শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

পিআইবির মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেক ও এআই প্রশিক্ষণ: সময়ের এক জরুরি পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
পিআইবির মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেক ও এআই প্রশিক্ষণ: সময়ের এক জরুরি পদক্ষেপ

আজহারুল ইসলাম সাদী

প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উৎকর্ষের এই যুগে সংবাদমাধ্যমের কাজের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও গুজবের ভিড়ে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা এখন সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। এমন এক প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে দেশব্যাপী চলমান ‘মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

প্রযুক্তির এই সময়ে শুধু প্রথাগত সাংবাদিকতার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কঠিন। সময়ের দাবি মেনে পিআইবির এই আয়োজনে মূলত আধুনিক সাংবাদিকতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গÑমাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেকিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

আজকের দিনে ‘মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা’ হলো সংবাদ পরিবেশনের এমন এক সমন্বিত রূপ, যেখানে লেখার পাশাপাশি ছবি, ইনফোগ্রাফিক্স, অডিও ও ভিডিওর মতো একাধিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে সংবাদকে আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা হয়। একজন মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকের কাজ শুধু মাঠ থেকে তথ্য আনা নয়, বরং অডিও-ভিডিও এডিটিং ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করা।
একইভাবে, যেকোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই বা ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ এখন সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাঁচা তথ্য সংগ্রহ করার পর তা অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর কি না, তা যাচাই-বাছাই এবং বিশ্লেষণ শেষে জনবান্ধব সংবাদ হিসেবে রূপান্তর করার সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়াই হলো প্রকৃত সাংবাদিকতা।

অন্যদিকে, সংবাদকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রবেশ ঘটছে দ্রুত গতিতে। তথ্য অনুসন্ধান, বিশাল ডেটা বিশ্লেষণ, কনটেন্ট তৈরি ও সম্পাদনা থেকে শুরু করে ছবির সত্যতা যাচাই—সবখানেই এখন এআই টুলের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এআই যেমন কাজকে সহজ করেছে, তেমনি এর অপব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি ‘ডিপফেক’ বা ভুয়া তথ্যের বিস্তার বিশ্বজুড়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিক মানদ- ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিও এই প্রশিক্ষণে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

এই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ২৩ থেকে ২৫ জুন সাতক্ষীরা জেলায় তিন দিনব্যাপী এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে জেলার ৭০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। এই আয়োজনে সাংবাদিকদের আধুনিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন কৌশলের ওপর বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কর্মশালাটিতে প্রশিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চ্যানেল ২৪-এর অনুষ্ঠান পরিচালক ও উপস্থাপক (আরটিভি ও একুশে টেলিভিশনের সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার) মো. জুলহাস কবীর, পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন, ‘হুম বাংলাদেশ’-এর ফ্যাক্ট চেকার ও এআই বিশেষজ্ঞ আলী আকবর (তাওসিফ আকবর) এবং দৈনিক ইত্তেফাকের রাজনৈতিক ও নির্বাচনবিষয়ক সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান।

তিন দিনের এই সফল প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
ডিজিটাল মাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখতে পিআইবির এই সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগতভাবে আরও সমৃদ্ধ ও সচেতন করে তুলবেÑএটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

oplus_0

 

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনির কাশিমনগর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামি মহিদুল গাজীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে কাশিমনগর বাজারের প্রধান সড়কে মানববন্ধন, পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাজসেবক এম বুলবুল আহমেদের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন পাইকগাছা উপজেলা মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শেখ সেকেন্দার আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মাজেদা পারভীন, মাওলানা আবু মুসা, গোলাম মোস্তফা গাজী ও তাসমিরা খাতুন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসায়ী ও নিজের ভাবিকে হত্যাকারী মহিদুল গাজীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিহতের মেয়ে তাসমিরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার চাচা মহিদুল গাজী আমার মাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে সে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা উল্টো তাদের ও মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ঘরচালা মাঠপাড়া গ্রামে প্রায় ২৩ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই নিজেদের জমির বৈধ মালিক দাবি করে আসায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালত ও ভূমি প্রশাসনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বল্লী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মৌজার সাবেক ২৪৮, ২৮৪, ২৮৭ সহ কয়েকটি দাগের অন্তর্ভুক্ত ২৩ শতক জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। বাদীপক্ষের মাসুরা খাতুন ও উজির আলী ফকির বিএস খতিয়ানে রেকর্ড সংশোধনের আবেদনসহ সায়েদ আলী মোড়লের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে বিবাদী সায়েদ আলী মোড়ল দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমির নামজারি (মিউটেশন) তার নামে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন। আবেশ আলী সরদারের কাছ থেকে তিনি জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ তাকে জমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে অন্য অংশীদার আবু তালেব ফকির এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, সায়েদ আলীর কাগজপত্র জাল। জমিটি বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে এবং এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে তারা সহকারী জজ ভূমি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মাসউকের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মাসউকের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র (মাসউক) সাতক্ষীরার উদ্যোগে ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির ২০২৫-২০ছঞ মেয়াদের প্রশিক্ষকদের তিন দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে লোহাগড়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
এর আগে নড়াইল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মৌসুমী রানী মজুমদার প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শিরিনা খাতুন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সালমা জামান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির লোহাগড়া শাখা ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর ফারুক এবং মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ খায়রুল আলম।
তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে জীবন দক্ষতামূলক ও আয়বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন মডিউলের ওপর বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র রায় এবং মাস্টার ট্রেইনার মো. গিয়াসউদ্দিন। প্রশিক্ষণে মোট ১০জন প্রশিক্ষক অংশ নেন। সমাপনী দিনে মাসউকের হলরুমে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শিরিনা খাতুন।