মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাণবৈচিত্র্যসমৃদ্ধ কৃষি খামার গড়ে স্বাবলম্বী উপকূলের চন্দনা রানী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
প্রাণবৈচিত্র্যসমৃদ্ধ কৃষি খামার গড়ে স্বাবলম্বী উপকূলের চন্দনা রানী

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): “আমরা নিজেরা বিষ খাই না, অপরকেও বিষ খাওয়াইতে চাই না। সাহস আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে গেলে উন্নয়ন সম্ভব”Ñএভাবেই নিজের কাজের কথা বলছিলেন চন্দনা রানী। অদম্য সাহস ও উদ্যোগী শক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন উপকূলের এই নারী। জলবায়ুসহনশীল কৃষি চর্চার মাধ্যমে প্রাণবৈচিত্র্যসমৃদ্ধ কৃষি খামার তৈরি করে আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি।

উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা চন্দনা রানী (৩০)। স্বামী রঞ্জন ম-ল (৩৪) পেশায় একজন দিনমজুর। ৩০ শতক জমির ওপর তাঁদের বসবাস। চার সদস্যের পরিবারে ছেলে সজীব ম-ল (৯) ও মেয়ে ধৃতি ম-লকে (৩) নিয়ে তাঁদের সংসার।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী প্রাণবৈচিত্র্যসমৃদ্ধ কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন চন্দনা। স্থানীয় প্রযুক্তি ও অভিযোজন চর্চার মাধ্যমে জলবায়ুসহিষ্ণু ফসল চাষাবাদের পাশাপাশি নিজের বাড়িটিকে জলবায়ুসহনশীল কৃষি শিখনকেন্দ্রে রূপান্তর করেছেন তিনি। তাঁর বাড়িতে রয়েছে স্থানীয় জাতের হাঁস-মুরগি, ছাগল, গরু, মৌসুমভিত্তিক সবজি চাষ, পুকুরে স্থানীয় প্রজাতির মাছ চাষ, অচাষকৃত উদ্ভিদবৈচিত্র্য, ঔষধি গাছের বাগান এবং ফলজ ও বনজ বৃক্ষ।

একই সঙ্গে এলাকার নারীদের নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সংগঠন, যার মাধ্যমে নানা মানবিক ও পরিবেশ উন্নয়নমূলক কর্মকা- বাস্তবায়ন করা হয়। তাঁর এই কর্মকা- দেখে উৎসাহিত হয়ে পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা তুলশী রানী, অঞ্জলী রানী, ডলি রানী, পার্বতী রানী, আছিয়া পারভীন, সীতা রানী ও রেনুকাসহ অনেকেই খামার গড়ে তুলেছেন বা তোলার চেষ্টা করছেন।

চন্দনা রানীর কৃষিবাড়িতে প্রথম দর্শনেই চোখে পড়ে সারিসারি বস্তায় আদা চাষ, ক্যারেট বা ফেলে দেওয়া পাত্রে মরিচ চাষ, মাচা ও বেড পদ্ধতিতে সবজি চাষ, দেশীয় চারা উৎপাদনের নার্সারি, তিন স্তরবিশিষ্ট ফসল চাষ এবং পুকুরের পাড়ে ফলজ বৃক্ষ। তিনি জ্বালানি সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহার করেন এবং মাটির তৈরি ‘হাজল’ ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁস-মুরগির ডিম ফোটান। নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা দেশীয় বীজ ব্যাংকের মাধ্যমে তিনি বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময় করছেন।

 

পাশাপাশি বৃষ্টিকাতর উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পদ্ধতিও রয়েছে তাঁর বাড়িতে।
সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে উৎপাদিত এসব পণ্য তিনি স্থানীয় সাপ্তাহিক বাজারে বিক্রি করেন। নিজের বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করেও অতিরিক্ত আয় করছেন চন্দনা।

চন্দনা রানী বলেন, “এখন আমার পরিবারের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে একটি হিসাব খুলেছি এবং একটি বেসরকারি সংস্থাতেও জমা করছি।” ভবিষ্যতে বসতঘরটি সুন্দর করা এবং দুই সন্তানকে লেখাপড়া শেখানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা চন্দনা রানীর খামারটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। তবে খামারটি আরও উন্নত করতে প্রশিক্ষণ ও সরকারি-বেসরকারি উপকরণ সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

 

Ads small one

তালায় দুর্গোৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় সজাগ প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তালায় দুর্গোৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় সজাগ প্রশাসন

তালা প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে তালা উপজেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড়, ম-পে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও প্রতিমাশিল্পীরা। উপজেলায় এবার ১২টি ইউনিয়নে মোট ২০২টি পূজাম-পে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, পাটকেলঘাটা থানার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নে ৮৭টি এবং তালা থানার আওতাধীন সাতটি ইউনিয়নে ১১৫টি পূজাম-প রয়েছে। উৎসব নির্বিঘœ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রতিটি ম-পে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশি টহল এবং আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ কুমার ম-ল ও পুরোহিত তপন হালদার জানান, ম-পগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। তালা থানার এসআই (ওসির চার্জ) মহাসীন আলী, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জেল হোসেন এবং তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা জানান, পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একব্যক্তির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একব্যক্তির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরুজ্জামান গাজী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন গাজীর (নূরী) ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর দেবনগর গ্রামের রফিকুল মোল্লার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে ট্রান্সফর্মারের ঢাকনা খোলার পর ভিতরকার জিনিসপত্র মাথায় পড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারাত্মক জখম হন নুরুজ্জামান। পরে চোর চক্রটি একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চুরির ওই ঘটনায় রফিকুল মোল্লা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার রাতে নুরুজ্জামানসহ অন্যরা ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে হাইভোল্টেজ তারের সংস্পর্শে আসেন। পুলিশের ঝামেলার ভয়ে তাঁকে কোনো সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতে রেখে গোপনে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝাউডাঙা অফিসের এজিএম মোছা. মারিয়া ছিদ্দিকা জুঁই জানান, উত্তর দেবনগরের রফিকুল মোল্লার ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। নুরুজ্জামান ওই ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

সম্পাদকীয়/চাল ও ডিমের বাজার: নি¤œআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/চাল ও ডিমের বাজার: নি¤œআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

নিত্যপণ্যের লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে দেশের সাধারণ ও নি¤œআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, সবজির পাশাপাশি ডিম ও মাংসের মতো আমিজাতীয় খাদ্যের দাম যেভাবে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে কর্মসংস্থানের সংকোচন এবং আয়ের স্থবিরতা, অন্যদিকে লাগামহীন ব্যয়Ñএই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অসংখ্য মানুষ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। সামান্য সঞ্চয়ের সুযোগ তো দূরের কথা, দৈনিক প্রয়োজন মেটাতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে বেশিরভাগ পরিবার।
সাম্প্রতিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে চাল ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সরু ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়ে পৌঁছেছে দেড়শ টাকার ওপরে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ধানের চড়া দামের কথা বলা হলেও, পাইকারি ও খুচরা বাজারের এই ফারাক ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বিপণন প্রক্রিয়ায় তদারকি ও জবাবদিহির অভাব না থাকলে পণ্যের এই কৃত্রিম বা অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব নয়।

বাজার ব্যবস্থাপনার এই অস্থিরতা জনজীবনে গভীর সংকট তৈরি করেছে। শুধু অজুহাত দিয়ে পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হলে বাজার মনিটরিং আরও কঠোর করতে হবে। সরবরাহ চেইনে কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বেশি বিপন্ন করে তুলবে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।