বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের শেষ ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের শেষ ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই পর্বে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৩৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৬৪ লক্ষের বেশি এবং নারী ভোটার ১ কোটি ৫৭ লক্ষের বেশি। সোমবার রাতে ট্রাইবুনালের রায়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৬৮ জনের নাম যুক্ত হলেও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ৬ জন।

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ৪১ হাজার একটি বুথের মধ্যে ৪ হাজার ৮৩৩টি বুথকে ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত দুই দিনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই দফায় দুই হাজার ৩০০ কোম্পানির বেশি বাহিনী রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩৯ হাজার রাজ্য পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়, যেখানে ৫১২ কোম্পানি বাহিনী রয়েছে । এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪১৩, হুগলিতে ৩২৩, নদীয়ায় ২৮৭, কলকাতায় ২৭৪, পূর্ব বর্ধমানে ২৬৩ এবং হাওড়ায় ২৫৮ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ-ও নজরদারিতে যুক্ত হয়েছে। কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় তারা পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।

শেষ পর্যায়ের ভোটযুদ্ধে মাঠে রয়েছেন এক হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী এক হাজার ২২৮ জন এবং নারী ২২০ জন। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখোমুখি লড়াইয়ে রয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরজি কর হাসপাতালের নিহত চিকিৎসকের মা ।

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফার মতো শেষ দফার ভোটও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তৃণমূল কংগ্রেস আবারও ক্ষমতায় ফিরবে, নাকি সরকার পরিবর্তন হবে, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে।

Ads small one

শ্যামনগরে জব্দকৃত শামুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে জব্দকৃত শামুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত

পত্রদূত ডেস্ক: কুরিয়ারের মাধ্যমে পাচারকালে জব্দকৃত ৫০ বস্তা শামুক ও ঝিনুক সুন্দরবনে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলাধীন মুন্সিগঞ্জ বন বিভাগের টহল ফাঁড়ির সামনে চুনানদীতে এসব শামুক ও ঝিনুক অবমুক্ত করা হয়।

বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান ও শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালিদুর রহমান উপস্থিত থেকে এসব শামুক অবমুক্ত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে সুন্দরবন কুরিয়ারের শ্যামনগর শাখা থেকে কক্সবাজারে পাচারের জন্যবুকিং দেওয়া এসব শামুক জব্দ করে বনবিভাগ ও পুলিশ।

শুক্রবারের চিকিৎসা, ওষুধের অনিশ্চয়তা: সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যব্যবস্থার অদৃশ্য সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
শুক্রবারের চিকিৎসা, ওষুধের অনিশ্চয়তা: সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যব্যবস্থার অদৃশ্য সংকট

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
সকাল আটটা। সাতক্ষীরা শহরের প্রধান সড়কগুলো তখনই ব্যস্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে। আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, তালা, কলারোয়া-জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন। কারও হাতে পরীক্ষার রিপোর্ট, কারও চোখে উদ্বেগ, কারও সঙ্গে অসুস্থ বাবা-মা বা শিশু সন্তান। কারণ একটাই-আজ শুক্রবার। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর দিন। কিন্তু এই আশার দিনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে আরেকটি বাস্তবতা-চিকিৎসা পাওয়ার পরও চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হওয়ার এক নীরব সংকট। প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়েও অনেক রোগী ফিরছেন অনিশ্চয়তা নিয়ে, কারণ প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না, বা পেতে হচ্ছে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা।

 

এই দৃশ্য কোনো ব্যতিক্রম নয়। বরং এটি এখন একটি নিয়মিত চিত্র, যা সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করে। স্বাভাবিক অর্থনীতির ভাষায়, কোনো পণ্য বা সেবার চাহিদা বাড়লে সরবরাহও বাড়ার কথা। কিন্তু সাতক্ষীরার বাস্তবতা যেন সেই সূত্রের উল্টো। শুক্রবার-যেদিন রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি-সেই দিনেই শহরের অর্ধেক অংশের ফার্মেসি বন্ধ থাকে। ওষুধ ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পালাক্রমে দোকান বন্ধ রাখা হয়। ফলে কার্যত অর্ধেকের বেশি দোকান সেবা থেকে বাইরে থাকে।

 

এতে দুটি বড় সমস্যা তৈরি হয়-খোলা থাকা দোকানগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ, রোগীদের জন্য সময় ও সেবার সংকট ফলে বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে হওয়ার কথা নয়। এই সংকটকে বুঝতে হলে মাঠের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন রোগী ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। তিন-চার ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে শহরে পৌঁছেছেন। চিকিৎসকের চেম্বারে অপেক্ষা করেছেন আরও কয়েক ঘণ্টা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে যখন প্রেসক্রিপশন হাতে পেয়েছেন, তখন শরীর-মন দুটোই ক্লান্ত।

এই অবস্থায় যদি তাঁকে আরও দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে সেটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়-এটি একটি মানবিক ব্যর্থতা। বিশেষ করে-বয়স্ক রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশুরা এই দীর্ঘ অপেক্ষার কষ্ট আরও তীব্রভাবে অনুভব করেন। সংকটের ভেতর আরও একটি উদ্বেগজনক দিক উঠে এসেছে-সব রোগী সমান সেবা পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ফার্মেসি বড় অংকের প্রেসক্রিপশনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ছোট অংকের ওষুধ নিতে আসা রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়, কখনো বা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নয়-এটি নৈতিক সংকট। স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য মানে-দরিদ্র মানুষ আরও বঞ্চিত হওয়া, জরুরি রোগী ঝুঁকিতে পড়া, সামাজিক অসাম্য আরও গভীর হওয়া। ওষুধ ব্যবসায়ীদের বক্তব্যও একেবারে অযৌক্তিক নয়। তারা বলছেন-কর্মচারীদের নির্দিষ্ট শিফট নেই, দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়, বিশ্রামের সুযোগ প্রয়োজন। এই বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো-সমাধান কি এই? স্বাস্থ্যসেবা খাতে সমাধান হতে হবে এমন, যাতে-কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত হয়, রোগীদের সেবাও ব্যাহত না হয়, কিন্তু বর্তমান পদ্ধতিতে দেখা যাচ্ছে, ভারসাম্য তৈরি হয়নি।

 

স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ পণ্য নয়। এটি একটি “রহবষধংঃরপ ফবসধহফ বা অনমনীয় চাহিদার ক্ষেত্র। অর্থাৎ-রোগী তার চাহিদা স্থগিত করতে পারে না, বিকল্প খুঁজে নেওয়ার সুযোগ সীমিতসময়ই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে স্বাস্থ্যসেবাকে পুরোপুরি বাজারের নিয়মে পরিচালনা করা যায় না। ফার্মেসিগুলো যদি শুধুই ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিচালিত হয়, তাহলে এই ধরনের সংকট তৈরি হবেই। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-প্রশাসন কী করছে? বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবা একটি জরুরি সেবা।

 

এই সেবার অংশ হিসেবে ওষুধ সরবরাহও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে-সাপ্তাহিক ছুটিতে ফার্মেসি বন্ধ রাখার নীতিমালা কী? কোনো তদারকি আছে কি? অভিযোগের তদন্ত হয় কি? এই প্রশ্নগুলোর সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায় না। শুক্রবারের এই ভিড় আসলে একটি বড় সমস্যার লক্ষণ। কারণ-উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, মানসম্মত ডায়াগনস্টিক সুবিধার সীমাবদ্ধতা, চিকিৎসা ব্যবস্থার কেন্দ্রীভবন ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে শহরে আসে। এটি একটি “পবহঃৎধষরুবফ যবধষঃযপধৎব সড়ফবষ-এর ফলাফল।

 

সাতক্ষীরার এই চিত্র পুরো দেশের একটি প্রতিফলন। সমস্যাগুলো হলো-শহর বনাম গ্রামের বৈষম্য, সরকারি ও বেসরকারি সেবার অসমতা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা এই কারণে ছোট একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও বড় সংকটে পরিণত হয়। সমস্যার সমাধান আছে, তবে তা হতে হবে বাস্তবসম্মত। সব দোকান খোলা রেখে কর্মীদের পালাক্রমে ছুটি দেওয়া। প্রতিটি এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক ফার্মেসি খোলা রাখা বাধ্যতামূলক করা। লাইফ-সেভিং ওষুধ সবসময় নিশ্চিত রাখা। টোকেন বা সিরিয়াল সিস্টেম চালু করা।

 

সেবায় বৈষম্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া। বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক সমস্যা কমানো সম্ভব-অনলাইন প্রেসক্রিপশন, ওষুধের স্টক তথ্য, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং এসব উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভিড় কমানো সম্ভব। সবশেষে বিষয়টি মানবিক। একজন রোগী যখন-দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন, অসুস্থ শরীরে অপেক্ষা করেন, ওষুধ না পেয়ে ফিরে যান তখন সেটি কেবল একটি সিস্টেমের ব্যর্থতা নয়, এটি একটি সমাজের ব্যর্থতা। এই সংকটকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

 

কারণ-এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন, এটি প্রশাসনিক সক্ষমতার পরীক্ষাসাতক্ষীরার শুক্রবার আমাদের সামনে একটি সহজ কিন্তু গভীর প্রশ্ন তুলে ধরে-চিকিৎসা কি শুধু প্রেসক্রিপশন, নাকি পূর্ণাঙ্গ সেবা? যদি উত্তর হয় পূর্ণাঙ্গ সেবা, তাহলে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতেই হবে। সমস্যাটি দৃশ্যমান, সমাধানও সম্ভব। প্রয়োজন-সমন্বয়, সদিচ্ছা, কার্যকর নীতি-শুক্রবারের শহর যেন আর কষ্টের প্রতীক না হয়ে ওঠে-এই প্রত্যাশাই থাকল।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

 

 

৭৭ হাজার মামলার ভারে ভরাক্রান্ত সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ, আশার আলো দেখাচ্ছে লিগ্যাল এইড অফিস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
৭৭ হাজার মামলার ভারে ভরাক্রান্ত সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ, আশার আলো দেখাচ্ছে লিগ্যাল এইড অফিস

বদিউজ্জামান: মামলার ভারে ভরাক্রান্ত হয়ে পড়ছে সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাস শেষে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭ হাজারে। তবে এই চাপের মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, যা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দ্রুত ও কার্যকর বিচারপ্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় দেওয়ানি, ফৌজদারি, ম্যাজিস্ট্রেসি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার মোট সংখ্যা ৭৭ হাজার ৪৬ টি। এর মধ্যে জজশীপে দেওয়ানি মোকদ্দমা ২৪ হাজার ৮৯৩টি, ল্যান্ড সার্ভে মামলা ৭ হাজার ২৩৬টি এবং ফৌজদারি মামলা ১৩ হাজার ২৮৭টি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেসিতে বিচারিক ও আমলী ফাইল মিলিয়ে রয়েছে ১৩ হাজার ৮১০ টি মামলা।

এদিকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু মামলা ২ হাজার ৫২২টি, শিশু মামলা ৬২৬টি, মানব পাচার সংক্রান্ত ১৫১টি এবং পিটিশন মামলা ১০৪৩ টি বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইবুনালেও রয়েছে ১৫০ টি মামলা।

এত বিপুল মামলার চাপে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ার আশঙ্কা থাকলেও জেলা লিগ্যাল এইড অফিস কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকটাই স্বস্তি এনে দিচ্ছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১২০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২০টি মামলা দায়ের এবং ১৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

একই সময়ে ১ হাজার ৬০০টি এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) আবেদন গৃহীত হয়, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৬১টি সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এডিআরের মাধ্যমে প্রায় ৯৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আদায় করে বাদী পক্ষকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এছাড়া লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ১ হাজার ১০৬ জন নারী ও ৩৭৬ জন পুরুষকে আইনি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৫ জনে।

অন্যদিকে, আদালত, জেলা কারাগার, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠানো হয়েছে, যা এই সেবার ব্যাপকতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ বহন করে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মামলার জট কমাতে লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হলে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত সেবা পাবে এবং বিচার বিভাগের ওপর চাপও কমবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন আইনজীবী ও বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বিগত অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে সাতক্ষীরা জজ আদালতে নতুন করে ১৬ টি আদালত সৃষ্টি করে বেশ কিছু বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে তা পূর্ণতা পায়নি। তারা আরও বলেন, মামলার সংখ্যা বাড়লেও লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আরও বাড়ানো গেলে বিচারপ্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ ও গতিশীল হবে।

সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ যখন মামলার ভারে জর্জরিত, তখন লিগ্যাল এইড অফিসই হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের একটি কার্যকর ও আশাব্যঞ্জক প্ল্যাটফর্ম।