সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

তালায় নবাগত ইউএনও’র সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
তালায় নবাগত ইউএনও’র সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

সংবাদদাতা: তালার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার (ইউএনও) সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। বুধবার (০৬ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম খান, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিঠু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস কুদ্দুস পাড়, দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবু সাঈদ, প্রচার সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মুফতি এনামুল হক, আরিফুল ইসলামসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় নেতৃবৃন্দ তালা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

Ads small one

পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে

প্রকাশ ঘোষ বিধান

পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানো এখন সময়ের দাবি। ক্রমাগত ব্যক্তিগত গাড়ি বৃদ্ধির ফলে তীব্র যানজটের পাশাপাশি বায়ুদূষণও চরম মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে। পরিবেশের এই বিপর্যয় ও নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

 

সড়কে গাড়ির সংখ্যা কমলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমে। ঘন ঘন হর্ন ও গাড়ির কালো ধোঁয়া কমে যাওয়ায় শহরের বায়ুর মান উন্নত হয় এবং শব্দদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জীবাশ্ম জ্বালানির অপচয় রোধ হয়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

 

পরিবেশ রক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো অত্যন্ত জরুরি। বাসযোগ্য ও সুস্থ নগরী গড়তে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ ও গণপরিবহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত গাড়ি কমালে ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ কমে এবং বায়ু পরিষ্কার থাকে। গাড়ির হর্ন ও ইঞ্জিন থেকে সৃষ্ট শব্দ দূষণ কমে। অল্প দূরত্বে হাঁটাচলা বা সাইকেল চালালে শারীরিক কসরত হয় এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে। সড়কে ব্যক্তিগত বাহন কমলে তীব্র যানজট কমে এবং যাতায়াত সহজ হয়।

 

২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। যা প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে বরং সাইকেল, হাঁটা বা গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পালিত হয়। পরিবেশ দূষণ হ্রাস, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী এই সচেতনতা তৈরি করা হয়। ৭০-এর দশকে ইউরোপে প্রথম এই ধারণার সূচনা হলেও, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে এটি জাতীয়ভাবে উদযাপিত হয়। পরবর্তীতে ২০০০ সালে ইউরোপীয় কমিশন এটিকে একটি স্বতন্ত্র দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এটি আন্তর্জাতিক রূপ পায়। বাংলাদেশে প্রথম ২০০৬ সাল থেকে বেসরকারি উদ্যোগে এই দিবসটি পালন করা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে সরকারিভাবে সহ বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে নিয়ে দিবসটি নিয়মিত উদযাপন করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এই দিবসটি একটি বড় অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে।

 

জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর ফলে অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর ধোঁয়া বায়ুর গুণমান মারাত্মকভাবে নষ্ট করে। গাড়ি কমলে বাতাসে এসব বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ কমে যায়।

 

অতিরিক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ফলে শহরের বায়ু দূষণ ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এই দিনে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি বাদ দিয়ে পায়ে হেঁটে, সাইকেলে বা গণপরিবহনে যাতায়াতে উৎসাহিত করা হয়। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন এবং হাঁটা বা সাইকেল চালানোর সুবিধা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।

 

ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় বেশি জায়গা দখল করে কিন্তু বহন করে কম যাত্রী। এর ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। গণপরিবহন বা হাঁটার অভ্যাস বাড়ালে সড়কের ওপর চাপ কমে। ছোট দূরত্বের পথগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি বর্জন করে হাঁটা বা সাইকেল চালানোর অভ্যাস তৈরি করলে হৃদরোগ, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। যানজট এবং উচ্চ হর্নের কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা থেকে নাগরিকরা মুক্তি পান।

 

বিশ্বের বহু দেশেই এবং অধিকাংশ রাজধানীতে গাড়িমুক্ত হাঁটার সড়ক যেমন আছে, তেমনি থাকে ফুটপাত। স্বল্প দূরত্বে হাঁটার সুযোগ নগরে চলাচলে স্বস্তি যেমন বাড়ায়, তেমনি তা স্বাস্থ্যকরও। আমাদের দেশে সড়ক অনুপাতে ফুটপাতের পরিমাণ খুবই কম। আবার যেটুকু আছে, সেটুকুও অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার কারণে দখল করে রাখে। সে জন্য ফুটপাত ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।

 

শহরের ফুটপাতগুলোকে দখলমুক্ত ও ছায়াযুক্ত করা এবং সাইকেল চলাচলের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শহরগুলোকে গাড়ির আধিপত্য থেকে মুক্ত করে মানুষের উপযোগী ও বাসযোগ্য করে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়। মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ির প্রতি ঝোঁক কমানোর জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও সময়সাশ্রয়ী গণপরিবহন নিশ্চিত করা।

 

একটি বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে আমাদের প্রতিদিনের যাতায়াতে সচেতন হতে হবে। ছোট দূরত্বে ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প খোঁজার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর গড়তে ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প হিসেবে মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং হেঁটে বা সাইকেলে চলাচলে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

 

একটি পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হওয়া। নগর রক্ষা, নিজের স্বাস্থ্য উন্নত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে আমাদের এখনই ব্যক্তিগত গাড়ির বিলাসী ব্যবহার বর্জন করে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সাতক্ষীরা ২০৩৫: একটি জেলার নতুন অর্থনীতির স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা ২০৩৫: একটি জেলার নতুন অর্থনীতির স্বপ্ন

মো. মামুন হাসান

একটি জেলার ভবিষ্যৎ কি শুধু তার মানচিত্রে লেখা থাকে? নাকি ভবিষ্যৎ তৈরি হয় মানুষের চিন্তা, নদীর গতিপথ, মাটির গন্ধ, সীমান্তের ব্যস্ততা, তরুণদের স্বপ্ন এবং সময়কে বুঝে নেওয়ার সক্ষমতায়? সাতক্ষীরার দিকে তাকালে মনে হয়, এই জেলার সবচেয়ে বড় সম্পদ এখনো পুরোপুরি আবিষ্কৃত হয়নি। সুন্দরবন, সমুদ্র, নদী, চিংড়ি, কাঁকড়া, মধু, কৃষি, সীমান্ত বাণিজ্য, লোকসংস্কৃতি এবং বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে আলাদা আলাদা সম্পদ হিসেবে দেখলে সাতক্ষীরার গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এগুলোকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে ২০৩৫ সালের সাতক্ষীরা আজকের সাতক্ষীরার মতো থাকবে না।

 

আমরা সাধারণত জেলার উন্নয়ন বলতে নতুন সড়ক, সেতু, ভবন কিংবা কোনো বড় প্রকল্পকে বুঝি। কিন্তু আগামী দিনের অর্থনীতি শুধু অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে না। ভবিষ্যতের অর্থনীতি দাঁড়াবে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, প্রযুক্তি, স্থানীয় সম্পদ, সৃজনশীলতা এবং মানুষের অংশগ্রহণের ওপর। সেই জায়গা থেকে সাতক্ষীরাকে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে একই সঙ্গে রয়েছে সুন্দরবন এবং সমুদ্র উপকূল, নদী ও সীমান্ত, কৃষি ও মৎস্য, গ্রাম ও বন্দর। এমন ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বাংলাদেশের খুব বেশি জেলার নেই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বৈচিত্র্যের মধ্যে এখনো একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক গল্প তৈরি হয়নি।

সাতক্ষীরার অর্থনীতির একটি বড় অংশ চিংড়ি, কাঁকড়া, কৃষি ও মৎস্যনির্ভর। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কাঁচামাল উৎপাদন করে থেমে গেলে একটি জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সীমিত থাকে। একই সম্পদকে যদি প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং, রপ্তানি, খাদ্যসংস্কৃতি, পর্যটন এবং স্থানীয় উদ্যোক্তার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে একই সম্পদ থেকে একাধিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে।ধরা যাক, সাতক্ষীরার চিংড়ি শুধু একটি রপ্তানি পণ্য নয়। এটি হতে পারে একটি গ্যাস্ট্রোনমিক পরিচয়। স্থানীয় চিংড়িকে কেন্দ্র করে খাবারের উৎসব হতে পারে। স্থানীয় রেস্তোরাঁয় সাতক্ষীরার নিজস্ব খাদ্য ব্র্যান্ড তৈরি হতে পারে। কৃষি ও মৎস্য খামারকে ঘিরে শিক্ষামূলক ভ্রমণ হতে পারে। অর্থাৎ উৎপাদন থেকে অভিজ্ঞতা পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খল তৈরি করা সম্ভব।একইভাবে সাতক্ষীরার মধু, কাঁকড়া, খেজুরের গুড়, স্থানীয় কৃষিপণ্য কিংবা সুন্দরবনসংলগ্ন জীবনের গল্পও অর্থনীতির অংশ হতে পারে। পর্যটক শুধু একটি জায়গা দেখতে আসে না। সে একটি গল্প কিনতে আসে, একটি অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যায়। সাতক্ষীরার কাছে সেই গল্পের অভাব নেই। অভাব রয়েছে গল্পগুলোকে অর্থনৈতিক পণ্যে রূপ দেওয়ার উদ্যোগের।

সুন্দরবনকে ঘিরে সাতক্ষীরার সম্ভাবনা আরও বড়। কিন্তু সুন্দরবনকে শুধু বাঘ দেখার জায়গা হিসেবে উপস্থাপন করলে এর বিশাল মানবিক ও সাংস্কৃতিক গল্প আড়ালে থেকে যায়। মৌয়াল, বাওয়ালি, জেলে, বনজীবী মানুষ, বনবিবির সংস্কৃতি, নদী, নৌকা, মধু সংগ্রহ, কাঁকড়া ধরা, স্থানীয় খাবার এবং উপকূলীয় জীবনযাত্রা মিলিয়ে একটি সম্পূর্ণ কমিউনিটি ট্যুরিজম মডেল তৈরি করা সম্ভব।শ্যামনগরের একটি সাধারণ বাড়ি যদি পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার মান বজায় রেখে পর্যটকের থাকার জায়গা হয়, স্থানীয় পরিবারের আয় বাড়তে পারে। পর্যটক স্থানীয় খাবার খাবে, নৌকায় ঘুরবে, স্থানীয় গাইড নেবে, হস্তশিল্প কিনবে, স্থানীয় সংস্কৃতি দেখবে। অর্থাৎ একজন পর্যটকের ব্যয় একাধিক পরিবারের কাছে পৌঁছাবে। এটিই পর্যটনের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি।

মান্দারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, জামতলা, দুবলার চর কিংবা আলোরকোলকে বিচ্ছিন্ন গন্তব্য হিসেবে না দেখে একটি বৃহত্তর উপকূলীয় পর্যটন নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ভাবতে হবে। সাতক্ষীরা শহর থেকে সুন্দরবন ও উপকূল পর্যন্ত একটি সুপরিকল্পিত পর্যটন করিডোর তৈরি করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতিশীলতা তৈরি হতে পারে।এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ভোমরা স্থলবন্দর। ভোমরা শুধু বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সাতক্ষীরার যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা। সীমান্ত বাণিজ্য, ব্যবসায়িক ভ্রমণ, খাদ্য, সংস্কৃতি এবং সীমান্তভিত্তিক পর্যটনকে পরিকল্পিতভাবে যুক্ত করা গেলে ভোমরা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত একটি নতুন অর্থনৈতিক করিডোরের ধারণা বাস্তব রূপ পেতে পারে।

তবে সাতক্ষীরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়তো এর তরুণ জনগোষ্ঠী। আগামী দিনের সাতক্ষীরার অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী হবে, তার বড় অংশ নির্ভর করবে তরুণদের আমরা কীভাবে প্রস্তুত করছি তার ওপর। শুধু সরকারি চাকরির প্রস্তুতি দিয়ে একটি জেলার বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পর্যটন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, এভিয়েশন, ক্রুজ, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফুড প্রসেসিং, কৃষি উদ্যোক্তা, গাইডিং, ট্রাভেল ব্যবসা এবং বিদেশের দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের জন্য তাদের প্রস্তুত করতে হবে।সাতক্ষীরার একটি তরুণ যদি নিজের গ্রামে একটি হোমস্টে পরিচালনা করতে পারে, অন্য একজন যদি সুন্দরবনের প্রশিক্ষিত গাইড হয়, কেউ যদি স্থানীয় খাবারের ব্র্যান্ড তৈরি করে, কেউ যদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাতক্ষীরার পর্যটন বিক্রি করে এবং আরেকজন যদি আন্তর্জাতিক হোটেলে দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে কাজ করে, তাহলে কর্মসংস্থানের সংজ্ঞাই বদলে যাবে।

এখানেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা শুধু চাকরির প্রস্তুতি দেবে না, উদ্যোক্তা তৈরির সক্ষমতাও তৈরি করবে। বিশেষ করে পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, খাদ্য প্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতে হবে।সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় জলবায়ুকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও পানির সংকট এই জেলার বাস্তবতা। কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকিকে শুধু সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। জলবায়ু অভিযোজন, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং জলবায়ু গবেষণাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা একটি নতুন ধরনের অর্থনৈতিক পরিচয় তৈরি করতে পারে।

২০৩৫ সালের সাতক্ষীরাকে কল্পনা করলে তাই শুধু নতুন ভবন বা নতুন সড়কের ছবি দেখা উচিত নয়। দেখা উচিত এমন একটি জেলা, যেখানে সুন্দরবনের মধু স্থানীয় ব্র্যান্ডে বিক্রি হচ্ছে, গ্রামের বাড়ি পর্যটকের থাকার জায়গায় পরিণত হয়েছে, তরুণরা স্থানীয় সম্পদকে কেন্দ্র করে ব্যবসা করছে, ভোমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, নদী ও উপকূল পর্যটনের নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে এবং প্রযুক্তি সাতক্ষীরার প্রতিটি সম্ভাবনাকে দেশের বাইরেও পরিচিত করছে।

 

এই পরিবর্তনের জন্য হয়তো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নতুন কোনো প্রকল্প নয়, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। সাতক্ষীরাকে পিছিয়ে থাকা উপকূলীয় জেলা হিসেবে দেখার অভ্যাস বদলে সম্ভাবনাময় বহুমাত্রিক অর্থনীতির জেলা হিসেবে দেখতে হবে।২০৩৫ এখনো অনেক দূরের কোনো সময় নয়। একটি প্রজন্মের কর্মজীবন শুরু হয়ে শেষ হওয়ার আগেই সেই সময় এসে যাবে। প্রশ্ন হলো, তখন সাতক্ষীরা কী হবে? শুধু সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার? নাকি সুন্দরবন, সমুদ্র, কৃষি, সীমান্ত, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও তরুণ উদ্যোক্তাদের শক্তিতে তৈরি একটি নতুন অর্থনীতির পরীক্ষাগার?

সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ হয়তো কোনো একক শিল্পে লুকিয়ে নেই। ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে তার বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনাগুলোকে এক সুতোয় গাঁথার মধ্যে। ২০৩৫ সালের সাতক্ষীরা তাই কেবল একটি উন্নত জেলার স্বপ্ন নয়। এটি হতে পারে এমন একটি জেলার গল্প, যে নিজের সম্পদকে নতুন চোখে দেখে এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই লিখতে শেখে।

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে

ন্যাম ভবন থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ব্রিফ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের ডিসি ইবনে মিজান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেছি। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত শেষে বলা যাবে বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান ভবনটির লোকজন। এসময় শেরেবাংলা নগর থানায় ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ডিএমপি তেজগাঁও জোনের ডিসি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জানালা দিয়ে মরদেহ দেখে পিবিআই এবং সিআইডি’র ফরেনসিক টিমকে আসতে বলেন।

ব্রিফিংয়ে ইবনে মিজান জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় এই দুজন ওই ফ্ল্যাটে ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে জামায়াতে ইসলামী ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কার আদেশে দলীয় তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং তারা চলতি বছরের ১৭ জুন বিয়ে করেছেন।

বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানালেও দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় তার এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়নি। এ নিয়ে সংসদীয় কমিটিতেও বিতর্ক হয় এবং একটি কমিটি থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, বহিষ্কারের পরও ‘খাতা-কলমে’ তিনি জামায়াতের সদস্য। এ বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা হয়।