বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালায় নারী উন্নয়ন দলের ওরিয়েন্টেশন সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
তালায় নারী উন্নয়ন দলের ওরিয়েন্টেশন সভা

তালা প্রতিনিধি: তালায় লিগ্যাল এইড রেফারল ব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকার বিষয়ে নারী উন্নয়ন দলের সদস্যদের নিয়ে এক অর্ধবার্ষিক ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) উপজেলার জালালপুর ও মাগুরা ইউনিয়নে পৃথকভাবে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও খ্রীষ্টান এইড-এর অর্থায়নে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টার’ এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সভায় দুই ইউনিয়নের সাতটি নারী উন্নয়ন দলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের অধিকার, সুশাসন, জীবন দক্ষতা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি আইনী সহায়তার জন্য সঠিক রেফারল ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করতেই এই আয়োজন। সভায় সহায়কের ভূমিকা পালন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী বাবর আলী, ফিল্ড ভলান্টিয়ার তানজিলা খাতুন ও প্রশান্ত কুমার ঘোষ।

Ads small one

ভাড়ার সাইকেল: সময়ের চাকার নিচে হারিয়ে গেল এক পেশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
ভাড়ার সাইকেল: সময়ের চাকার নিচে হারিয়ে গেল এক পেশা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
একসময় গ্রামের হাটবাজার, উপজেলা শহর কিংবা বড় কোনো বাজারের প্রবেশমুখে সারি সারি সাইকেল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত। সাইকেলগুলো কারও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়, ভাড়ায় দেওয়ার জন্য। প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষ ঘণ্টা, অর্ধদিবস কিংবা দিনের হিসাবে সাইকেল ভাড়া নিতেন। সেই ভাড়ার সাইকেলকে ঘিরেই চলত একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পেশা। সময়ের পরিবর্তনে সেই পেশা আজ প্রায় হারিয়ে গেছে।

 

একসময় সবার ঘরে সাইকেল থাকত না। অথচ দূরের গ্রামে যেতে হবে, হাটে যেতে হবে, জমিতে যেতে হবে কিংবা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে জরুরি কাজে যেতে হবে। তখন সহজ ও সাশ্রয়ী বাহন ছিল সাইকেল। যাঁদের নিজেদের সাইকেল ছিল না, তাঁদের ভরসা ছিল ভাড়ার সাইকেল। বাজারের নির্দিষ্ট জায়গায় ছিল সাইকেল ভাড়ার দোকান। দোকান বলতে কখনো টিনের ছাউনি, কখনো বাঁশের বেড়া দেওয়া ছোট্ট ঘর।

 

সামনে সারি করে রাখা থাকত সাইকেল। কোনোটি নতুন, কোনোটি পুরোনো। তবে প্রতিটি সাইকেলই ছিল দোকানির কাছে সম্পদ। সকালে দোকান খোলার পর থেকেই শুরু হতো ব্যস্ততা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীÑবিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ প্রয়োজন মতো সাইকেল ভাড়া নিতেন। কেউ বলতেন, ‘দুপুরের মধ্যে দিয়ে দেব।’ কেউ আবার দিনের জন্য নিয়ে যেতেন। সাইকেল দেওয়ার আগে দোকানি ভালো করে দেখে নিতেন চাকা ঠিক আছে কি না, ব্রেক কাজ করছে কি না, চেইনে সমস্যা আছে কি না।

 

অনেক সময় সাইকেলের টায়ারে বাতাস কম থাকলে পাম্প দিয়ে বাতাস ভরে দেওয়া হতো। তারপর শুরু হতো পথচলা। সেই সময় সাইকেল ভাড়া দেওয়ার পেশায় শুধু অর্থের লেনদেন ছিল না, ছিল পারস্পরিক বিশ্বাসও। পরিচিত গ্রাহকের কাছ থেকে অনেক সময় আগাম টাকা নেওয়া হতো না। কেউ হয়তো বলতেন, ‘সন্ধ্যায় এসে টাকা দিয়ে যাব।’ দোকানিও বিশ্বাস করে সাইকেল তুলে দিতেন। হাটের দিনগুলোতে ভাড়ার সাইকেলের চাহিদা থাকত বেশি।

 

ভোর থেকেই মানুষ বাজারের দিকে ছুটতেন। অনেক দূরের গ্রামের মানুষও সাইকেল ভাড়া করে হাটে আসতেন। বাজারের কাজ শেষ করে আবার সাইকেল ফিরিয়ে দিতেন দোকানে। গ্রামের যোগা যোগ ব্যবস্থায় তখন সাইকেলের গুরুত্ব ছিল অনেক। কাঁচা রাস্তা, সরু মেঠোপথ কিংবা বাঁধের ওপর দিয়েও সাইকেল চালিয়ে মানুষ এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যেতেন। সাইকেল ছিল স্বাধীনভাবে চলাচলের সহজ মাধ্যম।

 

ভাড়ার সাইকেলের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অনেক মানুষের জীবিকা। কেউ সাইকেল কিনে ভাড়ায় দিতেন, কেউ আবার কয়েকটি সাইকেল নিয়ে ছোট ব্যবসা করতেন। সাইকেলের মেরামত, টায়ার-টিউব বদলানো, চেইন ঠিক করাÑএসব কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন স্থানীয় মিস্ত্রিরা। কিন্তু সময় বদলাতে বেশি সময় লাগেনি। ধীরে ধীরে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ল। অনেক পরিবার নিজেদের সাইকেল কিনতে শুরু করল।

 

পরে গ্রামাঞ্চলে মোটর সাইকেলের ব্যবহার বাড়তে থাকল। এরপর এল ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক ও অটোরিকশা। ফলে মানুষের যাতায়াতের ধরন বদলে গেল। দূরের পথ দ্রুত অতিক্রম করার জন্য মানুষ সাইকেলের বদলে মোটরসাইকেল বা ইজিবাইককে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করল। নিজেদের সাইকেল থাকা পরিবারও বাড়তে থাকায় ভাড়া করে সাইকেল নেওয়ার প্রয়োজন কমে গেল।

 

একসময় যে দোকানে দশ-বিশটি সাইকেল সারিবদ্ধভাবে রাখা থাকত, সেখানে সাইকেলের সংখ্যা কমতে কমতে শূন্যের কোঠায় নেমে এল। একের পর এক বন্ধ হয়ে গেল সাইকেল ভাড়ার দোকান। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই জীবিকার পথ বদল করেছেন। কেউ মুদি দোকান দিয়েছেন, কেউ ভ্যান চালিয়েছেন, কেউ কৃষিকাজে ফিরে গেছেন। কেউ আবার বয়সের কারণে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

 

তাঁদের অনেকের কাছেই ভাড়ার সাইকেলের দিনগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। আজকের প্রজন্মের কাছে বিষয়টি কিছুটা অবাক করার মতো। এখন একটি সাইকেল কেনা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন বিষয় নয়। শহর কিংবা গ্রামÑপ্রায় সর্বত্রই সাইকেল পাওয়া যায়। কিন্তু একসময় একটি সাইকেল ছিল অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় অথচ নাগালের বাইরে থাকা একটি জিনিস। সেই প্রয়োজনই জন্ম দিয়েছিল ভাড়ার সাইকেল ব্যবসার।

 

এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মানুষের সামাজিক সম্পর্কও। সাইকেল নিতে এসে দোকানির সঙ্গে গল্প হতো, গ্রামের খবরাখবর বিনিময় হতো। কেউ সাইকেল ফেরত দিতে দেরি করলে দোকানি চিন্তিত হতেন। পরিচিত মানুষকে নিয়ে হাসিঠাট্টাও চলত। একটি ছোট দোকান হয়ে উঠত অনেকের আড্ডার জায়গা। আজ সেই দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।

 

কোথাও হয়তো পুরোনো একটি সাইকেল পড়ে আছে। মরিচা ধরেছে তার চেইনে, শুকিয়ে গেছে টায়ার। অথচ একসময় সেই সাইকেলই কত মানুষের পথের সঙ্গী ছিল। ভাড়ার সাইকেলের পেশা হারিয়ে যাওয়াকে শুধু একটি ব্যবসার বিলুপ্তি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর মধ্য দিয়ে গ্রামীণ সমাজের পরিবর্তনের একটি চিত্রও পাওয়া যায়।

