বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দর্শনার্থীর ভিড়ে জমজমাট গুড়পুকুর মেলা, সন্ধ্যার সময়টুকু চান ব্যবসায়ীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
দর্শনার্থীর ভিড়ে জমজমাট গুড়পুকুর মেলা, সন্ধ্যার সময়টুকু চান ব্যবসায়ীরা

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: দুই বছর পর ফিরে আসা সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা প্রতিদিনই জমে উঠছে। দুপুরের পর থেকে বাড়ছে দর্শনার্থীর আনাগোনা। বিকেল গড়াতেই শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কের মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠছে প্রাণচঞ্চল। শিশুদের খেলনা, নাগরদোলা, নৌকা ও নানা বিনোদনের পাশাপাশি চলছে কেনাকাটা ও খাবারের আয়োজন। তবে দর্শনার্থীর উপস্থিতি ভালো হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচাকেনা না হওয়ায় মেলার সময় আরও কিছুটা বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) মেলার সপ্তম দিনে দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিকেল থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসেন অনেকে। কেউ শিশুদের নিয়ে ঘুরছেন, কেউ কিনছেন পোশাক, প্রসাধনী, মেলামাইন, খেলনা ও গৃহস্থালি পণ্য। খাবারের দোকানগুলোতেও দেখা যায় ক্রেতাদের আনাগোনা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সন্ধ্যার পরই মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাড়ে। অথচ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যেই মেলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক দর্শনার্থী মেলায় পৌঁছানোর পর কেনাকাটার সুযোগ খুব কম সময় পাচ্ছেন। এতে দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও সেই অনুপাতে বেচাকেনা হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।

ঢাকা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার মেলামাইন পণ্য নিয়ে মেলায় এসেছেন ব্যবসায়ী মো. সিরাজ। তাঁর দোকানে নয়জন কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের খাওয়া, দোকান পরিচালনা ও অন্যান্য খাতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

সিরাজ বলেন, “বেচাকেনা খুব একটা ভালো হচ্ছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরের সময়টা আমাদের ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাত ৮টার মধ্যে মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সময়টুকু পাচ্ছি না। আমার পাঁচ সদস্যের পরিবার, আমিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মেলায় যে আয় হবে, তা দিয়েই সারা বছর চলতে হবে। এভাবে বেচাকেনা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হব।”

গাজীপুর থেকে গার্মেন্টসের পণ্য নিয়ে আসা ব্যবসায়ী বেলায়েত বলেন, তাঁর দোকানে বেচাকেনা প্রত্যাশার তুলনায় কম। প্রতিদিন দোকান ও খাবারসহ প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হলেও এখনো সেই অনুপাতে বিক্রি হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “সন্ধ্যার পরই কাস্টমার বেশি আসে। কিন্তু সন্ধ্যা হতে না হতেই মেলা বন্ধ হয়ে গেলে ক্রেতা কমে যায়। সময়টা একটু বাড়ানো হলে বেচাকেনা বাড়তে পারে।”

গাজীপুর থেকে শিশুদের খেলনার দোকান নিয়ে আসা মামুন বলেন, তাঁর বেচাকেনা মোটামুটি হলেও খরচ বাদ দিয়ে খুব বেশি থাকছে না। সারা বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলায় দোকান করেন তিনি। তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের সংসার এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

মামুন বলেন, “মেলা থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। বেচাকেনা একটু বাড়লে আমাদের জন্য ভালো হয়। দর্শনার্থী ভালো আছে, আশা করছি সামনে বিক্রি আরও বাড়বে।”

বগুড়া থেকে শিশুদের খেলনা নিয়ে আসা আরাফাত বলেন, টুকটাক বেচাকেনা হচ্ছে। দর্শনার্থীর সংখ্যা ভালো থাকায় সামনে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

তবে সব দোকানে বেচাকেনা কম নয়। সাতক্ষীরার সুলতানপুর থেকে খাবারের দোকান নিয়ে আসা মেহেদী হাসান বলেন, তাঁর দোকানে ভালোই বিক্রি হচ্ছে। ছোলা, বাদাম, পাপড়, কদমা ও গজাসহ বিভিন্ন খাবারের চাহিদা রয়েছে।

ভাবির সংসারের মালিক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সন্ধ্যার পরই মেলায় মানুষের ভিড় বাড়ে। কিন্তু যে সময় বেচাকেনা হওয়ার কথা, সেই সময়ই মেলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মেলা আরও কিছু সময় চললে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।”

দর্শনার্থীর উপস্থিতি বাড়লেও মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা। যশোরের কেশবপুর থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক মেজবা উদ্দিন মেলায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, “মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ভালো। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসছেন, কেনাকাটা করছেন, ঘুরে দেখছেন। আশা করি কোনো সমস্যা হবে না। মেলার বাকি দিনগুলোতেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা দায়িত্ব পালন করব।”

সাতক্ষীরার মেলায় যশোরের কেশবপুর থেকে বাড়তি নিরাপত্তার দায়িত্বে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার জানামতে, দীর্ঘদিন মেলাটি বন্ধ ছিল। নতুন করে মেলাটি চালু হয়েছে। কোনো দুষ্কৃতিকারী যাতে নতুন করে সমস্যা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

দুই বছর পর ফিরে আসা গুড়পুকুর মেলাকে ঘিরে সাতক্ষীরার মানুষের আগ্রহও বাড়ছে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। শিশুদের বিনোদন থেকে শুরু করে কেনাকাটা ও খাবারÑসব মিলিয়ে প্রতিদিনই উৎসবমুখর হয়ে উঠছে মেলা।

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সামনে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে এবং বেচাকেনাও জমে উঠবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময়টুকু বাড়ানো হলে সেই সুযোগ আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

১ অক্টোবর শুরু হওয়া গুড়পুকুর মেলা চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। ফলে সামনে আরও কয়েক দিন দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উপভোগের সুযোগ থাকছে। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও উপস্থিতি আরও বাড়বে এমন প্রত্যাশা ব্যবসায়ী ও আয়োজকদের।

Ads small one

দুই অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১১ কোটি টাকা, এক লাখও দিতে পারছে না ব্যাংকটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
দুই অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১১ কোটি টাকা, এক লাখও দিতে পারছে না ব্যাংকটি

বরিশাল জেলা পরিষদের প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ায় এবার ন্যাশনাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য সম্প্রতি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে টাকা ফেরত না দেওয়ায় জেলা পরিষদের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে গেছে। এক লাখ টাকার চেক পাঠালেও তাও দিতে পারছে না ব্যাংকটি।

এ কারণে গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা পরিষদে ডেকে পাঠানো হয় বরিশাল ন্যাশনাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্রাঞ্চ ইনচার্জ এ টি এম কামাল হোসেনকে। তার জবাব ছিল এমন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, সেখান থেকে টাকা পাওয়া গেলে আপনাদের দেওয়া হবে।

বরিশাল জেলা পরিষদের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় জেলা পরিষদের দুটি সেভিংস হিসাবে ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ টাকা ৮৬ পয়সা জমা রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ জুন জেলা পরিষদ থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জমা করা অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়। ওই চিঠিতে প্রথম হিসাবে ৫ কোটি ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৭ টাকা ১৮ পয়সা এবং দ্বিতীয় হিসাবে ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩১ হাজার ৩০৬ টাকা ৭০ পয়সা জমা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

জেলা পরিষদের ওই চিঠিতে দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, বরিশাল বরাবরে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রেরণের জন্য বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই হিসাবে জমা থাকা মোট ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ টাকা ৮৬ পয়সা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে জেলা পরিষদে ফেরত পাঠানোর জন্য পুনরায় বলা হয়।

জেলা পরিষদের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, জমা করা অর্থের পে-অর্ডার না পাওয়ায় জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজের বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

