মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশ ঘুরলেই দেশ গড়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
দেশ ঘুরলেই দেশ গড়ে

মো. মামুন হাসান

ঈদের ছুটি এলেই দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দুবাই, নেপাল, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে যাওয়া মানুষের ছবি। অনেকের কাছে এখন বিদেশ ভ্রমণ শুধু বিনোদন নয়, সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই প্রবণতার ভেতরে একটি বড় অর্থনৈতিক প্রশ্ন লুকিয়ে আছে। আমরা কি অজান্তেই নিজের দেশের পর্যটন খাতকে দুর্বল করে দিচ্ছি?

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনোদনমূলক ভ্রমণের মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসা, শিক্ষা বা ব্যবসায়িক কারণে ভ্রমণ স্বাভাবিক। কিন্তু শুধু অবকাশ যাপনের জন্য যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দেশের ভেতরেই ব্যয় হলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা এবং হাজারো তরুণ উদ্যোক্তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারত।

বিশ্বের বহু দেশ পর্যটনকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে গড়ে তুলেছে। অনেক দেশ তাদের আয়ের বড় অংশ পর্যটন থেকে অর্জন করে। বাংলাদেশও চাইলে এই খাতে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিনের প্রবাল দ্বীপ, সাজেকের পাহাড়ি সৌন্দর্য, রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সবুজ, রাত্রির জলাবন রাটারগুল, কুয়াকাটার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, মহাস্থানগড়ের প্রাচীন নিদর্শন, লালবাগ কেল্লার ইতিহাস, বিছানাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান বাংলাদেশের পর্যটনকে অনন্য করে তুলেছে।

এছাড়া বাংলাদেশের রয়েছে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব, বৈসাবি, বাউল গান, লোকনৃত্য, গ্রামীণ মেলা, জামদানি বয়নশিল্প, নকশিকাঁথা, মৃৎশিল্প এবং চা বাগানের জীবনধারা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে পারে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণ। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে কোনো ভিসা বা বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন নেই। অল্প সময় ও কম খরচে দেশ ভ্রমণ করা সম্ভব।

তবুও মানুষ বিদেশমুখী হচ্ছে। কারণ তারা শুধু সৌন্দর্য নয়, নিরাপত্তা, পরিষ্কার পরিবেশ, সেবার মান এবং স্বচ্ছ খরচ চায়। অনেক পর্যটন এলাকায় ছুটির সময়ে হোটেল ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা থাকে না, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যকেন্দ্র এবং প্রশিক্ষিত সহকারীর অভাব রয়েছে।

বাংলাদেশে পর্যটন খাত এখনো পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাব রয়েছে। প্রতিটি পর্যটন এলাকাকে উন্নত করতে প্রয়োজন উন্নত অবকাঠামো, মানসম্মত সেবা, নিরাপদ পরিবহন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা।

উৎসবভিত্তিক ভ্রমণ পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদ, দুর্গাপূজা, নববর্ষ ও শীতকালীন ছুটিকে কেন্দ্র করে বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ চালু করা গেলে মধ্যবিত্ত পরিবার সহজেই দেশ ভ্রমণে আগ্রহী হবে। ট্রেন, বাস, আবাসন ও খাবার একত্রে যুক্ত করে সাশ্রয়ী ভ্রমণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসফর আরও কার্যকর করা দরকার। শিক্ষার্থীরা যদি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সরাসরি দেখার সুযোগ পায়, তাহলে দেশ সম্পর্কে তাদের ভালোবাসা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

পর্যটন শুধু বিনোদন নয়, এটি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাত। একজন পর্যটক যখন কোনো এলাকায় অর্থ ব্যয় করেন, তখন তা স্থানীয় মানুষের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। বিদেশ ভ্রমণ খারাপ নয়, কিন্তু নিজের দেশকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। নিজের দেশ না জেনে শুধু বিদেশমুখী হওয়া আত্মপরিচয়ের দুর্বলতা তৈরি করে।

বাংলাদেশ ছোট দেশ নয়, এটি সম্ভাবনার দেশ। এখানে নদী আছে, পাহাড় আছে, সমুদ্র আছে, বন আছে, ইতিহাস আছে, সংস্কৃতি আছে এবং মানুষের আতিথেয়তা আছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং নিজের দেশকে নতুনভাবে দেখার মানসিকতা।

বছরে অন্তত একবার দেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, স্থানীয় মানুষের আয় বাড়বে এবং পর্যটন খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নিজের দেশকে জানা, দেখা এবং অনুভব করাই দেশপ্রেমের অন্যতম সুন্দর প্রকাশ।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

Ads small one

নগরঘাটায় মসজিদের পানির মোটর চুরির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
নগরঘাটায় মসজিদের পানির মোটর চুরির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের হাড়কাটা বিলের মাঝখানে অবস্থিত একটি মসজিদের পানির মোটর চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন ২ যুবক। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নগরঘাটা গাবতলা এলাকার মৃত রুস্তম আলী সরদারের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন (২৪) এবং মো. আলাউদ্দীন সরদারের ছেলে মো. আরিজুল ইসলাম (২৬)। তাঁরা দুজনই সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা গাবতলা এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগে জানা যায়, গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর হাড়কাটা বিলের মাঝখানে অবস্থিত মসজিদের পানি তোলার মোটর চুরির চেষ্টা করেন ওই দুই যুবক। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করেন। পরে বিষয়টি পাটকেলঘাটা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জেল হোসেন তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অনলাইন জুয়া ও মাদক সেবনের অর্থ জোগাড় করতে চুরির ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সাতক্ষীরা জাপার সভাপতি শেখ আজহার হোসেনের সুস্থতা কামনায় দোয়ার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জাপার সভাপতি শেখ আজহার হোসেনের সুস্থতা কামনায় দোয়ার আহ্বান

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শেখ আজহার হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রথমে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তার দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণাঙ্গ রোগমুক্তি কামনা করে জেলাবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জাতীয় পার্টি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শেখ আজহার হোসেনের অসুস্থতার খবরে তারা উদ্বিগ্ন। তারা তার দ্রুত সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তার রোগমুক্তি কামনায় সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা। বিবৃতিদাতারা হলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাতক্ষীরা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আশরাফুজ্জামান আশু, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক এসএম নজরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম সরদার, সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মাহমুদ পাপা, জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বাবু, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ তপন, সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান বিপুল, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শাখাওয়াতুল করিম (পিটুল), সাংগঠনিক সম্পাদক আকরাম হোসেন খান বাপ্পি, কোষাধ্যক্ষ আশরাফ আলী এবং পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুস সাদেক।

এ ছাড়া বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কাজী আমিনুল হক ফিরোজ ও সদস্যসচিব কমল বিশ্বাস, জেলা যুব সংহতির সভাপতি আশিকুর রহমান বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, জেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি ও সাবেক ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কায়ছারুজ্জামান হিমেল, জাতীয় তরুণ পার্টির সভাপতি আবু ইয়াছিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, জাতীয় ছাত্র সমাজের সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আশরাফুজ্জামান রকি ও সাধারণ সম্পাদক কায়মুজ্জামান পাভেল, সদর উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি মো. বদরুজ্জামান বদু ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, পৌর যুব সংহতির সভাপতি নাহিদ সুলতান শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাকির হোসেন বনি এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শাখা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি সাকিব জামান দীপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক তৌফিক বিল্লাহসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিতিধি : সাতক্ষীরায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সাতক্ষীরা জেলা সংসদ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক সুরেশ পান্ডের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উদীচী সাতক্ষীরার উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, স্বদেশের মাধব দত্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলিত পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, জাসদের সুধাংশু সরকার, কমরেড আবুল হোসেন, কবি এস এম তুহিন, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, কবি শুভ্র আহমেদ, কবি ও সাহিত্যিক আবু কাজী প্রমুখ।

সমাবেশের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীতবিষয়ক সম্পাদক বিউটি চক্রবর্তী।

বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন; তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশ্বপরিচয় এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত।

তাঁরা বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, রাজনৈতিক চিন্তা ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও গবেষণা হতে পারে। মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজে যুক্তিনির্ভর সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে। তবে মতপার্থক্যের কারণে শিল্পকর্ম বিকৃত করা কিংবা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অসম্মান করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা আরও বলেন, যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দিতে হয়, সৃষ্টির জবাব দিতে হয় আরও উন্নত সৃষ্টি দিয়ে। কালি লেপন করে কোনো চিন্তাকে পরাজিত করা যায় না। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা যেন ক্ষুণœ না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

সমাবেশ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জনপরিসরে শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যুক্তিনির্ভর সমালোচনা ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।