সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: বুধহাটা বাজার ও বেতনা নদী ভাঙন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বুধহাটা বাজার ও বেতনা নদী ভাঙন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের নদীভাঙন শুধু ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের এক বাস্তব চিত্র। দেশের নদীগুলো যেমন যমুনা, পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র এবং তিস্তা, তেমনি ছোট নদী যেমন বেতনা, কপোতাক্ষ, মরিচচাপ-সবই মানুষের জীবনযাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বুধহাটা বাজার সংলগ্ন বেতনা নদীর ভাঙন সেই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এটি শুধু একটি বাজারের সমস্যা নয়, বরং আশাশুনি উপজেলার একাধিক গ্রামের জীবন, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।

 

বুধহাটা বাজার আশাশুনি উপজেলার এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এটি শুধু গ্রামীণ অর্থনীতি চালায় না, বরং আশেপাশের গ্রামের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্রও। বাজারের মূল পেশাদারদের মধ্যে রয়েছেন: স্থানীয় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করেন। মুদি, দোকানদার ও হাটবাজারের ব্যবসায়ীরা বাজারের অর্থনীতি চালায়। স্থানীয় পরিবহন ও শ্রমিকরা বাজারের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

 

বাজারের অর্থনৈতিক চেইন নদীভাঙনের আগে স্থিতিশীল ছিল। দোকানপাট, কৃষি ব্যবসা ও পরিবহন-সবই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। নদীভাঙনের ফলে এই চেইন ভেঙে যাচ্ছে। বাজার কেবল অর্থনৈতিক কেন্দ্র নয়; এটি গ্রামের মানুষদের সামাজিক কাঠামোও সংরক্ষণ করে। বন্ধুত্ব, প্রতিবেশিতা ও সামাজিক সমন্বয়, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও মেলামেশা, শিক্ষা ও স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ, নদীভাঙনের ফলে সামাজিক কাঠামোও বিপন্ন হচ্ছে। পরিবার ছিন্নভিন্ন হচ্ছে, প্রতিবেশী ও বন্ধু হারাচ্ছে।

 

বেতনা নদী, কপোতাক্ষ নদী ও মরিচচাপ নদী-এই নদীগুলো আশাশুনি উপজেলার মানুষের জীবিকা, পানি সরবরাহ এবং কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেতনা নদী এবং আশেপাশের নদীসমূহের ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে চলমান। ভাঙনের ফলে দেখা যায়:গ্রামের পর গ্রাম নদীতে বিলীন,লক্ষাধিক মানুষ অভিবাসী হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। নদী খননের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যক্রমে মানবসৃষ্ট সমস্যার দেখা মিলেছে।

 

ম্যাপ অনুযায়ী নদীকে বাহাদুরের দিকে খনন করতে হতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খনন করা হয়েছে বুধহাটা বাজার সংলগ্ন অংশে, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র একটি ইটভাটাকে বাঁচানো। ফলে, নদীর ¯্রােত বিপর্যস্ত হয়েছে এবং বাজার ও আশেপাশের গ্রামের মানুষদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পাউবোর দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও দেখা গেছে স্পষ্ট গাফলিতি: পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যর্থতা: ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন হয়নি বাঁধ, জিওব্যাগ বা ড্রেজিং কার্যকরভাবে করা হয়নি। নদীভাঙনের শিকার মানুষদের পুনর্বাসন হয়নি।

 

নদীভাঙন ও বাঁধের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ হয়নি। ফলে, শুধু একটি ইটভাটা বাঁচানো হয়েছে, কিন্তু শত শত মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে। নদীভাঙনের প্রভাব গভীর এবং বহুমাত্রিক। পরিবার অস্থায়ীভাবে ছিন্নভিন্ন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশী হারানো, স্থানান্তরের ফলে শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত, অর্থনৈতিক প্রভাব, বসতবাড়ি ও দোকানপাট ধ্বংস কৃষি জমি হারানো, স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত টিনের ঘরে বা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস, প্রিয়জনের কবর রক্ষা করতে না পারার মানসিক চাপ, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও মানসিক বাংলাদেশে নদীভাঙনের শিকার মানুষদের পুনর্বাসন দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত।

 

বুধহাটা বাজার এবং আশাশুনি উপজেলার মানুষদের জন্য এটি স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য। নদীভাঙনের শিকার মানুষরা বারবার ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সহায়তার অধিকার চেয়েও পাননি। এতে বোঝা যায়, রাষ্ট্র নদীভাঙনের শিকার মানুষদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করছে না। বুধহাটা বাজার সংলগ্ন নদীখাননের বাস্তবতা এবং বেতনা নদীর ভাঙনের চিত্র আমাদের শেখাচ্ছে যে: স্বার্থান্বেষণমূলক প্রকল্প মানুষের জীবন বিপন্ন করে। নদীখনন কেবল একটি ইটভাটাকে বাঁচানোর জন্য করা হলে আশেপাশের হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হয়।

 

