বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

নোনা জলের থাবা থেকে উপকূলকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
নোনা জলের থাবা থেকে উপকূলকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি

সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের মানুষের কাছে বেড়িবাঁধ কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং এটি তাদের জীবন-মৃত্যুর সীমারেখা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও সঠিক তদারকি, কাজের ধীরগতি এবং একশ্রেণির অসাধু মানুষের লোপাটের কারণে এই রক্ষাকবচই এখন উপকূলবাসীর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি আশাশুনির হাজরাখালী এবং শ্যামনগরের গাবুরায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মানববন্ধন সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আশঙ্কারই বহিঃপ্রকাশ।

আশাশুনির হাজরাখালীর চিত্রটি উপকূলীয় উন্নয়নের এক করুণ চিত্র তুলে ধরে। ২০২২ সালে জাইকার অর্থায়নে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হলেও তিন বছরেও তা শেষ হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, অথচ বাঁধের বড় অংশ এখনো অরক্ষিত। ফাটল আর নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বাঁধের দিকে তাকিয়ে শত শত পরিবার এখন ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘের হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

 

যখন কাজ হওয়ার কথা, তখন কাজ ঝুলে থাকে; আর যখন নোনা জল লোকালয়ে ঢোকে, তখন শুরু হয় নামমাত্র ‘জরুরি সংস্কার’। এই চক্রাকার অবহেলা আর কতকাল চলবে?
অন্যদিকে, শ্যামনগরের গাবুরায় যে চিত্র দেখা গেছে, তা কেবল উদ্বেগজনক নয় বরং অপরাধমূলক। বাঁধ রক্ষার প্রধান উপকরণ ‘জিও ব্যাগ’ বা বস্তা রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যাচ্ছে। সরকারি সম্পদ এবং জননিরাপত্তার এমন অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।

 

সম্প্রতি পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই জিও ব্যাগ উদ্ধার প্রমাণ করে যে, একটি অসাধু চক্র ব্যক্তিগত লাভের জন্য পুরো এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
উপকূলীয় বাঁধ রক্ষা কেবল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের রুটিন মাফিক কাজ হওয়া উচিত নয়। এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু। হাজরাখালীর ঝুলে থাকা কাজগুলো বর্ষার আগেই দ্রুত শেষ করতে হবে। একইসাথে গাবুরার মতো এলাকাগুলোতে জিও ব্যাগ চুরি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আমরা মনে করি, কেবল বরাদ্দ বাড়ানোই সমাধান নয়; প্রয়োজন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং নিয়মিত তদারকি। সাতক্ষীরার সংশ্লিষ্ট আসনের জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বানÑবর্ষা শুরুর আগেই টেকসই বাঁধ নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন। উপকূলের মানুষকে বারবার ত্রাণপ্রার্থী না বানিয়ে, তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নিরাপদ রাখার স্থায়ী বন্দোবস্ত করুন। নোনা জলের থাবা থেকে উপকূলকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

 

 

Ads small one

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে নলতাসহ কালিগঞ্জের সব পাম্পে বাইকারদের ভিড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে নলতাসহ কালিগঞ্জের সব পাম্পে বাইকারদের ভিড়

আহাদুজ্জামান আহাদ: জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতাসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল আরোহীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার সকাল থেকেই উপজেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই আগেভাগেই মোটরসাইকেলের ট্যাংক ভর্তি করতে পাম্পে ছুটে আসেন। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি চাপ সৃষ্টি হয় এবং অনেক পাম্পে মটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

নলতা, কালিগঞ্জ সদর ও উপজেলার অন্যান্য ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। মোটরসাইকেল চালকদের অনেকেই জানান, ভবিষ্যতে তেল সংকট দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তারা আগে থেকেই তেল সংগ্রহ করছেন।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুজবের কারণে হঠাৎ করেই তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে জ্বালানি সরবরাহে কোনো আনুষ্ঠানিক সংকটের তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও জ্বালানি তেলের সংকটের কোন কথা বলা হয়নি।

সচেতন মহল গুজবে কান না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ না করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশেই উন্মুক্ত হল ব্যাংদহা স্লুইস গেট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশেই উন্মুক্ত হল ব্যাংদহা স্লুইস গেট

সংবাদদাতা: বুধবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ব্যাংদহা স্লুইস গেট উন্মুক্ত করা হয়েছে। পলি জমে গেটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার পানি নিস্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। অবশেষে দীর্ঘদিন পর সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্তের নির্দেশে গেটটি উন্মুক্ত করা হয়। এসময় অপসারণ করা হয়েছে গেটের সামনে জমে থাকা পলিমাটি।

ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর মোঃ আবু ছালেক জানান, ব্যাংদহা স্লুইস গেটটি দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে অবরুদ্ধ ছিল। যে কারণে কৃষকরা আমন ধান থেকে বঞ্চিত হত এব্ং মৎস্য চাষিরা পড়ত বিপাকে। প্রবল বর্ষণে জনাবদ্ধতার কবলে পড়তে হত সাধারণ জনগণকে। জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে অনেকের কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ত এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হত।

মোঃ আবু ছালেক আরো জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্তের নির্দেশেই ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় ব্যাংদহা স্লুইস গেটটির দুটি পাটা খুলে দেওয়া হয়েছে এবং অপসারণ করা হয়েছে পলিমাটি।

এদিকে কাজটি সম্পন্নের পর সরজমিনে পরিদর্শন করেন ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফর রহমান, মেম্বর সাংবাদিক মোঃ আবু ছালেক, জাহিদুজ্জামান বাবু, আবু সাঈদ মোল্লা প্রমুখ।

 

 

কলারোয়ায় আধুনিক মৎস্য ও গবাদিপশু পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় আধুনিক মৎস্য ও গবাদিপশু পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আধুনিক মৎস্য ও গবাদিপশু চাষে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ব্রজবাকসা বাজারে ‘নিউ হোপ পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিড’-এর পরিবেশক মেসার্স হাফিজ ট্রেডার্স-এর উদ্যোগে এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সার্বিক সহায়তায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় এলাকার প্রায় ৪০ জন নিবন্ধিত ও স্থানীয় মৎস্য চাষী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে চাষীদের গুণগত মানসম্মত ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের সঠিক ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রশিক্ষণ প্রদানকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আকরামুল কবীর, সহকারী ম্যানেজার সাজ্জাদ আরেফিন এবং সিনিয়র অফিসার রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন- কলারোয়ার মার্কেটিং অফিসার রবিউল ইসলাম।