কলারোয়ায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব
oppo_0
সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির ধুম পড়েছে। পুকুর বা ঘের খননের নামে অবৈধ ভেকু মেশিন দিয়ে দিনরাত কাটা হচ্ছে তিন ফসলি জমির মাটি। এসব মাটি ড্রামট্রাক ও ট্রাক্টরে করে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি কমছে, অন্যদিকে ধুলাবালি ও কাদায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাবে ‘মাটিখেকো’ চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
সরেজমিনে কেরালকাতা ইউনিয়নের নাকিলা উত্তরপাড়া ও বহুড়া দক্ষিণপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অন্তত তিনটি স্থানে বড় বড় গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। ৮ থেকে ১২ ফুট গভীর করে মাটি তোলায় পাশের জমিগুলোও এখন ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা এলাকার নূর ইসলাম, নাকিলা গ্রামের কিতাব আলী ও পুটুনি গ্রামের রাশেদসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে গ্রামের কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলোর কঙ্কালসার অবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব রাস্তা কাদায় সয়লাব হয়ে যায়, যার ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে রাস্তায় চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন কৃষক বলেন, আইন থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই। চোখের সামনে তিন ফসলি জমিগুলো পুকুর হয়ে যাচ্ছে। জমির উর্বর শক্তি নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে এলাকায় খাদ্যঘাটতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরিফুল ইসলাম বলেন, “ফসলি জমি নষ্ট করে বা ঘের খননের নামে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এই চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”












