মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিবছর ৩ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ দিবসের লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
প্লাস্টিক আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি করছে। ২০০৮ সালে স্পেনভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘রেজেরো’ প্রথম এ দিবস পালন শুরু করে। পরে ‘ব্যাগ ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ ও ‘ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক’ আন্দোলনের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার প্রায় অর্ধেকই একবার ব্যবহারযোগ্য। বছরে ৫ ট্রিলিয়নেরও বেশি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্লাস্টিক ব্যাগ সম্পূর্ণভাবে পচতে শত শত বছর সময় লাগে, এ সময়ে তা ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা এখন সমুদ্র, নদী, মাটি, এমনকি মানুষের রক্ত, ফুসফুস ও মাতৃদুগ্ধেও পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য নতুন বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার সামুদ্রিক পরিবেশ। প্রতিবছর আনুমানিক ৮ থেকে ১১ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে প্রবেশ করে। এর ফলে মাছ, কচ্ছপ, ডলফিন, তিমি ও সামুদ্রিক পাখিসহ অসংখ্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ সামুদ্রিক পাখি এবং এক লক্ষের বেশি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী প্লাস্টিক দূষণের কারণে মারা যায়। ফলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এছাড়া বর্জ্যের একটি বড় অংশ ভূমিতে জমা হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব উদ্বেগজনক। খাদ্য, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। গবেষণায় এর সঙ্গে হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজনন সমস্যা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব আরও স্পষ্ট। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতার অভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য দ্রুত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ড্রেন, খাল ও নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক নগর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মৎস্যসম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ মানুষের শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন প্রনয়ন করে পাতলা পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে, আইনে পলিথিন উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদ- বা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। এছাড়া, পলিথিন বিক্রি, প্রদর্শন ও বিতরণের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা রাখা হয়েছে। তবে আইন থাকা সত্ত্বেও এর কার্যকর বাস্তবায়নে এখনও ঘাটতি। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কাপড়, পাট ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করা জরুরি।

 

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস আমাদের মনে রাখতে হবে যে পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকেরও কর্তব্য। একটি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তই হতে পারে পরিবেশ রক্ষার বড় পদক্ষেপ। সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাসের মাধ্যমেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি।

Ads small one

কলারোয়ায় তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

কলারোয়া প্রতিনিধি: মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হাটবাজারগুলোতে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ ক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া বাজার ও সরসকাটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন দিন আগেও ছিল ৩৫ টাকা। অন্যদিকে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০ টাকা।

নিত্যপণ্যের বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ভ্যানচালক রসুল আমিন ও ক্রেতা মনিরুজ্জামান জানান, আদা, আলুসহ সব পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কলারোয়া বাজারের আড়তদার আলাউদ্দিন ও বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আড়ত এবং বর্ষা মৌসুমের কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মৌসুমের প্রভাব কেটে গেলে ও আমদানি স্বাভাবিক হলে বাজার দর পুনারায় কমে আসবে।

 

 

ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রাম যেন মঙ্গলবার শোকের জনপদে পরিণত হয়। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা খাতুনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিকালে বাড়িতে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর কান্নায় পুরো গ্রামে নেমে আসে হৃদয়বিদারক পরিবেশ।

ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বাড়িতে ছুটে আসেন। ছোট্ট এই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপস্থিত সবাই গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্বজনরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমাদের ফারজানাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা এই নির্মম ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফারজানার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

ফারজানার মৃত্যুতে পুরো নলতা ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় তারা আগে কখনও এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখেননি। ছোট্ট ফারজানার শেষ বিদায়ে মানুষের এই ঢল তার প্রতি সবার ভালোবাসা ও ঘটনার প্রতি গভীর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে কানের স্বর্ণের দুলের লোভে ফারজানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত সুমা বেগম নামের এক নারী নিহত হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ফারজানা কাশিবাটি গ্রামের খান এনামুলের মেয়ে এবং স্থানীয় কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

সকালে ফারজানা স্কুলে গিয়ে স্কুলের সামনের এক ঝালমুড়ির দোকানে যায়। দোকানটি পরিচালনা করতেন স্থানীয় আমিরুলের স্ত্রী সুমা বেগম। ফারজানার কানের স্বর্ণের দুলের লোভে সুমা তাকে কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির হাত-পা ও মুখ বেঁধে একটি ওয়ারড্রোবের ভেতর আটকে রেখে হত্যা করা হয় এবং মরদেহটি সেখানেই লুকিয়ে রাখা হয়।

 

কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ক্লিনিক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়ন এর মা জননী নার্সিং হোম এবং মাতৃকল্যাণ ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম।

 

এ সময় ক্লিনিকে সরকারি অনুমোদন না থাকায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত ডাক্তার না থাকায় উভয় প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ- ১৯৮২ অনুযায়ী পাঁচ হাজার করে সর্বমোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

 

আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাপ্পি কুমার দাস, বেঞ্চ সহকারী এমএ মান্নানসহ থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম।