সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

পাইকগাছায় হাম-রুবেলা টিকাদানের ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় হাম-রুবেলা টিকাদানের ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় হাম-রুবেলা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে হাম-রুবেলা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ। মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিলা আফরোজ, নার্সিং সুপারভাইজার হামিদা খাতুন, ক্যাশিয়ার দেব্রত সরকার, অফিস সহকারী মোঃ সরোয়ার হোসেন, পরিসংখ্যানবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এমটিইপিআই সাহানারা পারভিন, স্বাস্থ্য সহকারী বেবী সরদারসহ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ

২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী এ ক্যাম্পেইন চলবে। কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৩ দিন, বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিউনিটি পর্যায়ে ৮ দিন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ কর্মদিবস টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বছর পাইকগাছা উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৫৪৫ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে।

Ads small one

অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবছে দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবছে দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসায় অনিয়ম আর দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে থাকা শতাধিক বিঘা কৃষি জমি হতে বাৎসরিকভাবে আদায়কৃত অর্ধ্ব কোটি টাকার মালিকানা নিয়ে অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। যার ফলে প্রায় পাঁচ দশক আগে গড়ে উঠা ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাতা পরিবারগুলোর সাথে অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের মধ্যে দিনে দিনে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরী হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে এমন অবস্থা অব্যাহত থাকার সত্ত্বেও প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিধিদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনতিবিলম্বে অবস্থার উন্নতি না হলে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হবে বলেও দাবি তাদের।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে ডা. রাহাতুল্লাহ গাজী প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। মাদ্রাসার অনুকুলে থাকা প্রায় একশ বিঘা কৃষি জমি মৎস্যঘেরের জন্য ইজারা দিয়ে প্রতিবছর কতৃপক্ষ মোটা অংকের টাকা আদায় করে।
অনুসন্ধানকালে স্পষ্ট তথ্য মিলেছে যে মাদ্রাসার অনুকুলে এত বিপুল পরিমান টাকা বাৎসরিকভাবে আয় হলেও তার যৎসামান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় হয়। মুলত অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস হোসেন ও তার কয়েক অনুসারী সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বিভিন্ন খরচের ছিলিপ তৈরী করে অধ্যক্ষ খাতা-খতিয়ান ঠিক রাখার চেষ্টা করেন বলেও দাবি তাদের। এমনকি মাদ্রসার বিরুদ্ধে কোন অনিয়মের তদন্ত হলে তদন্ত কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করার জন্য তারা মাদ্রাসার ফান্ড থেকে মোটা অংকের অর্থ খরচ করে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে হিসেবে স্বচ্ছতা রাখার অপচেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ তুলেছে খোদ পরিচালনা পর্ষদ ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের আলহাজ্ব মুরাদ হোসেন জানান তার দাদা মাদ্রসা গড়ে তুলেছিলেন ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার ঘাঁতে। কিন্তু অধ্যক্ষ ইউনুস হোসেন তার কয়েক অনুসারীকে নিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বার বার প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দারস্থ হওয়া সত্ত্বেও পরিবার ইউনুস হোসেন মাদ্রাসার অর্থ দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে চলেছে।
প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অপর এক সদস্য এবং নকিপুর এইচসি সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, ইউনুস হোসেন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতির আশ্রয় েিনেছন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ছাত্র জোবায়েরকে মাদ্রসায় ভর্তি দেখিয়ে তার পিতা ও নিজ বন্ধু এবং সকল অপকর্মের সাথী আজিজুর রহমানকে পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য বানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদারকি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করা সত্ত্বেও ইউনুস সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে ফেলেছেন বলে তিন বছর ধরে বিষযটি ঝুলে আছে।
মাদ্রসার সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফের ভাষ্য তিনি তার পিতা ও মাতার নামে ছাত্রাবাস এবং কবরস্থান তৈরীর জন্য সাড়ে বিঘা জমি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি তার কোন অস্থিত্ত্ব নেই। বাধ্য হয়ে তিনি দুই বছর আগে নিরুপণ দলিলের উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন অধ্যক্ষের নিকট। সেসময় মাদ্রাসার প্রবেশদ্বারে তার পিতা ও মাতার নাম লেখা হলেও আজ পর্যন্ত সেই ছাত্রাবাস ও কবরস্থান তৈীর করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি উক্ত জমির টাকার দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
আব্দুর রউফ আরও অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ ইউনুস মাওলানার কারনে মাদ্রাসায় শিক্ষার পরিবেশ নেই বললেই চলে। দিন দিন ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তার দুর্নীতি এবং অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায়১০ মাস আগে একযোগে পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন পদ হতে তারা ছয়জন অব্যাহতি নিয়েছেন। তারপরও স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে মাদ্রাসার অনুকুলে আদায়কৃত অর্থের অবৈধ ব্যবহার করে ইউনুস মাওলানা দিবি একক ক্ষমতায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস হোসেন জানান তিনি দায়িত্ব নেয়ার আগে অন্য অধ্যক্ষরা একইভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের কয়েকজন সদস্য পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

আজ সাতক্ষীরায় দীনেশ কর্মকার বাড়ি গণহত্যা দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
আজ সাতক্ষীরায় দীনেশ কর্মকার বাড়ি গণহত্যা দিবস

পত্রদূত রিপোর্ট: আজ ২১ এপ্রিল, সাতক্ষীরার ইতিহাসে অন্যতম এক কলঙ্কিত ও শোকাবহ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় (তদানীন্তন টাউন স্কুল) সংলগ্ন দীনেশ কর্মকারের বাড়িতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। এই বধ্যভূমি ও শহীদদের স্মরণে আজ বিকেলে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
একাত্তরের ২০ এপ্রিল খুলনা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভিটেমাটি হারানো শত শত অসহায় মানুষ প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথে রাত হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সাতক্ষীরা টাউন স্কুলে আশ্রয় নেন। নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় থাকা এই নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর পরদিন ভোরে হিংস্র হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হানাদাররা নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাঁদের হত্যা করে। এরপর রক্তরঞ্জিত লাশগুলো পাশের দীনেশ কর্মকারের পুকুরে ফেলে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার এই বধ্যভূমিটি আজও যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। অযতœ আর অবহেলায় বধ্যভূমিটি হারিয়ে যেতে বসেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এই স্থানটি সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিনের।
৭১-এর গণহত্যার শহীদদের স্মরণে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে আজ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং শোক র‌্যালি ও স্মৃতিচারণ সভা।
আজ বিকেল ৫টায় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন দীনেশ কর্মকার বাড়ির বধ্যভূমিতে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বাগআঁচড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ ক্লিনিককে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
বাগআঁচড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪ ক্লিনিককে জরিমানা

oppo_0

বাগআঁচড়া (শার্শা) সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় অভিযান চালিয়ে ৪ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল ) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম।

অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জোহরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা, আল-মদিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা, বাগআঁচড়া নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০ হাজার টাকা, ও জনসেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অংশ হিসেবে শার্শার বাগআঁচড়ায় অবস্থিত ক্লিনিকগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ৫২ ধারা আইনে ৪টি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতেও অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসময় তার সাথে ছিলেন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা শুভেন্দু বিশ্বাস ও শার্শা থানার পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।