শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

নিজের ঘরেই পরবাসী মা: ‘আরা’র দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় কান্নার স্বর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
নিজের ঘরেই পরবাসী মা: ‘আরা’র দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয় কান্নার স্বর

নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরের মেহেদীবাগ এলাকার এক চিলতে ভবনের ভেতরে ১৯ জন প্রবীণের বসবাস। এই ছোট ঘরগুলো যেন এক একটি স্মৃতির মহাফেজখানা, যেখানে জমে আছে কেবলই অবহেলা আর বঞ্চনার গল্প। সাতক্ষীরার ‘আরা’ বৃদ্ধাশ্রমের এই বাসিন্দাদের ৯ জনই নারী, যারা জীবনের সবটুকু দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেও আজ ঠাঁই পেয়েছেন অন্যের দয়ায় গড়ে ওঠা এই আশ্রমে।

মিলি বিশ্বাসের গল্পটা অন্য দশটা সাধারণ মায়ের মতো হতে পারতো। নব্বইয়ের দশকে স্বল্প বেতনের চাকরিতে সংগ্রাম শুরু করে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজের উপার্জনে গড়েছেন দোতলা বাড়ি। বড় ছেলে ও ছোট ছেলে দুজনেই সচ্ছল, মেয়ে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

কিন্তু অভিযোগের তির বড় ছেলের দিকে। মিলি বিশ্বাসের দাবি, কৌশলে সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর শুরু হয় নির্যাতন। নিজ বাড়িতেই পরবাসী হয়ে পড়া এই মা অবশেষে আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। ক্ষোভ আর অভিমানে নীল হয়ে যাওয়া এই জননী বলেন, “জীবনের শেষ সময়ে এসে বড় ছেলের মৃত্যু নিজের চোখে দেখে যেতে চাই।” এই চরম হাহাকার যেন কেবল একজন মায়ের নয়, বরং চরম অবহেলার শিকার এক সত্তার আর্তনাদ। আশ্রমের প্রতিটি ঘরেই লুকিয়ে আছে এমন আরও বহু দীর্ঘশ্বাস।

জাহানারা খাতুনের একসময় নাম ছিল করুণা বিশ্বাস। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাকে তার স্বামী অন্যের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে তার দাবি। নতুন জীবনে ধর্ম পরিবর্তন করে সন্তানদের মানুষ করলেও আজ তারা কেউ পাশে নেই। এক সন্তান সম্পর্ক অস্বীকার করেছে, অন্যজন রাখে না কোনো খোঁজ।

লাভলী খাতুন খুলনার খালিশপুরের এই নারীর জীবন যেন সংগ্রামের জীবন্ত দলিল। পঙ্গুত্ব বরণ করার পর স্বামী ছেড়ে গেলে গার্মেন্টস কর্মী আর দিনমজুর হিসেবে কাজ করে তিন মেয়েকে মাস্টার্স পাস করিয়েছেন। সেই মেয়েরা আজ প্রতিষ্ঠিত হলেও মায়ের ঠিকানা হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমের এই চার দেয়াল।

আশ্রমের ১৯ জন প্রবীণের দিন কাটে একঘেয়ে রুটিনে। ভোরে উঠে ওষুধ সেবন আর প্রার্থনা। এরপর জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকা বা বারান্দায় বসে শূন্যতায় চেয়ে থাকা। বিকেলে সামান্য হাঁটাহাঁটি আর আড্ডা থাকলেও অবচেতনে সবাই যেন কারো অপেক্ষায় থাকেন। পরিবার থেকে যোগাযোগ না থাকায় মোবাইল ফোনগুলোও অধিকাংশ সময় নীরব থাকে। রাতের আঁধারে পুরনো স্মৃতি আর সন্তানদের মুখ মনে করেই ভাঙা ঘুমে পার হয় তাদের সময়।

সীমিত সাধ্যের মধ্যেও এই প্রবীণদের আগলে রাখছে ‘আরা’ সংস্থা। আবাসন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, কেবল আশ্রয় দেওয়াই তাদের শেষ লক্ষ্য নয়, তারা চান এই প্রবীণদের আপন ঠিকানায় ফিরিয়ে দিতে। দীর্ঘমেয়াদী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই শত শত প্রবীণকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে যাদের পরিবার কোনোভাবেই গ্রহণ করতে রাজি হয় না, তাদের জন্যই ‘আরা’ আজ শেষ ঠিকানা।

সপ্তাহে চার দিন মাছ, দুই দিন ডিম ও এক দিন মাংসের ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি অনেকটা ব্যক্তি-অনুদান নির্ভর। সরকারি সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয় বলে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হয়।

 

 

Ads small one

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেলেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান আব্দুল হালিম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেলেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান আব্দুল হালিম

সংবাদদাতা: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)-এ পুলিশ অফিসার থেকে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম। তার এই অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি, সাতক্ষীরাবাসী এবং স্বজনদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৭ জুন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সদর দপ্তরের পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সার্জেন্ট পদমর্যাদার সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বের গুণাবলীর স্বীকৃতিস্বরূপ আব্দুল হালিমকে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “প্রথমত আমি একজন বাঙালি, একজন বাংলাদেশি এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের সন্তান হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অনুপ্রাণিত করবে বলে বিশ্বাস করি।”

মো. আব্দুল হালিম সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মরহুম শওকাত আলী গাজী এবং মা রোকেয়া বেগম। এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি সরকারি বিএল কলেজ, খুলনায় অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০০৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে স্নাতক এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা অর্জন করেন। ২০১১ সালে তিনি এনওয়াইপিডিতে ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০১৫ সালে পুলিশ অফিসার হিসেবে যোগ দিয়ে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে সার্জেন্ট পদে উন্নীত হলেন।

বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক অভিনন্দন বার্তায় জানায়, আব্দুল হালিমের এই পদোন্নতি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সমগ্র বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তার সাফল্য নতুন প্রজন্মকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যোগদানে উৎসাহিত করবে।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি আব্দুল হালিম নিজ এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে চলেছেন।

তার পদোন্নতির খবরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদ ও মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিল এবং মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়। পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা প্রকাশ করেছেন, কর্মদক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আব্দুল হালিম ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ও সাতক্ষীরার সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন।

পাইকগাছায় গাঁজা সেবনের আসরে পুলিশের হানা: ৫ জনের কারাদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় গাঁজা সেবনের আসরে পুলিশের হানা: ৫ জনের কারাদন্ড

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় পুলিশি তৎপরতায় হাতেনাতে ধরা পড়েছে এক দল মাদকসেবী। উপজেলার কপিলমুনিতে মাদক সেবনের সময় ৫ জনকে আটক করার পর আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপন খবরে উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের নগর শ্রীরামপুর কলেজ পাড়ায় সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের ভাড়া বাড়িতে লিপু (৩০) নামের এক ভাড়াটিয়ার ঘরে একদল যুবক মাদক সেবন করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ।

কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুরো বাড়িটি ঘেরাও করেন। প্রায় এক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস চেষ্টার পর ঘরের ভেতর থেকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় ৫ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটকের পর আসামিদের দ্রুত আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক অপরাধের সত্যতা প্রমাণ পাওয়ায় সবাইকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার নগর শ্রীরামপুর গ্রামের জামালের পুত্র মাহিন (২০),কাশিমনগর গ্রামের হাসান ইমামের পুত্র মর্তুজা ইমাম (৩০), শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল বিশ্বাসের পুত্র মো. রিয়াজুল ইসলাম (৩৬), নাসিরপুর গ্রামের শেখ শামসুল আলম পিন্টুর পুত্র শেখ তামিম ইসলাম (৩০), কপিলমুনির মোস্তাক গাজীর পুত্র আব্দুস সালাম (২৮)।

পাইকগাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে এই ধরনের বিশেষ ও কঠোর অভিযান আগামীতেও একইভাবে জারি থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সাতক্ষীরায় বুক শেল্ফ পেল সেরা দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বুক শেল্ফ পেল সেরা দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

oppo_32

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের এক মহতি ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগে জেলার সেরা দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বিশেষ উপহার হিসেবে আকর্ষণীয় ‘বুক শেল্ফ’ প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং বিদ্যালয়গুলোর চমৎকার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: রুহুল আমিন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

 

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সমগ্র জেলায় বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মাত্র দুটি বিদ্যালয় এই গৌরব ও উপহার লাভ করেছে। নির্বাচিত সেরা বিদ্যালয় দুটি হলো— কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাতক্ষীরা সিলভার জুবেলি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয় দুটির প্রধান শিক্ষকদ্বয়।

 

কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান এবং সাতক্ষীরা সিলভার জুবেলি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তাঁরা বলেন, এই প্রাপ্তি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: রুহুল আমিন জানান, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং বিদ্যালয়গুলোর মাঝে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীতেও জেলার অন্যান্য ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ ধরনের উৎসাহমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।