বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: বুধহাটা বাজার ও বেতনা নদী ভাঙন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বুধহাটা বাজার ও বেতনা নদী ভাঙন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের নদীভাঙন শুধু ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের এক বাস্তব চিত্র। দেশের নদীগুলো যেমন যমুনা, পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র এবং তিস্তা, তেমনি ছোট নদী যেমন বেতনা, কপোতাক্ষ, মরিচচাপ-সবই মানুষের জীবনযাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বুধহাটা বাজার সংলগ্ন বেতনা নদীর ভাঙন সেই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এটি শুধু একটি বাজারের সমস্যা নয়, বরং আশাশুনি উপজেলার একাধিক গ্রামের জীবন, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।

 

বুধহাটা বাজার আশাশুনি উপজেলার এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এটি শুধু গ্রামীণ অর্থনীতি চালায় না, বরং আশেপাশের গ্রামের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্রও। বাজারের মূল পেশাদারদের মধ্যে রয়েছেন: স্থানীয় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করেন। মুদি, দোকানদার ও হাটবাজারের ব্যবসায়ীরা বাজারের অর্থনীতি চালায়। স্থানীয় পরিবহন ও শ্রমিকরা বাজারের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

 

বাজারের অর্থনৈতিক চেইন নদীভাঙনের আগে স্থিতিশীল ছিল। দোকানপাট, কৃষি ব্যবসা ও পরিবহন-সবই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। নদীভাঙনের ফলে এই চেইন ভেঙে যাচ্ছে। বাজার কেবল অর্থনৈতিক কেন্দ্র নয়; এটি গ্রামের মানুষদের সামাজিক কাঠামোও সংরক্ষণ করে। বন্ধুত্ব, প্রতিবেশিতা ও সামাজিক সমন্বয়, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও মেলামেশা, শিক্ষা ও স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ, নদীভাঙনের ফলে সামাজিক কাঠামোও বিপন্ন হচ্ছে। পরিবার ছিন্নভিন্ন হচ্ছে, প্রতিবেশী ও বন্ধু হারাচ্ছে।

 

বেতনা নদী, কপোতাক্ষ নদী ও মরিচচাপ নদী-এই নদীগুলো আশাশুনি উপজেলার মানুষের জীবিকা, পানি সরবরাহ এবং কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেতনা নদী এবং আশেপাশের নদীসমূহের ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে চলমান। ভাঙনের ফলে দেখা যায়:গ্রামের পর গ্রাম নদীতে বিলীন,লক্ষাধিক মানুষ অভিবাসী হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। নদী খননের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যক্রমে মানবসৃষ্ট সমস্যার দেখা মিলেছে।

 

ম্যাপ অনুযায়ী নদীকে বাহাদুরের দিকে খনন করতে হতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খনন করা হয়েছে বুধহাটা বাজার সংলগ্ন অংশে, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র একটি ইটভাটাকে বাঁচানো। ফলে, নদীর ¯্রােত বিপর্যস্ত হয়েছে এবং বাজার ও আশেপাশের গ্রামের মানুষদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পাউবোর দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও দেখা গেছে স্পষ্ট গাফলিতি: পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যর্থতা: ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন হয়নি বাঁধ, জিওব্যাগ বা ড্রেজিং কার্যকরভাবে করা হয়নি। নদীভাঙনের শিকার মানুষদের পুনর্বাসন হয়নি।

 

নদীভাঙন ও বাঁধের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ হয়নি। ফলে, শুধু একটি ইটভাটা বাঁচানো হয়েছে, কিন্তু শত শত মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে। নদীভাঙনের প্রভাব গভীর এবং বহুমাত্রিক। পরিবার অস্থায়ীভাবে ছিন্নভিন্ন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশী হারানো, স্থানান্তরের ফলে শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত, অর্থনৈতিক প্রভাব, বসতবাড়ি ও দোকানপাট ধ্বংস কৃষি জমি হারানো, স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত টিনের ঘরে বা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস, প্রিয়জনের কবর রক্ষা করতে না পারার মানসিক চাপ, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও মানসিক বাংলাদেশে নদীভাঙনের শিকার মানুষদের পুনর্বাসন দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত।

 

বুধহাটা বাজার এবং আশাশুনি উপজেলার মানুষদের জন্য এটি স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য। নদীভাঙনের শিকার মানুষরা বারবার ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সহায়তার অধিকার চেয়েও পাননি। এতে বোঝা যায়, রাষ্ট্র নদীভাঙনের শিকার মানুষদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করছে না। বুধহাটা বাজার সংলগ্ন নদীখাননের বাস্তবতা এবং বেতনা নদীর ভাঙনের চিত্র আমাদের শেখাচ্ছে যে: স্বার্থান্বেষণমূলক প্রকল্প মানুষের জীবন বিপন্ন করে। নদীখনন কেবল একটি ইটভাটাকে বাঁচানোর জন্য করা হলে আশেপাশের হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হয়।

 

প্রকৌশলগত ভুল নদীর প্রবাহ ও পরিবেশ বিপর্যস্ত করে। প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন না হলে ¯্রােত এবং তীর সংরক্ষণ ব্যাহত হয়। মানবিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের অবহেলা। সরকার নদীভাঙার শিকার মানুষদের পুনর্বাসন ও সহায়তা নিশ্চিত করেনি। পুনর্বাসন ও পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা ছাড়া নদীভাঙন সামাজিক দুর্যোগে রূপ নেয়। পরিবার, বন্ধু, জীবনযাত্রা-সবই প্রভাবিত হয়। নদীভাঙনের ক্ষতি কমানোর জন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নদী খনন হবে ম্যাপ অনুযায়ী এবং মানবিকভাবে।

 

তীর সংরক্ষণ ও বাঁধের মান নিয়ন্ত্রণ। দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং ও সতর্কতা ব্যবস্থা নদীভাঙার শিকার পরিবারকে স্থায়ী আশ্রয় প্রদান।খাদ্য, চিকিৎসা এবং শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা। স্থানান্তরিত মানুষদের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা।নদীভাঙা মানুষের তালিকা তৈরি। পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়।বুধহাটা বাজার এবং বেতনা নদীর ঘটনা শুধু স্থানিক সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও মানবিক দ্বন্দ্বের এক পরীক্ষা ক্ষেত্র।

 

নদী খনন হবে পরিকল্পিত ও মানবিকভাবে। বুধহাটা বাজারের মানুষদের জীবন ও জীবিকা নিরাপদ হবে। নদীভাঙনের ক্ষতি সীমিত করা সম্ভব। নদীভাঙন থামানো কঠিন, কিন্তু মানবিক ক্ষতি কমানো অসম্ভব নয়-যদি থাকে সদিচ্ছা, পরিকল্পনা এবং দায়বদ্ধতা।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

আইপি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল: বেনাপোল বন্দর দিযে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
আইপি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল: বেনাপোল বন্দর দিযে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): আইপি বা এনওসি ইমপোর্ট পারমিট বাতিল করায় বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতীয় ইলিশ আমদানি বানিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গতকাল থেকে ভারতীয় কোন ইলিশের চালান বাংলাদেশে আসেনি বলে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দর মৎস্য পরিদর্শক আস ওয়াদুল আলম।

মৎস্য কর্মকর্তা জানান. মঙ্গলবার বংলাদেশ মৎস্য অধিদফতর ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

মৎস্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ভারতীয কর্তৃপক্ষ ইলিশ রফতানিতে কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতরের একটি চিঠিতে অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে অন্য সাদা মাছ আমদানি সচল থাকবে বলে জানান তিনি।

ইলিশ আমতানির সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

 

 

 

 

কয়রা উপকূলেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
কয়রা উপকূলেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮

জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): খুলনার সুন্দরবনবেষ্টিত কয়রা উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়। অন্যরা চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও আটজন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে দু’জন। গেল আগস্ট মাসে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। মোট ৫৭ জন রোগীর মধ্যে ১০ জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আর ৪৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এছাড়া অনেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

২০ সেপ্টেম্বর সরেজমিন হাসপাতালে যেয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে হাত-পা ব্যবহার করছে রোগীর স্বজনরা। বারান্দায় ও কেবিনের সামনে কয়েকজন রোগীর দেখা মেলে।
রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরে কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কয়রায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি কয়রায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারীরাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে যেয়ে পাঁচজন রোগীর দেখা মেলে। ওইদিন একজনকে খুলনায় রেফার্ড করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি মদিনাবাদ গ্রামের শাহিন বলেন, ‘বাড়িতে থেকেই কাজকর্ম করি। পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছি। প্রথমে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে শয্যা সংকট থাকায় ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে।’

সোহেল নামে এক রোগীর পিতা বলেন, হাসপাতালে প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। খাওয়ার পানিরও ব্যবস্থা নেই। বাইরে থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে। ডেঙ্গু পরীক্ষা ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে হচ্ছে। তাঁর প্লাটিলেট ৪৯ হাজারে নেমে গেছে বলেও জানান তিনি। দিনমজুরের কাজ করা ওই রোগী আক্ষেপ করে জানান, বাইরে থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা ও পানি কেনার খরচ জোগাড় করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কালনা গ্রামের মাসুরার ভাষ্য, সাড়ে চার বছরের শিশুকে নিয়ে দুইদিন আগে ভর্তি হয়েছি। শরীরে ১০৫ জ্বর; বাথরুম হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছি না। পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে।

এদিকে, হাসপাতালের ৩১ শয্যার মূল ভবন নির্মাণের কাজ কয়েক বছর বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় টেন্ডার হয়েছে। তবে এখনো কাজ শুরু হয়নি।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ ও নারী রোগীদের আলাদা শয্যা নির্ধারিত রয়েছে। জ্বরের রোগীদের পরীক্ষার জন্য ঘঝ১ টেস্টের কিট রয়েছে এবং বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আইভি স্যালাইনও পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।”

তিনি আরো জানান, ৩১ শয্যার মূল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। ১৯ শয্যার ভবনে কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। আর প্যাথলজিস্ট না থাকায় বাইরে থেকে রোগীদের অন্যান্য পরীক্ষা করা লাগছে।

 

 

সাতক্ষীরায় দেশি-বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ হলেও কমেনি দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দেশি-বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ হলেও কমেনি দাম

এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরা শহর ও শহরতলীর হাট-বাজারগুলো এখন ইলিশে ভরপুর। পর্যাপ্ত ইলিশ সরবরাহের রমরমা খবর ছড়াতে শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদে চালানো হচ্ছে মাইক প্রচার। ইলিশের স্বাদ নিতে প্রচারাভিযানে আকর্ষণ বাড়ানো হচ্ছে ভোক্তাদের। বছরে একবার ইলিশের স্বাদ পেতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভোগতারা ছুটে আসছে শহরের মাছ বাজারে।

 

বিপুল পরিমাণ ইলিশের সরবরাহ থাকলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। মাছ কেনার অদম্য ইচ্ছা থাকলেও অর্থাভাবে কিনতে পারছে না সাধারণ ক্রেতারা। সামর্থবানরা পছন্দের মাছ কিনলেও বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ। ওজন ও আকারভেদে ইলিশের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। দেশে ভরা মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার যোগান দিতে ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে পর্যাপ্ত ইলিশ। গত দুই মাসে ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিকটন ইলিশ আমদানি হয়েছে। আরো ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি করা এসব ইলিশের বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছ বাজার হয়ে গুজরাটের ভরুচ থেকে দেশে এসেছে। ভারত থেকে আসা এসব ইলিশ দেশীয় বরিশাল ও পদ্মার ইলিশ দেখিয়ে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশি বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহের দাম কম হওয়ার কথা থাকলেও কারসাজি আর অতি মুনাফা লাভের কারণে দামের স্থিতিশীল প্রভাব পড়েনি বাজারে। সুতরাং ইলিশের চড়া দামে নাকাল সাধারণ ক্রেতা। মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলছেন, বাংলাদেশের ইলিশ ভারতের বাজারে বিশেষ আকর্ষণের পণ্য ছিল, সেই বাংলাদেশের বাজারে এখন ভারতীয় ইলিশ ডুকছে।

 

বাণিজ্যের এই বিপরীতমুখী প্রবাহ বিস্ময়কর হলেও গত দুই বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র বলছেন, ১৯৮৭ সাল থেকে ২০২২-২৩, অর্থবছর পর্যন্ত দেশে ইলিশ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। কিন্তু ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো উৎপাদন প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যায়। ওই দুই অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন কমেছে যথাক্রমে ৭ দশামিক ৩৩ শতাংশ এবং ৫ দশামিক ৫১ শতাংশ।

 

তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উৎপাদনের তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি মৎস্য অধিদপ্তর। এদিকে ইলিশের উৎপাদন কমার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে জাটকা রক্ষায় দুর্বল আইন প্রয়োগ, নদী দূষণ ও পলি জমার বিষয় রয়েছে। জাটকা আহরণ বন্ধে আইন প্রয়োগ যথাযথ না হওয়ায় ইলিশের উৎপাদন এর প্রভাব পড়েছে।