শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

পালকির দোলায় অমলিন প্রেম: শিকড়ে ফেরার এক অনন্য উপাখ্যান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
পালকির দোলায় অমলিন প্রেম: শিকড়ে ফেরার এক অনন্য উপাখ্যান

মো. সিরাজুল ইসলাম: আকাশের কোণে রোদের ঝিলিক আর বাতাসে বসন্তের শেষ বিকেলের মাতাল হওয়াÑসব মিলিয়েই দিনটি ছিল যেন কোনো ধ্রুপদী গল্পের ফ্রেম। সাতক্ষীরা শহরের পিচঢালা রাজপথ আজ সাক্ষী হলো এক বিস্মৃত ইতিহাসের প্রত্যাবর্তনের। আধুনিক যান্ত্রিকতার এই যুগে যখন দামী গাড়ির গর্জন আর আলোকসজ্জার চাকচিক্যই বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন এক তরুণ আইনজীবী বেছে নিলেন ইতিহাসের ধূলোবালি মাখা সেই ধ্রুপদী বাহনÑপালকি।
রোববার বিকেলে শহরের সুলতানপুর সদ্দারপাড়া এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের। সুসজ্জিত পঙ্খীরাজ পালকিতে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন অ্যাডভোকেট শিমুল ইসলাম। আটজন বেহারার কাঁধে তাল মিলিয়ে চলা পালকির সেই ছন্দময় দুলুনি যেন অনেক কাল আগের কোনো গ্রাম্য উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা দৃশ্য।
দেবহাটা উপজেলার পূর্বকুলিয়া বাঁধের মুখ এলাকার লামিয়া আরেফিন শোভার সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হতে যাওয়ার এই যাত্রায় ছিল না কোনো গাড়ির হর্ন, বরং ছিল শেকড়ের টান। বিয়ে শেষে একইভাবে পালকির ওড়না টেনে নববধূকে নিয়ে যখন শিমুল নিজের আঙিনায় ফেরেন, তখন চারপাশের বাতাসে যেন ফিরে এসেছিল হারিয়ে যাওয়া সেই ম ম গন্ধ।
রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসুক জনতা। ছোটদের চোখে কৌতূহল আর প্রবীণদের চোখে ছিল ফেলে আসা যৌবনের দীর্ঘশ্বাস। কেউ সেলফি তুলছিলেন, কেউ বা ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন বেহারাদের সেই মাপা কদম।
উল্লসিত এলাকাবাসী বলেনÑ“পালকি তো কেবল কাঠের একটা কাঠামো নয়; এ তো আমাদের সংস্কৃতির স্পন্দন। আজ এই দৃশ্য দেখে মনে হলো আমরা আবারও আমাদের সত্তাকে খুঁজে পেলাম।”
সময়ের বিবর্তনে পালকি আজ কেবল যাদুঘরের জড় বস্তু। কিন্তু অ্যাডভোকেট শিমুল ইসলামের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে এক নীরব বার্তা পৌঁছে দিয়েছেÑসভ্যতা এগিয়ে চললেও শিকড়কে ভুলে যাওয়া মানেই শূন্যতা। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের শৌখিন ও ঐতিহ্যবাহী উদ্যোগ আমাদের হাজার বছরের কৃষ্টিকে নতুন করে জীবন দান করবে।
সাতক্ষীরার এই বিয়ে কেবল দুটি হৃদয়ের মিলন হয়ে থাকল না, এটি হয়ে উঠল হারিয়ে যাওয়া বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক পপ-আপ আর্ট, যা আগামী অনেক দিন এলাকাবাসীর মনে এক টুকরো অমলিন স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে।

Ads small one

আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌ*ন নি*র্যা*ত*নের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌ*ন নি*র্যা*ত*নের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে চতুর্থ শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মো. রবিউল সরদার (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার বিবরণ জানিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত মোক্তার আলী সরদারের ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। শিশুটি কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ২৯ নম্বর গুনাকরকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে রবিউল সরদার মিষ্টি কথায় শিশুটিকে ভুলিয়ে তাঁর কাঠের দোকানে নিয়ে যান। এরপর দোকানের দরজা ভেতরে থেকে আটকে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় এক নারী বিষয়টি দেখে ফেললেও ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে কিছু জানাতে পারেননি।

পরপর দুই দিন ঘটনাটি চেপে রাখার পর ১০ অক্টোবর শনিবার সকালে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় শিশুটি নিজেই সেই ভয়াবহতার বর্ণনা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বেলা ১টার দিকে আশাশুনি থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির দেওয়া তথ্যের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত রবিউল সরদারকে গ্রেপ্তার করে।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান জানান, শিশুটির বাবার এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

আশাশুনির বিভিন্ন দুর্গাপূজা ম-প পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বিভিন্ন দুর্গাপূজা ম-প পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন পূজাম-প পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। বিকেলের দিকে তিনি বুধহাটা ও আশপাশের বিভিন্ন পূজাম-প ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনের শুরুতে তিনি বুধহাটা সুবর্ণ বণিকপাড়া পূজাম-প, বুধহাটা কাছারীবাড়ী সার্বজনীন দুর্গাপূজা ম-প, মহেশ্বরকাটি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির এবং গোয়ালডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও ম-প পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশের খোঁজখবর নেন। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পূজাম-প ঘুরে দেখার সময় তিনি প্রতিমা দর্শন করেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় এ বছর ৬০৯টি পূজাম-পে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য জনপদ, যেখানে হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে বসবাস করে এবং উৎসবগুলো একত্রে পালন করে। নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পূজার দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ পূজাম-পে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং বাকিগুলোও দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আসবে।

এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিঠুন কুমার সরকার, দেবহাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বায়েজীদ ইসলাম, আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান, থানার সেকেন্ড অফিসার লক্ষণ চন্দ্র দাস এবং বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সেকেন্দার আলীসহ পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্য ও স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ।

বুধহাটায় জমি দখল ও ঘর নির্মাণের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
বুধহাটায় জমি দখল ও ঘর নির্মাণের অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় জোরপূর্বক জমি দখল ও সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার বাড়ির সীমানা প্রাচীরের গ্রেডবিম কেটে পুকুরে ফেলে দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অভিযুক্ত মিজানুর লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে পুনরায় নির্মাণকাজ চালাতে থাকেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অসহযোগিতায় তিনি এই সুযোগ পেয়েছেন দাবি করে ভুক্তভোগী গত ৮ অক্টোবর আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে আদালত আশাশুনি থানাকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, একই এলাকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলী অভিযোগ করেন, তিনি সুশীল কর্মকারের নিকট থেকে ১৯৯৭ সালে জমি কিনে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন এবং বাড়ির সীমানায় নিরাপদে গ্রেডবিম নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে অভিযুক্ত মিজানুর লোকজন নিয়ে এসে তাঁর সীমানা প্রাচীরের গ্রেডবিম কেটে পাশের পুকুরে ফেলে দেন। এ ঘটনায় তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে আদালত আশাশুনি থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এসআই লিটন কুমার ঘোষ তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

এই ভূমিদস্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে ও পৈতৃক বা কেনা সম্পত্তি রক্ষায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।