বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

এক জীবনের আলোছায়া—নকিপুরের নোনাজলে শিক্ষক কৃষ্ণানন্দের স্বপ্নযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
এক জীবনের আলোছায়া—নকিপুরের নোনাজলে শিক্ষক কৃষ্ণানন্দের স্বপ্নযাত্রা

এসএম শহীদুল ইসলাম : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনের কোলে নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গেট দিয়ে ঢুকলেই এখন চোখে পড়ে সারি সারি দেবদারু গাছ। বাতাসে দুলছে আম-লিচুর মুকুল, কামরাঙা আর আমলকির ভারে নুয়ে পড়া ডালগুলো যেন এক একটি সফল গল্পের সাক্ষী। তবে এই বাগানের কারিগর আজ আর দাপ্তরিক চেয়ারে নেই। গত ১৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে তিনি অবসর নিয়েছেন। কিন্তু ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ডামাডোল যেন আবারও টেনে নিয়ে যাচ্ছে তাকে সেই চিরচেনা ব্ল্যাকবোর্ড আর চক-ডাস্টারের ঘ্রাণে।

বিদ্যালয়ের ঘণ্টাধ্বনি থেমে যায়, কিন্তু কিছু মানুষের জীবন থেকে শিক্ষা কখনো বিদায় নেয় না। শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড, পরীক্ষার খাতা, বারান্দায় ছুটে চলা কিশোরীদের হাসি—সব মিলিয়ে যে জীবন, তারই এক নিবেদিত প্রতিচ্ছবি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি।

২০১০ সালের ২৬ জুলাই, নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। আর দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর, ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ অবসর নেন। এই সময়টুকু যেন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নয়—পুরোটাই ছিল একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে স্বপ্ন বুননের গল্প।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের কথা ভাবার অবকাশ ছিল না এক দিনের জন্যও। বিদ্যালয়ের শ্রীবৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরীক্ষাকেন্দ্র আধুনিকায়ন—প্রতিটি ধাপে ছিল তাঁর নিরলস পরিশ্রম। এসএসসি ও তৎকালীন জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে সেই কেন্দ্র আজ একটি পরিপূর্ণ কাঠামো—যেখানে ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা।

বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোতেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। তাঁর হাত ধরেই নির্মিত হয়েছে পাঁচতলা আধুনিক ভবন। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় এগিয়ে নিতে গড়ে তোলা হয়েছে আইসিটি সমৃদ্ধ পরিবেশ—৭টি স্মার্ট বোর্ড, ২১টি ল্যাপটপ, ৫টি ডেস্কটপ, রোবটিক কর্নার, ব্রডকাস্টিং সিস্টেম, সিসি ক্যামেরা—সব মিলিয়ে এক আধুনিক শিক্ষাঙ্গন।

শুধু পাঠ্যপুস্তকের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই বিদ্যালয়। সংগীত চর্চার জন্য হারমোনিয়াম, তবলা, স্কাউটসের জন্য ড্রামসেট—সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমেও ছিল সমান গুরুত্ব। জাতীয় দিবস কিংবা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অর্জন করেছে শ্রেষ্ঠত্ব।

প্রকৃতির ছোঁয়াও যেন জড়িয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কোণে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লাগানো আম, লিচু, কামরাঙ্গা, আমলকি, সুপারি ও নারিকেল গাছে এখন ফলের সমারোহ। সারি সারি দেবদারু গাছ শোভা বাড়িয়েছে শিক্ষাঙ্গনের। পাকা রাস্তা, সীমানা প্রাচীর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়েছে পূর্ণতা।

এই অর্জনের স্বীকৃতিও এসেছে বারবার। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ছয়বার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বিদ্যালয়টি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি নিজেও একবার হয়েছেন শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক।

তাঁর কর্মজীবন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৮৩ সালে কলবাড়ী নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে যাত্রা শুরু। এরপর ২২ বছর নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর তিনি ছিলেন বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার দায়িত্বে—কখনো কেন্দ্র সচিব, কখনো গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বাবধায়ক।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও ছিলেন সক্রিয়। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এখনো। এছাড়া শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও স্কাউটসের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই পথচলায় তিনি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার স্বাদও—থাইল্যান্ডে ১৩ দিনের স্টাডি ট্যুর এবং মালয়েশিয়ায় আইসিটি প্রশিক্ষণ তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে করেছে আরও প্রসারিত।

 অবসর জীবনের নির্জনতায় দাঁড়িয়ে যখন আবার শুরু হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা, তখন স্মৃতিরা যেন ফিরে আসে একে একে। পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিটি ইট, প্রতিটি বেঞ্চ যেন তাঁর শ্রমের সাক্ষী হয়ে কথা বলে।

কৃষ্ণানন্দ মুখার্জির কণ্ঠে মিশে থাকে এক ধরনের নীরব আবেগ—

“সবকিছু এখন স্মৃতি। তবু মনে হয়, এই বিদ্যালয়টাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”

সময়ের স্রোতে অনেক কিছুই বদলে যায়। কিন্তু কিছু মানুষের শ্রম, নিষ্ঠা আর ভালোবাসা—একটি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে দেয়ালে অমলিন হয়ে থাকে চিরকাল।##

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।