দেবহাটায় পশু চিকিৎসকের ইনজেকশনে নারীর মৃত্যু, রফাদফার পর দাফন
কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে এক কথিত পশু চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনে দুই সন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার বহেরা বাজারে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে ওই নারীর লাশ দাফন করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত নারীর নাম পারুল খাতুন। তিনি কুলিয়া পুষ্পকাটী গ্রামের ইবাদুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত আবু সাঈদ বহেরা উত্তরপাড়ার আব্দুল গফফারের ছেলে এবং পেশায় একজন গবাদিপশু চিকিৎসক।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত নয়টার দিকে পারুল খাতুন দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে কুলিয়া বাজারে দন্ত চিকিৎসক শংকরের চেম্বারে যান। তাঁকে না পেয়ে পাশের বহেরা বাজারে আবু সাঈদের চেম্বারে যান পারুল। আবু সাঈদ ওই সময় পারুল খাতুনের শরীরে ‘সেফট্রিয়াক্সন’ ও ‘ইসোমিপ্রাজল’Ñএই দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই পারুল নিস্তেজ হয়ে পড়েন। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে আবু সাঈদ তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাতেই আবু সাঈদের বাড়ি ও চেম্বার ঘেরাও করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত আবু সাঈদ কৌশলে পালিয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, রাতেই একটি প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিষয়টির ‘রফাদফা’ করা হয়। এর ফলে শনিবার সকাল নয়টার দিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়েছে।
তবে সমঝোতার বিষয়টি অস্বীকার করে নিহত পারুলের স্বামী ইবাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্ত্রীর আগে থেকেই দুই-তিনবার স্ট্রোক করেছিল। স্ট্রোকের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এখানে ডাক্তারের কোনো দোষ নেই।’
জানতে চাইলে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলিম বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ওই নারী স্ট্রোকে মারা গেছেন। তাঁরা থানায় কোনো অভিযোগ দেননি।’
অভিযুক্ত আবু সাঈদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকাছাড়া।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল এ বিষয়ে বলেন, ‘মৃত্যুর বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন গবাদিপশু চিকিৎসকের মানুষের শরীরে হাই-ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন প্রয়োগ করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। এই চরম খামখেয়ালিপনার বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।









