শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

যশোরের খেজুরের রস-গুড়: সংকটে ঐতিহ্য, প্রয়োজন সংরক্ষণের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
যশোরের খেজুরের রস-গুড়: সংকটে ঐতিহ্য, প্রয়োজন সংরক্ষণের উদ্যোগ

মাসুদ রানা

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবনে উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে খেজুরের রস, ঝোলা গুড় ও পাটালি। ‘যশোরের যশ, খেজুরের রস’—প্রচলিত এই প্রবাদ যশোরের খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। সুস্বাদু খেজুরের গুড়ের জন্য যশোরের রয়েছে দেশজুড়ে পরিচিতি। তবে সময়ের পরিবর্তন, গাছির সংকট, খেজুরগাছ কমে যাওয়া এবং ভেজালের দৌরাত্ম্যে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

খেজুরের রস ও গুড়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকলেও উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় এ শিল্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। যথাযথ উদ্যোগের অভাবে একদিকে যেমন খেজুরগাছের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গ্রামীণ লোকজ জ্ঞান ও সংস্কৃতি।

সংকটের কারণ
গাছির সংকট ও পেশার অনিশ্চয়তা
খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। গাছের পরিচর্যা, গাছের মাথা চাঁছা, হাঁড়ি বাঁধা এবং রস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। প্রবীণ গাছিরা ধীরে ধীরে পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে কঠোর পরিশ্রম, নিরাপত্তাঝুঁকি ও উপযুক্ত আয়ের নিশ্চয়তা না থাকায় নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে অনেক রস সংগ্রহের উপযোগী গাছ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে।

খেজুরগাছ নিধন ও নতুন চারা রোপণে অনীহা
জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার, জমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে খেজুরগাছ কাটা হচ্ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে নতুন চারা রোপণ ও পরিচর্যার উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে রস ও গুড় উৎপাদনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। খেজুরগাছের সংখ্যা কমে গেলে শুধু উৎপাদনই নয়, গ্রামীণ পরিবেশ ও ঐতিহ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়ার প্রভাব
শীতের তীব্রতা, তাপমাত্রার ওঠানামা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন খেজুরের রস সংগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে। অনুকূল আবহাওয়া না থাকলে রসের পরিমাণ ও গুণগত মানে তারতম্য দেখা দিতে পারে। এ কারণে উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে গাছের পরিচর্যা ও রস সংগ্রহের উপযুক্ত পদ্ধতি সম্পর্কে গাছিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

ভেজাল গুড়ের দৌরাত্ম্য
খাঁটি খেজুরের গুড়ের চাহিদা ও দামকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চিনি, কৃত্রিম সুগন্ধি বা অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে গুড় তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রবণতা খাঁটি গুড়ের বাজার ও ভোক্তার আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্য দাম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় পড়েন।

ঐতিহ্য রক্ষায় করণীয়
যশোরের খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

গাছিদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা: গাছিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রণোদনা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি নিরাপদে গাছে ওঠা, গাছের পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রস সংগ্রহ এবং উন্নত পদ্ধতিতে গুড় তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ পেশাকে লাভজনক ও সম্মানজনক করে তুলতে পারলে নতুন প্রজন্মও আগ্রহী হবে।

পরিকল্পিতভাবে খেজুরের চারা রোপণ: সড়কের উপযুক্ত স্থান, নদীর বাঁধ, পতিত জমি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে পরিকল্পিতভাবে খেজুরের চারা রোপণ করতে হবে। শুধু চারা বিতরণ নয়, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও বেঁচে থাকা নিশ্চিত করাও জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে খেজুরগাছকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

গাছ সংরক্ষণ ও নির্বিচারে কাটা বন্ধ: খেজুরগাছ সংরক্ষণে কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ইটভাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
খাঁটি গুড়ের মান নিশ্চিত ও বাজার সম্প্রসারণ: খাঁটি খেজুরের গুড়ের মান যাচাই, নিরাপদ উৎপাদন এবং সঠিকভাবে মোড়কজাত করার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ভেজাল প্রতিরোধে নিয়মিত বাজার তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। উৎপাদকদের সমবায় গঠন, অনলাইন বিপণন এবং সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তাঁরা ন্যায্য দাম পেতে পারেন।

ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পরিচিতি ও ব্র্যান্ডিং: যশোরের খেজুরের গুড়ের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতির বিষয়টি যথাযথভাবে প্রচার এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের স্বীকৃতি ও মানসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে কার্যকর ব্র্যান্ডিং করা প্রয়োজন। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি প্রযোজ্য মান ও রপ্তানিবিধি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারেও এ পণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যেতে পারে।

ঐতিহ্য বাঁচাতে এখনই উদ্যোগ প্রয়োজন
খেজুরের রস ও গুড় কেবল শীতের মৌসুমি খাদ্য নয়; এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। খেজুরগাছকে ঘিরে গড়ে ওঠা গাছিদের জীবন-জীবিকা, রস সংগ্রহের প্রাচীন কৌশল এবং গুড় তৈরির অভিজ্ঞতা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

এ ঐতিহ্য রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। গাছিরা যেন তাঁদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পান, খেজুরগাছের সংখ্যা বাড়ে, ভেজালমুক্ত গুড়ের বাজার গড়ে ওঠে এবং নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আগ্রহী হয়—সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে যশোরের খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

লেখক: মোঃ মাসুদ রানা, এমএসসি (পদার্থবিজ্ঞান)

Ads small one

পাইকগাছায় বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ির চালে চালে শোভা পাচ্ছে ধবধবে সাদা চালকুমড়া। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও চালকুমড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। কম খরচে চাষ করে ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন এ সবজির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া চালকুমড়া চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি বাড়ির সৌন্দর্যও বাড়াচ্ছে।

চালকুমড়া চাষের জন্য আলাদা জমি চাষ করার প্রয়োজন হয় না। বাড়ির কোণে বা আঙিনার পতিত জায়গায় মাদা তৈরি করে বীজ বপন করা হয়। পরে গাছের লতা বড় হলে তা ঘরের চাল বা বাঁশের মাচায় তুলে দেওয়া হয়। ঘরের চালে বেড়ে ওঠে বলে এ সবজির নাম হয়েছে চালকুমড়া।

সাধারণত জুন-জুলাই মাসে বাড়ির আঙিনা বা ফাঁকা জায়গায় চালকুমড়ার বীজ বপন করা হয়। এ সবজি চাষে খুব বেশি রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। সামান্য পরিচর্যা ও জৈব সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এতে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

চালকুমড়া একটি পুষ্টিকর সবজি। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত চালকুমড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন অনেকেই। পাইকগাছার স্থানীয় বাজারগুলোতে এ সবজির চাহিদা থাকায় কৃষকেরা বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা করেন। এতে গ্রামীণ পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

চালকুমড়া দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়। এ ছাড়া এটি দিয়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের জনপ্রিয় খাবার কুমড়ার বড়ি তৈরি করা হয়। পরিপক্ব চালকুমড়া দীর্ঘদিন ঘরে সংরক্ষণ করেও খাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন বলেন, “বিনা চাষে ও কম খরচে বাড়ির চালে চালকুমড়া উৎপাদন করা যায়। সবজি হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চালকুমড়া চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। বাড়ির কোণে বা আঙিনার পতিত জমি ফেলে না রেখে সেখানে চালকুমড়া কিংবা মিষ্টিকুমড়া চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, উন্নত ও হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে প্রতিটি গাছ থেকে প্রচুর চালকুমড়া পাওয়া যাচ্ছে। এসব চালকুমড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে কৃষকেরা ভালো আয় করতে পারছেন।

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩ লাখ টাকার বেশি মালামাল জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩ লাখ টাকার বেশি মালামাল জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ওষুধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধীন বৈকারী, তলুইগাছা ও কাকডাঙ্গা বিওপির টহল দল পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৈকারী বিওপির অভিযানে ঈদগাহ এলাকা থেকে ৯৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ এবং তলুইগাছা বিওপির অভিযানে বেরিবাঁধ এলাকা থেকে ২ লাখ ৭ হাজার টাকা মূল্যের একই ধরনের যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া কাকডাঙ্গা বিওপির অভিযানে ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনার সময় এসব মালামাল জব্দ করা হয়। চোরাচালান প্রতিরোধ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং দেশীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তালা প্রেসক্লাব ও উপজেলা প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার। সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সহসভাপতি আসাদুজ্জামান রাজু।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি বরুণ ব্যানার্জি, বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, যুবদল নেতা সাইদুর ইসলাম সাইদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিঠু, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সদস্যসচিব খান নাজমুল হোসেন এবং তালা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।

বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁরা পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।

এ সময় বক্তারা তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের মালামাল বিক্রি এবং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্যে কোনো গণমাধ্যমকর্মী কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখিত।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য করেন ডা. মিজানুর রহমান। এ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে বুধবার (২১ অক্টোবর) তিনি আরেকটি পোস্টে আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন এবং কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন।