সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার রুপরেখা এবং বর্তমান বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার রুপরেখা এবং বর্তমান বাস্তবতা

মুহাদ্দিস ওবায়দুল্লাহ

ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার রুপরেখা এবং ধর্মনিষ্ঠার ব্যাপারে মুহাম্মদ (সা.) দর্শন: আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে অত্যন্ত দ্ব্যার্থহীন ও স্পষ্ট ভাষায় সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেকটি সামাজিক ব্যধির নিরোসনকল্পে চমকপ্রদ ও ত্রুটিহীন বিধি-বিধান আরোপ করেছেন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই বিধানকে বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। যিনি হলেন বিশ্বশান্তির অগ্রদূত ও মডেল এবং সমগ্র মানবতার জন্য উসুওয়াতুন হাসানা তথা সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মডেল।

 

একই সাথে তিনি হলেন সমগ্র মানবজগতের একমাত্র নেতা ও পথপ্রদর্শক। বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে তিনি ঘোষণা করেছিলেন-“আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা এই দুটি জিনিস আঁকড়িয়ে ধরতে পারো তাহলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। আর সেদুটি হলো আল কুরআন ও রাসুলের সুন্নাহ।” সুত্র: মুওয়াত্তা ইবনে মালেক, মিশকাত শরীফ: হা. নং-১৮৬। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মুমিনের মুল অস্তিত্ব ও জীবন চলার পাথেয় হলো এই গ্রন্থদুটি। যা প্রতিটি মুমিন হৃদয় তাঁর অন্তরে ধারণ করে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে মানসপটে বদ্ধমূল করেছে। যখন থেকে মুসলিম জাঁতি তাঁদের পথ চলার এই পাথেয় দুটির হুকুমাতকে ভুলে তদস্থলে বিপরীত পন্থাকে বিধান ও শাসন ব্যবস্থার পাথেয় নির্ধারণ করেছে।

 

ঠিক সেই দিন থেকে মুসলিম সমাজে শান্তির পরিবর্তে নেমে এসেছে অন্ধকারের ঘোর তমসা। বর্তমান সময়ে যিনা-ব্যভিচার যে ঘাতক মহাব্যধিতে রুপ নিয়েছে সেটি প্রকাশ করার মতো ভাবভাষা আমার জানা নেই। গত কয়েকদিন আগে মাগুরায় আট বছর বয়সী একজন শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আল কুরআনে এদেরকে চতুষ্পদী জন্তু জানোয়ারের চেয়ে নিকৃষ্ট বলা হয়েছে। অতীতেও এমন ঘটনার দৃষ্টান্ত আছে। ওরা বর্বর, ওরা পশু; ওদের ছোবল থেকে মুক্তি পাই না, চার বছরের শিশু। শান্তিপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ সমাজ ব্যবস্থাকে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে খানখান করছে মানুষ রুপী এই পশুরা।

 

ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতা এই দুটিই সামাজিক শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠার জন্য বড় প্রতিবন্ধক এবং এই দুই শ্রেণীর দ্বারাই যিনা ব্যভিচার থেকে শুরু করে যাবতীয় সামাজিক অন্যায় ও সন্ত্রাসবাদের বাদের জন্ম। ইসলামের সুশীতল ছাঁয়াতলে এই দুই শ্রেণীর ভন্ড চরিত্রের কোনো আশ্রয় নেই। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মে জ্ঞানহীন কিছু মূর্খ ও ভন্ড পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ ধর্মান্ধের মাপকাটি নির্ধারণ করেছেন ঠিক এভাবে-“ইসলাম ধর্মের প্রত্যেকটি বিধানের প্রতি যারা গভীর শ্রদ্ধাশীল এবং ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবনে তাঁর প্রত্যেকটি হুকুম আহকামকে অনুকরণ ও অনুসরণ করে মানবতার একমাত্র রাহমাত ও কল্যাণকামী বন্ধু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

 

বিপরীত মেরু থেকে মূর্খ পন্ডিতরা এই শ্রেণীর ধর্মপ্রাণ মুসলিমদেরকে ধর্মান্ধ বলে আখ্যায়িত করে।” সুতরাং যারা প্রকৃত ধার্মিক তাঁদেরকে ধমান্ধ বলে এই শ্রেণীর বৃদ্ধিজীবীরা সামাজ ব্যবস্থার শান্তিকে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত ও লন্ডভন্ড করেছে। কুরআন সুন্নাহ ও ভাষা তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখন ধর্মান্ধের সংজ্ঞা নিরুপণ করবো। ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা তথা ধর্মনিষ্ঠা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার যা বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ৪১ এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে। অতএব ধর্মের প্রতি আন্তরিক অনুরাগ এবং সাধ্যানুসারে ধর্মের পথ অনুসরণকারীদেরকে ধর্মান্ধ বলাও সংবিধানের খেলাপ। বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানের ৬৯৪ পৃষ্ঠায় ধর্মান্ধের দুটি অর্থ লেখা হয়েছে।

 

যথা-এক. কোনো ধর্মীয় মতবাদের অন্ধ অনুসারী; গোঁড়া। দুই. পরধর্ম-বিদ্বেষী অর্থাৎ অন্যধর্মের প্রতি অসহিষ্ণুতা, উগ্রতা প্রকাশ করা। এখানে দ্বিতীয় অর্থটির উপর ভিত্তি করে প্রথমটি গ্রহণ করার মধ্যে যথেষ্ঠ যৌক্তিকতা রয়েছে। যেমন: একজন মুসলিম মাসজিদে ইবাদত করবে, একজন খ্রিস্টান গির্জায় ও একজন হিন্দু মন্দিরে উপসানা ও পূজা-অর্চনা করবে। যখন এই তিনজন ব্যক্তি একে অন্যের ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতার পরিবর্তে চরমপন্থী হয়ে অসহিষ্ণুতার ভাব প্রকাশ করবে তখন তাকে আমরা বলি ধর্মান্ধ যা বাংলা একাডেমি কর্তৃক রচিত আধুনিক বাংলা অভিধানের সাথে অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ।

 

আর আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা যে, পৃথিবীর বুকে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির এক উদার দৃষ্টান্তের নাম হলো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। সুতরাং যে ব্যক্তি আপন ধর্মের বিধি-বিধানের প্রতি আন্তরিক অনুরাগী ও সাধ্যানুসারে ধর্মের পথের অনুসারী এবং একই সাথে ভিন্নধর্মের প্রতি পরম সহিষ্ণু ও গভীর শ্রদ্ধাশীল তাঁকে ধর্মান্ধ বলা চরম মূর্খতার পরিচয়। একই সাথে আমাদের সংবিধানের প্রতি অসম্মানবোধ ও উগ্রতা প্রদর্শন করার শামিল যা অবশ্যই দন্ডনীয় অপরাধ। অন্ধের বিপরীত শব্দ হলো চক্ষুষ্মান। যে ব্যক্তি চক্ষুষ্মান থাকা সত্ত্বেও ধর্মের বিধিবিধানের প্রতি আত্ম-পূজারী ও অন্তরান্ধ হয়ে বিতৃষ্ণা, বিরাগ সৃষ্টি করে এবং গোঁড়ামিতা, উগ্রতা প্রদর্শন করে একই সাথে যারা আপন আপন ধর্মের প্রতি অনুরাগী এবং পরধর্মে সহিষ্ণুপ্রিয় তাদের প্রতি অসম্মানবোধ সৃষ্টি করে সে ব্যক্তিই প্রকৃত ধর্মান্ধ ও আত্ম-পূজারী।

 

এই শ্রেণীর ব্যক্তিদের ধর্মান্ধতা ও ধর্মহীনতার কারণে ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিদ্বয়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম খতের সৃষ্টি হয়। আর তাদের এই মূর্খতার কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার সামাজিক ইউনিটের প্রত্যেকটি জনপদে অশান্তির দাবানল জ্বলছে। ধর্মান্ধদের সম্পর্কে কাজী নজরুল ইসলাম যথার্থই বলেছেন-ধর্মান্ধরা শোনো! অন্যের পাপ গনিবার আগে নিজেদের পাপ গোনো। সুত্র: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, পৃষ্ঠা নং: ৬৯৪। ধর্মহীনতার নামে ধমান্ধতা প্রকাশ করা হলো এক চরম মূর্খতাসূলভ আচরণ যা কখনো কাম্য নয়।

 

ধর্মহীনতা বনাম ধর্মনিষ্ঠার ইসলামিক রুপরেখা: মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাক্কী জীবনে যতগুলো সুরাহ অবতীর্ণ হয়েছে তন্মধ্যে সুরাহ কাফিরুনের মধ্যে শিরকের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের সাথে সাথে তাওহীদের ভিত্তিমুলকে হৃদয়পটে ধারণ করে ইবাদত, গোলামী ও দাসত্বকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। বিখ্যাত ইসলামী সিরাত গ্রন্থকার আল্লামা ইবনে ইসহাক (রহ.), ইবনে জারীর (রহ.), ত্ববারানী (রহ.) একযোগে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন-“কুরাইশ কাফেরগণ একদা রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়ে বললো, হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি যদি চান যে, আপনার সম্পাদের প্রয়োজন আছে, তবে আমরা আপনাকে মক্কার সর্ববৃহৎ ধনী বানিয়ে দিবো। আর বিবাহ করতে চাইলেও আমাদের আরবের সর্বোচ্ছ সুন্দরী রুপসী ও গুণবতী মহিলাটি আপনাকে বিবাহ করিয়ে দিবো।

 

তথাপিও আপনি আমাদের মাবুদ’সমুহকে আর গালি দিবেন না। আর যদি একথায় একমত না হন, তবে আপনি আমাদের খোদাগুলোকে এক বছর পূজা করবেন, পরে আমরাও আপনার প্রভুকে একবছর পূজা করবো। অতঃপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, একটু অপেক্ষা করো, দেখি আমার প্রভু তাতে কি বলেন। অতঃপর এই প্রেক্ষাপটে আল্লাহ সুরাহ আল কাফিরুন নাজিল করেন।” সুত্র: তাফসিরে জালালাইন (আরবী-বাংলা),মাকতাবাতুল ইসলাম, পৃষ্টা নং: ৭/৫৯৬, তাফসিরে ইবনে কাসির(আরবী), পৃষ্ঠা নং: ৪/৬৯৫।

 

ধর্মনিষ্ঠার চমৎকার পরিচয় সুরাহ কাফিরুনের মধ্যে স্পষ্ট চিত্রায়িত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-“(১) হে নাবী! তুমি বলে দাও, হে কাফেররা। (২) আমি তাদের ইবাদত করি না যাদের ইবাদত তোমরা করো। (৩) না তোমরা (তাঁর)ইবাদত করো,যার ইবাদত আমি করি। (৪) এবং আমি কখনোই তাদের ইবাদত করবো না,যাদের তোমরা ইবাদত করো। (৫) না তোমরা (তাঁর)ইবাদত করো,যার ইবাদত আমি করি। (৬) অতএব, তোমাদের দ্বীন তোমাদের জন্যে আর আমার দ্বীন (ইসলাম) আমার জন্যে।” সুত্র: সুরাহ কাফিরুন, আয়াত: ১-৬। একই প্রসঙ্গে সুরাহ বাকারার ২৫৬ নং আয়াতে উদ্ধৃত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-“(আল্লাহর) দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জোর জবরদস্তি নেই, (কারণ) সত্য (দ্বীন ইসলাম) মানবরচিত মন্দ ধর্ম থেকে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

 

এরপর কোনো ব্যক্তি যদি বাতিল মতাদর্শকে অস্বীকার করে,আল্লাহর দেওয়া জীবন আদর্শের উপর ঈমান আনে, সে যেনো এর মাধ্যমে এমন এক মজবুত রশি ধরলো, যা কোনো দিন ছিঁড়ে যাবার নয়। আল্লাহ সবকিছু শোনেন এবং জানেন।” ইসলামের সর্বশেষ বার্তাবাহক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল কুরআনের অমীয় বাণী ও মানবমুক্তির গাইড লাইন দেওয়ার জন্য আরব উপদ্বীপে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আগমন করেছিলেন। আল কুরআন নাজিল হওয়ার সাথে সাথে আহলে কিতাব ধারী তথা ইহুদি ও নাসারাদেরকেও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত দ্বীন ইসলামকে কবুল করার দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

 

কিয়ামতের ভয়ঙ্কর মুসিবাতের দিনে ইসলাম ছাড়া অন্যকোনো দ্বীন আল্লাহ গ্রহণ করবেন না। আর এ বিষয়ে সুরাহ ইমরানে আল্লাহ তায়ালা দ্বার্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন- “যদি কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবন বিধান অনুসন্ধান করে তবে তার কাছ থেকে সে (নবউদ্ভাবিত জীবনপ্রথা) কখনো দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালের দিবসে সে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।” সুত্র: প্রাগুক্ত, আয়াত নং: ৮৫।

 

উপরে বর্ণিত সুরাহ কাফিরুনে আমরা দেখেছি শত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম নামক কল্যাণমুখী জীবন ব্যবস্থার কর্মনীতি থেকে একচুল পরিমাণ নড়চড় করেননি বরং তিনি কাফেরদেরকে বলেছিলেন আমি আমার আমার দ্বীনের বিধানের উপর সুদৃঢ় ও অটল এবং তোমরা তোমাদের দ্বীন নিয়ে থাক। লক্ষণীয় যে, ভিন্নধর্ম ও মতের প্রতি স্বয়ং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহনশীল থেকে ঘোষণা করেছেন দ্বীনের মধ্যে কোনো প্রকার জবরদস্তি নেই।

 

পরকালে ইসলাম ছাড়া অন্য দ্বীন আল্লাহ তায়ালা গ্রহণ করবেন না এটি আল্লাহ তায়ালা আপন ফয়সালার বিষয় কিন্তু একজন মুমিন-মুসলমান হিসাবে ভিন্নধর্মের নীতির প্রতি সহনশীল থাকতে হবে। ইসলামের দাওয়াত ভিন্নমতের মানুষের কাছে পৌছিয়ে দিতে হবে কিন্তু কাউকে জোর জবরদস্তি করার কোনো বিধান ইসলাম কাউকে দেয়নি। কেননা হেদায়াতের একচ্ছত্র ইখতিয়ার আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার হাতে আপন মহিমা ও কুদরাতে সংরক্ষিত। ধর্মনিষ্ঠার ব্যাপারে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারাটা জীবন ত্যাগ কুরবানীর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পৃথিবীবাসির কাছে রেখে গেছেন।

 

পরিশেষে বলবো যে, একজন মুসলিম হিসাবে সুগভীর আন্তরিকতা ও পরম অনুরাগ দিয়ে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পরিপূর্ণ আনুগত্যে করে ধর্মনিষ্ঠাকে ব্যক্তিজীবন থেকে জাতীয় জীবনের সকলস্তরে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কবি নজরুল যথার্থই বলেছেন- “ভয় নাহি, নাহি ভয়! মিথ্যা হইবে ক্ষয়! সত্য লভিবে জয়।” অন্তবাক্যে বলবো ধর্মহীনতা নয় বরং সত্যদ্বীন ও ধর্মনিষ্ঠাই হোক মানবতার একমাত্র চলার পথ ও পাথেয়, (আমিন)।

লেখক: ইসলামী গবেষক, প্রভাষক, আল হাদিস বিভাগ (কামিল), সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা

 

Ads small one

জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, অন্যায়ের কাছে সাতক্ষীরার মানুষ কখনো মাথা নত করেনি এবং ভয় দেখিয়েও তাঁদের দমানো যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মোনার সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. জিয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম ও পৌর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। সম্প্রতি সংসদে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক কাঠামোর উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দত্তনগর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি গত শুক্রবার উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অবহিত করেন। জেলা কমান্ড্যান্টের পরামর্শে আনসার সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দলনেতা তালিব হোসাইন ও ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের দলনেতা আলী হোসেন প্লাটুনভুক্ত ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা মেরামত ও পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় উপস্থিত থেকে সাধুবাদ জানান সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা। আনসার-ভিডিপির এই স্বেচ্ছাশ্রম ও সামাজিক কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী জানান, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাঁর দল ও সদস্যরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-এর জুলাই মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাতক্ষীরার প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি হৃদয় ম-লের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সাতক্ষীরা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. আতিকুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আফরিন, বোর্ড সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা।
সভার শুরুতে সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে শিগগিরই একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবির পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।