রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কলারোয়ায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব

oppo_0

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির ধুম পড়েছে। পুকুর বা ঘের খননের নামে অবৈধ ভেকু মেশিন দিয়ে দিনরাত কাটা হচ্ছে তিন ফসলি জমির মাটি। এসব মাটি ড্রামট্রাক ও ট্রাক্টরে করে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি কমছে, অন্যদিকে ধুলাবালি ও কাদায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাবে ‘মাটিখেকো’ চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
সরেজমিনে কেরালকাতা ইউনিয়নের নাকিলা উত্তরপাড়া ও বহুড়া দক্ষিণপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অন্তত তিনটি স্থানে বড় বড় গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। ৮ থেকে ১২ ফুট গভীর করে মাটি তোলায় পাশের জমিগুলোও এখন ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা এলাকার নূর ইসলাম, নাকিলা গ্রামের কিতাব আলী ও পুটুনি গ্রামের রাশেদসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে গ্রামের কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলোর কঙ্কালসার অবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব রাস্তা কাদায় সয়লাব হয়ে যায়, যার ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে রাস্তায় চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন কৃষক বলেন, আইন থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই। চোখের সামনে তিন ফসলি জমিগুলো পুকুর হয়ে যাচ্ছে। জমির উর্বর শক্তি নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে এলাকায় খাদ্যঘাটতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরিফুল ইসলাম বলেন, “ফসলি জমি নষ্ট করে বা ঘের খননের নামে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এই চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Ads small one

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

বদিউজ্জামান: জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা ২৬ এপ্রিল বিকাল ৩টায় জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সভায় বিচার বিভাগের কর্মকর্তা বৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, জেলা তথ্য অফিসার, প্যানেল আইনজীবীবৃন্দ, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যাতে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পায়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। এ দিবস পালনের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে।”সভায় আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—সকাল ৭:৩০ টায় জজ কোর্ট চত্বর হতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি;সকাল ৮:৩০ টায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তদান কর্মসূচি ও লিগ্যাল এইড মেলা;সকাল ৯:৩০ টায় দিবসের তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনা সভা;এবং বিকাল ৫:৩০ টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সভায় উপস্থিত বক্তারা দিবসটি সফলভাবে উদযাপনের জন্য সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।সভাটি পরিচালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও যুগ্ম জেলা জজ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ লিটন দাস।

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

সাতক্ষীরা শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত প্রাণসায়ের খাল। এক সময়ের খরস্রোতা এই খালটি আজ মৃতপ্রায়, যার অন্যতম কারণ দখল আর দূষণ। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের নেতৃত্বে শহরে যে পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে সুলতানপুর বড় বাজার এলাকার বর্জ্য অপসারণ এবং খালের পানি প্রবাহ সচল রাখার যে দৃঢ় অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক ব্যক্ত করেছেন, তা সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।
তবে এই অভিযানের মাঝেই একটি উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে। সুলতানপুর বড় বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন যে, সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ খালের ধারেই কসাইখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, সেখানে খালের পাড়ে কসাইখানা স্থাপন করা হবে চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কসাইখানার বর্জ্য সরাসরি খালে পড়লে তা কেবল পানিকেই বিষাক্ত করবে না, বরং ডেঙ্গু ও মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়ে জনস্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জায়গার মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পৌরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়া কেবল আইনি জটিলতাই বাড়াবে না, বরং খালের অস্তিত্বকেও সংকটে ফেলবে। জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেছেন যে, খালের পাড়ে কোনো ময়লার ভাগাড় হতে দেওয়া হবে না।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে খালের পাড়ে কসাইখানা নির্মাণের মতো হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা প্রয়োজন।
শহরের জনচলাচল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি। জেলা প্রশাসকের এই অভিযান কেবল এক দিনের লোকদেখানো কার্যক্রম না হয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিতে হবে। আগামী শনিবার তিনি পুনরায় পরিদর্শনে আসার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খালকে বাঁচাতে এবং নাগরিকদের মশাবাহিত রোগ থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও পৌরসভাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খালের পাড়ে কসাইখানা নয়, বরং সেখানে বৃক্ষরোপণ ও হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) তৈরি করে পরিবেশবান্ধব সাতক্ষীরা গড়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হোক। জনস্বার্থই হোক সকল উন্নয়ন কর্মকা-ের মূল লক্ষ্য।

‎কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
‎কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: পরপর চারটি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া এবং সবশেষ সন্তানটি গর্ভে থাকাকালে গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর নাম বিশাখা রাণী দাস। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ফতেপুর গ্রামে। ১৫ বছর আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের শিবপদ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
বিশাখা দাসের অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁর পরপর তিনটি কন্যাসন্তান হওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ওপর নির্যাতনের শুরু হয়। চতুর্থবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু বিশাখা তাতে রাজি হননি। চার মাস আগে চতুর্থ কন্যাসন্তান জন্মের পর তাঁর ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ওই সময় তাঁকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বিশাখা জানান, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী শিবপদ দাস তাঁকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই খবর শুনে গত শনিবার সকালে তিনি স্বামীর বাড়িতে গেলে স্বামী শিবপদ, দেবর মৃত্যুঞ্জয়, সতিন জ্যোতি দাস ও শাশুড়ি শান্তি দাস মিলে তাঁকে ব্যাপক মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁর ভাই রবিন দাস তাঁকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে বিশাখা রাণী দাস বলেন, ‘ছোট মেয়েটা পেটে আসার পর থেকেই তারা বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আমি রাজি হইনি বলে তারা আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমাকে না জানিয়ে আমার স্বামী আবার বিয়ে করেছে।’
বিশাখার ভাই রবিন দাস বলেন, ‘খবর পেয়ে বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখি সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। পাষ-রা তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে শিবপদ দাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেশবপুর ও তালা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।