মেজর ইফতেখার ৫/০৭/২০২৫ ইং তারিখ উভয় পক্ষকে নোটিশ করে সেনা ক্যাম্পের অফিসে ডেকে জমি সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র দেখে আমার পক্ষে রায় দেন এবং ০৬ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে সেনাবাহিনী সরেজমিনে জায়গা ও দোকানঘর বুঝ করে দেন।

 

পরবর্তীতে তারা সেনাবাহিনীর আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক আমার নিজস্ব দোকানঘর দখল করে নেয়। এনিয়ে আমি সাতক্ষীরা এডিএম কোর্টে মামলা করলে পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বারিত অর্ডার হয়। যার মামলা নং- পি-১৭১৫/২৪, তারিখ- ০৯/০৪/২০২৪। জমি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ও ভূমি আপিল বোর্ড স্থগিত আদেশ দেন। যাহা আমার পক্ষে। বর্তমানে সাতক্ষীরা দেওয়ানী কোর্টে উক্ত জমি নিয়ে মামলা চলমান। মামলা নং দেওয়ানী- ২/২০২৩ ও ১৯৩/২৪।

 

এছাড়া জমি নিয়ে ২৬/০৪/২০২৬ ইং তারিখে তালা থানায় এজাহার দায়ের করলে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ সরেজমিনে তদন্ত করে জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমার পক্ষে রায় দেন। তারপরও আমার সম্পত্তি তারা জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। তিনি তার নিজস্ব সম্পত্তি রক্ষায় এবং নিরাপত্তার দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

Ads small one

শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণকে একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। জেলা ও অঞ্চলের পরিবেশ-প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত প্রজাতির গাছ নির্বাচন করে রোপণ করা প্রয়োজন।

তিনি আজ (রবিবার) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে বৃক্ষরোপণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষাকালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছরই বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, কাঠ পুড়িয়ে কোনো ইটভাটায় ইট উৎপাদন করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে ব্লকের ব্যবহার দিন দিন আরও বাড়াতে হবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ওয়াসার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেসিসি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।

সভায় কেসিসি সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খানসহ বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা, ৩১টি ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

পরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী খুলনা শহিদ হাদিস পার্কে বৃক্ষরোপণ করেন। তথ্যবিবরণী

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, প্রয়োজন শালীন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, প্রয়োজন শালীন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক একটি প্রবণতা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সীমা অতিক্রম করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তি ও পরিবারকে নিয়ে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা এবং প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় করার সংস্কৃতি যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এ প্রবণতা মোটেই শুভ নয়।

‎রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ, রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সাংবিধানিক মূল্যবোধের সুরক্ষা এবং জাতীয় সমস্যার কার্যকর সমাধান। কিন্তু যখন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রতিহিংসা, কাদা ছোড়াছুড়ি ও চরিত্রহননের রূপ নেয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি দল বা ব্যক্তি নয়; ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমগ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিবেশ।

‎বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার আজ নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিব্রত করতে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক বিষয় কিংবা অসমর্থিত তথ্যকে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন প্রবণতা সমাজে বিভাজন, বিদ্বেষ এবং অসহিষ্ণুতা বাড়ায়। সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

‎সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধরনের রাজনৈতিক পরিবেশ নতুন প্রজন্মের কাছে রাজনীতিকে অনাকর্ষণীয় করে তুলছে। তরুণরা যদি রাজনীতিকে কেবল বিদ্বেষ, অপমান ও প্রতিহিংসার ক্ষেত্র হিসেবে দেখে, তবে তারা জনসেবামূলক রাজনীতিতে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত হবে। এতে ভবিষ্যতে সৎ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পথ আরও সংকুচিত হবে।

‎বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞতা বলে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখা হয়। মতের ভিন্নতা সেখানে শত্রুতায় রূপ নেয় না। রাষ্ট্রের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে তারা রাজনৈতিক শালীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এখন সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। মতভেদ থাকবে, বিতর্ক থাকবে, কঠোর সমালোচনাও থাকবে কিন্তু তা যেন তথ্যভিত্তিক, শালীন এবং নৈতিকতার সীমার মধ্যে থাকে। ব্যক্তিগত জীবনকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো, অপপ্রচার চালানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিদ্বেষ ছড়ানোর প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা থেকে সব রাজনৈতিক শক্তির বিরত থাকা উচিত।

‎রাজনীতি যদি জনকল্যাণের পরিবর্তে প্রতিহিংসার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তবে গণতন্ত্র দুর্বল হবে এবং জনগণের আস্থা কমে যাবে। আর যদি রাজনীতি হয় সততা, সহনশীলতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার প্রতিযোগিতা, তবে দেশ লাভ করবে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র, নতুন প্রজন্ম পাবে অনুপ্রেরণা, আর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে একটি উন্নত, মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পথে।

