বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

দেবহাটায় আটককৃত ৪৮ ক্যারেট আমে ক্যামিকেল, পরে বিনষ্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় আটককৃত ৪৮ ক্যারেট আমে ক্যামিকেল, পরে বিনষ্ট

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ৪৮ ক্যারেট আম আটক করে বিনষ্ট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে দেবহাটা ফুটবল মাঠে জব্দকৃত এসব আম ধ্বংস করা হয়।

জানা যায়, গত ৫-৬ দিন আগে উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের গাজীরহাট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ৪৮ ক্যারেট আম জব্দ করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান। আমগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে সেগুলো উপজেলা গুদামে সংরক্ষণ করে পরীক্ষা করা হয়।

পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরীক্ষার মাধ্যমে আমগুলোতে ক্যামিক্যাল মিশ্রণের প্রমাণ পান। এর ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার নির্দেশনায় জব্দকৃত আম বিনষ্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসময় দেবহাটার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাইনুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে ফুটবল মাঠে আমগুলো ধ্বংস করা হয়।

বিনষ্ট কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Ads small one

বুধহাটা মাদ্রাসার মুহতামিমকে ‘হয়রানির’ অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
বুধহাটা মাদ্রাসার মুহতামিমকে ‘হয়রানির’ অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট করতে এবং মুহতামিমকে পদ থেকে সরাতে একটি চক্র অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন ওই মাদ্রাসার মুহতামিম মো. সালিম উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে সালিম উদ্দিন বলেন, ২০১২ সালে তিনি যখন মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন, তখন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম ছিল। পরে তিনি মুহতামিমের দায়িত্ব নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫০-এ উন্নীত করেছেন। স্থানীয় বিত্তশালীদের সহযোগিতায় একতলা টিনশেড থেকে বর্তমানে এটি একটি সমৃদ্ধ অবকাঠামো ও দুইতলা মসজিদসহ উপজেলার শ্রেষ্ঠ কওমি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
মুহতামিম অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার এই উন্নয়ন ও তাঁর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্থানীয় কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করছে। সম্প্রতি জমিদাতা মো. তমেজউদ্দিন গাজী ওই মহলের প্ররোচনায় তাঁকে মাদ্রাসায় যেতে নিষেধ করেন। সালিম উদ্দিন বলেন, “গত ২২ এপ্রিল জমিদাতার নির্দেশে আমি মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করেছি। অথচ ২৯ এপ্রিল কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও ফোন ব্যবহারের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।”
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কওমি মাদ্রাসার নিয়ম মেনেই প্রতি মাসে আয়-ব্যয়ের হিসাব করা হয়। মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত সেই হিসাব পরীক্ষা করে খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। সালিম উদ্দিন দাবি করেন, তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহারের বিষয়টিকে বিতর্কিত করা এবং হিসাবের গরমিলের তথ্য ছড়ানো মূলত তাঁর মানহানি ও প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করার চক্রান্তের অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে সালিম উদ্দিন প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, একটি মহল ব্যক্তিস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে। তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের অভিনন্দন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে তালা প্রেসক্লাবের অভিনন্দন

তালা প্রতিনিধি: খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে তালা প্রেসক্লাব। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তালা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে এই শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করা হয়।
শুভেচ্ছা বার্তায় খুলনা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি ও দৈনিক প্রবর্তনের সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমায়ের খবরের সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলামসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমের মানোন্নয়নে এই নতুন কমিটি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তালা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতি প্রদানকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হাসান, সাধারণ সম্পাদক শেখ জলিল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান।
শুভেচ্ছা বার্তায় আরও স্বাক্ষর করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য এস এম লিয়াকত হোসেন, শেখ আব্দুস সালাম, যমুনা টিভির জেলা প্রতিনিধি এস এম আকরামুল ইসলাম, মো. বাহারুল ইসলাম, এস এম হাসান আলী বাচ্চু, বি এম বাবলুর রহমান, অ্যাডভোকেট কবির আহমেদ, মো. সোহাগ হোসেন মোড়ল ও এস এম জহর হাসান সাগর। এ ছাড়া সাধারণ পরিষদের সদস্যদের মধ্যে মো. লিটন হুসাইন, মো. হাফিজুর রহমান, শেখ ফয়সাল হোসেন, কাজী এনামুল হক বিপ্লব, খাঁন আল-মাহবুব হুসাইন, পার্থ প্রতিম মন্ডল, কাজী জীবন বারী, মো. সাগর মোড়ল ও মোস্তাফিজুর রহমান রাজুসহ অন্যান্য সাংবাদিকেরা বিবৃতিতে সংহতি প্রকাশ করেন।

আইন আছে প্রয়োগ নেই: ২০ বছরেও ঘুচেনি উপকূলের নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
আইন আছে প্রয়োগ নেই: ২০ বছরেও ঘুচেনি উপকূলের নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য

পত্রদূত রিপোর্ট: দেশে সমান মজুরি আইন পাস হয়েছে প্রায় দুই দশক আগে। কিন্তু সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। একই সময়, একই শ্রম এবং সমপরিমাণ কাজ করেও নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় মজুরি পাচ্ছেন অনেক কম। দীর্ঘ ২০ বছরেও ‘সমান কাজে সমান মজুরি’ আইনের সুফল পৌঁছায়নি সুন্দরবন উপকূলের এসব সংগ্রামী নারীর কাছে।

সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কাঁকড়ার খামার, মাছের ঘের, নদীতে রেণু আহরণ, কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করছেন নারীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে বিশেষ করে ‘সফটশেল’ কাঁকড়া চাষে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, যেখানে একজন পুরুষ শ্রমিক দিনে ৫০০ টাকা মজুরি পান, সেখানে নারী শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এমনকি মাসিক বেতনের ক্ষেত্রেও ব্যবধান দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার কাঁকড়া খামারের শ্রমিক রিনা খাতুন বলেন, “সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করি। মাসিক বেতন পাই ৭ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ আমার সঙ্গে একই কাজ করে একজন পুরুষ সহকর্মী বেতন পান ৯ হাজার টাকা। কাজ সমান হলেও পুরুষ হওয়ায় তার কদর বেশি। বারবার বলে লাভ হয় না।”

একই অভিযোগ ধান কাটা শ্রমিক মুজি বেগমের। তিনি জানান, এক বেলা কাজ করলে একজন পুরুষ ৮০০ টাকা পেলেও নারীদের দেওয়া হয় ৫০০ টাকা। শ্রমিক কামরুল মল্লিক ও তার স্ত্রী ইটের কাজ করেন একসাথে। কামরুল বলেন, “আমরা একই কাজ করি, পরিশ্রমও সমান। কিন্তু মজুরির সময় আমার স্ত্রীকে কম টাকা দেওয়া হয়। এটা অন্যায়।”

বেসরকারি সংস্থা সিসিটিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রুপন মনে করেন, এই বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন জরুরি। তিনি বলেন, “নারীরা শ্রমবাজারে বড় ভূমিকা রাখলেও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও মালিকপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আক্তার বলেন, “শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। এই বৈষম্য নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে কাঁকড়া শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলেও এই মজুরি বৈষম্য টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা। নারীর শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে না পারলে এই সম্ভাবনাময় খাতটি পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।