শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা শতাধিক, উদ্ধারে সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা শতাধিক, উদ্ধারে সেনাবাহিনী

 

নেপালে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বিধ্বংসী বন্যায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া প্রায় ১০০ মানুষকে উদ্ধারে শুক্রবার (আগস্ট ২৮) অভিযান শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার টিম। ভয়াবহ এই ঘটনার দুই দিন পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত এএফপিকে বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করা ও উদ্ধার করা। ত্রিশূলি ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কিছু মানুষ আটকা পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলো খুঁজে পাওয়াও অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে ত্রাণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

নেপালে ফের বন্যার আতঙ্ক: রুদ্ধ হ্রদ কী এবং এটি ভাঙলে কতটা ভয়াবহ হতে পারেনেপালে ফের বন্যার আতঙ্ক: রুদ্ধ হ্রদ কী এবং এটি ভাঙলে কতটা ভয়াবহ হতে পারে
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করছে সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র গতিসম্পন্ন বানের পানির মধ্যেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সেনাসদস্যদের একটি দল সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে। এতে আরও জানানো হয়, একই সুড়ঙ্গে আটকে থাকা আরও শতাধিক মানুষকে নিরাপদে বের করে আনতে সেনাবাহিনী এখনও কাজ করে যাচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া বা আটকে থাকা ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে ত্রিশূলি উপত্যকার অন্যান্য বাঁধ প্রকল্প থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকেরা জানান, দুর্যোগটি দ্রুত গতিতে আঘাত হানে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আকাশপথে উদ্ধার হওয়া দেব শ্রেষ্ঠ নামের এক শ্রমিক এএফপিকে বলেন, প্রকল্প এলাকায় অন্তত ৪০০ শ্রমিক ছিলেন। যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

অর্জুন কুমার তামাং নামে অপর এক শ্রমিক যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ছিলেন, সেখানকার ‘ব্যাপক ক্ষতির’ কথা উল্লেখ করে বলেন, কতজন মানুষ মারা গেছেন তা আমি জানি না, তবে পানির স্রোত সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে প্রচুর পরিমাণে বরফাচ্ছন্ন ধ্বংসাবশেষের তীব্র প্রবাহ তৈরি হওয়ার কারণে গত বুধবার এই বিপর্যয় ঘটে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে যাচ্ছে, যা হিমবাহের হ্রদ ভাঙা বন্যা এবং হিমবাহ ধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Ads small one

দেবহাটায় শ্মশানের জমি বিরোধ নিয়ে শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় শ্মশানের জমি বিরোধ নিয়ে শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন

দেবহাটা প্রতিনিধি: সুবর্ণাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জগদীশ সরকার শ্মশানের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ২৭ আগস্ট সকালে দেবহাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সুবর্ণাবাদ মহাশ্মশানের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর বাবা নিরাপদ সরকার। তবে বাবার দান করা সম্পত্তি নিয়ে নয়, তাঁর নিজের রেকর্ডীয় জমি নিয়েই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। শ্মশানের পরিত্যক্ত কাঠ তাঁর জমিতে রাখায় তিনি সেগুলো সরিয়ে নিজের জমিতে গাছ লাগান। কিন্তু পরবর্তীতে সেই গাছ উপড়ে ফেলে ও সীমানা প্রাচীর ভেঙে তা দখল করা হয়।
জগদীশ সরকার জানান, পরবর্তীতে প্রতিপক্ষরা ব্যর্থ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও সুদের ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ এনে মানববন্ধন করে। তিনি দাবি করেন, উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি অভিভাবকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যায় এবং বিদ্যালয়ে কোনো অনিয়ম ঘটে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তিনি সঠিক বিচার প্রত্যাশা করেন।

দেবহাটায় সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটার সখিপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক সার ব্যবসায়ীকে ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট বেলা পাঁচটায় এ অভিযান পরিচালনা করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিলন সাহা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সখিপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ‘ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’-এর ৪০ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ‘চাষী ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী আজাহারুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা জানান, মজুত খাতা, রেজিস্টার খাতা ও ক্যাশ মেমো সঠিক না থাকায় এই জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সম্পাদকীয়/ উপকূলের নারী শ্রমিকের নীরব লড়াই ও টেকসই সুরক্ষার দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলের নারী শ্রমিকের নীরব লড়াই ও টেকসই সুরক্ষার দাবি

প্রকৃতির বৈরী আচরণ আর ভৌগোলিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মানুষ জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার মানুষের জীবনজীবিকার গতিপথ অনেকটাই নির্ধারিত হয় জোয়ার-ভাটার টানে। তবে প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বন বিভাগের পাঁচ মাসের বাৎসরিক নিষেধাজ্ঞা এবং ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ বন্দিশা কাল উপকূলের অর্থনীতিকে স্থবির করে দেয়। এই দীর্ঘ ছুটির সময়গুলোতে বিকল্প উপার্জনের অভাব পুরুষদের কর্মহীন করে তোলে, যার পরোক্ষ চাপে পরিবারের দিনযাপনের মূল দায়িত্বটি এসে পড়ে নারীদের কাঁধে।
নিষেধাজ্ঞাকালীন অর্থনৈতিক দুর্যোগ উপকূলীয় নারীদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়ালেও তা এক অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক বাস্তবতাকে উন্মোচিত করছে। পুরুষের সমপরিমাণ কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করেও নারীরা পাচ্ছেন প্রায় অর্ধেক মজুরি। এই কম মজুরির সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির ঘেরমালিক ও স্থানীয় নিয়োগকর্তারা নারী শ্রমিকদের শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। শ্রমের এমন অসম মূল্যায়ন কেবল মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থীই নয়, বরং উপকূলের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।
অন্যদিকে, সংকটকালীন সরকারি সহায়তা বা ভিজিএফ চাল দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, সেখানেও রয়ে গেছে সমন্বয়হীনতার বড় ঘাটতি। জেলায় প্রকৃত জেলের সংখ্যার তুলনায় নিবন্ধিত ও সহায়তাপ্রাপ্তদের তালিকা অত্যন্ত অপ্রতুল। শুধু সরকারি চাল দিয়ে যে একটি পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়Ñএই সত্যটি নীতিপ্রণেতাদের উপলব্ধিতে আসা প্রয়োজন। চালের পাশাপাশি অন্যান্য মৌলিক পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকলে অসচ্ছল জেলে পরিবারগুলো দাদন ও ঋণের জালে আবদ্ধ হতে বাধ্য হয়।
উপকূলের নদী ও বনের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমাতে প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত জরুরি হলেও তা যেন সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে বিপন্ন না করে। মৎস্য, খাদ্য ও বন বিভাগের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত বনজীবী ও জেলেদের একটি সমন্বিত তথ্যভা-ার তৈরি করা দরকার। সহায়তার ব্যাপ্তি বাড়ানোর পাশাপাশি নারীদের কাজের ক্ষেত্রে সমমজুরি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে, জলবায়ু অভিযোজনের আওতায় অনাসৃষ্টির সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের টেকসই ব্যবস্থা গড়ে না তুললে এই মানবিক সংকট প্রতিবছরই নতুন রূপ ধারণ করবে।