মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

এক জীবনের আলোছায়া—নকিপুরের নোনাজলে শিক্ষক কৃষ্ণানন্দের স্বপ্নযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
এক জীবনের আলোছায়া—নকিপুরের নোনাজলে শিক্ষক কৃষ্ণানন্দের স্বপ্নযাত্রা

এসএম শহীদুল ইসলাম : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনের কোলে নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গেট দিয়ে ঢুকলেই এখন চোখে পড়ে সারি সারি দেবদারু গাছ। বাতাসে দুলছে আম-লিচুর মুকুল, কামরাঙা আর আমলকির ভারে নুয়ে পড়া ডালগুলো যেন এক একটি সফল গল্পের সাক্ষী। তবে এই বাগানের কারিগর আজ আর দাপ্তরিক চেয়ারে নেই। গত ১৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে তিনি অবসর নিয়েছেন। কিন্তু ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ডামাডোল যেন আবারও টেনে নিয়ে যাচ্ছে তাকে সেই চিরচেনা ব্ল্যাকবোর্ড আর চক-ডাস্টারের ঘ্রাণে।

বিদ্যালয়ের ঘণ্টাধ্বনি থেমে যায়, কিন্তু কিছু মানুষের জীবন থেকে শিক্ষা কখনো বিদায় নেয় না। শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড, পরীক্ষার খাতা, বারান্দায় ছুটে চলা কিশোরীদের হাসি—সব মিলিয়ে যে জীবন, তারই এক নিবেদিত প্রতিচ্ছবি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি।

২০১০ সালের ২৬ জুলাই, নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। আর দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর, ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ অবসর নেন। এই সময়টুকু যেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নয়—পুরোটাই ছিল একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে স্বপ্ন বুননের গল্প।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের কথা ভাবার অবকাশ ছিল না এক দিনের জন্যও। বিদ্যালয়ের শ্রীবৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরীক্ষাকেন্দ্র আধুনিকায়ন—প্রতিটি ধাপে ছিল তাঁর নিরলস পরিশ্রম। এসএসসি ও তৎকালীন জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে সেই কেন্দ্র আজ একটি পরিপূর্ণ কাঠামো—যেখানে ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা।

বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোতেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। তাঁর হাত ধরেই নির্মিত হয়েছে পাঁচতলা আধুনিক ভবন। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় এগিয়ে নিতে গড়ে তোলা হয়েছে আইসিটি সমৃদ্ধ পরিবেশ—৭টি স্মার্ট বোর্ড, ২১টি ল্যাপটপ, ৫টি ডেস্কটপ, রোবটিক কর্নার, ব্রডকাস্টিং সিস্টেম, সিসি ক্যামেরা—সব মিলিয়ে এক আধুনিক শিক্ষাঙ্গন।

শুধু পাঠ্যপুস্তকের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই বিদ্যালয়। সংগীত চর্চার জন্য হারমোনিয়াম, তবলা, স্কাউটসের জন্য ড্রামসেট—সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমেও ছিল সমান গুরুত্ব। জাতীয় দিবস কিংবা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠত্ব।

প্রকৃতির ছোঁয়াও যেন জড়িয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কোণে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লাগানো আম, লিচু, কামরাঙ্গা, আমলকি, সুপারি ও নারিকেল গাছে এখন ফলের সমারোহ। সারি সারি দেবদারু গাছ শোভা বাড়িয়েছে শিক্ষাঙ্গনের। পাকা রাস্তা, সীমানা প্রাচীর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়েছে পূর্ণতা।

এই অর্জনের স্বীকৃতিও এসেছে বারবার। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ছয়বার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বিদ্যালয়টি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি নিজেও একবার হয়েছেন শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক।

তাঁর কর্মজীবন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৮৩ সালে কলবাড়ী নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে যাত্রা শুরু। এরপর ২২ বছর নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর তিনি ছিলেন বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার দায়িত্বে—কখনো কেন্দ্র সচিব, কখনো গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বাবধায়ক।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও ছিলেন সক্রিয়। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এখনো। এছাড়া শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও স্কাউটসের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই পথচলায় তিনি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার স্বাদও—থাইল্যান্ডে ১৩ দিনের স্টাডি ট্যুর এবং মালয়েশিয়ায় আইসিটি প্রশিক্ষণ তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে করেছে আরও প্রসারিত।

 অবসর জীবনের নির্জনতায় দাঁড়িয়ে যখন আবার শুরু হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা, তখন স্মৃতিরা যেন ফিরে আসে একে একে। পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিটি ইট, প্রতিটি বেঞ্চ যেন তাঁর শ্রমের সাক্ষী হয়ে কথা বলে।

কৃষ্ণানন্দ মুখার্জির কণ্ঠে মিশে থাকে এক ধরনের নীরব আবেগ—

“সবকিছু এখন স্মৃতি। তবু মনে হয়, এই বিদ্যালয়টাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”

সময়ের স্রোতে অনেক কিছুই বদলে যায়। কিন্তু কিছু মানুষের শ্রম, নিষ্ঠা আর ভালোবাসা—একটি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে দেয়ালে অমলিন হয়ে থাকে চিরকাল।##

Ads small one

সুন্দরবনের হরিণ ধরার ৪২ টি মালা ফাঁদ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের হরিণ ধরার ৪২ টি মালা ফাঁদ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির সদস্যদের নিয়মিত টহল চলাকালে হরিণ ধরার ৪২ টি মালা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দূপুরে মুন্সিগঞ্জ টহলফাঁড়ির অধীনে সুন্দরবনের বেলায়েতের ভারানি ও ছেড়ার খাল থেকে এ ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান, বুড়িগোয়লিনী স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা জাহিদ এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বনের ভেতরে পেতে রাখা ৪২টি হরিণ শিকারের ‘মালা ফাঁদ’ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ টহলফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা জাহিদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই ফাঁদগুলো উদ্ধার করি। তাছাড়া ফাঁদগুলো এমনভাবে পাতা ছিল, যাতে বনাঞ্চলে বিচরণরত হরিণ সহজেই আটকা পড়ে শিকারিদের হাতে প্রাণ হারায়।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, সুন্দরবন শুধু দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তাই এখানে বসবাসকারী বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হরিণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। ফজলুল হক সাধারণ জনগণকে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যদি এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের তথ্য পেয়ে থাকেন, তাহলে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে, এবং তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

স্থানীয় আমিরুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরেই অসাধু শিকারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে এসব কর্মকান্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তারপরেও কিছু চক্র বন বিভাগের নজর এড়িয়ে এ সমস্ত কাজ করে চলেছে। আমাদের দাবি তাদেরকে আইনের আওতায় এনে হরিণ শিকার চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

 

খুলনায় নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বাস্তবায়নে কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
খুলনায় নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বাস্তবায়নে কর্মশালা

নারীদের জন্য জাতীয় মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আর্থিক প্রাক্কলনসহ কর্মপরিকল্পনা ২০২৫ বাস্তবায়ন ও অবহিতকরণের লক্ষ্যে কর্মশালা আজ (মঙ্গলবার) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, জাতীয় মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও জনগণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্যানিটারী ন্যাপকিন উৎপাদন ও আমদানিতে ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সরকারি-বেসরকারি দপ্তর সংস্থার নিজস্ব উদ্যোগে নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধাসহ পৃথক ওয়াশরুমের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক দপ্তরের সেবা গ্রহণকারী নারীদের মাঝে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি।

প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, সকল স্কুলে মেয়েদের জন্য পরিবর্তন রুম নামে আলাদা কক্ষ, স্যানিটারী ন্যাপকিন উৎপাদন, আমদানি ও সরবরাহ’র ক্ষেত্রে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো/ফ্রি করা, স্বল্পমূল্যে স্যানিটারী ন্যাপকিন বিতরণসহ বিভিন্ন পরামর্শ কর্মশালায় উঠে আসে।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা ইউনিসেফ এর চীফ মোঃ কাওসার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশেষজ্ঞ মোঃ মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সুয়ে মেন জো। ইউনিসেফ-এর সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

 

সাতক্ষীরায় জেলা মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের রিফ্রেসার প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জেলা মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের রিফ্রেসার প্রশিক্ষণ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় জেলা মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক (সিটিএন) সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এক রিফ্রেসার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই কার্যক্রমের সূচনা পর্বে প্রকল্প সমন্বয়কারী সুবল কুমার ঘোষ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য এবং বাংলাদেশে বর্তমান মানব পাচার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি মানব পাচার রোধে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রাথমিক ধারণা প্রদান করেন।

প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের (ডিইএমও) উপ-পরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মিঠুন সরকার, অ্যাডভোকেট মনির উদ্দীন।

এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন মাছরাঙা টিভির সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, জেলা সিটিএন-এর কার্যকরী সদস্য ও স্বদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত এবং সিটিআইপি সদস্য সোহেল আহমেদ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬’-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা জেলায় মানব পাচার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন সহায়তা এবং সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সাথে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সিটিএন-এর কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে সক্রিয় রাখতে একটি টেকসই পরিকল্পনা (সাসটেইনিবিলিটি প্ল্যান) বিষয়ে ধারণা প্রদান করা হয়।

উক্ত প্রশিক্ষণে সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত ১৭টি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে পাচার রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।