শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

নিজ বাড়িতেই ঠাঁই নেই সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
নিজ বাড়িতেই ঠাঁই নেই সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার

এসএম বাচ্চু: একসময় সামলেছেন জেলার শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যাঁর স্বাক্ষরে হাজারো শিক্ষকের রুটি-রুজি আর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতো, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মানুষটিই এখন আশ্রয়হীন। নিজের বানানো দোতলা বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সাতক্ষীরার সাবেক জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান সরদার।

মতিয়ার রহমান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দেবনগর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৭০ সালে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৭ সালে তিনি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ ২০০৫ সালে তালা বি.দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অবসরে যান তিনি।

চাকরির সঞ্চয় দিয়ে খুলনার বাগমারা এলাকায় সাড়ে পাঁচ কাঠা জমির ওপর ছয় কক্ষের একটি দৃষ্টিনন্দন দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন মতিয়ার রহমান। দুই ছেলে ও তাঁদের পরিবার নিয়ে সেখানেই ছিল তাঁর সুখের সংসার। কিন্তু ২০১৫ সালে স্ত্রী সালমা খাতুনের মৃত্যুর পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট।

মতিয়ার রহমানের অভিযোগ, স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তান ও পুত্রবধূদের আচরণ বদলে যেতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। ঠাঁই হয় খুলনার গল্লামারী এলাকায় মেয়ের ভাড় করা একটি বাসায়। সেখানে প্রায় তিন বছর একাকী রান্না করে কোনোমতে জীবন পার করেন তিনি। পরে ২০১৮ সালে তালা উপজেলার সুফিয়া বেগম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। গত ৯ বছর ধরে এই স্ত্রীই তাঁর একমাত্র ভরসা ও সেবাযতœ করছেন।
বৃদ্ধ এই কর্মকর্তার অভিযোগ, তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী কৌশলে বাড়ির সম্পত্তি দানপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এখন নিজ বাড়িতেই তাঁর প্রবেশাধিকার নেই।

একসময়ের প্রতাপশালী এই শিক্ষা কর্মকর্তা এখন নিজের দাফনের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জনে বাড়ি বানালাম, আজ সেখানেই আমি পরবাসী। জীবনের শেষ সময়টা নিজ বাড়িতে কাটাতে চাই।”

অসহায় এই প্রবীণ কর্মকর্তার মানবেতর জীবনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বিষয়টিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

Ads small one

আশাশুনিতে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও পথসভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও পথসভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: ২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আশাশুনিতে র‌্যালি ও পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯.৩০ টায় আশাশুনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামী যুব বিভাগ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

“মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি” স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানা মোড়ে পথসভা করা হয়। যুব বিভাগের সভাপতি ডাঃ রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে পথ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. আব্দুস সোবহান মুকুল। যুব বিভাগের সেক্রেটারী আজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ও অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওঃ আনওয়ারুল হকসহ জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বক্তারা বলেন, পরিবারে একজন মাদকাসক্ত হলে পরিবারের স্বপ্ন ধ্বংস করে দেয়। আমরা সচেতন ও রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসাবে এসব নীরবে দেখতে পারিনা। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যারা মাদক সেবক, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য ঔদ্ধত্য দেখায় তাদের মুল উৎপাটনের চেষ্টা করুন।

 

জামায়াত সর্বাবস্থায় আপনাদের পাশে থাকবে। চুনোপুটিদের গ্রেপ্তার করলে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনা। যারা ব্যবসা করে যারা রাঘব বোয়াল তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনে সোপাদ্দ করুন এবং বিচার নিশ্চিত করুন। তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে যুব সমাজ গর্জে উঠেছে, যুব সমাজকে বাঁচাতে না পারলে দেশকে বাঁচাব যাবেনা। মাদক যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দেশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে উঠছে। যুব সমাজ ও মেঘাচ্ছন্ন দেশকে বাঁচাতে মাদক কারবারী ও তাদের সহযোগিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তিনি প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সুন্দরবনে দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ; হতাহত-৩, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ; হতাহত-৩, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: সুন্দরবনের ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধে বাহিনী প্রধানসহ হ জনকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ জন। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র-গোলাবারুদ।
শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দুলাভাই বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

তিনি জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে অবস্থান করছে। এ প্রেক্ষিতে গত ২৫ জুন ২০২৬ বিকাল ৫টা হতে টানা দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা এবং স্টেশন নলিয়ান কর্তৃক উক্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন দস্যুদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত প্রদান করে। সংকেত অমান্য করে বোটে অবস্থানরত ডাকাতদল কোস্ট গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি বোটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে এবং অপর একটি বোট ডুবে যায়।

বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম এবং ডাকাত শওকত সরদারকে আটক করা হয়। তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে, অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এরই অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে ডাকাত ইসরাফিল হাওলাদারকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এছাড়াও আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৬ টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ১ টি দেশীয় অস্ত্র, ১টি মোবাইল ও ১ টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত ডাকাত শওকত সরদার (৫৫) খুলনা জেলার কয়রা থানার এবং ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা।

আটককৃত ডাকাত ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। দেশের স্বার্থে ও সুন্দরবনের নিরাপত্তায় স্থানীয় জনগণকে দস্যুদের বিষয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট যেকোনো তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করা হলো। তথ্য প্রদানকারীর বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।

 

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের যুববিভাগের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‌্যালি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের যুববিভাগের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‌্যালি

সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের যুববিভাগের উদ্যোগে এ র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

র‌্যালিটি শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে শুরু হয়ে পাকাপুল মোড়, নিউমার্কেট মোড় ও তুফান মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এসে শেষ হয়।

র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের যুববিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু তালেব, সদর যুববিভাগের সভাপতি আনিছুর রহমানসহ জেলা ও পৌর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের সচেতন করার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে এ সচেতনতামূলক র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।