শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

পাইকগাছায় চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতারণ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতারণ উদ্বোধন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতারণ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় কৃষি অফিস চত্বরে আউশ ধান ও মুগ চাষীদের মাঝে বিনা মূল্যে উক্ত বীজ ও সার প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতারণ উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একরামুল হোসেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও উপকারভূগী কৃষক কৃষাণীবৃন্দ।

Ads small one

শরতের আলতো ছোঁয়ায় গুড়পুকুর মেলা: ঐতিহ্য, আনন্দ ও জীবিকার মেলবন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
শরতের আলতো ছোঁয়ায় গুড়পুকুর মেলা: ঐতিহ্য, আনন্দ ও জীবিকার মেলবন্ধন

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশের দোলায় মোড়ানো শরতের শান্ত বিকেলে অনন্য এক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে। শৈশবের সোনালি স্মৃতি, প্রিয়জনদের সান্নিধ্য আর খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার আলোÑসবকিছুর মোহনীয় সংমিশ্রণ ঘটে চলেছে ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায়। দুই বছরের দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে প্রায় তিন শ বছরের প্রাচীন এ মেলা যেন এক নতুন ভোরে জেগে উঠেছে। মেলার দশম দিনে উৎসবমুখর আবহের মাঝে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় দায়িত্বশীল পুলিশ প্রশাসনের কর্মতৎপরতাও ছিল লক্ষণীয়।

মেলার তোরণ পেরিয়ে ভেতরে পা রাখতেই নজরে আসে সব বয়সের মানবের মিলনমেলা। পরিবারের হাত ধরে খুদে পথচলা, সন্তানের হাসিমুখের জন্য খেলনার বায়না মেটানো আর কেনাকাটার নানা আয়োজনে চারপাশটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। নাগরদোলার দোলাচল, দূর থেকে ভেসে আসা পথশিশুদের রেলগাড়ির হুইসেল, রকমারি মিষ্টির সুবাস আর গৃহস্থালি পণ্যের ঝলকানিÑসব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।

মেলা প্রাঙ্গণে বিরাজ করছিল এক স্নিগ্ধ ও স্বাভাবিক সুর। দর্শনার্থীরা যখন আনন্দ উদযাপনে মগ্ন, তখন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে মেলার বিভিন্ন কোণে ঘুরে নজরদারি চালাচ্ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের এমন পদচারণায় নিশ্চিত নিরাপদ পরিবেশ পেয়ে আগতদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তির ছাপ।

কেবল কেনাকাটার ধুম নয়, এই গুড়পুকুর মেলার ধূলিকণায় মাখানো রয়েছে সাতক্ষীরার প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিচিহ্ন ও আবেগ। বয়সের ভারে নয়ে পড়া প্রবীণদের কাছে এই মেলা যেন দূর শৈশবের দিনগুলো নতুন করে ছুঁয়ে দেখার এক সুযোগ, আর নবীনদের কাছে আনন্দ ও অভিজ্ঞতার দিগন্ত ছোঁয়ার রঙিন প্রান্তর। ছোটদের উচ্ছ্বল চোখের তারা আর মা-বাবার মমতাময় হাত ধরে ঘেঁষে হাঁটার দৃশ্যটি ছিল অনবদ্য।
উৎসবের এই আবহের অন্তরালে রয়েছে বহু শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম ও স্বপ্নপূরণের গল্প। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। জামাকাপড়, প্রসাধনী, শিশুদের খেলার সামগ্রী কিংবা খাবারÑসব দোকানঘিরেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। শরতের এই মেলার বেচাকেনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি কিছু উপার্জনের এক বড় পথ খুলে দিয়েছে। তাই তো ক্রেতাদের উপস্থিতিতে ফুটে ওঠে তাঁদের আশাজাগানিয়া হাসি।

পণ্য বিক্রির মিষ্টি হাঁকডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম আর নিষ্পাপ শিশুদের খিলখিল হাসিতে এক মোহময় আবহের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রাঙ্গণ আর কেবল বেচাকেনায় সীমাবদ্ধ নেই, পরিণত হয়েছে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার এক মানবিক উদ্যানে। শিকড় আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য আগামীতেও যেন স্বমহিমায় টিকে থাকে, সে প্রত্যাশাই স্থানীয়দের।

এদিকে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলার সময়সীমা আরও দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। মেলা কমিটির সদস্য হাসান শিকদার জানান, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। সময় বাড়ায় কেনাকাটা ও ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত অবকাশ পাবেন দর্শনার্থীরা।
জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে শহরতলির শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২০ দিনব্যাপী এই মিলনমেলা চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। শিশু-কিশোরের আনন্দ-হাসি, প্রবীণদের স্মৃতিমেদুরতা আর খেটে খাওয়া মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা নিয়ে গুড়পুকুর মেলা শরতের হাওয়ায় ডানা মেলেছে অনন্য এক রূপ নিয়ে।

 

 

আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌ*ন নি*র্যা*ত*নের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌ*ন নি*র্যা*ত*নের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মো. রবিউল সরদার (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার বিবরণ জানিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত মোক্তার আলী সরদারের ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। শিশুটি কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ২৯ নম্বর গুনাকরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে রবিউল সরদার মিষ্টি কথায় শিশুটিকে ভুলিয়ে তাঁর কাঠের দোকানে নিয়ে যান। এরপর দোকানের দরজা ভেতরে থেকে আটকে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় এক নারী বিষয়টি দেখে ফেললেও ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে কিছু জানাতে পারেননি।

পরপর দুই দিন ঘটনাটি চেপে রাখার পর ১০ অক্টোবর শনিবার সকালে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় শিশুটি নিজেই সেই ভয়াবহতার বর্ণনা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বেলা ১টার দিকে আশাশুনি থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির দেওয়া তথ্যের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত রবিউল সরদারকে গ্রেপ্তার করে।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান জানান, শিশুটির বাবার এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

আশাশুনির বিভিন্ন দুর্গাপূজা ম-প পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বিভিন্ন দুর্গাপূজা ম-প পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। বিকেলের দিকে তিনি বুধহাটা ও আশপাশের বিভিন্ন পূজাম-প ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনের শুরুতে তিনি বুধহাটা সুবর্ণ বণিকপাড়া পূজাম-প, বুধহাটা কাছারীবাড়ী সার্বজনীন দুর্গাপূজা ম-প, মহেশ্বরকাটি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির এবং গোয়ালডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও ম-প পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশের খোঁজখবর নেন। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পূজাম-প ঘুরে দেখার সময় তিনি প্রতিমা দর্শন করেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় এ বছর ৬০৯টি পূজাম-পে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য জনপদ, যেখানে হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে বসবাস করে এবং উৎসবগুলো একত্রে পালন করে। নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পূজার দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ পূজাম-পে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং বাকিগুলোও দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আসবে।

এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিঠুন কুমার সরকার, দেবহাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বায়েজীদ ইসলাম, আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান, থানার সেকেন্ড অফিসার লক্ষণ চন্দ্র দাস এবং বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সেকেন্দার আলীসহ পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্য ও স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ।