শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

পাইকগাছায় বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও চালকুমড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। কম খরচে চাষ করে ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন এ সবজির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া চালকুমড়া চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি বাড়ির সৌন্দর্যও বাড়াচ্ছে।

চালকুমড়া চাষের জন্য আলাদা জমি চাষ করার প্রয়োজন হয় না। বাড়ির কোণে বা আঙিনার পতিত জায়গায় মাদা তৈরি করে বীজ বপন করা হয়। পরে গাছের লতা বড় হলে তা ঘরের চাল বা বাঁশের মাচায় তুলে দেওয়া হয়। ঘরের চালে বেড়ে ওঠে বলে এ সবজির নাম হয়েছে চালকুমড়া।

সাধারণত জুন-জুলাই মাসে বাড়ির আঙিনা বা ফাঁকা জায়গায় চালকুমড়ার বীজ বপন করা হয়। এ সবজি চাষে খুব বেশি রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। সামান্য পরিচর্যা ও জৈব সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

চালকুমড়া একটি পুষ্টিকর সবজি। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত চালকুমড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন অনেকেই। পাইকগাছার স্থানীয় বাজারগুলোতে এ সবজির চাহিদা থাকায় কৃষকেরা বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা করেন। এতে গ্রামীণ পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

চালকুমড়া দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়। এ ছাড়া এটি দিয়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের জনপ্রিয় খাবার কুমড়ার বড়ি তৈরি করা হয়। পরিপক্ব চালকুমড়া দীর্ঘদিন ঘরে সংরক্ষণ করেও খাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন বলেন, “বিনা চাষে ও কম খরচে বাড়ির চালে চালকুমড়া উৎপাদন করা যায়। সবজি হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চালকুমড়া চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। বাড়ির কোণে বা আঙিনার পতিত জমি ফেলে না রেখে সেখানে চালকুমড়া কিংবা মিষ্টিকুমড়া চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, উন্নত ও হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে প্রতিটি গাছ থেকে প্রচুর চালকুমড়া পাওয়া যাচ্ছে। এসব চালকুমড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে কৃষকেরা ভালো আয় করতে পারছেন।

Ads small one

বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববারও দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দিন তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

খুলনার তেরখাদায় যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
খুলনার তেরখাদায় যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ

পত্রদূত ডেস্ক:

খুলনার তেরখাদায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. রামীম বিশ্বাস (৩২) নামে এক যুবদল নেতা আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সেনেরবাজার-মধুপুর সড়কের পারহাজীগ্রামে ‘খান ব্রিকস’-এর কাছে আয়নাল মোল্লার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

রামীম বিশ্বাস পারহাজীগ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি তেরখাদা উপজেলার ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে রামীম ওই স্থানে একটি ভ্যানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পাঁজরে গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে তেরখাদা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। খুলনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

পাইকগাছায় পলিথিনের জীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন সাকাত দম্পতির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় পলিথিনের জীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন সাকাত দম্পতির

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ যেন থামছেই না। জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে অনেকটাই ক্লান্ত খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের সিলেমানপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. সাকাত মোড়ল। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বসবাস করছেন জরাজীর্ণ একটি ঘরে। ঘরটির একাংশ ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। বাকি অংশও যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘরের চালের কোথাও ভাঙা টিন, কোথাও মাটির টালি, আবার কোথাও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। মাটির দেয়াল জরাজীর্ণ, ভরসা বলতে বাঁশের খুঁটি আর পলিথিনের বেড়া। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, এটি পরিত্যক্ত কোনো ঝুপড়ি। অথচ এই ঘরেই স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সাকাত মোড়ল।

ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটছে তাঁর। স্থায়ী আয়ের কোনো উৎস নেই। বয়স্ক ভাতা ছাড়া সরকারি কোনো সহায়তাও পান না। জমি বলতে আছে মাত্র দুই শতক, যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে তাঁদের জীর্ণ ঘরটি।

বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ঘরের চাল পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন সাকাত মোড়ল। তারপরও বৃষ্টি বা বন্যা হলে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে কাদা হয়ে যায়। তখন সেখানে থাকা সম্ভব হয় না; আশ্রয় নিতে হয় প্রতিবেশীদের ঘরে। এমনকি ঘরে থাকার মতো একটি খাটও নেই। মেঝেতে পলিথিন বিছিয়ে রাত কাটান এই বৃদ্ধ দম্পতি।

এত কষ্টের মধ্যেও সাকাত মোড়লের স্বপ্ন, তাঁদের একটি নিরাপদ ঘর হবে। ঝড়-বৃষ্টি এলেও অন্তত অন্যের কাছে আশ্রয় চাইতে হবে না।

সাকাত মোড়ল বলেন, “সরকারের দেওয়া বয়স্ক ভাতা ছাড়া আর কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাই না। প্রতিবেশীদের কেউ খাবার দেন, কেউ টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করেন। বৃষ্টির সময় তাঁদের ঘরেও আশ্রয় নিতে হয়। বলা যায়, তাঁদের দয়াতেই টিকে আছি। মানুষের সাহায্যে দুমুঠো ভাত জোটে। কেউ সাহায্য না করলে না খেয়েও থাকতে হয়। থাকার জায়গাটুকু ছাড়া আর কোনো সম্বল নেই। সরকার অনেককে ঘর দিয়েছে। আমাকেও একটি ঘর দিলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।”

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ গাজী বলেন, “স্থানীয় প্রশাসন, মানবিক সংগঠন ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যেন এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়ান। তাঁদের একটি নিরাপদ ঘর তৈরি করে দেওয়া গেলে অন্তত শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।”