প্রকৌশলগত ভুল নদীর প্রবাহ ও পরিবেশ বিপর্যস্ত করে। প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন না হলে ¯্রােত এবং তীর সংরক্ষণ ব্যাহত হয়। মানবিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের অবহেলা। সরকার নদীভাঙার শিকার মানুষদের পুনর্বাসন ও সহায়তা নিশ্চিত করেনি। পুনর্বাসন ও পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা ছাড়া নদীভাঙন সামাজিক দুর্যোগে রূপ নেয়। পরিবার, বন্ধু, জীবনযাত্রা-সবই প্রভাবিত হয়। নদীভাঙনের ক্ষতি কমানোর জন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নদী খনন হবে ম্যাপ অনুযায়ী এবং মানবিকভাবে।

 

তীর সংরক্ষণ ও বাঁধের মান নিয়ন্ত্রণ। দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং ও সতর্কতা ব্যবস্থা নদীভাঙার শিকার পরিবারকে স্থায়ী আশ্রয় প্রদান।খাদ্য, চিকিৎসা এবং শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা। স্থানান্তরিত মানুষদের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা।নদীভাঙা মানুষের তালিকা তৈরি। পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়।বুধহাটা বাজার এবং বেতনা নদীর ঘটনা শুধু স্থানিক সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও মানবিক দ্বন্দ্বের এক পরীক্ষা ক্ষেত্র।

 

নদী খনন হবে পরিকল্পিত ও মানবিকভাবে। বুধহাটা বাজারের মানুষদের জীবন ও জীবিকা নিরাপদ হবে। নদীভাঙনের ক্ষতি সীমিত করা সম্ভব। নদীভাঙন থামানো কঠিন, কিন্তু মানবিক ক্ষতি কমানো অসম্ভব নয়-যদি থাকে সদিচ্ছা, পরিকল্পনা এবং দায়বদ্ধতা।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা ও জীবিকায় সাহায্যার্থে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ।
রোববার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় তালা উপজেলার মির্জাপুর বাজারে কাদের বক্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে নগদ টাকা ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. আলাউদ্দিন মল্লিকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, “ধনী মানুষের সম্পদের ভেতরে আল্লাহ তাআলা গরিবের হক রেখে দিয়েছেন। আজকের সমাজে যদি জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকত, তাহলে কোনো গরিব খুঁজে পাওয়া যেত না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ১০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষকে ১টি করে ছাগল এবং ১ জনকে চায়ের দোকান দেওয়ার জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ছাগলপ্রাপ্তরা হলেন বারাত গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ ও মোসাঃ সাজেদা বেগম, কুমিরার ফাতেমা বেগম, মদনপুরের আছিয়া বেগম, ভাগবা গ্রামের শিরিনা বেগম, সেনপুরের মফিজুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ, নোয়াকাটির নিসার আলী এবং জামাল উদ্দিন। এছাড়া চায়ের দোকান করার জন্য হাজরাপাড়ার কামরুল ইসলামকে নগদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, ভিডিএফের জেলা সভাপতি ডা. আফতাব উদ্দীন, তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ, সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাজমুল হক খান, কুমিরা ইউনিয়ন আমীর মাস্টার বকুল, সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম, মাস্টার মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ছাত্রনেতা জুবায়ের, সমাজসেবক আল মামুন, ডা. আবু হোসেন ও মতিউর রহমান।

 

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির বর্তমান ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রত্যাখান করে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৮ জন শীর্ষ নেতা। পদত্যাগকারীরা হলেন কার্যকরী সভাপতি শেখ সাঈদ আহমেদ রঞ্জু, সহ-সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুজ্জামান বাবলু, এবং কার্যকরী সদস্য যথাক্রমে আব্দুল মোমেন খান চৌধুরী (সান্টু), মো. আবু হাসান, মো. নুরুজ্জামান জামু, শেখ শাহাজাহান আলী ও মো. দেলোয়ার হোসেন সুজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পদত্যাগপত্রটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরবোর ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, গত ২৯ নভেম্বর সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হলেও পরবর্তীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের সুবিধাজনক ব্যক্তিদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি পৃথক কমিটি গঠন করে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন করিয়ে আনেন। বিষয়টি নিয়ে বারবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান করা হয়নি। এছাড়া অনুমোদিত কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তার নিজস্ব কোনো ট্রাক নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব অসাংগঠনিক কর্মকা-ের প্রতিবাদেই তারা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

পত্রদূত রিপোর্ট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে আন্দোলন অব্যাহত আছে। সংসদ সদস্য পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো শ্যামনগরে রোববার বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বাবলাতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এ সময় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঠিকাদার মো. শামসুদ্দোহা। বক্তব্য দেন রবিউল ইসলাম, আবদুস সালাম, মফিজুল ইসলাম, মো. রাসেল প্রমুখ।
মফিজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের নৈতিক প্রত্যাশা ও সংসদ সদস্যের পদমর্যাদার কথা বিবেচনায় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্য বক্তরা বলেন, শ্যামনগরের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গাজী নজরুল ইসলামকে ইতিমধ্যে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শ্যামনগর অচল কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার সব উপজেলায় একযোগে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্ক ও নির্বাচনী এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলার মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ জরুরি সভায় বসে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।