বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

পর্যটন শিল্পের স্বপ্নের মেগা প্ল্যান ও আমাদের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
পর্যটন শিল্পের স্বপ্নের মেগা প্ল্যান ও আমাদের করণীয়

মো: মামুন হাসান

একটি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করতে পর্যটন শিল্প কতটা শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে তা বিশ্বের বহু দেশ প্রমাণ করেছে। বাংলাদেশও এখন সেই পথে হাঁটার জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতি সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটন খাতকে ঘিরে যে মহাপরিকল্পনা ও নতুন লক্ষ্যমাত্রার কথা জানানো হয়েছে তা দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

 

২০৪০ সালের মধ্যে ৫ কোটি ৫৭ লাখ পর্যটক আকর্ষণ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে লক্ষ্য ট্যুরিজম মেগা প্ল্যান ২০২৬-২০৪০ এ রাখা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং সাহসী পদক্ষেপ। বর্তমানে আমাদের আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম যেখানে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক এসেছেন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার। এই বাস্তবতাকে বদলে দিতে সরকার আগামীতে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করতে চায়।

 

এই লক্ষ্য অর্জনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে যা এই খাতের প্রতি সরকারের দূরদর্শী ভাবনারই প্রকাশ। বিশ্বজুড়ে যেখানে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ২ শতাংশ বেড়ে ৩০ কোটি ৭০ লাখে পৌঁছেছে সেখানে আমাদের এই বিশাল বৈশ্বিক বাজারের অংশীদার হতে হবে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় উঠে এসেছে একটি সমন্বিত বিনিয়োগ রোডম্যাপের কথা যেখানে পরিবেশবান্ধব ইকো ট্যুরিজম এবং গ্রামীণ পর্যটনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

 

বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের মাঝে কোয়ায়েট ট্রাভেল বা কোলাহলমুক্ত ভ্রমণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনধারাভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। সুন্দরবন, কক্সবাজার কিংবা সিলেটের চা বাগান অঞ্চলের মতো আমাদের যে প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে সেগুলোকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে উপস্থাপন করতে পারলে বিশ্ব দরবারে আমরা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারব। তবে শুধু পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দই যথেষ্ট নয় বরং এই মহাপরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে আমাদের আরও কিছু কার্যকরী ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রথমত আমাদের আন্তর্জাতিক প্রচারণায় আমূল পরিবর্তন আনা দরকার। বর্তমান যুগ ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগ হওয়ায় বিশ্বখ্যাত ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সারদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে আমাদের সুন্দরবন বা ষাট গম্বুজ মসজিদের মতো ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহ্যগুলোকে বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরতে হবে।

 

বিবিসি ট্রাভেল বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলজেরিয়া, চিলি বা ভুটানকে ২০২৬ সালের সম্ভাবনাময় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে এবং সেই তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কূটনৈতিক স্তরে জোর লবিং প্রয়োজন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে চা ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যভিত্তিক যৌথ পর্যটন উদ্যোগের যে পরিকল্পনা চলছে তা আরও সম্প্রসারিত করে ভারত বা নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ ট্যুরিজম সার্কিট তৈরি করা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশে আসার প্রক্রিয়াটিকে পানির মতো সহজ করতে হবে। ভিসা অন অ্যারাইভাল বা আগমনী ভিসা সুবিধার আওতা আরও বাড়াতে হবে এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইন ও ডিজিটাল করতে হবে যেন একজন বিদেশি পর্যটক বিমানবন্দরে নেমেই কোনো রকম হয়রানি ছাড়া দ্রুততম সময়ে দেশে প্রবেশ করতে পারেন। বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের যে কথা বাজেটে বলা হয়েছে তার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

এর পাশাপাশি আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পর্যটন খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করা। আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে এবং গাইডদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তারা বিদেশি পর্যটকদের আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস সঠিকভাবে বোঝাতে পারেন।

 

সবশেষে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এই শিল্পের প্রাণ। ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিধি ও কার্যকারিতা আরও বাড়াতে হবে বিশেষ করে নারী ও বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে রাত দিন চব্বিশ ঘণ্টা। কক্সবাজার, যশোর, সৈয়দপুর বা রাজশাহীর মতো বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নয়ন করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেগুলোর চারপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও হোটেল রিসোর্টের মানও আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে হবে।

 

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও করের বোঝা কমাতে হবে। পর্যটন শিল্প কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হাতিয়ার নয় এটি দেশের লাখ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের এক বিশাল ক্ষেত্র। সঠিক সমন্বয় এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে প্রস্তাবিত এই মেগা প্ল্যান বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হবে।

লেখক: মো: মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

Ads small one

গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: বুধবার সকাল সাড়ে আটটা। শহরের দোকানপাট সবে খুলতে শুরু করেছে। কর্মজীবী মানুষ ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও রওনা হয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে। এমন সময় শুরু হলো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাতক্ষীরা শহরের তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়কে জমে গেল পানি।
ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি ইজিবাইকের চাকা পানিভরা গর্তে পড়ে যায়। এতে নোংরা পানি ছিটকে গিয়ে ভিজে যায় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ভ্যানের যাত্রীদের পোশাক। তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটারের এই সড়কে এমন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র।
শহরের অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে পুরোপুরি বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই কাদা-পানি মাড়িয়েই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। সড়কের দুপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের অংশও কাদায় ঢেকে গেছে।
এ রাস্তায় যাতায়াতকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। গর্তে চাকা পড়ে প্রতিনিয়ত রিকশা বা ইজিবাইক উল্টে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। নোংরা পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হওয়া এখানে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলে এই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ারও কোনো উপায় থাকে না।
সড়কের পাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। কাদা আর নোংরা পানির ছিটায় দোকানের মালামাল নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এই অবস্থা থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
ব্যস্ততম এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে কাদা-পানির এই নাকাল হওয়া থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী।

আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

সাতক্ষীরায় মোট পরীক্ষার্থী ১৫,৯০৬, এইচএসসি ১১৪০২, আলিম ১৮৪২, ভোকেশনাল ২৬৬২
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার সাতক্ষীরা জেলায় এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি (ভোকেশনাল) মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৯০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। জেলার মোট ৪০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার সাধারণ ধারায় এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলার ২৩টি কেন্দ্রে মোট ১১ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৯০৫ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৪৯৭ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ৯টি কেন্দ্রে মোট অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৮৪২ জন পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৩৫ জন এবং ছাত্রী ৭০৭ জন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় জেলার ৮টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্র এবং ৯৭৯ জন ছাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর উক্ত তথ্য দিয়ে জানান, সবকটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো নিয়মিত তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

সংবাদদাতা: দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পলি জমে নাব্যতা হারানো সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঐতিহাসিক জাহাজমারী খালটি পুনঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের কৃষিতে। খরা মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট আর বর্ষায় জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এই খালের সুবিধাভোগী ছয়টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার কৃষক।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খনন করা এই খালটি নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও উত্তরণের যৌথ উদ্যোগে ‘সফল ফর আইডব্লিউআরএম’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি পুনঃখনন করা হয়। দলুইপুর থেকে গোছমারা লস্কার বড় খাল পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৩ ফুট প্রশস্ত এই খালটি পুনঃখননের ফলে প্রায় ৬২৫ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শেখ আব্দুর রব ও খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের জানান, একসময় সেচের পানির অভাবে জমি অনাবাদি থাকত, আবার বর্ষায় ফসল তলিয়ে লোকসান গুনতে হতো। এখন পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও খালটি সচল রাখতে কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে একটি তহবিল গঠন করেছেন, যা দিয়ে প্রতিবছর এটি পরিষ্কার করা হবে।
এদিকে, পুনঃখননকৃত খালের নাব্যতা ধরে রাখতে গত সোমবার দুপুরে যুগিখালী ইউনিয়নের আড়খালী মসজিদ-সংলগ্ন জাহাজমারী খালে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।