বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তীব্র গরমের মাঝে এক পশলা বৃষ্টি: সাতক্ষীরায় স্বস্তির পরশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
তীব্র গরমের মাঝে এক পশলা বৃষ্টি: সাতক্ষীরায় স্বস্তির পরশ

এসএম শহীদুল ইসলাম: টানা কয়েকদিনের তীব্র দাহদাহ আর ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল সাতক্ষীরার মানুষের জীবন। কাঠফাটা রোদ আর বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্যে জনজীবন হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত। অবশেষে প্রকৃতি যেন তার কোল উজাড় করে দিল। সোমবার বিকেলে আকস্মিক মেঘের ঘনঘটা আর তারপরেই নামল বহুল প্রতীক্ষিত এক পশলা বৃষ্টি। ধূলিমলিন শহর আর তপ্ত প্রকৃতি মুহূর্তেই রূপ নিল এক স্নিগ্ধ, শান্ত অবয়বে।

গত এক সপ্তাহ ধরে সাতক্ষীরার তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছিল। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট হয়ে পড়ছিল জনমানবহীন। তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছিলেন খেটে খাওয়া মানুষÑভ্যানচালক, দিনমজুর আর পথচারীরা। এ যেন ছিল এক অনন্ত চাতকের অপেক্ষাÑকবে আসবে মেঘ, কবে নামবে বৃষ্টি।

সোমবার বিকেল নামতেই আকাশের কোণে জমতে শুরু করে কালচে মেঘের ভেলা। এরপরই শুরু হয় ঝিরঝিরে হাওয়া। চারদিকের তপ্ত বাতাস নিমেষেই শীতল হয়ে ওঠে। তারপরই সন্ধ্যায় নামে সেই বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টি না হলেও, প্রায় আধা ঘণ্টার এই মাঝারি বৃষ্টিপাত পুরো সাতক্ষীরা শহর ও তার আশপাশের অঞ্চলে এনে দিয়েছে এক পরম স্বস্তি।

সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা ঐরাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান বাবুল, সাইফুল ইসলাম, ইয়াসীন আরাফাত বাবু,আফরোজা সুলতানাসহ অনেকেই বলেন, ”ঘর থেকে বের হতেই পারছিলাম না কয়েকদিন ধরে। এসি চালিয়েও যেন শান্তি ছিল না। এই বৃষ্টিটা যেন প্রকৃতির এক আশীর্বাদ। বুক ভরে একটু ঠান্ডা বাতাস নেওয়া যাচ্ছে এখন।”

বৃষ্টির পর সাতক্ষীরা শহরের চেনা রূপটাই যেন বদলে গেছে। শহরের পার্ক ও বাড়ির ছাদবাগানের গাছগুলোর পাতা থেকে ধুলোবালি ধুয়ে গিয়ে বের হয়ে এসেছে চকমকে সবুজ রঙ। প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

 

অনেকদিন পর শুকনো মাটিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সেই চিরচেনা সোঁদা মাটির সুবাস, যা যান্ত্রিক শহরের মানুষকেও কিছুটা নস্টালজিক করে তুলেছে। বৃষ্টি নামতেই চিরন্তন বাঙালি স্বভাবের মতো শহরের গলিগুলোতে মেতে উঠেছিল শিশুরা। বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ যেন সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়েছে। বৃষ্টির পর আবহাওয়া শীতল হতেই শহরের মোড়ের চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। গরম ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে স্বস্তির আড্ডায় মেতে ওঠেন সব বয়সী মানুষ।

এই বৃষ্টি কেবল শহরের মানুষের মনেই স্বস্তি আনেনি, এনেছে প্রান্তিক কৃষকদের মুখেও। চলতি মৌসুমের ফসলের জন্য এই এক পশলা বৃষ্টি অত্যন্ত উপকারী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। পাট এবং শাকসবজির ফলন ভালো রাখতে এই বৃষ্টি দারুণ ভূমিকা রাখবে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান সহকারী জুলফিকার আলী রিপন জানান, সোমবার দুপুরে জেলার তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টির পর রাত ৯টায় সেই তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রিতে নেমে আসে। এর আগে রাত ৮টার দিকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। জেলায় ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি আরও জানান, জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে যায়।

তীব্র গরমের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃতির এই হঠাৎ উপহারে সাতক্ষীরার মানুষের মুখে এখন একটাই কথাÑ”বাঁচলাম!” মেঘ কেটে গিয়ে আবার হয়তো রোদ উঠবে, কিন্তু এই এক পশলা বৃষ্টি নাগরিক জীবনে যে প্রশান্তি আর স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিয়ে গেল, তা সত্যিই অনন্য।

 

 

 

Ads small one

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় নিয়মিত একটি মামলার আসামি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গীর কবির (৪৭) এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা এস এম তুহিনুর রহমান (৩৬)।
সাতক্ষীরা সদর থানা-পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাত ও সমীর গাইনসহ পুলিশের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকালই তাঁদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বিপন্ন গ্রামীণ সড়ক ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮টি মৎস্য ঘেরের একটি বড় অংশই গড়ে উঠেছে সরকারি আইন ও পরিবেশগত বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। অনেক প্রভাবশালী ঘের মালিক সরকারি পাকা ও কাঁচা সড়কগুলোকে তাঁদের ঘেরের বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ধ্বংসের মুখে পড়েছে, তেমনি সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশক থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে এই প্রবণতা গ্রামীণ সড়কের বুক পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের একাংশসহ কেশবপুরের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার শোল্ডার ও পিচের অংশ ঘেরের পানির কারণে ধসে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলের সাধারণ পথগুলো এখন বিপজ্জনক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, যেকোনো সড়ক থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ায়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ব্যক্তিগত মৎস্য ঘের তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিলসহ ওই অঞ্চলের অন্তত এক ডজন বিশাল বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ এখন হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থারই ক্ষতি হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিল এলাকার হাজার হাজার নি¤œআয়ের মানুষ ও মৎস্যজীবী দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সংকটে পড়বেন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্য বিভাগ মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক সভা করলেও তা প্রভাবশালী ঘের মালিকদের থামাতে পারছে না। নামমাত্র জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এই কাঠামোগত ক্ষতি রোধে কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা জিম্মি করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের এই অতি-মুনাফালোভী বৈরী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে মৎস্য ঘের নীতিমালার কঠোর ও আপসহীন বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব ঘের মালিক সরকারি রাস্তা বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কেবল জরিমানা নয়, বরং ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে দখলকৃত খাল ও কালভার্টের মুখ অবিলম্বে উন্মুক্ত করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে নাÑসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে ক্লাস্টারভিত্তিক মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউআরসি ট্রেনিং সেন্টারে ৪টি ক্লাস্টারের এই পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন। সভায় আলোচনায় অংশ নেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, ঝংকর ঢালী, সোহাগ আলম ও আশেকুজ্জামান।
আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, চম্পাখালী ও বুধহাটা ক্লাস্টারের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি, জুন ক্লোজিংয়ের বিবিধ ভাউচার জমা এবং বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনের সার্বিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।