বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

পালকির দোলায় অমলিন প্রেম: শিকড়ে ফেরার এক অনন্য উপাখ্যান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
পালকির দোলায় অমলিন প্রেম: শিকড়ে ফেরার এক অনন্য উপাখ্যান

মো. সিরাজুল ইসলাম: আকাশের কোণে রোদের ঝিলিক আর বাতাসে বসন্তের শেষ বিকেলের মাতাল হওয়াÑসব মিলিয়েই দিনটি ছিল যেন কোনো ধ্রুপদী গল্পের ফ্রেম। সাতক্ষীরা শহরের পিচঢালা রাজপথ আজ সাক্ষী হলো এক বিস্মৃত ইতিহাসের প্রত্যাবর্তনের। আধুনিক যান্ত্রিকতার এই যুগে যখন দামী গাড়ির গর্জন আর আলোকসজ্জার চাকচিক্যই বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন এক তরুণ আইনজীবী বেছে নিলেন ইতিহাসের ধূলোবালি মাখা সেই ধ্রুপদী বাহনÑপালকি।
রোববার বিকেলে শহরের সুলতানপুর সদ্দারপাড়া এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের। সুসজ্জিত পঙ্খীরাজ পালকিতে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন অ্যাডভোকেট শিমুল ইসলাম। আটজন বেহারার কাঁধে তাল মিলিয়ে চলা পালকির সেই ছন্দময় দুলুনি যেন অনেক কাল আগের কোনো গ্রাম্য উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা দৃশ্য।
দেবহাটা উপজেলার পূর্বকুলিয়া বাঁধের মুখ এলাকার লামিয়া আরেফিন শোভার সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হতে যাওয়ার এই যাত্রায় ছিল না কোনো গাড়ির হর্ন, বরং ছিল শেকড়ের টান। বিয়ে শেষে একইভাবে পালকির ওড়না টেনে নববধূকে নিয়ে যখন শিমুল নিজের আঙিনায় ফেরেন, তখন চারপাশের বাতাসে যেন ফিরে এসেছিল হারিয়ে যাওয়া সেই ম ম গন্ধ।
রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসুক জনতা। ছোটদের চোখে কৌতূহল আর প্রবীণদের চোখে ছিল ফেলে আসা যৌবনের দীর্ঘশ্বাস। কেউ সেলফি তুলছিলেন, কেউ বা ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন বেহারাদের সেই মাপা কদম।
উল্লসিত এলাকাবাসী বলেনÑ“পালকি তো কেবল কাঠের একটা কাঠামো নয়; এ তো আমাদের সংস্কৃতির স্পন্দন। আজ এই দৃশ্য দেখে মনে হলো আমরা আবারও আমাদের সত্তাকে খুঁজে পেলাম।”
সময়ের বিবর্তনে পালকি আজ কেবল যাদুঘরের জড় বস্তু। কিন্তু অ্যাডভোকেট শিমুল ইসলামের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে এক নীরব বার্তা পৌঁছে দিয়েছেÑসভ্যতা এগিয়ে চললেও শিকড়কে ভুলে যাওয়া মানেই শূন্যতা। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের শৌখিন ও ঐতিহ্যবাহী উদ্যোগ আমাদের হাজার বছরের কৃষ্টিকে নতুন করে জীবন দান করবে।
সাতক্ষীরার এই বিয়ে কেবল দুটি হৃদয়ের মিলন হয়ে থাকল না, এটি হয়ে উঠল হারিয়ে যাওয়া বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক পপ-আপ আর্ট, যা আগামী অনেক দিন এলাকাবাসীর মনে এক টুকরো অমলিন স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।