 

মানুষের আয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও জীবনযাত্রা বদলেছে। আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন ফুরিয়েছে একটি পুরোনো পেশার। তবে হারিয়ে যাওয়া পেশার গল্প কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। মানুষের স্মৃতিতে সেগুলো বেঁচে থাকে। প্রবীণরা এখনো হয়তো বলতে পারবেন, কোন বাজারে কোথায় সাইকেল ভাড়া পাওয়া যেত, এক দিনের ভাড়া কত ছিল, কোন সাইকেলটি সবচেয়ে ভালো চলত।

 

স্মৃতির পাতায় সেই দোকান, সেই সাইকেল আর সেই দোকানির মুখ হয়তো এখনো স্পষ্ট। বিকেলের আলোয় একে একে সাইকেল ফিরে আসছে, দোকানি হিসাব লিখছেন, কেউ টাকা দিচ্ছেন, কেউ পরদিন দেওয়ার কথা বলে চলে যাচ্ছেনÑএমন দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে যায়। কিছু পরিবর্তন মানুষের জীবনকে সহজ করে, আবার কিছু পরিবর্তন মুছে দেয় পুরোনো পেশা ও ঐতিহ্যের চিহ্ন। ভাড়ার সাইকেলও তেমনই এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়। আজকের দ্রুতগতির জীবনে ভাড়ার সাইকেলের প্রয়োজন হয়তো নেই। কিন্তু একসময় এই সাইকেলই ছিল অনেক মানুষের ভরসা।

 

একজন মানুষের জীবিকা, একটি পরিবারের আয় এবং একটি এলাকার সহজ যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এই ছোট্ট পেশাটি। ভাড়ার সাইকেল আজ আর চোখে পড়ে না। কিন্তু তার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñসময়ের চাকা শুধু মানুষকে সামনে নিয়ে যায় না, পথের পাশে ফেলে যায় অনেক পরিচিত পেশা, মানুষ ও স্মৃতি।

লেখক: সংবাদকর্মী

কয়রায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
কয়রায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: বিএনপি মা, মাটি ও মানুষের দল। মানবতার সেবা ও মানুষের কল্যাণে এই দল কাজ করে যাচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত এ অঞ্চলের জনসাধারণের কাছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম অসহায়, স্বল্প আয়ের মানুষ, যারা টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না, তাদের জন্য স্বাস্থ্য সেবা উন্নত করবো। আজ মানবতার সেবায় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করেছি। এই চিকিৎসা ক্যাম্পে অংশ নেওয়া ডাক্তাররা নিজেদের মেধাকে মানবতার কল্যাণে কাজে লাগাচ্ছেন।

 

ডাক্তার ও স্বেচ্ছাসেবী যারা এই আয়োজনে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও এমন আরো বৃহৎ পরিসরের চিকিৎসা সেবা আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী আরো বলেন, যেন গরিব, অসহায় ও টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা করাতে অক্ষম ব্যক্তিরাও সহজে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে তাদের জন্য কয়রা উপজেলায় ইউনিয়ন ভিত্তিক বিনামূল্যে চক্ষুপরীক্ষা ও ছানি অপারেশন চিকিৎসা ক্যাম্প করবো।

১২ আগস্ট (বুধবার) সকাল ১০টায় কয়রা উপজেলা খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্রেড হলোস ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে দেবাশীষ রায় ঝলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, জনগণের সেবা করতে এসেছি, বিএনপির চেয়ারম্যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরপরই মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা করতে কাজ করে যাচ্ছে, ইতিমধ্যে দেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্য ঘোষণা করেছেন। আমি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, কারণ জনসাধারণের ভালোবাসা ও বিশ্বাস আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

তিনি আরও বলেন, আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারি নাই, কিন্তু আপনাদের ভালোবাসায় অনেক ভোট পেয়েছি। এখানের এমপি সরকারি বরাদ্দ ও ত্রাণ তহবিল এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে দেয়া সরকারি অর্থ নিজের ব্যক্তিগত পিএস থেকে শুরু দলের আমীর জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে দেয়ার মাধ্যমে লুটপাট শুধুই নয় আত্মসাৎ করেছে। এই সকল বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবরাখবর তথ্য প্রমাণ সহকারে প্রকাশিত হয়েছে।

 

আমি এমপি হতে পাড়ি নাই, কিন্তু কথা দিয়েছিলাম, আপনাদের ছেড়ে যাবো না, সেই আলোকে বলে যাচ্ছি, কয়রা-পাইকগাছার মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জাসহ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও উন্নয়ন বঞ্চিত হবে না। আমি এ অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করে যাবো। ইতিমধ্যেই আমি অনেক বরাদ্দ দিয়েছি, অচিরেই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নে আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম শামীম কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, জেলা জাসাস আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সহিদ।

 

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক আইয়ুব আলী, মনিরুজ্জামান বেল্টু, জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, সরদার মতিউর রহমান, আব্দুস সামাদ, আবুল কালাম, কাজী সিরাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন লিটন, সাইফুজ্জামান, আইয়ুব আলী, রওশন মোল্লা, গোলাম রসুল, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন, মমিনুর রহমান সাগর, ইয়ারুল ইসলাম রিপন, পীর আলী, মোহতাসিম বিল্লাহ, আবুল কালাম আজাদ কাজল, আরিফ বিল্লাহ সবুজ, মামুন হাসান, আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

বিনামূল্যে ২০০০ (দুই হাজার) রোগীর চক্ষুপরীক্ষা ও ৫০০ (পাঁচ শত) রোগীর ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কয়রার চিকিৎসা ক্যাম্পে সকল রোগীর চক্ষু পরীক্ষা ও প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা সেবা সকাল থেকে চলমান রেখেছেন। চোখের ছানি অপারেশনের জন্য রোগী বাছাইসহ চোখের অন্যান্য সমস্যার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়

এবং বাছাইকৃত দরিদ্র ছানি রোগীদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশনসহ হাসপাতালে যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন দ্বারা অত্যাধুনিক কৃত্রিম লেন্স সংযোজনের মাধ্যমে (ওঙখ) ছানি অপারেশন করার ব্যবস্থা করেছেন। ছানি অপারেশন ও বিনামূল্যে কালো চশমা এবং ঔষধ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

 

 

 

 

সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

পত্রদূত ডেস্ক: দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সততা চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন জলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা। প্রধান অতিথি হিসাবে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যে দেশে নৈতিকতার চর্চা না থাকে সে দেশে দুর্নীতির বিস্তার ঘটে বেশি। আমাদের সমাজে দুর্নীতির সংজ্ঞা অনেক। যেমন ডাক্তাররা যদি অফিস টাইমে ক্লিনিকে প্র্যাকটিস করে সেটাও দুর্নীতি, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস না করে সেটাও দুর্নীতি। দেশের উন্নতির মূল প্রতিবন্ধকতাই হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি প্রতিরোধে ও দুর্নীতির বিস্তার রোধে সকলের স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। তাহলে দুর্নীতির মূল উৎপাঠন করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের নীতি-নৈতিকতার মান যদি উন্নত করতে পারি তাহলে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আমরা এগিয়ে যাব। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যারা মেধার জোরে যুক্তির জোরে এবং বিজ্ঞান মানসিকতার জোরে এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতেই হবে।

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত মোঃ আবুল হোসেন প্রমূখ।

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক আশরাফ হোসেন, প্রভাষক পিয়া মন্ডল ও প্রভাষক রুবেল হোসেন প্রমুখ।

প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে বিতর্কের বিষয় ছিল-ধর্মীয় অনুশাসন না মানার মানসিকতা দুর্নীতি বিস্তারের প্রধান কারণ। প্রতিযোগিতায় পক্ষে অংশ নেয় মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিপক্ষ দল হিসেবে অংশ নেয় শিমুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য প্রভাষক আব্দুল ওহাব আজাদ।

 

এ সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য রেবেকা সুলতানা, মোঃ সাকিবুর রহমান, জিএম নাজমুল আরিফ, মোঃ শহীদুর রহমান, মোঃ নাজমুল হক প্রমুখ।

প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিনের বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় জেলার ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এসময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন, খুলনার আয়োজনে ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমান।