বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

দেশ ঘুরলেই দেশ গড়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
দেশ ঘুরলেই দেশ গড়ে

মো. মামুন হাসান

ঈদের ছুটি এলেই দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দুবাই, নেপাল, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে যাওয়া মানুষের ছবি। অনেকের কাছে এখন বিদেশ ভ্রমণ শুধু বিনোদন নয়, সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই প্রবণতার ভেতরে একটি বড় অর্থনৈতিক প্রশ্ন লুকিয়ে আছে। আমরা কি অজান্তেই নিজের দেশের পর্যটন খাতকে দুর্বল করে দিচ্ছি?

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনোদনমূলক ভ্রমণের মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসা, শিক্ষা বা ব্যবসায়িক কারণে ভ্রমণ স্বাভাবিক। কিন্তু শুধু অবকাশ যাপনের জন্য যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দেশের ভেতরেই ব্যয় হলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা এবং হাজারো তরুণ উদ্যোক্তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারত।

বিশ্বের বহু দেশ পর্যটনকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে গড়ে তুলেছে। অনেক দেশ তাদের আয়ের বড় অংশ পর্যটন থেকে অর্জন করে। বাংলাদেশও চাইলে এই খাতে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিনের প্রবাল দ্বীপ, সাজেকের পাহাড়ি সৌন্দর্য, রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সবুজ, রাত্রির জলাবন রাটারগুল, কুয়াকাটার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, মহাস্থানগড়ের প্রাচীন নিদর্শন, লালবাগ কেল্লার ইতিহাস, বিছানাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান বাংলাদেশের পর্যটনকে অনন্য করে তুলেছে।

এছাড়া বাংলাদেশের রয়েছে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব, বৈসাবি, বাউল গান, লোকনৃত্য, গ্রামীণ মেলা, জামদানি বয়নশিল্প, নকশিকাঁথা, মৃৎশিল্প এবং চা বাগানের জীবনধারা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে পারে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণ। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে কোনো ভিসা বা বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন নেই। অল্প সময় ও কম খরচে দেশ ভ্রমণ করা সম্ভব।

তবুও মানুষ বিদেশমুখী হচ্ছে। কারণ তারা শুধু সৌন্দর্য নয়, নিরাপত্তা, পরিষ্কার পরিবেশ, সেবার মান এবং স্বচ্ছ খরচ চায়। অনেক পর্যটন এলাকায় ছুটির সময়ে হোটেল ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা থাকে না, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যকেন্দ্র এবং প্রশিক্ষিত সহকারীর অভাব রয়েছে।

বাংলাদেশে পর্যটন খাত এখনো পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাব রয়েছে। প্রতিটি পর্যটন এলাকাকে উন্নত করতে প্রয়োজন উন্নত অবকাঠামো, মানসম্মত সেবা, নিরাপদ পরিবহন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা।

উৎসবভিত্তিক ভ্রমণ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদ, দুর্গাপূজা, নববর্ষ ও শীতকালীন ছুটিকে কেন্দ্র করে বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ চালু করা গেলে মধ্যবিত্ত পরিবার সহজেই দেশ ভ্রমণে আগ্রহী হবে। ট্রেন, বাস, আবাসন ও খাবার একত্রে যুক্ত করে সাশ্রয়ী ভ্রমণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসফর আরও কার্যকর করা দরকার। শিক্ষার্থীরা যদি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সরাসরি দেখার সুযোগ পায়, তাহলে দেশ সম্পর্কে তাদের ভালোবাসা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

পর্যটন শুধু বিনোদন নয়, এটি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাত। একজন পর্যটক যখন কোনো এলাকায় অর্থ ব্যয় করেন, তখন তা স্থানীয় মানুষের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। বিদেশ ভ্রমণ খারাপ নয়, কিন্তু নিজের দেশকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। নিজের দেশ না জেনে শুধু বিদেশমুখী হওয়া আত্মপরিচয়ের দুর্বলতা তৈরি করে।

বাংলাদেশ ছোট দেশ নয়, এটি সম্ভাবনার দেশ। এখানে নদী আছে, পাহাড় আছে, সমুদ্র আছে, বন আছে, ইতিহাস আছে, সংস্কৃতি আছে এবং মানুষের আতিথেয়তা আছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং নিজের দেশকে নতুনভাবে দেখার মানসিকতা।

বছরে অন্তত একবার দেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, স্থানীয় মানুষের আয় বাড়বে এবং পর্যটন খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নিজের দেশকে জানা, দেখা এবং অনুভব করাই দেশপ্রেমের অন্যতম সুন্দর প্রকাশ।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

Ads small one

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি প্রেসক্লাবের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি প্রেসক্লাবের

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সময়োপযোগী একটি বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে কথিত গণমাধ্যমকর্মীসহ একটি মহল।

ধর্মান্ধতার আড়ালে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি পবিত্র ও মহান ধর্ম ইসলামও সমর্থন করেনা। বর্তমান তরুণ সমাজে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকান্ডের গুরুত্ব বোঝাতে জেলা প্রশাসকের এ বক্তব্য নিয়ে কোনভাবেই বিভ্রান্তি তৈরি করার সুযোগ নেই।

মুলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে এ ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল তৈরী করা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুর জামান সুমন, সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ, আসাদুজ্জামান সরদারসহ সকল সদস্য। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করার অভিযোগে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করার অভিযোগে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের মানববন্ধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করে জেলা প্রশাসক বক্তব্য দিয়েছেন অভিযোগ এনে বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের নিউমার্কেট মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলার উদ্যোগে সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য সাতক্ষীরার ধর্মপ্রাণ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং জেলার মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণœ করেছে।

 

অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা ওসমান গণী, মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, মাওলানা রুস্তম আলী তাওহিদী, মাওলানা শাহাদাত হোসেন, মাওলানা ফারুক হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করে আসছে।

 

এধরনের মন্তব্য জেলার জনগণের প্রতি অসম্মানজনক এবং অনভিপ্রেত। তারা অবিলম্বে উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদানের দাবি জানান। সমাবেশে আরও বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বক্তারা। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।

এন্টার টিভির তালা উপজেলা প্রতিনিধি হলেন আবু রায়হান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
এন্টার টিভির তালা উপজেলা প্রতিনিধি হলেন আবু রায়হান

জনপ্রিয় স্যাটেলাইট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘এন্টার টিভি নিউজ’-এর তালা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আবু রায়হান।

 

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সাতক্ষীরার তালা অঞ্চলের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি