বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের করণীয়

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিবছর ৩ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ দিবসের লক্ষ্য। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
প্লাস্টিক আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত সংকট সৃষ্টি করছে। ২০০৮ সালে স্পেনভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ‘রেজেরো’ প্রথম এ দিবস পালন শুরু করে। পরে ‘ব্যাগ ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ ও ‘ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিক’ আন্দোলনের মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার প্রায় অর্ধেকই একবার ব্যবহারযোগ্য। বছরে ৫ ট্রিলিয়নেরও বেশি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্লাস্টিক ব্যাগ সম্পূর্ণভাবে পচতে শত শত বছর সময় লাগে, এ সময়ে তা ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যা এখন সমুদ্র, নদী, মাটি, এমনকি মানুষের রক্ত, ফুসফুস ও মাতৃদুগ্ধেও পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য নতুন বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার সামুদ্রিক পরিবেশ। প্রতিবছর আনুমানিক ৮ থেকে ১১ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে প্রবেশ করে। এর ফলে মাছ, কচ্ছপ, ডলফিন, তিমি ও সামুদ্রিক পাখিসহ অসংখ্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ সামুদ্রিক পাখি এবং এক লক্ষের বেশি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী প্লাস্টিক দূষণের কারণে মারা যায়। ফলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এছাড়া বর্জ্যের একটি বড় অংশ ভূমিতে জমা হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব উদ্বেগজনক। খাদ্য, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। গবেষণায় এর সঙ্গে হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনজনিত সমস্যা, প্রজনন সমস্যা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব আরও স্পষ্ট। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতার অভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য দ্রুত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ড্রেন, খাল ও নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক নগর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মৎস্যসম্পদও ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ মানুষের শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন প্রনয়ন করে পাতলা পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে, আইনে পলিথিন উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদ- বা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। এছাড়া, পলিথিন বিক্রি, প্রদর্শন ও বিতরণের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা রাখা হয়েছে। তবে আইন থাকা সত্ত্বেও এর কার্যকর বাস্তবায়নে এখনও ঘাটতি। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কাপড়, পাট ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করা জরুরি।

 

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস আমাদের মনে রাখতে হবে যে পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকেরও কর্তব্য। একটি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তই হতে পারে পরিবেশ রক্ষার বড় পদক্ষেপ। সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাসের মাধ্যমেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি।

Ads small one

সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে ৬০ শিক্ষার্থী পেল গাছ ও শিক্ষা সামগ্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে ৬০ শিক্ষার্থী পেল গাছ ও শিক্ষা সামগ্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় ৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে গাছের চারা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পরিবেশের প্রতি শিশুদের সচেতনতা তৈরি এবং গাছের পরিচর্যায় তাদের সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সিলভার জুবিলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে ও প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি আব্দুস সামাদ। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মুনির উদ্দীন, সিলভার জুবিলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জী ও সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রহমান রাজীব।
প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জী বলেন, ৬০ শিক্ষার্থীকে গাছের চারা, খাতা ও কলম দেওয়ায় আমরা আনন্দিত। বর্তমান আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে তা বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে গাছগুলোর যত্ন নেয়, সে বিষয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তদারকি করা হবে।
চারা পেয়ে শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বলেন, গাছ পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি নিয়মিত পানি দেব এবং গাছটি যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখব।
আরেক শিক্ষার্থী রাফি হাসান বলেন, নিজের হাতে গাছ পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে। গাছটি যত্ন করে বড় করব এবং নিয়মিত পানি দেব।
কর্মসূচিতে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সদস্য আসাদুজ্জামান সরদার (বাংলা ট্রিবিউন), আলী মুক্তাদা হৃদয় (হৃদয় বার্তা), রিজাউল করিম (দ্য এডিটরস), ইব্রাহিম খলিল (ঢাকা পোস্ট), মৃত্যুঞ্জয় রায় অপূর্ব (বার্তা২৪), হাবিবুল হাসান, মেহেদী হাসান শিমুল এবং ভিবিডি সাতক্ষীরার সভাপতি সাজেদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা বলেন, শিশুদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি এবং গাছ লাগানো ও পরিচর্যার অভ্যাস গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করা এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ দল থেকে দুই প্রবাসীসহ ৭ জন বাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ দল থেকে দুই প্রবাসীসহ ৭ জন বাদ

ফিফা আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলের অনুশীলন চলছে। এতে স্থানীয় খেলোয়াড় ছাড়াও বংশোদ্ভূতরাও রয়েছেন। কোচ টমাস ডুলি তাদেরকে নানানভাবে পরখ করছেন। আপাতত তার প্রাথমিক দল থেকে ৭ জন খেলোয়াড় বাদ পড়েছেন।

জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন দুই প্রবাসী ইয়াসার ও দেবজিতসহ কাজেম শাহ, ঈসা ফয়সাল, তাজ উদ্দিন, রাহুল ও স্বাধীন।

জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় প্রথম আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের খেলার সূচি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। খেলা হবে গেলোরা বান কার্নো স্টেডিয়ামে। দুই দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ম্যাচ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। একই মাঠে একই সময়ে ম্যাচটি শুরু হবে।

বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ম্যাচটি শুরু হবে। খেলা হবে গেলোরা বান কার্নো স্টেডিয়ামে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা মারা গেছেন

কারাগারে আটক বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রাণী ধর (৭১) মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সন্ধ্যা রাণী ধর। তার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ক্যানসার শনাক্ত হয়। গত বুধবার রাতে তাকে হাসপাতাল থেকে পুণ্ডরিক ধামে নিয়ে আসা হয়।

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সবার ছোট। গুরুতর অসুস্থ মাকে দেখতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তি দিতে বুধবার কারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করেছিল পরিবার।

চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মায়ের মরদেহ নিয়ে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছি। সেখান থেকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে আমার ভাইয়ের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করবো। আমাদের মায়ের শেষকৃত্য হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে সম্পন্ন হবে।’

পুণ্ডরিক ধাম সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় আচারাদি পালন শেষে এখানেই সন্ধ্যা রাণী ধর-কে (শ্রীমতি সখী রসমঞ্জুরী মাতাজি) সমাধি দেওয়া হবে।