এর জবাবে ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদকে লিখিতভাবে জানানো হয়, তাদের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকের তারল্য সংকট এখনও কাটেনি। এ কারণে ওই মুহূর্তে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জেলা পরিষদের অর্থ প্রদান সম্ভব হচ্ছে না।

ব্যাংকের জবাবে আরও বলা হয়, অচিরেই তারল্য সংকটের সমাধান হবে বলে প্রধান কার্যালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এবং সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

অর্থাৎ জেলা পরিষদের নথিতে থাকা ব্যাংকের লিখিত জবাবেই ব্যাংকের তারল্য সংকটের বিষয়টি সরাসরি উঠে এসেছে। এরপরই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল আকার নেয়।

জেলা পরিষদের নথিতে দেখা গেছে, তাদের একটি প্রকল্পের ব্যয় বাবদ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ঈদগাহের অনুকূলে একটি চেকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ওই চেকের অর্থ পরিশোধ না করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি প্রত্যাখ্যান করে দেয়।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জেলা পরিষদের পক্ষে আইনজীবী আলী আহমেদ ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়। লিগ্যাল নোটিশে জেলা পরিষদের পূর্বের চিঠি এবং ব্যাংকের দেওয়া জবাবের বিষয় তুলে ধরা হয়।

সেখানে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জেলা পরিষদকে জানিয়েছিল, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকের তারল্য সংকট এখনও কাটেনি। এ কারণে ওই মুহূর্তে পে-অর্ডার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারল্য সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

কিন্তু নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই জবাবের পর জেলা পরিষদের প্রকল্প ব্যয়ের এক লাখ টাকার চেকও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে জেলা পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পরিশোধে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে লিগ্যাল নোটিশে দাবি করা হয়।

লিগ্যাল নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা পরিষদের জমা করা সমুদয় অর্থ এক বা দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হয়। অন্যথায় ব্যাংকের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর কথাও বলা হয়।

বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানিয়েছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য রাখা প্রায় ১১ কোটি টাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় আটকে আছে। টাকা ফেরত চেয়ে জেলা পরিষদ একাধিকবার লিখিতভাবে তাগাদা দিয়েছে, দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা করা অর্থ ফেরত চেয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশও দিয়েছে। এর জবাবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকটির তারল্য সংকট এখনও কাটেনি। ফলে এ মুহূর্তে পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারল্য সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে টাকা না পাওয়ায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো থমকে আছে। সামান্য এক লাখ টাকার চেকও প্রত্যাখ্যান করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

জেলা পরিষদের প্রশাসক আরও বলেন, টাকা ফেরত চাইতে গেলে ন্যাশনাল ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে কখনও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি, আবার কখনও চেয়ারম্যানের অনুমোদনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ প্রশ্ন উঠেছে, গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত গ্রহণের সময় যদি চেয়ারম্যান কিংবা এমডির অনুমোদনের প্রয়োজন না হয়, তাহলে সেই আমানত ফেরত দেওয়ার সময় কেন তাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে?

বেক্সিমকোর আরও দুই কোম্পানির পর্ষদ থেকে বাদ সালমান এফ রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
বেক্সিমকোর আরও দুই কোম্পানির পর্ষদ থেকে বাদ সালমান এফ রহমান

 

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পর এবার বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত আরও দুই প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও বাদ পড়েছেন সালমান এফ রহমান। এর ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদেই আর থাকছেন না তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিএসইসি সূত্র জানায়, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কোম্পানি দুটির পর্ষদ পুনর্গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই কোম্পানির পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পুনর্গঠিত দুই পর্ষদ থেকেই সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। ওই পর্ষদ থেকেও সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেড; কোনোটির পরিচালনা পর্ষদেই এখন আর তিনি নেই।

দুই কোম্পানির চেয়ারম্যান এ এস এফ রহমান

বিএসইসির অনুমোদিত পুনর্গঠিত পর্ষদ অনুযায়ী, শাইনপুকুর সিরামিকসের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সালমান এফ রহমানের ভাই আহমেদ সোহেল ফসিহুর রহমানকে (এ এস এফ রহমান)। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ওসমান কায়সার চৌধুরী, ইকবাল আহমেদ, আজমল কবির ও কামরুন নাহার আহমেদ।

এ ছাড়া শাইনপুকুর সিরামিকসের পর্ষদে দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বিএসইসি। তবে তাদের একজনেরও নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

অন্যদিকে বেক্সিমকো লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পেয়েছেন এ এস এফ রহমান। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে পর্ষদে রয়েছেন ওসমান কায়সার চৌধুরী।

বেক্সিমকো লিমিটেডের পুনর্গঠিত পর্ষদে উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে ইকবাল আহমেদ, আজমল কবির ও কামরুন নাহার আহমেদকে রাখা হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে শাহ মঞ্জুরুল হকসহ আরও একজনকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় স্বতন্ত্র পরিচালকের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

পর্ষদে থাকছেন সালমান-ঘনিষ্ঠরা

বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির পর্ষদ থেকে সালমান এফ রহমান বাদ পড়লেও পুনর্গঠিত পর্ষদে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের অনেকেই রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো গ্রুপ যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হন। তার কারণে কোম্পানির ব্যবসা ও শেয়ারধারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

গত বছর শেয়ারবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের ব্যবসা ও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। একই সময়ে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সালমান এফ রহমানকে শেয়ারবাজারে ‘আজীবন অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিএসইসি। এরপর ধাপে ধাপে বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রথমে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ থেকে তাকে সরানো হয়। এবার একই প্রক্রিয়ায় শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের পর্ষদ থেকেও তার নাম বাদ পড়লো।ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে সালমান এফ রহমানের সরাসরি কোনো পদ থাকলো না।

২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি, ভিয়েতনামে মূলহোতাসহ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি, ভিয়েতনামে মূলহোতাসহ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার

ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি ও মাংসের জন্য বিক্রির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিড়াল ধরার ফাঁদ, পশম তোলার মেশিন ও ডিজিটাল স্কেল জব্দ করেছে।

অনলাইন পোর্টাল ভিএনএক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯ বছর বয়সী লু থান বিনকে এই নেটওয়ার্কের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। সম্পত্তি চুরির অভিযোগে বিন ও তার ১১ সহযোগীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা রাতের বেলা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াত। যেসব বাড়িতে বিড়াল পোষা হতো, সেগুলোর বাইরে ছোপ ছোপ মাছ দিয়ে ফাঁদ পেতে রাখা হতো। প্রতিটি দল প্রতি রাতে চার থেকে ১০টি করে বিড়াল চুরি করতো।

গত ৮ জুলাই ডং থান কম্যুনে চালানো এক অভিযানে এই নেটওয়ার্কের সন্ধান মেলে। সেখানে ৫০টি বিড়াল, ৫৫টি ফাঁদ ও দুটি স্কেল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ১২ আসামি স্বীকার করেছেন, তারা প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি করে বিক্রি করেছেন। তবে এই চক্র কত দিন ধরে সক্রিয় ছিল, তা পুলিশ এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি।

বিড়াল চুরির পাশাপাশি বিন অন্যান্য স্বাধীন বিক্রেতাদের কাছ থেকেও বিড়াল কিনতেন। জুলাইয়ে উদ্ধার হওয়া ৫০টি বিড়ালের মধ্যে ১৩টিকে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভিয়েতনামে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও অনেকে মনে করেন, বিড়ালের মাংস খেলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। দেশটির বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যেই এ ধরনের মাংসের খাবার বিক্রি করা হয়; তবে বিক্রেতাদের কাছে প্রাণীর উৎসের সঠিক অনুমোদনপত্র থাকতে হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংসের ব্যবসা বন্ধের দাবিতে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ এক পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া ২০২১ সালে দেশটির হোই আন শহর কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি ও গ্রহণ বন্ধের অঙ্গীকার করে।

সূত্র: এনডিটিভি