‎‎লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

লাভ ইজ কাইন্ড দিবস: সম্পর্কের শেকড়ে আনন্দ ও নিরাপত্তার বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
লাভ ইজ কাইন্ড দিবস: সম্পর্কের শেকড়ে আনন্দ ও নিরাপত্তার বার্তা

সাকিবুর রহমান বাবলা

ভালোবাসা মানুষের জীবনের অন্যতম শক্তিশালী অনুভূতি। কিন্তু যখন সেই ভালোবাসার আড়ালে নিয়ন্ত্রণ, ভয় বা নির্যাতন স্থান করে নেয়, তখন সম্পর্ক তার মানবিক ভিত্তি হারায়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই প্রতি বছর ২৭ জুলাই পালিত হয় ন্যাশনাল লাভ ইজ কাইন্ড ডে-একটি দিন, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত ভালোবাসা কখনো ভয়, অপমান বা আঘাতের সমার্থক হতে পারে না; সত্যিকারের ভালোবাসা সবসময় সম্মান, সহানুভূতি ও নিরাপত্তার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।

এই দিবসটির সূচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের রোজি আয়েলো এবং তাঁর কন্যা সানিয়া। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক ও নির্যাতনমূলক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকার পর রোজি আয়েলো ১৯৯৮ সালের ২৭ জুলাই নিজের ও কন্যার জন্য স্বাধীন জীবনের পথ বেছে নেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় The Love Is Kind Network, যার উদ্যোগে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীকালে #LoveIsKindDay ও #TheLoveIsKindMovement হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিবসটির পরিচিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সচেতনতা, সহমর্মিতা ও ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা প্রচার করতে শুরু করেন। দিবসটির মূল বার্তা অত্যন্ত সহজ-প্রকৃত ভালোবাসা কখনো সহিংস নয়; তা দয়া, সম্মান ও সহমর্মিতার প্রতীক।

বর্তমান বিশ্বে ঘরোয়া সহিংসতা একটি নীরব সামাজিক সংকট। অনেক সময় নির্যাতন বলতে শুধু শারীরিক আঘাতকেই বোঝানো হয়, অথচ বাস্তবে মানসিক চাপ সৃষ্টি, অপমান, ভয় দেখানো, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কিংবা ক্রমাগত হেয় প্রতিপন্ন করাও নির্যাতনেরই রূপ। এসব আচরণ একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই এই দিবস মানুষকে বিষাক্ত সম্পর্কের লক্ষণ চিহ্নিত করতে এবং সুস্থ সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন হতে উৎসাহিত করে।

জাতীয় ‘লাভ ইজ কাইন্ড’ দিবসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের নতুন করে জীবন গড়ার সাহসকে সম্মান জানানো। যারা প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করে নতুন জীবন শুরু করেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা সমাজের অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে দিবসটি পরিবার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে ইতিবাচক সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানবিক আচরণ চর্চার আহ্বান জানায়।

দয়া, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব কেবল আধুনিক মানবাধিকার ধারণায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং ধর্মীয় শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পারিবারিক রেওয়াজ, নৈতিক মূল্যবোধ এবং মানবিক যুক্তিবোধের মধ্যেও এর গভীর প্রতিফলন দেখা যায়। যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজ ও সভ্যতা মানুষে মানুষে শ্রদ্ধা, মর্যাদা, সদাচরণ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের ভিন্নতা থাকলেও একটি মৌলিক সত্য সর্বত্রই সমানভাবে স্বীকৃত—সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হলো দয়া, সহমর্মিতা এবং একে অপরের প্রতি সম্মান। বর্তমান সময়ে পরিবার ও সমাজে নিরাপদ, মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে এই মূল্যবোধগুলোর বাস্তব চর্চা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ এবং নারীর প্রতি বৈষম্যের মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। অনেক ক্ষেত্রেই মানসিক নির্যাতন বা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় বলে আড়াল করা হয়, যা ভুক্তভোগীদের জন্য সহায়তা পাওয়ার পথকে আরও কঠিন করে তোলে। দেশে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০সহ বিভিন্ন আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯, শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮ এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯সহ বিভিন্ন সহায়তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তাই নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আইনি ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করা সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

একটি বিভক্ত, সংঘাতপূর্ণ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে জাতীয় ‘লাভ ইজ কাইন্ড’ দিবস আমাদের একটি মৌলিক সত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়-মানুষকে শক্তিশালী করে ক্ষমতা নয়, সম্পর্ক; সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে নিয়ন্ত্রণ নয়, সম্মান; আর ভালোবাসাকে অর্থবহ করে তোলে দয়া ও সহমর্মিতা। পরিবার ও সমাজে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি ঘরোয়া সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানায় এই দিবস। তাই ২৭ জুলাই শুধু একটি দিবস নয়; এটি মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরার এক তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ।