বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

পাইকগাছায় আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা: শিক্ষার্থী নেই, আছে ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা: শিক্ষার্থী নেই, আছে ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় আলহেরা দাখিল মাদ্রাসায় কোন শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষক -কর্মচারী রয়েছে ১৭ জন। শিক্ষার্থীবিহীন আলহেরা দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষগুলো রাতে বসে মাদকের আড্ডা, দিনে ছাগল গরু বিচারণ করে। ইটের তৈরী ভাংগাচোরা শ্রেণী কক্ষগুলোতে রাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আড্ডা বসে, দিনে গোয়াল ঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। দির্ঘদিন মাদ্রাসার কোন কার্যক্রম না থাকায় দানীয় জমি ফেরৎ চেয়ে ইউএনও দপ্তরে আবেদন করেছে দাতারা।

উপজেলার দক্ষিণ সোনাতন কাটি গ্রামে ১৯৯৮ সালে ৩২ শতক জমির উপর সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার জন্য স্থানীয় রেখা বেগম, আনোয়ারা বেগম ও আকবর মোড়ল সম্পত্তি দান করেন। শর্ত ছিলো শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে জমি দাতা বা তাঁদের উত্তরাধিকারীদের কাছে ফেরত যাবে। জমিদাতা আকবর মোড়ল জানান, কয়েকবছর মাদ্রাসা ভালভাবে ছলছিলো। কিন্তু সুপারিন্টেন্ডেন্টের নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে মাদ্রাসাটি শিক্ষার্থী শুন্য হয়ে পড়েছে। ২০১১ সাল থেকে কোন ক্লাসে একজনও শিক্ষার্থী নেই। নেই কোন শ্রেণী কক্ষ বা শিক্ষা উপকরণ।

 

এদিকে ২০০১ সালে সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ শাহ মোহাঃ রুহুল কুদ্দুস মাদ্রাসা উদ্ধোধন করেন এবং আর্থিক অনুদানও প্রদান করেন। তবে জাল জালিয়াতি করে সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন এমনটি জানালেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে প্রতি বছর সরকার প্রদত্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা বই চাহিদা দিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে নিয়ে থাকেন।

 

চলতি বছর চাহিদা দিয়ে ছিলেন ২২৫ সেট। তারা পেয়েছেন প্রাক প্রাথমিক সহ পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে ১৫ সেট করে, দাখিল ৬ ষ্ট শ্রেণী থেকে দাখিল দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে ১০ সেট করে। এবিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মীর নুরে আলম জানান, যেহেতু নন এমপিও প্রতিষ্ঠান। তাদের বইয়ের চাহিদা আরও বেশি ছিলো কিন্ত কম দেয়া হয়েছে। উপবৃত্তির টাকা ও পেয়ে আসছেন। কিন্তু কিভাবে পাচ্ছেন এ জিজ্ঞাসা সকলের।

 

এবিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগার আলীর স্ত্রী রাশিদা খাতুন বলেন, মাদ্রাসা থেকে প্রতি বছর দাখিল পরীক্ষা দেয়া হয়। এবছরও পরীক্ষা দিয়েছে। সম্প্রতি বেলা ১১ টার দিকে মাদ্রাসা হয়ে সুপারিন্টেন্ডেন্টের বাড়ীতে সরজমিনে গেলে তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকা রাশিদা খাতুনকে তার বাড়ীতে ধান শুকাতে দেখা যায়। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলে আমি এই মাত্র ক্লাস নিয়ে আসলাম। অতচ মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষগুলোতে গোখাদ্য ও ছাগল বাধা ছিলো। কোন অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাষক শফিয়ার রহমান জানালেন, এতো জালিয়াতি ও দুর্নীতি আমি কোন প্রতিষ্ঠানে দেখিনি। এখানে যা কিছু বরাদ্দ হয় সবই স্বামী ও স্ত্রী আত্মসাৎ করেন। জমি দাতা আকবর মোড়ল বলেন, যেহেতু আমরা মাদ্রাসা করার জন্য জমি দান করছিলাম কিন্তু সেখানে ছেলে মেয়ে নেই যুগযুগ ধরে। একারণে আমাদের জমি ফেরৎ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেছি।

সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগর আলীর সাথে মুঠোফোন কয়েকবার ফোন করার পর একবার রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মোবাইল ফোন কেটে দেন। এরপর থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, এমনও প্রতিষ্ঠান পাইকগাছায় আছে! খোজ খবর নিয়ে বিষয়ে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

 

 

Ads small one

আড়াই মাস আইসিইউতে থাকার পর সুস্থ হচ্ছেন শিক্ষার্থী জাহিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
আড়াই মাস আইসিইউতে থাকার পর সুস্থ হচ্ছেন শিক্ষার্থী জাহিদ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: জিবিএস (গিয়েন-বারে সিন্ড্রোম) রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা নিউরোমেডিসিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দীর্ঘ আড়াই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে সুস্থ হতে শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাঈমুর রহমান জাহিদ। চিকিৎসকদের আশা, অল্পদিনের মধ্যেই পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন তিনি।
খুলনার নর্থ ওয়েস্ট প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান জাহিদ গত ১৯ জুন রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে খুলনা গাজী মিজান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেখানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক এ কে এম আউয়ালের পরামর্শে তাঁকে দ্রুত ঢাকা নিউরোমেডিসিন হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত দুই সপ্তাহে রক্ত দেওয়ার পরও অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় একপর্যায়ে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে থাকার পর জাহিদের জ্ঞান ফেরে।
জাহিদের মা নার্গিস বেগম ও বাবা সরাব হোসেন সরদার জানান, একমাত্র ভাইকে সুস্থ দেখতে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালেই তা স্থগিত রেখে ঢাকায় ছুটে যান তাঁর বোন মহসিনা খাতুন। বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মহসিনা বর্তমানে আইসিইউতে ভাইয়ের দেখাশোনা করছেন। স্বজনেরা জানিয়েছেন, জাহিদ এখন খাবার খেতে পারছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো।
জাহিদের বাবা সরাব হোসেন সরদার, মা নার্গিস খাতুন, চাচা শাহাবুদ্দিন ও চাচাতো ভাই সাঈদ নাসিরসহ পরিবারের সদস্যরা সবার কাছে তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

 

 

কালিগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের মজলিসে শুরা অধিবেশন ও কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের মজলিসে শুরা অধিবেশন ও কমিটি গঠন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার মজলিসে শুরা অধিবেশন ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ অয়েজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও হাবিবুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি মুহা. আবদুল হাই সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা দক্ষিণ শাখার সম্পাদক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, সহসভাপতি আমিনুর রহমান ও প্রকৌশলী ফয়জুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী দুই বছরের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কালিগঞ্জ উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। এতে শেখ অয়েজুর রহমানকে সভাপতি, মুহা. হাবিবুল্লাহকে সম্পাদক ও মুহা. মহিবুল্লাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। নতুন কমিটি সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

শিক্ষক আহসান হাবিব মন্টুর দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
শিক্ষক আহসান হাবিব মন্টুর দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান হাবিব মন্টু মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাত সাড় ১২টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বাদ জোহর জালালাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানান সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, জামায়াত নেতা মাওলানা ওমর আলী, মাওলানা ওসমান গনি, মো. কামরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিন, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আমানুল্লাহ আমান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুর রউফ, সুপার মাওলানা মোনায়েম হোসেন, আবদুস সাত্তার, আলিয়া মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহা. আইয়ুব আলী, অধ্যক্ষ মাওলানা আহমদ আলী ও মরহুমের ভাই আলতাফ হোসেন। জানাজাপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক মো. মহিদুর রহমান এবং জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা আবদুল বারী। শিক্ষক আহসান হাবিব মন্টুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কলারোয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা পরিবার।