মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

পাটকেলঘাটায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ২ টি কেন্দ্রে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৪৮ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৪৪২ জন। ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা পাটকেলঘাটার দুটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাটকেলঘাটা কুমিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি ভেনুতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৮০ জন। এরমধ্যে ১৭৮ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। পাটকেলঘাটা থানার ১ নাম্বার নগরঘাটা ইউনিয়ন ২ নম্বর ধানদিয়া ৩ খলিশখালী এই তিনটি ইউনিয়নের মোট ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পরীক্ষার্থীরা এ বৃত্তি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করেছে।
কুমিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সফরে দায়িত্ব পালন করেন কলাপাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান এবং কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন কুমিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম।
তালা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সন্তোষ কুমার কেন্দ্রে পরিদর্শন করেছেন এবং মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডাক্তার সুব্রত কুমার দে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
কুমেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রের অল সচিব মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ১০ টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় এই দুটি সাবজেক্টের ৫০ প্লাস ৫০ মোট ১০০ মার্কের দুটি বিষয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে কুমিরা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় প্রাথমিক বিদ্যালয় এর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৬৪ জন। এর মধ্যে অংশগ্রহণ করেছে ২২৪ জন।
কুমিরা বালিকা বিদ্যালয় হল সাফারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষা অফিসার ইমান উদ্দিন। অন্যদিকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন কুমিরা পাইলট মা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস।
এ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন তালা ইসলাম কাটি উপস্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিসার রনি কুমার মন্ডল। কুমিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কুমিরা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় এ দুটি কেন্দ্রের সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুমড়া পাইলট বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক কেন্দ্র সদস্য সচিব গৌতম কুমার দাস এ প্রতিবেদককে বলেন সরকার এ বছর সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করেছে।

Ads small one

হরমুজ প্রণালি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না: ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না: ইরান

পশ্চিম এশিয়া ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন এক ইরানি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ খবর জানিয়েছে।

তেহরানভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আব্বাস আসলানি সম্প্রতি সিনহুয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কয়েক সপ্তাহের সংঘাত এবং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পরও তেহরান দুর্বলতা বা আত্মসমর্পণের কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

বর্তমানে ইরানের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া বলে জানিয়েছেন তিনি।

আসলানি জানান, ইরানের জ্বালানি, বিজ্ঞান, চিকিৎসা এবং শিল্প অবকাঠামোতে হামলা প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সামরিক এবং কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এই হামলাগুলোকে ‘যুদ্ধাপরাধ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। বিশেষ করে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো শান্তিপূর্ণ স্থাপনায় হামলা বড় ধরনের আঞ্চলিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও বলেন, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছিল। তবে ইরান বেশ ভালোভাবে পাল্টা জবাব দিয়েছে।

আসলানির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ভেনেজুয়েলার মডেলে বিবেচনা করে ভুল হিসাব কষেছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতাও অটুট রয়েছে।

প্রসঙ্গত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ কয়েকটি ইরানি শহরে যৌথ হামলা চালায়। এতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক লোকজন নিহত হন। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সম্পদের পাশাপাশি কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

কাঙ্গাল হরিনাথ ও সাংবাদিকতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
কাঙ্গাল হরিনাথ ও সাংবাদিকতা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

উনিশ শতকের বাংলা ছিল এক গভীর বৈপরীত্যের সময়। একদিকে ঔপনিবেশিক শাসনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে গ্রামবাংলার অভ্যন্তরে জমিদারি শোষণ, নীলকরদের নির্যাতন এবং সাধারণ মানুষের নিঃশব্দ যন্ত্রণা। এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ সময়কে শুধু দেখেননি, তারা সময়কে প্রশ্ন করেছেন, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছেন। সেই বিরল মানুষের মধ্যে অন্যতম কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার-গ্রামীণ সাংবাদিকতার এক অগ্রগামী কণ্ঠ।

 

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩৩ সালে তাঁর জন্ম। জীবনের শুরু থেকেই দারিদ্র্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। শৈশবে কুমারখালী বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে সামান্য মজুরিতে কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত হলেও জ্ঞানার্জনের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল গভীর ও অবিচল।

 

এই আত্মশিক্ষার পথই তাঁকে পরিণত করে এক স্বতন্ত্র চিন্তাশীল মানুষে, যিনি পরবর্তীতে সমাজ ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় নীলকুঠিতে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা। সেখানে তিনি সরাসরি দেখেন কৃষক-রায়তদের ওপর নীলকরদের নির্মম অত্যাচার, জমিদারদের দমননীতি এবং সাধারণ মানুষের অসহায়তা। এই বাস্তবতা তাঁর ভেতরে এক গভীর নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করে-এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কি কেউ কথা বলবে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তিনি বেছে নেন সাংবাদিকতার পথ। ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’।

 

এটি শুধু একটি সংবাদপত্র ছিল না; এটি ছিল এক সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যম। কলকাতাকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যমের বাইরে দাঁড়িয়ে এই পত্রিকা প্রথমবারের মতো গ্রামবাংলার বাস্তবতাকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে আনার চেষ্টা করে। গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় উঠে আসত কৃষকের দুর্দশা, শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনা, জমিদারদের শোষণ এবং নীলকরদের অত্যাচারের বিবরণ। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি ছিল অত্যন্ত সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ। কারণ, সরাসরি ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে ছিল বিপদের মুখোমুখি হওয়া।

 

এই সাহসের মূল্যও তাঁকে দিতে হয়েছে। তাঁর মুদ্রণযন্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়, পত্রিকা বন্ধের চাপ আসে, আর্থিক সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তিনি চরম নিঃস্বতায় পতিত হন। তবুও তিনি থামেননি। স্থানীয় সমাজের সহায়তায় প্রেস পুনরুদ্ধার হলেও তাঁর জীবন ক্রমেই দারিদর্্েযর গভীরে নিমজ্জিত হতে থাকে। এই নিঃস্বতাই তাঁকে ইতিহাসে “কাঙ্গাল” পরিচয়ে চিহ্নিত করে দেয়। তবে হরিনাথ কেবল সাংবাদিক ছিলেন না। তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সমাজচিন্তক এবং সংগীতসাধক।

 

তাঁর লেখা উপন্যাস ‘বিজয় বসন্ত’, বিভিন্ন প্রবন্ধ ও রচনায় সমাজের বাস্তবতা ও মানবিক বোধের গভীর প্রতিফলন পাওয়া যায়। তিনি প্রায় এক হাজার বাউল গান রচনা করেন, যেখানে মানবতাবাদ, আধ্যাত্মিকতা এবং সমাজচেতনার মিশ্রণ লক্ষ করা যায়। তিনি লালন শাহের দর্শনের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। বাউল চিন্তায় তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন মানুষের ভেতরের সত্য, যা ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে। তাঁর গান ও চিন্তায় ঈশ্বরের চেয়ে মানুষ বড় হয়ে উঠেছে। এই মানবতাবাদী দর্শনই তাঁকে কেবল একজন সাংবাদিক নয়, বরং একজন দার্শনিক চিন্তাবিদে পরিণত করেছে। তাঁর সমাজচিন্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল শিক্ষা।

 

১৮৫৪ সালে তিনি কুমারখালীতে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময়ের সমাজে নারীশিক্ষা ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অনেক ক্ষেত্রে বিরোধিতার বিষয়। তবুও তিনি বিশ্বাস করতেন, নারীকে শিক্ষিত না করলে সমাজ কখনো পূর্ণতা পাবে না। এই উদ্যোগ তাঁকে নারীশিক্ষার অগ্রদূতদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। হরিনাথের সাংবাদিকতা ও সমাজসংস্কার কখনো আলাদা ছিল না। তাঁর কাছে সংবাদপত্র ছিল সমাজের আয়না, আর সমাজ ছিল তাঁর লেখার প্রধান বিষয়।

 

‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ ছিল এক অর্থে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। যেখানে কেন্দ্র নয়, প্রান্তই ছিল আলোচনার মূল জায়গা। এই পত্রিকা দেখিয়ে দিয়েছিল, সাংবাদিকতা কেবল শহরকেন্দ্রিক অভিজাত চর্চা নয়; বরং গ্রাম থেকেও জাতীয় চেতনা তৈরি করা সম্ভব। আজকের ভাষায় যাকে বলা হয় “গ্রাসরুট জার্নালিজম”, তার অন্যতম প্রাথমিক উদাহরণ এই পত্রিকা। তাঁর সাংবাদিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নৈতিক অবস্থান।

 

তিনি কখনো নিরপেক্ষতার নামে অন্যায়ের পাশে দাঁড়াননি। বরং তিনি বিশ্বাস করতেন-অন্যায়ের সামনে নীরবতা নিজেই এক ধরনের পক্ষপাত। এই অবস্থান তাঁকে বারবার বিপদের মুখে ফেলেছে। মুদ্রণযন্ত্র বাজেয়াপ্ত হওয়া, আর্থিক সংকট, সামাজিক চাপ-সবকিছু মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল এক অবিরাম সংগ্রাম। কিন্তু এই সংগ্রামই তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। ১৮৯৬ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি কাটান তাঁর জন্মস্থান কুমারখালীতেই। মৃত্যুর পর তাঁকে তাঁর নিজ গৃহেই সমাহিত করা হয়। আজও সেই স্থান ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে কুমারখালীতে তাঁর স্মৃতিরক্ষায় কাঙ্গাল কুঠি এবং কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে তাঁর ব্যবহৃত মুদ্রণযন্ত্র, ধাতব টাইপ, পত্রিকার ঐতিহাসিক দলিল এবং নানা স্মারক।

 

এগুলো কেবল বস্তু নয়, বরং একটি যুগের সাক্ষ্য। তবে প্রশ্ন হলো-শুধু স্মৃতি সংরক্ষণ কি যথেষ্ট? নাকি তাঁর আদর্শকে বর্তমান জীবনে ধারণ করাই আসল দায়িত্ব? আজকের সাংবাদিকতা অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত এবং বিস্তৃত। তথ্য এখন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু একই সঙ্গে সাংবাদিকতা আজ নানা সংকটে জর্জরিত-ভুয়া তথ্যের বিস্তার, করপোরেট প্রভাব, রাজনৈতিক চাপ এবং বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট।

 

এই বাস্তবতায় কাঙ্গাল হরিনাথের জীবন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। কারণ তিনি আমাদের শেখান-সাংবাদিকতা মানে ক্ষমতার পাশে থাকা নয়, বরং সত্যের পাশে দাঁড়ানো। সাংবাদিকতা মানে কেবল তথ্য পরিবেশন নয়, বরং নৈতিক অবস্থান গ্রহণ। সাংবাদিকতা মানে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা। তিনি দেখিয়ে গেছেন, গ্রাম থেকেও জাতীয় চেতনা তৈরি করা যায়। কলম হতে পারে প্রতিরোধের অস্ত্র। আর একজন মানুষ চাইলে পুরো সমাজের চেতনায় আলো জ্বালাতে পারেন। তাঁর জীবন আমাদের আরও একটি গভীর সত্য মনে করিয়ে দেয়-সত্য বলা সহজ নয়, কিন্তু সেটিই সবচেয়ে জরুরি।

 

আর সেই সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হলে প্রয়োজন সাহস, ত্যাগ এবং মানবিক দায়বদ্ধতা। কাঙ্গাল হরিনাথ তাই কেবল ইতিহাসের একটি নাম নন। তিনি একটি চলমান প্রশ্ন, একটি নৈতিক মানদ- এবং একটি চেতনা। তিনি বেঁচে আছেন প্রতিটি সেই লেখায়, যেখানে সত্য উচ্চারিত হয়; প্রতিটি সেই কণ্ঠে, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ওঠে; এবং প্রতিটি সেই বিবেকে, যা ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেয়।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

বিদায় নিচ্ছেন টিম কুক, অ্যাপলের সিইও পদে নতুন মুখ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
বিদায় নিচ্ছেন টিম কুক, অ্যাপলের সিইও পদে নতুন মুখ

দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের সফল যাত্রার অবসান ঘটিয়ে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক। স্টিভ জবসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া কুকের অধীনে আইফোন-কেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধির সময় কোম্পানিটির বাজারমূল্য বেড়েছে ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬৫ বছর বয়সী টিম কুক সিইওর দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান জন টার্নাসের হাতে।

এক বিবৃতিতে টিম কুক বলেন, অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং এমন একটি অসাধারণ প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তবে দায়িত্ব ছাড়লেও কুক অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত থাকছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে আমাজনের জেফ বেজোস এবং নেটফ্লিক্সের রিড হেস্টিংসও একই ধরনের প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব হস্তান্তর করেছিলেন।

অ্যাপলের পরবর্তী সিইও ৫০ বছর বয়সী জন টার্নাস গত ২৫ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রয়েছেন। গত পাঁচ বছর তিনি আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকের প্রকৌশল কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেছেন, যা তাকে কুকের উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে প্রধান প্রার্থী করে তুলেছিল। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অ্যাপলের লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার এই সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

অ্যাপলের এই শীর্ষ নেতৃত্ব পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন চলছে। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন উন্মোচনের পর শিল্পখাতে বর্তমানে এআই-এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এআই ক্ষেত্রে শুরুর দিকে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। প্রায় দুই বছর আগে ঘোষিত নতুন ফিচার বাস্তবায়নে বিলম্বের পর চলতি বছর আইফোনের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি-কে আরও কার্যকর করতে গুগলের সহায়তা নিতে হয়েছে অ্যাপলকে।

স্টিভ জবসের মতো দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, তার রেখে যাওয়া উদ্ভাবন ও আইফোনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অ্যাপলকে অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে গেছেন টিম কুক। নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা অ্যাপল টিম কুকের হাত ধরে অকল্পনীয় সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে।