শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

আমি কে—নিজেকে চেনার নিরন্তর অনুসন্ধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
আমি কে—নিজেকে চেনার নিরন্তর অনুসন্ধান

তারেক মনোয়ার

সারাটা জীবন কেটে যেতে পারে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে—‘আমি কে?’ কখনো মনে হবে, নিজেকে বুঝতে পেরেছি। আবার কিছু সময় পরই আবিষ্কার করবেন, নিজের সম্পর্কে এমন অনেক কিছুই অজানা ছিল। আসলে মানুষের ‘আমি’ বহুমাত্রিক। পরিবেশ, সম্পর্ক ও সময়ের পরিবর্তনে তার স্বরূপও বদলে যায়। তবু প্রশ্নটি একই থাকে—‘আমি কে?’

নম্রতা, ভদ্রতা ও বিনয় একজন ভালো মানুষের গুণ হতে পারে। কিন্তু শুধু এসব গুণ দিয়ে একজন মানুষকে পুরোপুরি বিচার করা যায় না। প্রচলিতভাবে আমরা যখন নিজেকে চিনতে চাই, তখন অনেক সময় নিজের প্রকৃত সত্তার বদলে নিজেরই একটি প্রতিচ্ছবি খুঁজি।

প্রশ্ন জাগে, আমি কেমন মানুষ—ভালো, নাকি মন্দ? প্রত্যেকেই নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে দেখতে চায়, কেউ নিজের কাছে, কেউবা অন্যের কাছে। কিন্তু নিজের মন-মানসিকতা, বুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে নিজেকে বিচার করলেও সেই বিচার সব সময় নির্ভুল হয় না। নিজের জ্ঞান ও উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা থাকলে আত্মমূল্যায়নেও ভুল হতে পারে। তাই নিজেকে ভালো মনে করলেই যে বাস্তবে সব ক্ষেত্রে তা-ই, এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

প্রতিটি মানুষের চিন্তা, চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছু না কিছু পার্থক্য থাকে। ফলে সবার কাছে ভালো মানুষ হয়ে ওঠা সম্ভব নয়—এটাই স্বাভাবিক। অন্যের মূল্যায়নের চেয়ে নিজের সীমাবদ্ধতা, ভুল ও সম্ভাবনাগুলো উপলব্ধি করাই আত্মপরিচয়ের পথে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেকে জানার আগ্রহ কখনো হারিয়ে ফেলা উচিত নয়।

গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিখ্যাত উক্তি—“Know Thyself” (নিজেকে জানো)। আত্মোপলব্ধির এই আহ্বান মানুষকে নিজের ভেতরে তাকাতে শেখায়। নিজেকে জানার মধ্য দিয়েই মানুষ জগৎ ও সৃষ্টির অর্থ অনুধাবনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

তারেক মনোয়ার, ইতিহাস বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

Ads small one

পাইকগাছায় বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও চালকুমড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। কম খরচে চাষ করে ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন এ সবজির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া চালকুমড়া চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি বাড়ির সৌন্দর্যও বাড়াচ্ছে।

চালকুমড়া চাষের জন্য আলাদা জমি চাষ করার প্রয়োজন হয় না। বাড়ির কোণে বা আঙিনার পতিত জায়গায় মাদা তৈরি করে বীজ বপন করা হয়। পরে গাছের লতা বড় হলে তা ঘরের চাল বা বাঁশের মাচায় তুলে দেওয়া হয়। ঘরের চালে বেড়ে ওঠে বলে এ সবজির নাম হয়েছে চালকুমড়া।

সাধারণত জুন-জুলাই মাসে বাড়ির আঙিনা বা ফাঁকা জায়গায় চালকুমড়ার বীজ বপন করা হয়। এ সবজি চাষে খুব বেশি রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। সামান্য পরিচর্যা ও জৈব সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

চালকুমড়া একটি পুষ্টিকর সবজি। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত চালকুমড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন অনেকেই। পাইকগাছার স্থানীয় বাজারগুলোতে এ সবজির চাহিদা থাকায় কৃষকেরা বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা করেন। এতে গ্রামীণ পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

চালকুমড়া দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়। এ ছাড়া এটি দিয়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের জনপ্রিয় খাবার কুমড়ার বড়ি তৈরি করা হয়। পরিপক্ব চালকুমড়া দীর্ঘদিন ঘরে সংরক্ষণ করেও খাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন বলেন, “বিনা চাষে ও কম খরচে বাড়ির চালে চালকুমড়া উৎপাদন করা যায়। সবজি হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চালকুমড়া চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। বাড়ির কোণে বা আঙিনার পতিত জমি ফেলে না রেখে সেখানে চালকুমড়া কিংবা মিষ্টিকুমড়া চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, উন্নত ও হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে প্রতিটি গাছ থেকে প্রচুর চালকুমড়া পাওয়া যাচ্ছে। এসব চালকুমড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে কৃষকেরা ভালো আয় করতে পারছেন।

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩ লাখ টাকার বেশি মালামাল জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩ লাখ টাকার বেশি মালামাল জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ওষুধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধীন বৈকারী, তলুইগাছা ও কাকডাঙ্গা বিওপির টহল দল পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৈকারী বিওপির অভিযানে ঈদগাহ এলাকা থেকে ৯৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ এবং তলুইগাছা বিওপির অভিযানে বেরিবাঁধ এলাকা থেকে ২ লাখ ৭ হাজার টাকা মূল্যের একই ধরনের যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া কাকডাঙ্গা বিওপির অভিযানে ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনার সময় এসব মালামাল জব্দ করা হয়। চোরাচালান প্রতিরোধ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং দেশীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তালা প্রেসক্লাব ও উপজেলা প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার। সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সহসভাপতি আসাদুজ্জামান রাজু।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি বরুণ ব্যানার্জি, বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, যুবদল নেতা সাইদুর ইসলাম সাইদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিঠু, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সদস্যসচিব খান নাজমুল হোসেন এবং তালা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।

বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁরা পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।

এ সময় বক্তারা তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের মালামাল বিক্রি এবং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্যে কোনো গণমাধ্যমকর্মী কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখিত।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য করেন ডা. মিজানুর রহমান। এ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে বুধবার (২১ অক্টোবর) তিনি আরেকটি পোস্টে আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন এবং কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন।