প্রসঙ্গ: খোলপেটুয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও হামলা
সম্পাদকীয়
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গ্রামবাসীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ঘোলা ত্রিমোহনী এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে গিয়ে যেভাবে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ১০-১২ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন, তা প্রমাণ করে বালু খেকো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কতটা বেপরোয়া রূপ নিয়েছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুর্যোগপ্রবণ ও ভাঙনকবলিত হওয়ায় সরকারিভাবে চলতি বছরে খোলপেটুয়া নদীর কোনো অংশকেই বালুমহাল ঘোষণা করা হয়নি। অর্থাৎ, যা ঘটছিল তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই অবৈধ কর্মকা-ের প্রতিবাদ করায় খোদ নিজ ভূমিতেই গ্রামবাসীদের রক্তাক্ত হতে হলো, যা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।
পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, এই বালু সিন্ডিকেটের পেছনে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র। রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে বালু চুরির এই মহোৎসব যখন ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়, তখন নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষায় গ্রামবাসীদেরই ঢাল হয়ে দাঁড়াতে হয়।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত নৌযানসহ তিন শ্রমিককে আটকে প্রশাসনের হাতে সোপর্দ করেছিল। কিন্তু এর পরের ঘটনা আরও হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
শ্যামনগরের মতো উপকূলীয় অঞ্চলগুলো এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তন ও আইলা-আম্পানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি বছর নদীভাঙনে হাজার হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। সেখানে আইন অমান্য করে খোলপেটুয়া নদী থেকে বালু তোলা মানে হলো পুরো এলাকাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার মুখে ঠেলে দেওয়া। এই বিধ্বংসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে যেখানে প্রশাসনের স্বতঃস্ফূর্ত অভিযান চালানোর কথা, সেখানে গ্রামবাসীদের ধরে দেওয়া অপরাধীদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
আমরা বলতে চাইÑঅবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল হোতা ও হামলাকারী রাজনৈতিক নেতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মুচলেকা দিয়ে পার পাওয়ার এই সস্তা সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে খোলপেটুয়া নদী রক্ষা এবং উপকূলীয় মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশ ও মানুষের জীবন নিয়ে এই রাজনৈতিক-প্রশাসনিক তামাশা অবিলম্বে বন্ধ হোক।








