বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: খোলপেটুয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও হামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: খোলপেটুয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও হামলা

সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ঘোলা ত্রিমোহনী এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে গিয়ে যেভাবে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ১০-১২ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন, তা প্রমাণ করে বালু খেকো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কতটা বেপরোয়া রূপ নিয়েছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুর্যোগপ্রবণ ও ভাঙনকবলিত হওয়ায় সরকারিভাবে চলতি বছরে খোলপেটুয়া নদীর কোনো অংশকেই বালুমহাল ঘোষণা করা হয়নি। অর্থাৎ, যা ঘটছিল তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই অবৈধ কর্মকা-ের প্রতিবাদ করায় খোদ নিজ ভূমিতেই গ্রামবাসীদের রক্তাক্ত হতে হলো, যা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, এই বালু সিন্ডিকেটের পেছনে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র। রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে বালু চুরির এই মহোৎসব যখন ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়, তখন নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষায় গ্রামবাসীদেরই ঢাল হয়ে দাঁড়াতে হয়।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত নৌযানসহ তিন শ্রমিককে আটকে প্রশাসনের হাতে সোপর্দ করেছিল। কিন্তু এর পরের ঘটনা আরও হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

শ্যামনগরের মতো উপকূলীয় অঞ্চলগুলো এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তন ও আইলা-আম্পানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি বছর নদীভাঙনে হাজার হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। সেখানে আইন অমান্য করে খোলপেটুয়া নদী থেকে বালু তোলা মানে হলো পুরো এলাকাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার মুখে ঠেলে দেওয়া। এই বিধ্বংসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে যেখানে প্রশাসনের স্বতঃস্ফূর্ত অভিযান চালানোর কথা, সেখানে গ্রামবাসীদের ধরে দেওয়া অপরাধীদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

আমরা বলতে চাইÑঅবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল হোতা ও হামলাকারী রাজনৈতিক নেতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মুচলেকা দিয়ে পার পাওয়ার এই সস্তা সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে খোলপেটুয়া নদী রক্ষা এবং উপকূলীয় মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশ ও মানুষের জীবন নিয়ে এই রাজনৈতিক-প্রশাসনিক তামাশা অবিলম্বে বন্ধ হোক।

Ads small one

শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক।
এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান লাভলুসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও তীব্র জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ‘জলবায়ু শিক্ষা বিনিময় পরিদর্শন সিরিজ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হেড’-এর উদ্যোগে ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড’।
ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ফেরদৌসী আরা ময়না। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলী নূর খান বাবুল। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটের কারণে ইটাগাছাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আজ জলমগ্ন। এ সময় তিনি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবি পেশ করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত মাছ চাষ নিশ্চিত করা। জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ইটাগাছা পশ্চিমপাড়াসহ সব নি¤œাঞ্চলে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা। কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শরীফা ও রওশন আরা বলেন, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে বসতবাড়িতে পানি উঠে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সকালে শহরের কাটিয়া এলাকায় হেডের প্রধান কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় টেকসই অভিযোজন কৌশল তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সভায় সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্থার ইয়ুথ টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখার দায়ে তিনটি বেকারিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে একটি বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্যামনগর সদর ও নূরনগর বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান কনক।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযানকালে শ্যামনগর বাজারের নিউ সুন্দরবন বেকারিকে ১০ হাজার টাকা, রয়্যাল ফুডস বেকারিকে ১০ হাজার টাকা এবং নূরনগর বাজারের সোনার বাংলা বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় রয়্যাল ফুডস ও সোনার বাংলা বেকারিতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সোনার বাংলা বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।