সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন ও বৈশাখের সাহিত্য উৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন ও বৈশাখের সাহিত্য উৎসব

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষের সেই উজ্জ্বল সকালে, যখন প্রকৃতির বুক জুড়ে বয়ে যায় নতুন দিনের উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই সাহিত্যের আঙিনায় জন্ম নেয় এক রঙিন স্বপ্নÑ ‘পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন’। নামের মধ্যেই যেন আছে বৈশাখের উন্মাদনা, ঝড়ো হাওয়ার দোলা, আর নবজাগরণের এক অনিবার্য স্পন্দন।
এই নান্দনিক ফোল্ডারটির সম্পাদক ছিলেন বরেণ্য ছড়াকার আহমেদ সাব্বির, যার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি পুরো সংকলনটিকে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতা। সম্পাদনা পর্ষদে ছিলেন সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, কবি ও গল্পকার বাবলু ভঞ্জ চৌধুরী এবং সুলতান মাহমুদ রতনÑযাদের সম্মিলিত প্রয়াসে ফোল্ডারটি হয়ে উঠেছে এক সমৃদ্ধ সাহিত্যভা-ার। নামলিপিতে কবি স ম তুহিনের সুনিপুণ ছোঁয়া এবং গ্রাফিক্সে শেখ মোস্তফার শিল্পনৈপুণ্য ফোল্ডারটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আহমেদ রোদসীর চিত্রকল্পÑযা কেবল একটি অলংকরণ নয়, বরং নবপ্রজন্মের সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
ফোল্ডারটির শুরুতেই স্থান পেয়েছে জাতীয় কবি, কবিতার রাজপুত্র শামসুর রাহমানের ‘বৈশাখের গান’ যেন পুরো সংকলনের জন্য এক সুরময় দরজা উন্মোচন। এরপর গদ্যে বাবলু ভঞ্জ চৌধুরীর ‘বৈশাখের শক্তি’ আমাদের নিয়ে যায় চিন্তার গভীরে। রোমেল রহমানের ‘বাঘ’ এবং সুলতান মাহমুদ রতনের ‘লাল দরজা’ গল্পে জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে।
ছড়া ও কবিতার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে বৈশাখের রং, মাটির গন্ধ আর মানুষের আবেগ। সুপদ বিশ্বাস, নাজমুল হাসান ও আবুল হোসেন আজাদের ছড়ায় ফুটে উঠেছে উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। অন্যদিকে পল্টু বাসার, আমিরুল বাসার, মনিরুজ্জামান মুন্না, শুভ্র আহমেদ, দিলরুবা, সায়েম ফেরদৌস মিতুল, শিরিন সাদী, সৌহার্দ সিরাজ, মো. বাকি বিল্লাহ, প্রাণকৃষ্ণ সরকার, মনিরুল বারী এবং স ম তুহিনের কবিতাগুলো যেন একেকটি আলাদা অনুভবের দরজা খুলে দেয়Ñকখনো প্রেম, কখনো বেদনা, কখনো সমাজচেতনার গভীর অনুরণন।
ফোল্ডারটির আরেকটি আকর্ষণ হলো এর রঙিন তিনটি বিজ্ঞাপন, যা পুরো প্রকাশনাকে দিয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতা।
‘একটি গোলপাতা প্রকাশনা’Ñএই প্রকাশনা সংস্থার উদ্যোগে এমন একটি নান্দনিক সাহিত্য ফোল্ডার প্রকাশ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বর্ষবরণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তাদের এই প্রয়াস কেবল একটি প্রকাশনা নয়, বরং বাংলা সাহিত্যচর্চার ধারাকে আরও বেগবান করার এক আন্তরিক পদক্ষেপ।
বৈশাখ মানেই নতুন করে শুরু, নতুন স্বপ্ন বোনা। সেই স্বপ্নেরই এক রঙিন প্রতিফলন ‘পাগলা হাওয়ায় পাতার নাচন’। নববর্ষের এই আনন্দঘন মুহূর্তে, এমন একটি সাহিত্য ফোল্ডারের প্রকাশ নিঃসন্দেহে আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বিকেলে সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদ ও অধ্যাপক আশুতোষ সরকারের সৌজন্যে আর একটি সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা এই নববর্ষ উদযাপনকে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে।
গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাতক্ষীরার কাটিয়া লস্করপাড়ায় সব্যসাচী আবৃত্তি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ছট্টুর বাসভবন প্রাঙ্গণে এক প্রাণবন্ত সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদের আয়োজনে এটি ছিল তাদের ২৭তম সাহিত্য সভা।
কবি শুভ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং মনিরুজ্জামান ছট্টুর সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষকদের এক মিলনমেলা বসেছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কণ্ঠশিল্পী ও কবি মঞ্জুরুল হক, কবি শহিদুর রহমান, গীতিকার প্রাণকৃষ্ণ সরকার, তৃপ্তি মোহন মল্লিক, কবি কাজী গুলশান আরা, মনিরুজ্জামান মুন্না, লেখক ও গবেষক শেখ সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে লেখক ও কবিরা তাঁদের স্বরচিত লেখা পাঠ করেন এবং সেই পাঠের ওপর গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো—অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সংগঠন ও সাহিত্য, কবিতার শৈল্পিক রূপ, স্মৃতিচারণ ও আবেগ এবং লেখকদের মূল্যায়ন।
অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ তাঁর বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন। সংগঠন ও সাহিত্য প্রসঙ্গে শেখ সিদ্দিকুর রহমান সব্যসাচী আবৃত্তি সংসদের পথচলা ও এর সাহিত্যিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। কবিতার শৈল্পিক রূপে কাজী গুলশান আরার কবিতার সংক্ষিপ্ততা ও গভীর অভিব্যক্তি এবং কবি শহিদুর রহমানের দীর্ঘ কবিতার বিষয়বস্তু ফুটিয়ে তোলার মুন্সিয়ানা প্রশংসিত হয়।
স্মৃতিচারণ ও আবেগের জায়গায় মঞ্জুরুল হকের ‘হারানো সুর’ কবিতায় কৈশোর ও যৌবনের ফেলে আসা দিনগুলোর আকুলতা ফুটে ওঠে। এছাড়া শেখ আমিনুর রহমান কাজল তাঁর লেখায় মনিরুজ্জামান ছট্টুর স্নেহসিক্ত শৈশবের স্মৃতিগুলো প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরেন।
লেখকদের মূল্যায়নে সভায় প্রাণকৃষ্ণ সরকার, তৃপ্তি মোহন মল্লিক এবং কবি সাদ্দাম হোসেনকে সফল লেখক হিসেবে অভিহিত করা হয়। পাশাপাশি শিরিন সাদীর ছোটগল্পের বিষয়বস্তু চমৎকার হলেও পাঠশৈলী নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়।
সব্যসাচী আবৃত্তি পরিষদের এই আয়োজনটি ছিল সাহিত্যের আড্ডায় নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস। দীর্ঘ আলোচনা শেষে রাত সাড়ে নয়টায় আয়োজক মনিরুজ্জামান ছট্টুর সৌজন্যে নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।
শব্দে, ছড়ায়, গল্পে আর কবিতায়—এভাবেই বৈশাখ বয়ে আনে নতুন প্রাণ, নতুন সম্ভাবনা।
সাহিত্যের এই সম্মিলিত উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে, আর রেখে যায় অনুপ্রেরণার এক অমলিন ছাপ। লেখক: সাবেক ব্যাংকার

Ads small one

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত গফুর সানার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাল সানা, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল সরদার, বাবু গাজী ও হযরত আলী সানার সঙ্গে বাদীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি যাওয়ার পথে জামাল সানার বাড়ির সামনে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে।
এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই দ্বীন মোহাম্মদ সানা, ভাগ্নে জসিম ও সাহিদুল, এবং চাচাতো ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম সানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাদীর স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে।