সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: বুধহাটা বাজার ও বেতনা নদী ভাঙন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বুধহাটা বাজার ও বেতনা নদী ভাঙন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের নদীভাঙন শুধু ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের এক বাস্তব চিত্র। দেশের নদীগুলো যেমন যমুনা, পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র এবং তিস্তা, তেমনি ছোট নদী যেমন বেতনা, কপোতাক্ষ, মরিচচাপ-সবই মানুষের জীবনযাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বুধহাটা বাজার সংলগ্ন বেতনা নদীর ভাঙন সেই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এটি শুধু একটি বাজারের সমস্যা নয়, বরং আশাশুনি উপজেলার একাধিক গ্রামের জীবন, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।

 

বুধহাটা বাজার আশাশুনি উপজেলার এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এটি শুধু গ্রামীণ অর্থনীতি চালায় না, বরং আশেপাশের গ্রামের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্রও। বাজারের মূল পেশাদারদের মধ্যে রয়েছেন: স্থানীয় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করেন। মুদি, দোকানদার ও হাটবাজারের ব্যবসায়ীরা বাজারের অর্থনীতি চালায়। স্থানীয় পরিবহন ও শ্রমিকরা বাজারের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

 

বাজারের অর্থনৈতিক চেইন নদীভাঙনের আগে স্থিতিশীল ছিল। দোকানপাট, কৃষি ব্যবসা ও পরিবহন-সবই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। নদীভাঙনের ফলে এই চেইন ভেঙে যাচ্ছে। বাজার কেবল অর্থনৈতিক কেন্দ্র নয়; এটি গ্রামের মানুষদের সামাজিক কাঠামোও সংরক্ষণ করে। বন্ধুত্ব, প্রতিবেশিতা ও সামাজিক সমন্বয়, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও মেলামেশা, শিক্ষা ও স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ, নদীভাঙনের ফলে সামাজিক কাঠামোও বিপন্ন হচ্ছে। পরিবার ছিন্নভিন্ন হচ্ছে, প্রতিবেশী ও বন্ধু হারাচ্ছে।

 

বেতনা নদী, কপোতাক্ষ নদী ও মরিচচাপ নদী-এই নদীগুলো আশাশুনি উপজেলার মানুষের জীবিকা, পানি সরবরাহ এবং কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেতনা নদী এবং আশেপাশের নদীসমূহের ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে চলমান। ভাঙনের ফলে দেখা যায়:গ্রামের পর গ্রাম নদীতে বিলীন,লক্ষাধিক মানুষ অভিবাসী হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। নদী খননের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যক্রমে মানবসৃষ্ট সমস্যার দেখা মিলেছে।

 

ম্যাপ অনুযায়ী নদীকে বাহাদুরের দিকে খনন করতে হতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খনন করা হয়েছে বুধহাটা বাজার সংলগ্ন অংশে, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র একটি ইটভাটাকে বাঁচানো। ফলে, নদীর ¯্রােত বিপর্যস্ত হয়েছে এবং বাজার ও আশেপাশের গ্রামের মানুষদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পাউবোর দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও দেখা গেছে স্পষ্ট গাফলিতি: পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যর্থতা: ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন হয়নি বাঁধ, জিওব্যাগ বা ড্রেজিং কার্যকরভাবে করা হয়নি। নদীভাঙনের শিকার মানুষদের পুনর্বাসন হয়নি।

 

নদীভাঙন ও বাঁধের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ হয়নি। ফলে, শুধু একটি ইটভাটা বাঁচানো হয়েছে, কিন্তু শত শত মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে। নদীভাঙনের প্রভাব গভীর এবং বহুমাত্রিক। পরিবার অস্থায়ীভাবে ছিন্নভিন্ন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশী হারানো, স্থানান্তরের ফলে শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত, অর্থনৈতিক প্রভাব, বসতবাড়ি ও দোকানপাট ধ্বংস কৃষি জমি হারানো, স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত টিনের ঘরে বা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস, প্রিয়জনের কবর রক্ষা করতে না পারার মানসিক চাপ, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও মানসিক বাংলাদেশে নদীভাঙনের শিকার মানুষদের পুনর্বাসন দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত।

 

বুধহাটা বাজার এবং আশাশুনি উপজেলার মানুষদের জন্য এটি স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য। নদীভাঙনের শিকার মানুষরা বারবার ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সহায়তার অধিকার চেয়েও পাননি। এতে বোঝা যায়, রাষ্ট্র নদীভাঙনের শিকার মানুষদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করছে না। বুধহাটা বাজার সংলগ্ন নদীখাননের বাস্তবতা এবং বেতনা নদীর ভাঙনের চিত্র আমাদের শেখাচ্ছে যে: স্বার্থান্বেষণমূলক প্রকল্প মানুষের জীবন বিপন্ন করে। নদীখনন কেবল একটি ইটভাটাকে বাঁচানোর জন্য করা হলে আশেপাশের হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হয়।

 

প্রকৌশলগত ভুল নদীর প্রবাহ ও পরিবেশ বিপর্যস্ত করে। প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন না হলে ¯্রােত এবং তীর সংরক্ষণ ব্যাহত হয়। মানবিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের অবহেলা। সরকার নদীভাঙার শিকার মানুষদের পুনর্বাসন ও সহায়তা নিশ্চিত করেনি। পুনর্বাসন ও পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা ছাড়া নদীভাঙন সামাজিক দুর্যোগে রূপ নেয়। পরিবার, বন্ধু, জীবনযাত্রা-সবই প্রভাবিত হয়। নদীভাঙনের ক্ষতি কমানোর জন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নদী খনন হবে ম্যাপ অনুযায়ী এবং মানবিকভাবে।

 

তীর সংরক্ষণ ও বাঁধের মান নিয়ন্ত্রণ। দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং ও সতর্কতা ব্যবস্থা নদীভাঙার শিকার পরিবারকে স্থায়ী আশ্রয় প্রদান।খাদ্য, চিকিৎসা এবং শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা। স্থানান্তরিত মানুষদের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা।নদীভাঙা মানুষের তালিকা তৈরি। পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়।বুধহাটা বাজার এবং বেতনা নদীর ঘটনা শুধু স্থানিক সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও মানবিক দ্বন্দ্বের এক পরীক্ষা ক্ষেত্র।

 

নদী খনন হবে পরিকল্পিত ও মানবিকভাবে। বুধহাটা বাজারের মানুষদের জীবন ও জীবিকা নিরাপদ হবে। নদীভাঙনের ক্ষতি সীমিত করা সম্ভব। নদীভাঙন থামানো কঠিন, কিন্তু মানবিক ক্ষতি কমানো অসম্ভব নয়-যদি থাকে সদিচ্ছা, পরিকল্পনা এবং দায়বদ্ধতা।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস পিআইডি’র আয়োজনে ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি বলেন, আমরা তথ্য ভান্ডারের মধ্যে বসবাস করছি, যেখানে সব তথ্যের সত্যতা খালি চোখে যাচাই করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক বুঝে হোক না বুঝে হোক প্রতিনিয়ত তথ্য শেয়ার করছেন। এতে অপতথ্যের অনিয়ন্ত্রিত ছড়াছড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুণগত শিক্ষার মতো গুণগত সংবাদ পরিবেশনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাক্ট চেকিং রাজনৈতিক নেতা, সরকারি দপ্তর ও সাংবাদিকদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ প্রত্যেক ঘটনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রতিবেদন তৈরির পূর্বে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে এবং সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে অনুরোধ করেন। আঞ্চলিক তথ্য অফিস খুলনার আয়োজনে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট চেকিং সেমিনারটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মেহেদী হাসান। মূলপ্রবন্ধে অপতথ্যরোধে ফ্যাক্ট চেকিং এর গুরুত্ব তুলে ধরা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় টুলস সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়।

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে চুয়াডাঙ্গা জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মানিক আকবার-সহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ রমজান আলী।

সেমিনারে চুয়াডাঙ্গার ৩৫ জন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

মো: মামুন হাসান

বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী যদি বলে সে ডাক্তার হতে চায়, আমরা তাকে বাহবা দিই। ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে গর্ব করি। বিসিএসের প্রস্তুতি নিলে আত্মীয়স্বজন পর্যন্ত তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু একই শিক্ষার্থী যদি বলে সে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়তে চায়, তখন অনেকের মুখে একটাই প্রশ্ন শোনা যায় “হোটেলে চাকরি করবে নাকি?”

এই প্রশ্নটি শুধু একটি প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা এবং পেশাগত বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি। অবাক লাগে, যে সমাজ বিদেশে গিয়ে পাঁচতারকা হোটেলের সেবা দেখে মুগ্ধ হয়, সেই সমাজ নিজের দেশে হসপিটালিটি পেশাজীবীদের সম্মান দিতে কৃপণতা করে। যে অভিভাবক সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক হোটেলে চাকরি পেলে গর্ব করেন, তিনিই দেশে একই বিষয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে নিরুৎসাহিত করেন।এর চেয়ে বড় আত্মবিরোধিতা আর কী হতে পারে?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অন্যতম অবহেলিত অথচ সম্ভাবনাময় শিক্ষাখাত ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। এই অবহেলার কারণ দক্ষতার অভাব নয়, সুযোগের অভাবও নয়; মূল সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। আমরা এখনো মনে করি সাদা অ্যাপ্রোন পরলে সম্মান আছে, টাই পরে অফিসে বসলে মর্যাদা আছে, কিন্তু অতিথি ব্যবস্থাপনা, হোটেল পরিচালনা বা পর্যটন শিল্পে কাজ করলে সম্মান কমে যায়। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বহু আগেই এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডের মতো দেশে হোটেল ম্যানেজমেন্ট একটি এলিট শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, ব্যবসায়ী এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হসপিটালিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কারণ এই শিক্ষা মানুষকে শুধু হোটেল পরিচালনা নয়, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, সংকট মোকাবিলা এবং মানুষকে বোঝার দক্ষতা শেখায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আত্মীয়স্বজনের কটূক্তির ভয়ে এই বিষয়ে ভর্তি হতে সাহস পায় না। আরেকটি প্রশ্ন আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত। দেশের বড় বড় পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে বিদেশি শেফ, বিদেশি কনসালট্যান্ট, বিদেশি ম্যানেজার কেন কাজ করেন? তারা কি আমাদের চেয়ে বেশি মেধাবী? অবশ্যই নয়। তাদের বড় শক্তি হলো তারা এমন সমাজ থেকে এসেছে, যেখানে দক্ষতাকে সম্মান করা হয়। আর আমরা এখনো ডিগ্রির নাম দেখে সম্মান দিই, দক্ষতার মূল্য নয়। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

 

যে পদগুলোতে বাংলাদেশের তরুণরা কাজ করতে পারত, সেগুলোতে বিদেশিরা নিয়োগ পাচ্ছে। আমরা একদিকে বেকারত্বের অভিযোগ করছি, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের একটি বিশাল ক্ষেত্রকে অবজ্ঞা করছি। এটা কি আত্মঘাতী নয়? আরও দুঃখজনক হলো, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ খুবই সীমিত। ক্যারিয়ার গাইডেন্সে এই খাতের আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। যেন এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাই নয়, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।

বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্প এখন অন্যতম বৃহৎ নিয়োগদাতা খাত। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড কিংবা তুরস্কের অর্থনীতির দিকে তাকালেই বোঝা যায় কীভাবে পর্যটন ও হসপিটালিটি লাখ লাখ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের রয়েছে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন, পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরি করছি? উত্তর খুব সুখকর নয়। আমরা এখনো এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে অনেক মানুষ মনে করেন হোটেল ম্যানেজমেন্ট মানে ট্রে হাতে অতিথির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। অথচ তারা জানেন না, সেই হোটেলের ব্যবস্থাপক শত কোটি টাকার সম্পদ পরিচালনা করেন, শত শত কর্মীর নেতৃত্ব দেন এবং একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। সমস্যা আসলে পেশার নয়; সমস্যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির।

আমরা সন্তানদের শেখাই “মানুষ কী বলবে”। কিন্তু শেখাই না “তুমি কী হতে চাও”। আমরা মর্যাদা খুঁজি পেশার নামে, দক্ষতায় নয়। ফলাফল হলো, অনেক তরুণ নিজের আগ্রহের জায়গা ছেড়ে সামাজিক চাপের কাছে হার মানে। কেউ হয়তো ভালো হসপিটালিটি ম্যানেজার হতে পারত, কেউ আন্তর্জাতিক মানের শেফ, কেউ পর্যটন উদ্যোক্তা। কিন্তু সমাজের ভ্রুকুটির কারণে তারা অন্য পথে চলে যায়।

বাংলাদেশ যদি সত্যিই দক্ষতা নির্ভর অর্থনীতি গড়তে চায়, তাহলে এই মানসিকতা বদলাতেই হবে। আজ প্রয়োজন একটি সামাজিক আন্দোলনের। এমন একটি আন্দোলন, যা বলবে সব পেশার মর্যাদা সমান নয়, কিন্তু সব সম্মানজনক পেশার মর্যাদা থাকা উচিত। আর হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট নিঃসন্দেহে একটি সম্মানজনক, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক পেশা।

প্রশ্ন একটাই আর কতদিন আমরা অজ্ঞতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় খাতকে অবহেলা করব? আর কতদিন আমরা বিদেশি দক্ষ জনবল আমদানি করব, অথচ নিজের দেশের তরুণদের স্বপ্নকে তুচ্ছজ্ঞান করব? আর কতদিন আমরা পেশাকে নয়, পেশার নামকে সম্মান দেব? সম্ভবত সময় এসেছে আয়নায় নিজেদের দেখার। কারণ হোটেল ম্যানেজমেন্টের সংকট আসলে এই খাতের নয়; সংকট আমাদের সামাজিক মানসিকতার। আর এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আমরা শুধু একটি শিক্ষাবিষয়কে নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি বড় সম্ভাবনাকেও হারাতে থাকব।

লেখক: মো: মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

 

শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিডিনিউজ২৪ডটকম এর বেনাপোল প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার আটকের প্রতিবাদে মুক্তির দাবীতে শার্শা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা।

বেনাপোল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বকুল মাহবুব জানান, সোমবার গভীর রাতে যশোরের শার্শা জামতলার নিজবাড়ী থেকে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়াই যশোর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সিনিয়র সাংবাদিক আসাদকে। সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বেদম মারপিট করে আহত করা হয় সাংবাদিকের ভাগ্নে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তরঙ্গকে। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

সাংবাদিককে আটকের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিকেরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা। থানায় আটক রাখা হয়েছে তাকে।
এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ করেন নি শার্শা থানার ওসি।

সাংবাদিক জামাল হোসেন ও মনির হোসেন জানান, নির্বাচিত সরকারের সময় একজন সিনিয়র সাংবাদিককে এভাবে হয়রানিমূলক আটক স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর হস্তক্ষেপ। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। তার মুক্তির দাবী জানান তারা।

সাংবাদিকের হয়রানিমুলক গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদসহ মুক্তির দাবী জানান যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার গণমাধ্যম কর্মীরা।