শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

দেবহাটায় পশু চিকিৎসকের ইনজেকশনে নারীর মৃত্যু, রফাদফার পর দাফন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পশু চিকিৎসকের ইনজেকশনে নারীর মৃত্যু, রফাদফার পর দাফন

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে এক কথিত পশু চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনে দুই সন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার বহেরা বাজারে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে ওই নারীর লাশ দাফন করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত নারীর নাম পারুল খাতুন। তিনি কুলিয়া পুষ্পকাটী গ্রামের ইবাদুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত আবু সাঈদ বহেরা উত্তরপাড়ার আব্দুল গফফারের ছেলে এবং পেশায় একজন গবাদিপশু চিকিৎসক।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত নয়টার দিকে পারুল খাতুন দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে কুলিয়া বাজারে দন্ত চিকিৎসক শংকরের চেম্বারে যান। তাঁকে না পেয়ে পাশের বহেরা বাজারে আবু সাঈদের চেম্বারে যান পারুল। আবু সাঈদ ওই সময় পারুল খাতুনের শরীরে ‘সেফট্রিয়াক্সন’ ও ‘ইসোমিপ্রাজল’Ñএই দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই পারুল নিস্তেজ হয়ে পড়েন। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে আবু সাঈদ তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাতেই আবু সাঈদের বাড়ি ও চেম্বার ঘেরাও করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত আবু সাঈদ কৌশলে পালিয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, রাতেই একটি প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিষয়টির ‘রফাদফা’ করা হয়। এর ফলে শনিবার সকাল নয়টার দিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়েছে।
তবে সমঝোতার বিষয়টি অস্বীকার করে নিহত পারুলের স্বামী ইবাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্ত্রীর আগে থেকেই দুই-তিনবার স্ট্রোক করেছিল। স্ট্রোকের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এখানে ডাক্তারের কোনো দোষ নেই।’
জানতে চাইলে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলিম বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ওই নারী স্ট্রোকে মারা গেছেন। তাঁরা থানায় কোনো অভিযোগ দেননি।’
অভিযুক্ত আবু সাঈদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকাছাড়া।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল এ বিষয়ে বলেন, ‘মৃত্যুর বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন গবাদিপশু চিকিৎসকের মানুষের শরীরে হাই-ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন প্রয়োগ করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। এই চরম খামখেয়ালিপনার বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।

Ads small one

কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

oplus_0

 

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনির কাশিমনগর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামি মহিদুল গাজীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে কাশিমনগর বাজারের প্রধান সড়কে মানববন্ধন, পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাজসেবক এম বুলবুল আহমেদের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন পাইকগাছা উপজেলা মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শেখ সেকেন্দার আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মাজেদা পারভীন, মাওলানা আবু মুসা, গোলাম মোস্তফা গাজী ও তাসমিরা খাতুন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসায়ী ও নিজের ভাবিকে হত্যাকারী মহিদুল গাজীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিহতের মেয়ে তাসমিরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার চাচা মহিদুল গাজী আমার মাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে সে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা উল্টো তাদের ও মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ঘরচালা মাঠপাড়া গ্রামে প্রায় ২৩ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই নিজেদের জমির বৈধ মালিক দাবি করে আসায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালত ও ভূমি প্রশাসনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বল্লী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মৌজার সাবেক ২৪৮, ২৮৪, ২৮৭ সহ কয়েকটি দাগের অন্তর্ভুক্ত ২৩ শতক জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। বাদীপক্ষের মাসুরা খাতুন ও উজির আলী ফকির বিএস খতিয়ানে রেকর্ড সংশোধনের আবেদনসহ সায়েদ আলী মোড়লের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে বিবাদী সায়েদ আলী মোড়ল দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমির নামজারি (মিউটেশন) তার নামে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন। আবেশ আলী সরদারের কাছ থেকে তিনি জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ তাকে জমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে অন্য অংশীদার আবু তালেব ফকির এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, সায়েদ আলীর কাগজপত্র জাল। জমিটি বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে এবং এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে তারা সহকারী জজ ভূমি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাসউকের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মাসউকের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র (মাসউক) সাতক্ষীরার উদ্যোগে ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির ২০২৫-২০ছঞ মেয়াদের প্রশিক্ষকদের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে লোহাগড়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
এর আগে নড়াইল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মৌসুমী রানী মজুমদার প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শিরিনা খাতুন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সালমা জামান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির লোহাগড়া শাখা ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর ফারুক এবং মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ খায়রুল আলম।
তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে জীবন দক্ষতামূলক ও আয়বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন মডিউলের ওপর বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র রায় এবং মাস্টার ট্রেইনার মো. গিয়াসউদ্দিন। প্রশিক্ষণে মোট ১০জন প্রশিক্ষক অংশ নেন। সমাপনী দিনে মাসউকের হলরুমে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শিরিনা খাতুন।