রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেবহাটায় শ্রমিককে পিটিয়ে চার জনের বিরুদ্ধে চুরির মামলার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় শ্রমিককে পিটিয়ে চার জনের বিরুদ্ধে চুরির মামলার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে

দেবহাটায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক শ্রমিককে পিটিয়ে চুরির মামলায় কারগারে পাঠানোসহ তিনজন এর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ আশাশুনি থানার বাশিরামপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ তরফদারের স্ত্রী জোহরা খাতুন।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমরা অতিশয় দরিদ্র। আমাদের নিজস্ব কোন সম্পত্তি না থাকায় খালের ধারে খাস জমিতে অতিকষ্টে বসবাস করে আসছি। সংসার পরিচালনার জন্য আমার স্বামীসহ তার অন্য ভাইয়েরা দেশের বিভিন্ন স্থানের ইটের ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সংসার চালাতে আমিসহ আমার বৃদ্ধা শ^াশুড়িও শ্রমিকের কাজ করে।

 

সম্প্রতি আমার স্বামী ঋণ করে একটি পুরাতন মোটর সাইকেল ক্রয় করেছেন। গত ১০ জুন ২৬ তারিখে ওই পুরাতন মোটরসাইকেল নিয়ে স্বামী পুটিমারী বাজারে গিয়েছিল। বাজার থেকে ফেরার পথে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা দেবহাটার রঘুনাথপুর (টিকেট) গ্রামের মৃত আমানত মিস্ত্রির পুত্র কহিনুর আলমসহ কয়েকজন আমার স্বামী আব্দুস সামাদের গতিরোধ করে। তার উপর অতর্কিত হামলা করে তাদের কাছে থাকা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে।

 

খবর পেয়ে আমার বৃদ্ধা শ^াশুড়ী আয়েশা খাতুন এগিয়ে গেলে তার কোমরে লাথি মেতে গুরুতর আহত করে। এছাড়া সাথে থাকা মোটরসাইকেলটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পরে ওই মোটরসাইকেল এবং স্বামীর কাছে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর দেবহাটা থানার এসআই বেলায়েত হোসেনকে ডেকে নিয়ে আমার স্বামী আব্দুস সামাদকে তুলে দেয়।

 

পরে ওই দারগাকে ম্যানেজ করে আমার স্বামীসহ তার তিন ভাই আরিফুল ইসলাম, খায়রুল এবং প্রতিবেশী এবাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কহিনুর আলম একটি ভ্যান চুরির মামলা দায়ের করে। সে সময় দারগা বেলায়েত হোসেন আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে আমার স্বামীকে ইয়াবা বড়িসহ চালান দেওয়ার হুমকিও প্রদর্শন করে। উপায়ন্তর হয়ে ধার দেনা করে নগদ ১৪ হাজার টাকা প্রদান করি দারগা বেলায়েত হোসেনের কাছে। এরপরও বাকী টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করে আসছে এস আই বেলায়েত।

 

এছাড়া আমাদের উচ্ছেদ করে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও প্রদর্শন করে যাচ্ছে তারা। তিনি আরো বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবারের হলেও কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করি। সংসার পরিচালনা করতে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও কাজ করি এমন কি আমার বৃদ্ধা শ^াশুড়ীও শ্রমিকের কাজ করে। আমার স্বামী, তার ভাইয়েরা এবং প্রতিবেশী ইবাদুলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে কখনো চুরি বা কোন ধরনের কোন অভিযোগ নেই। সকলেই শ্রমজীবী। অথচ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার স্বামীকে শায়েস্তা করতেই পুলিশের ওই অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোজসাজস করে এই মিথ্যা ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই মামলায় আমার স্বামী বর্তমানে কারাগারে আছেন।

 

এছাড়া ওই মিথ্যা মামলায় আসামী হওয়ায় আমার দুই দেবরও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়া প্রতিবেশী ইবাদুলও পলাতক। ফলে আমাদের বাড়ি একেবারে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। তিনি ওই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি, এস আই বেলায়েত এবং মিথ্যা মামলার বাদী কহিনুর আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা ও জীবিকায় সাহায্যার্থে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ।
রোববার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় তালা উপজেলার মির্জাপুর বাজারে কাদের বক্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে নগদ টাকা ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. আলাউদ্দিন মল্লিকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, “ধনী মানুষের সম্পদের ভেতরে আল্লাহ তাআলা গরিবের হক রেখে দিয়েছেন। আজকের সমাজে যদি জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকত, তাহলে কোনো গরিব খুঁজে পাওয়া যেত না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ১০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষকে ১টি করে ছাগল এবং ১ জনকে চায়ের দোকান দেওয়ার জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ছাগলপ্রাপ্তরা হলেন বারাত গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ ও মোসাঃ সাজেদা বেগম, কুমিরার ফাতেমা বেগম, মদনপুরের আছিয়া বেগম, ভাগবা গ্রামের শিরিনা বেগম, সেনপুরের মফিজুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ, নোয়াকাটির নিসার আলী এবং জামাল উদ্দিন। এছাড়া চায়ের দোকান করার জন্য হাজরাপাড়ার কামরুল ইসলামকে নগদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, ভিডিএফের জেলা সভাপতি ডা. আফতাব উদ্দীন, তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ, সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাজমুল হক খান, কুমিরা ইউনিয়ন আমীর মাস্টার বকুল, সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম, মাস্টার মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ছাত্রনেতা জুবায়ের, সমাজসেবক আল মামুন, ডা. আবু হোসেন ও মতিউর রহমান।

 

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির বর্তমান ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রত্যাখান করে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৮ জন শীর্ষ নেতা। পদত্যাগকারীরা হলেন কার্যকরী সভাপতি শেখ সাঈদ আহমেদ রঞ্জু, সহ-সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুজ্জামান বাবলু, এবং কার্যকরী সদস্য যথাক্রমে আব্দুল মোমেন খান চৌধুরী (সান্টু), মো. আবু হাসান, মো. নুরুজ্জামান জামু, শেখ শাহাজাহান আলী ও মো. দেলোয়ার হোসেন সুজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পদত্যাগপত্রটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরবোর ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, গত ২৯ নভেম্বর সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হলেও পরবর্তীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের সুবিধাজনক ব্যক্তিদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি পৃথক কমিটি গঠন করে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন করিয়ে আনেন। বিষয়টি নিয়ে বারবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান করা হয়নি। এছাড়া অনুমোদিত কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তার নিজস্ব কোনো ট্রাক নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব অসাংগঠনিক কর্মকা-ের প্রতিবাদেই তারা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

পত্রদূত রিপোর্ট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে আন্দোলন অব্যাহত আছে। সংসদ সদস্য পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো শ্যামনগরে রোববার বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বাবলাতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এ সময় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঠিকাদার মো. শামসুদ্দোহা। বক্তব্য দেন রবিউল ইসলাম, আবদুস সালাম, মফিজুল ইসলাম, মো. রাসেল প্রমুখ।
মফিজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের নৈতিক প্রত্যাশা ও সংসদ সদস্যের পদমর্যাদার কথা বিবেচনায় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্য বক্তরা বলেন, শ্যামনগরের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গাজী নজরুল ইসলামকে ইতিমধ্যে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শ্যামনগর অচল কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার সব উপজেলায় একযোগে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্ক ও নির্বাচনী এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলার মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ জরুরি সভায় বসে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।