সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: জ্বালানি সংকটে স্থবির ভোমরা বন্দরÑকাঁচামাল পচন ও ব্যবসায়িক ধস রুখতে জরুরি উদ্যোগ জরুরী
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। যে বন্দরটি সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল, জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে তা এখন স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ডিজেলের অভাবে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় আমদানিকৃত পণ্য, বিশেষ করে পচনশীল কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দরে ট্রাকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। আগে প্রতিদিন যেখানে ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করত, এখন তা ২০০-এর নিচে নেমে এসেছে। দূরপাল্লার ট্রাকগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে মাঝপথে তেলশূন্য হয়ে পড়ছে। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল না পাওয়ায় ট্রাক চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন পাম্পে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যেখানে দুদিনে একটি ট্রিপ সম্পন্ন হতো, সেখানে এখন এক সপ্তাহ লেগে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ট্রাকভাড়াÑ২৫ হাজার টাকার ভাড়া গিয়ে ঠেকেছে ৩৭ হাজার টাকায়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো পচনশীল পণ্যের অবস্থা। ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচামরিচ, আদা ও বিভিন্ন ফলমূল সময়মতো গন্তব্যে না পৌঁছানোয় পথেই পচে নষ্ট হচ্ছে। আমদানিকারকরা জানাচ্ছেন, মাল দেরিতে পৌঁছানোর কারণে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত দাম কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই বহুমুখী লোকসান ক্ষুদ্র ও মাঝারি আমদানিকারকদের ব্যবসার মেরুদ- ভেঙে দিচ্ছে।
ভোমরা বন্দর দিয়ে দেশের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ আসে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুফল যখন ব্যবসায়ীরা পেতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই জ্বালানি সংকটের কারণে এই অচলাবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই সংকট কেবল পরিবহনের নয়, এটি সরাসরি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার দরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আমরা মনে করি, ভোমরা স্থলবন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এখানে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ডিজেলের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং পরিবহন মালিকদের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া, বন্দরে খালাস হওয়া পণ্য দ্রুত সরানোর জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তাও ভেবে দেখা জরুরি।
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের দাম রাখতে ভোমরা বন্দরের এই পরিবহন সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।









