মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নববর্ষের পুনর্জাগরণে সংস্কৃতি ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
নববর্ষের পুনর্জাগরণে সংস্কৃতি ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত

মো. মামুন হাসান
বাংলা নববর্ষ শুধু একটি তারিখের পরিবর্তন নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের গভীরতম অনুষঙ্গ, একটি সাংস্কৃতিক পুনর্জন্মের প্রতীক, যেখানে সময় নতুন করে শ্বাস নেয়, আর মানুষ ফিরে যায় তার শিকড়ে। অথচ প্রশ্ন রয়ে যায়, আমরা কি এই ঐতিহ্যকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখছি, নাকি এটিকে অর্থনীতি ও পর্যটনের শক্তিশালী উপাদানে রূপ দিতে পারছি।
একসময় পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল গ্রামীণ মেলা, হালখাতা, পালাগান, বাউল সুর আর লোকজ উৎসবের সহজ সরল আবহ। নদীর ঘাটে নৌকাবাইচ, গ্রামের মাঠে লাঠিখেলা, কিংবা মাটির খেলনার দোকান, সবকিছু মিলিয়ে নববর্ষ ছিল মানুষের সঙ্গে মাটির সম্পর্কের এক জীবন্ত উদযাপন। কিন্তু নগরায়ন আর ডিজিটাল জীবনের চাপে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখনকার উদযাপন অনেক বেশি নগরকেন্দ্রিক, সীমাবদ্ধ এবং আড়ম্বরপূর্ণ।
এই পরিবর্তনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সম্ভাবনার নতুন দরজা। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে একটি জাতীয় পর্যটন উৎসবে রূপ দেওয়া গেলে এটি হতে পারে অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বিশেষ করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে নববর্ষভিত্তিক ইকো কালচারাল ট্যুরিজম। সুন্দরবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, উপকূলীয় জীবনের বাস্তবতা এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য মিলিয়ে পর্যটকদের জন্য তৈরি হতে পারে এক ভিন্নতর অভিজ্ঞতা।
সংস্কৃতির পূর্ণজাগরণের জন্য পর্যটন শিল্পকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা জরুরি। প্রথমত, স্থানীয় লোকসংস্কৃতিকে পর্যটন পণ্যে রূপ দিতে হবে। বাউল গান, পালাগান, পিঠা উৎসব, হস্তশিল্প মেলা এগুলোকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা যেতে পারে আঞ্চলিক উৎসব, যেখানে পর্যটকরা শুধু দর্শক নয়, অংশগ্রহণকারী হবে। দ্বিতীয়ত, গ্রামীণ হোমস্টে চালু করে পর্যটকদের স্থানীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যেতে পারে, যা সংস্কৃতির জীবন্ত অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। তৃতীয়ত, নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক রুট বা কালচারাল সার্কিট তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে পর্যটকরা নির্দিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনধারা পর্যায়ক্রমে উপভোগ করতে পারবে।
এছাড়া তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্থানীয় ইতিহাসচর্চা, এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে নববর্ষকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত প্রচারণা চালিয়ে বাংলা নববর্ষকে একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বিশ্বের অন্যান্য দেশ তাদের সংস্কৃতিকে উৎসবে রূপ দিয়ে পর্যটন শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশও নববর্ষকে একটি গ্লোবাল কালচারাল ফেস্টিভ্যাল হিসেবে তুলে ধরতে পারে। এজন্য প্রয়োজন সরকারি বেসরকারি সমন্বয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সৃজনশীল পরিকল্পনা।
বাংলা নববর্ষ আমাদের শেকড়ের গল্প বলে, আর পর্যটন সেই গল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে পারে। এই দুইয়ের সমন্বয়ই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত, যেখানে সংস্কৃতি শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক শক্তি।
সময় এসেছে নববর্ষকে শুধু উদযাপন নয়, বরং বিনির্মাণের হাতিয়ার হিসেবে দেখার। কারণ প্রতিটি নতুন বছরই শুধু ক্যালেন্ডার বদলায় না, বদলে দিতে পারে একটি দেশের সম্ভাবনার মানচিত্র। লেখক: বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

Ads small one

সাতক্ষীরা জাপার সভাপতি শেখ আজহার হোসেনের সুস্থতা কামনায় দোয়ার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জাপার সভাপতি শেখ আজহার হোসেনের সুস্থতা কামনায় দোয়ার আহ্বান

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শেখ আজহার হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রথমে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তার দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণাঙ্গ রোগমুক্তি কামনা করে জেলাবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জাতীয় পার্টি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শেখ আজহার হোসেনের অসুস্থতার খবরে তারা উদ্বিগ্ন। তারা তার দ্রুত সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তার রোগমুক্তি কামনায় সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা। বিবৃতিদাতারা হলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাতক্ষীরা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আশরাফুজ্জামান আশু, জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক এসএম নজরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম সরদার, সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মাহমুদ পাপা, জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বাবু, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ তপন, সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান বিপুল, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শাখাওয়াতুল করিম (পিটুল), সাংগঠনিক সম্পাদক আকরাম হোসেন খান বাপ্পি, কোষাধ্যক্ষ আশরাফ আলী এবং পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুস সাদেক।

এ ছাড়া বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কাজী আমিনুল হক ফিরোজ ও সদস্যসচিব কমল বিশ্বাস, জেলা যুব সংহতির সভাপতি আশিকুর রহমান বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, জেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি ও সাবেক ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কায়ছারুজ্জামান হিমেল, জাতীয় তরুণ পার্টির সভাপতি আবু ইয়াছিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, জাতীয় ছাত্র সমাজের সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আশরাফুজ্জামান রকি ও সাধারণ সম্পাদক কায়মুজ্জামান পাভেল, সদর উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি মো. বদরুজ্জামান বদু ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, পৌর যুব সংহতির সভাপতি নাহিদ সুলতান শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাকির হোসেন বনি এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শাখা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি সাকিব জামান দীপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক তৌফিক বিল্লাহসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিতিধি : সাতক্ষীরায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সাতক্ষীরা জেলা সংসদ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক সুরেশ পান্ডের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন উদীচী সাতক্ষীরার উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, স্বদেশের মাধব দত্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলিত পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, জাসদের সুধাংশু সরকার, কমরেড আবুল হোসেন, কবি এস এম তুহিন, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, কবি শুভ্র আহমেদ, কবি ও সাহিত্যিক আবু কাজী প্রমুখ।

সমাবেশের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীতবিষয়ক সম্পাদক বিউটি চক্রবর্তী।

বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন; তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশ্বপরিচয় এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত।

তাঁরা বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন, রাজনৈতিক চিন্তা ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও গবেষণা হতে পারে। মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজে যুক্তিনির্ভর সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে। তবে মতপার্থক্যের কারণে শিল্পকর্ম বিকৃত করা কিংবা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অসম্মান করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা আরও বলেন, যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দিতে হয়, সৃষ্টির জবাব দিতে হয় আরও উন্নত সৃষ্টি দিয়ে। কালি লেপন করে কোনো চিন্তাকে পরাজিত করা যায় না। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা যেন ক্ষুণœ না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

সমাবেশ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জনপরিসরে শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যুক্তিনির্ভর সমালোচনা ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।

 

সাতক্ষীরায় প্রথম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত, থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রথম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত, থানায় মামলা

পত্রদূত ডেস্ক: প্রথম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। শনিবার বিকেল তিনটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙা ইউনিয়নের ওয়ারিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বাড়ির ছাদে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষকের নাম- মোশাররফ হোসেন(৫৫)। তিনি সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের আছিদুর রহমান খান চৌধুরীর ছেলে।

 

ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর মা জানান, স্বামী তাকে তালাক দেওয়ার পর তিনি যশোরের শার্মা থানাধীন বাগআঁচড়া গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তার মেয়ে দাদী ও চাচীর কাছে থেকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতো।

তিনি আরো জানান, শনিবার বিকেল তিনটার দিকে তার মেয়ে বাড়ির পাশে কয়েকজন বন্ধুর সাথে খেলতে যায়। কিছুক্ষণ পর বন্ধুরা ফিরে এলেও তার মেয়ে ফিরে না আসায় দাদী ও চাচী খুঁজতে বের হয়। একপর্যায়ে তাকে রফিকুল চেয়ারম্যানের বাড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মোশাররফ তাকে খাওয়ার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে দাদী ও চাচীকে জানায়। একপর্যায়ে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেলে ভর্তি করাতে না পেরে রবিবার মেয়েকে নিয়ে বাগআঁচড়ায় নিয়ে আসেন। পরে পুলিশ এসে মেয়েকে নিয়ে সোমবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার দুলা ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা সত্য নয়। আগামি ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে তার সুনাম নষ্ট করার জন্য এ ধরণের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদি হয়ে মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোশাররফ হোসেনকে আসামী করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উপপরিদর্শক শাহারিয়ারকে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার বিচারিক হাকিম তনিমা ম-ল তার ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।