সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকৃতি ও প্রজন্মের মেলবন্ধন: টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি ও প্রজন্মের মেলবন্ধন: টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

আমাদের অস্তিত্বের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা হলো এই ধরিত্রী। বাতাস গ্রহণ থেকে শুরু করে যে জল পান করে আমরা বেঁচে আছি, তার প্রতিটি ফোঁটার উৎস এই প্রকৃতি। আবহমানকাল থেকেই মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক ছিল পরিপূরকÑ একটি অচ্ছেদ্য সখ্য। কিন্তু আধুনিকতার ছদ্মবেশে অপরিকল্পিত নগরায়ন, যান্ত্রিকায়ন এবং অতিরিক্ত ভোগের মানসিকতা আজ এই সুপ্রাচীন ভারসাম্যকে তীব্র সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রতি বছর ২৮ জুলাই পালিত ‘বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস’ আমাদের সেই নির্মম সত্যটিই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়: প্রকৃতি বাঁচলেই কেবল মানবজাতি বেঁচে থাকবে।

১৯৭২ সনে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ‘মানব পরিবেশ সম্মেলন’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবেশ রক্ষার দাবির প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এই ঐতিহাসিক সম্মেলন থেকেই বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ প্রকৃতি সুরক্ষার দিকে আকৃষ্ট হয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন এবং সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে দিনটি প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আজ পৃথিবীর বুকে মানুষের সংখ্যা আট বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে এবং তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিশাল জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ পড়েছে নজিরবিহীনভাবে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের বহু অঞ্চল তীব্র পানিসংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

 

বিশ্বের বহু উষ্ণম-লীয় বনাঞ্চল দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, ফলে কার্বন শোষণের প্রাকৃতিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দেখা দিচ্ছে রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, আকস্মিক বন্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী খরা। আইপিবিইএস-এর বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১০ লক্ষ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বাস্তুতন্ত্রের এই ধস মানবজাতির খাদ্য নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি।

আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চিরকালই প্রকৃতিকে মায়ের আসনে বসিয়েছে। আবহমান বাংলার লোকায়ত জীবন ও ঐতিহ্যে নদী, বৃক্ষ এবং প্রান্তর কেবল জীবিকার উপাদান নয়, বরং গভীর শ্রদ্ধার বস্তু। গাছকে জীবনদাতা এবং নদীকে মাতৃসম গণ্য করার এই দর্শন আমাদের আত্মস্থ করতে হবে। প্রকৃতি ধ্বংস করা মানে নিজের শেকড় কেটে ফেলাÑএই উপলব্ধিই হতে হবে আমাদের সব কাজের নৈতিক মানদ-। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ এবং ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ আমাদের জন্য প্রকৃতি সংরক্ষণকে বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার অপরিহার্য শর্তে পরিণত করেছে।

২০২২ সালে গৃহীত কুনমিং-মন্ট্রিয়ল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক-এর মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি পুরোপুরি থামানো ও তা পুনরুদ্ধার করা। চলতি ২০২৬ সাল এই বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার ঠিক মাঝামাঝি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দিবসটির বার্তা মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেÑগাছ লাগানোর পাশাপাশি নদী ও জলাভূমি সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা; জলবায়ু পরিবর্তনের চরম আঘাত মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করা; এবং ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বর্জ্য হ্রাস ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা।

প্রকৃতি রক্ষা কেবল রাষ্ট্রীয় নীতিমালা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের খাতায় আটকে থাকার বিষয় নয়; এটি শুরু হতে হবে আমাদের নিজ নিজ ঘর থেকেই। দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তন করেই আমরা বড় পরিবর্তন আনতে পারি: একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন—পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পাটের ব্যাগ, কাপড় বা কাগজের ব্যবহার বাড়ানো।

 

সম্পদের সদ্ব্যবহার—’আর’ (জবফঁপব, জবঁংব, জবপুপষব) নীতি মেনে চলা এবং পানির কল বন্ধ রেখে বা বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করে প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নÑনিজের আঙ্গিনায়, ছাদবাগান বা স্থানীয় বনায়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।

প্রকৃতি আমাদের কোনো সম্পত্তি নয়, বরং এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি মূল্যবান আমানত। বিশুদ্ধ বাতাস, উর্বর মাটি আর নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা পেতে হলে প্রকৃতির সাথে লড়াই নয়, বরং তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলার বিকল্প নেই। বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসের এই শুভলগ্নে আমাদের পণ হোক—অযথা সম্পদ নষ্ট না করে, আসুন আমরা প্রকৃতিকে পুনরুদ্ধার করি, যাতে আমাদের আগামী দিনগুলো হয় আরও নিরাপদ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত।

Ads small one

জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, অন্যায়ের কাছে সাতক্ষীরার মানুষ কখনো মাথা নত করেনি এবং ভয় দেখিয়েও তাঁদের দমানো যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মোনার সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. জিয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম ও পৌর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। সম্প্রতি সংসদে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক কাঠামোর উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দত্তনগর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি গত শুক্রবার উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অবহিত করেন। জেলা কমান্ড্যান্টের পরামর্শে আনসার সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দলনেতা তালিব হোসাইন ও ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের দলনেতা আলী হোসেন প্লাটুনভুক্ত ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা মেরামত ও পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় উপস্থিত থেকে সাধুবাদ জানান সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা। আনসার-ভিডিপির এই স্বেচ্ছাশ্রম ও সামাজিক কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী জানান, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাঁর দল ও সদস্যরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-এর জুলাই মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাতক্ষীরার প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি হৃদয় ম-লের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সাতক্ষীরা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. আতিকুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আফরিন, বোর্ড সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা।
সভার শুরুতে সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে শিগগিরই একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবির পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।