রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

পাইকগাছায় ঘেরের আইলে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ঘেরের আইলে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়েছে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): পাইকগাছায় মাছের ঘেরের আইলে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঘেরে চিংড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাদা মাছের চাষ। আর সাদা মাছ চাষ হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ঘেরের আইলে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ। ঘেরের আইলে সবজি আর নিচে পানিতে মাছ। ক্রমেই বাড়ছে এই চাষ পদ্ধতি। ফলে উপজেলায় সমন্বিত সবজি চাষে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। ঘেরের আইলে সবজি চাষ করে কৃষকরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। ফলে উপজেলা বর্তমানে ঘেরের আইলে সবজি চাষ বাড়ছে ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মাছের ঘেরের আইলে ২৩৪ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এসময় ঘেরের পানি মিস্টি থাকে। উপজেলার লতা, দেলুটি, গড়ুইখালী, কপিলমুনি, গদাইপুর ও রাড়ুলী ইউনিয়ানের বিভিন্ন মাছের ঘেরের আইলে সবজি চাষ শুরু হয়েছে। ঘেরের আইলের উপরে নির্মিত সারি সারি মাচায় ঝুলছে অফ সিজন তরমুজ, করলা, লাউ, কুমড়া, বরবটি, চিচিংগা, ধুন্দল আর শসা আর নিচে মাছ। আইলে উপরে রয়েছে ঢেঁড়শ, পুঁইশাক ও কলাগাছ। মাচায় ঝুলছে লাভজনক সমন্বিত সবজির ফসল ও নিচে পানিতে মাছ। তিনি জানান, বিষ মুক্ত সবজির চাহিদা থাকায় এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকে সবজি ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে।

উপকুলে প্রাকৃতিক দূর্যোগ লেগেই থাকে। অতি বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস,ও নদী ভাঙ্গন ও জলবদ্ধতায় অনেক অঞ্চল প্লাবিত হয়ে থাকে। এতে কৃষির চরম ক্ষতি হয়। এতে সবজি ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষক। এসব অঞ্চলে ঘেরের আইলে সবজি চাষে ভাল উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা ঘেরের আইলে সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় এ উপজেলায় মাছের ঘেরের আইলে বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ করছেন কৃষকরা। তাদের অল্প পুঁজিতে লাভ বেশী হওয়ায় উৎসাহিত হয়ে এখন সমন্বিত এই চাষের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। কৃষকদের প্রশিক্ষনের পাশাপাশি নানা ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়াও কৃষকদের সকল ধরনের সহযোগিতা করা হয়। ঘেরের আইলে বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদন হচ্ছে। ঘেরের আইলে সবজি চাষ করে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, তেমনি দেশের পুষ্টি নিরাপত্তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Ads small one

রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ার কারণ জানা গেলো ল্যাব পরীক্ষায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ার কারণ জানা গেলো ল্যাব পরীক্ষায়

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার ‘সম্ভাব্য’ কারণ বর্ণনা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। ল্যাব পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলের বরাতে সংস্থাটি বলছে, রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসার কারণে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক (এক ধরনের আয়রন ও প্রোটিনযুক্ত উপাদান, যা পেশিকোষে অক্সিজেন জমা রাখে এবং এর জন্য মাংসের লাল বা গোলাপি রঙের দেখায়) পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তরের কারণে মাংস সবুজ রঙ ধারণ করেছে।

গত ২৭ অগাস্টের ল্যাবরেটরি পরীক্ষার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিএফএসএ। সেখানে বলা হয়, নমুনায় কোনও ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী সিউডোমোনাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মাংসে কোনও পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। যা নিশ্চিত করে, এই রঙ পরিবর্তন কোনও ব্যাক্টেরিয়াঘটিত বা পচনের কারণে ঘটেনি।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, রেফ্রিজারেটরে রাখা মাংস স্বাভাবিক তাপমাত্রায় না এনে হঠাৎ বেশি তাপের সংস্পর্শে এলে মাংসের লাল রং তৈরির উপাদান পরিবর্তন হয়ে সবুজ রং হয়ে থাকতে পারে। তবে মাংসে ক্ষতিকারক কোনও ব্যাকটেরিয়া বা পচনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাইকগাছায় রান্নার পর সবুজ হয়ে যাওয়া মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

ল্যাবরেটরি থেকে পাওয়া পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিএফএসএর খাদ্য বিশ্লেষণ শাখার প্রতিবেদন বলছে, স্পেক্ট্রোফোটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, ফ্রিজে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসার কারণে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর বা গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে সবুজ রঙ ধারণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএফএসএর খুলনা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আজকেই এ প্রতিবেদন আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে এই নমুনা মাংসগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। আমাদের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে মাংসগুলো সবুজ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।’

গত ২২ জুলাই কুলনার পাইকগাছা পৌরসভার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা কর্মস্থলে একসঙ্গে ভোজের আয়োজন করেন। সেজন্য বাজার থেকে গরুর মাংস কিনে আনেন তারা। তবে রান্নার সময় গরুর মাংসের রং বদলে সবুজ হয়ে যেতে শুরু করে। এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে স্থানীয় থানায় হাজির হন রান্নার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

বেকারির কর্মচারীদের ভাষ্য, তেল-মশলা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে রান্না শুরুর কিছুক্ষণ পরই মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হতে থাকে। যতই নাড়াচাড়া করা হচ্ছিল, পরিবর্তিত রং ততই গাঢ় হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে তারা চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে অন্যদের ডাকেন। পরে রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে প্রথমে যান তারা মাংস বিক্রেতার দোকানে। তিনিও এ ঘটনা দেখে বিস্মিত হন। পরে তারা মাংসসহ কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখান তাদের থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে কড়াইসহ তারা থানায় যান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবুজ মাংসের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে দেশব্যাপী শুরু হয় আলোচনা। এর প্রেক্ষিতে মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার কারণ জানতে পরীক্ষার জন্য নমুনা ২৬ জুলাই বিএফএসএর ল্যাবে পাঠানো হয়।

মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘গরুর মাংসের লালচে রঙের উপাদানকে মায়োগ্লোবিন বলা হয়। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা মাংস হঠাৎ করে অনেক বেশি তাপের সংস্পর্শে এলে ওই উপাদানের পরিবর্তন হতে পারে। তখন মাংসের লাল রং সবুজ হয়ে যেতে পারে।’

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানার স্বাক্ষরিত পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাংসের নমুনায় কোনও ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা রং তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়নি। মাংসে পচা গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। তাই মাংস পচে যাওয়ার কারণে বা কোনও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে রং পরিবর্তন হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোকলেছুর রহমান বলেন, ফলাফলে ‘ধারণা করা হচ্ছে’ বলা হয়েছে। কারণ, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ধারণা করা হয়। তাই সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত কারণ হিসেবে না বলে ‘ধারণা করা হচ্ছে’ বলা হয়েছে।

মাংস বিক্রেতা ইসমাইল শুরু থেকেই মাংসে কোনও সমস্যা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তার ভাষ্য, একই মাংস থেকে আরও কয়েকজন ক্রেতার কাছে মাংস বিক্রি করা হয়েছিল। শুধু মডার্ন বেকারির কর্মচারীরাই অভিযোগ করেছিলেন।

মডার্ন বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেন বলেন, ‘আমরা ওই মাংস খাইনি। প্রশাসনকে জানিয়ে ফিরে এসে মাংস ফেলে দিয়েছিলাম। এখন পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। ওই মাংসে নাকি ক্ষতিকর কিছু ছিল না।’

আলিপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আলিপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার আলিপুর ইউনিয়নে এক প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাদীউজ্জামান বাদশাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান চান্দু। সভা পরিচালনা করেন আলিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নুরুজ্জামান পল্টু।
সভায় ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিসমূহ সফল করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

শ্যামনগরে ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা সভা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: বেসরকারি সংস্থা রুপান্তরের আয়োজনে শ্যামনগরে ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকালে শ্যামনগর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নজরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন উত্তরণের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নাজমা আক্তার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা শাহানা হামীদ, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি গাজী আল ইমরান, শিক্ষক-সাংবাদিক রণজিৎ বর্মণ, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি আলী আশরাফ, অ্যাডভোকেট মুনসুর আলী, কৈখালী ইউনিয়নের আ. রশিদ, নাছিমা খাতুন, লাকী আক্তার, তুলসী রানী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আমিনুর রহমান। সহযোগিতায় ছিলেন সংস্থার পক্ষে সাদ্দাম হোসেন, নয়ন হরি ও রিপন।