নিজ বাড়িতেই ঠাঁই নেই সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার
এসএম বাচ্চু: একসময় সামলেছেন জেলার শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যাঁর স্বাক্ষরে হাজারো শিক্ষকের রুটি-রুজি আর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতো, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মানুষটিই এখন আশ্রয়হীন। নিজের বানানো দোতলা বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সাতক্ষীরার সাবেক জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান সরদার।
মতিয়ার রহমান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দেবনগর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৭০ সালে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৭ সালে তিনি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ ২০০৫ সালে তালা বি.দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অবসরে যান তিনি।
চাকরির সঞ্চয় দিয়ে খুলনার বাগমারা এলাকায় সাড়ে পাঁচ কাঠা জমির ওপর ছয় কক্ষের একটি দৃষ্টিনন্দন দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন মতিয়ার রহমান। দুই ছেলে ও তাঁদের পরিবার নিয়ে সেখানেই ছিল তাঁর সুখের সংসার। কিন্তু ২০১৫ সালে স্ত্রী সালমা খাতুনের মৃত্যুর পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট।
মতিয়ার রহমানের অভিযোগ, স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তান ও পুত্রবধূদের আচরণ বদলে যেতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। ঠাঁই হয় খুলনার গল্লামারী এলাকায় মেয়ের ভাড় করা একটি বাসায়। সেখানে প্রায় তিন বছর একাকী রান্না করে কোনোমতে জীবন পার করেন তিনি। পরে ২০১৮ সালে তালা উপজেলার সুফিয়া বেগম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। গত ৯ বছর ধরে এই স্ত্রীই তাঁর একমাত্র ভরসা ও সেবাযতœ করছেন।
বৃদ্ধ এই কর্মকর্তার অভিযোগ, তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী কৌশলে বাড়ির সম্পত্তি দানপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এখন নিজ বাড়িতেই তাঁর প্রবেশাধিকার নেই।
একসময়ের প্রতাপশালী এই শিক্ষা কর্মকর্তা এখন নিজের দাফনের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জনে বাড়ি বানালাম, আজ সেখানেই আমি পরবাসী। জীবনের শেষ সময়টা নিজ বাড়িতে কাটাতে চাই।”
অসহায় এই প্রবীণ কর্মকর্তার মানবেতর জীবনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বিষয়টিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।






