মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বজ্রপাত ঝুঁকিতে মাঠের কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
বজ্রপাত ঝুঁকিতে মাঠের কৃষক

প্রকাশ ঘোষ বিধান

বজ্রপাত এখন বাংলাদেশে অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। খোলা মাঠে কাজ করার সময় কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন। বোরো ধান কাটার মৌসুমে কৃষকরা দীর্ঘ সময় খোলা মাঠে কাটান, যা তাদের বজ্রপাতের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। হাওর বা বড় মাঠগুলোতে উঁচু গাছ বা নিরাপদ কোনো স্থাপনা না থাকায় বজ্রপাতের সময় কৃষকরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে পারেন না।

বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ করার কারণে কৃষকরা বজ্রপাতের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন। মার্চ মাস থেকে প্রচ- গরমে হাঁসফাঁস শুরু হয় জনজীবনে। স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে বৃষ্টি। তবে এখন সেই বৃষ্টি যেন উল্টো আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। তাপদাহের পর ঝড়-বৃষ্টির শুরুর সঙ্গে দেশজুড়ে বাড়ছে বজ্রপাতের তীব্রতা। হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিয়মিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বজ্রপাত হয়। তবে এপ্রিল ও মে মাসকে বজ্রপাতের প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বছরের মোট বজ্রপাতের একটি বিশাল অংশ এই দুই মাসেই ঘটে, যার মধ্যে মে মাসে সবচেয়ে বেশি (২৯.৬২%) বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশে বছরে গড়ে ৮০-১২০ দিন বজ্রপাত হয়। এপ্রিল ও মে মাস হলো বজ্রপাতের প্রধান মৌসুম বা প্রাক-বর্ষাকালীন সময়। এই দুই মাসে দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে এপ্রিল ও মে মাসে গড়ে ৯ থেকে ১৩ দিন পর্যন্ত বজ্রঝড় হতে পারে। বজ্রপাতের ভয়াবহতার দিক বিবেচনায় এবং আশঙ্কাজনকহারে মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সরকার ২০১৬ সালের ১৭ মে বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগের তালিকায় বজ্রপাতকে অন্তর্ভুক্ত করে।

প্রাক-বর্ষার এই সময়ে উত্তরে হিমালয় থেকে আসা ঠান্ডা বাতাস এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সংমিশ্রণে বজ্র-মেঘের সৃষ্টি হয়, যা থেকে প্রবল বজ্রপাত ঘটে। বজ্রপাতের সময় প্রায় ২৭ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৩০ কোটি ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বজ্রপাতের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। হাওর অঞ্চল এবং খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক ও জেলেরা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ আমাদের ভৌগলিক অবস্থান। বাংলাদেশের একদিকে বঙ্গোপসাগর, এরপরই ভারত মহাসাগর। সেখান থেকে গরম আর আর্দ্র বাতাস আসছে। আবার উত্তরে রয়েছে পাহাড়ি এলাকা, কিছু দূরেই হিমালয় রয়েছে, যেখান থেকে ঠা-া বাতাস ঢুকছে। এই দুই বাতাসের সংমিশ্রণ বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। শীত পরবর্তী সময়ে একদিকে যেমন বঙ্গোপসাগর থেকে উষ্ণ বাতাস আসতে শুরু করে, অন্যদিকে হিমালয় থেকে আসে ঠা-া বাতাস। দক্ষিণের গরম আর উত্তরের ঠা-া বাতাসে অস্থিতিশীল বাতাস বজ্র মেঘের সৃষ্টি করে। এরকম একটি মেঘের সঙ্গে আরেকটি মেঘের ঘর্ষণে বজ্রের তৈরি হয়।

সাধারণত গ্রীষ্মের দিনগুলোয় এপ্রিল-মে মাসে বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে। তবে সাম্প্রতিককালে জুন-জুলাইয়েও বেড়েছে বজ্রপাতের হার। আবহাওয়াবিদগণ বলছেন, বাংলাদেশে উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল বজ্রপাত-প্রবণ এলাকাগুলোর অন্যতম। গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় অনাকাক্সিক্ষত এই দুর্যোগ বেশি ঘটছে।

এক জরিপ বলছে, সাধারণত সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যার আগপর্যন্ত অর্থাৎ দিনের বেলায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে বেশি। আরেক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রায় ৪৩ শতাংশ বজ্রপাতই হয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। সকালে সূর্যের প্রচন্ড তাপমাত্রা জলীয়বাষ্প সৃষ্টি করে, যেটি বজ্রপাতের প্রধান শক্তি। তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে তখন জলীয় বাষ্প বা এ ধরনের শক্তিও তত বেড়ে গিয়ে বজ্রপাত ঘটায়।

একসময় দেশের বেশিরভাগ গ্রাম এলাকায় বড় গাছ, যেমনÑ তাল, নারিকেল, বটসহ নানা ধরনের উঁচু গাছ দেখা যেত। এসব গাছ বজ্রপাতের আঘাত নিজের শরীরে নিয়ে নিত। ফলে মানুষের আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা কমত।
বজ্রপাত-বিষয়ক গবেষকরা বলছেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে এখন মুঠোফোন আছে। দেশের অধিকাংশ এলাকায় মুঠোফোনের বৈদ্যুতিক টাওয়ার রয়েছে। দেশের কৃষিতেও যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। আকাশে সৃষ্টি হওয়া বজ্র মাটিতে কোনো ধাতব বস্তু পেলে তার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। এটি কৃষিকাজে নিয়োজিত মানুষদের বজ্রপাতে মৃত্যুর বড় কারণ। গাছবিহীন খোলামাঠের গ্রামে বজ্রপাতে মৃত্যু হচ্ছে বেশি। শহরে গাছ না থাকলেও উঁচু উঁচু ভবন আছে। ফলে শহরের মানুষ এই মৃত্যু থেকে রেহাই পাচ্ছে।

বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানোর লক্ষ্যে দেশবাসীকে আগাম সতর্কবার্তা দিতে দেশের ৮টি স্থানে পরীক্ষামূলক ভাবে বজ্রপাত চিহ্নিতকরণ যন্ত্র বা লাইটনিং ডিটেকটিভ সেন্সর বসিয়েছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ঢাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ছাড়াও ময়মনসিংহ, সিলেট, পঞ্চগড়, নওগাঁ, খুলনা, পটুয়াখালী এবং চট্টগ্রামে এই সেন্সর বসানো হয়েছে। যদিও এসব সেন্সরের কার্যক্রম এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

প্রান্তিক জনগণকে বাঁচাতে সরকারিভাবে তাল গাছ লাগানোর উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাল গাছ ৩০-৪৫ সে.মি. ব্যাসের গোলাকার গুঁড়িবিশিষ্ট প্রায় ৮০-৯০ ফুট উচ্চতার শাখাবিহীন একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। সরকারিভাবে ২০১৮ সালেই ৩১ লাখ তালের আঁটি লাগানো হয়েছে দেশের ৬১ জেলায়। তবে বজ্রপাতের ঝুঁকিহ্রাসের উপযোগী হতে এই গাছের কমপক্ষে ১৪-১৬ বছর বা তারও বেশি সময় প্রয়োজন।

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করণীয়; বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে দালানের নিচে অবস্থান করতে হবে। বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা টাওয়ারের নিচে দাঁড়ানো যাবে না। ঘরের ভেতর থাকলেও জানালার কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা যাবে না। টিভি, ফ্রিজ বা কম্পিউটারের প্লাগ খুলে রাখতে হবে।বজ্রপাতের সময় পুকুর বা জলাশয়ে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বাইরে থাকলে রবারের জুতা ব্যবহার করা কিছুটা নিরাপত্তা দিতে পারে। গাড়ির ভেতর থাকলে ধাতব বডি স্পর্শ না করে ভেতরে স্থির থাকতে হবে। খোলা মাঠে থাকলে কোথাও আশ্রয় না পেলে নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে, তবে মাটিতে শুয়ে পড়া যাবে না। এসব নির্দেশনা মেনে চললে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা কমে আসবে আশা করা যায়।

বাংলাদেশে বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির সময়ে, বিশেষ করে বোরো ধান কাটার মৌসুমে খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা বজ্রপাতের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন। হাওর বা বড় বিল অঞ্চলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত সতর্কতা জরুরি। কৃষকদের সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রয়োজন। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

 

Ads small one

সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কলারোয়ায় রাস্তার ওপর পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কলারোয়ায় রাস্তার ওপর পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়া এলাকায় সরকারি রাস্তার জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে কাজ বন্ধ রাখার এবং নির্মিত অবকাঠামো অপসারণের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও তা তোয়াক্কা না করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুছ আলীর পরামর্শে অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম তিনজন নির্মাণশ্রমিক নিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে রায়ের কোনো অনুলিপি তারা দেখাতে পারেননি।
ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানদিয়া এলাকার শেখ খোরশেদ আলী তাঁর নিজস্ব জমি সংলগ্ন সরকারি রাস্তার জায়গা দখল ও পাকা ঘর নির্মাণের বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইন অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম ও ইউনুছ আলীকে কাজ বন্ধ করার জরুরি নোটিশ দেন। নোটিশে নিজ খরচে অবকাঠামো অপসারণের নির্দেশ থাকলেও বিবাদী পক্ষ তা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তফসিল অনুযায়ী, বিতর্কিত সম্পত্তিটি ধানদিয়া মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের আরএস ১৬১২ নম্বর দাগের ০.০৫ একর সরকারি রাস্তার জমি।
ভূমি অফিসের নোটিশ ছাড়াও এই জায়গা নিয়ে আদালতে ১৮৮ ধারার একটি মামলা (নং- পি ৪৫৩/২৬) চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত দুদিন ধরে কাজ চলছে। বিষয়টি কলারোয়া থানার ওসিকে জানানো হলে তিনি বলেন, “আমি তো থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়েছি। আর কতবার পাঠাবো?” এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কলারোয়া থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযুক্ত ইউনুছ আলী বলেন, “ম্যাপ করার সময় ভুলবশত রাস্তা আমাদের জমির মধ্যে ঢুকে গেছে।” সরকারি এই রাস্তাটি ১৪ ফুট চওড়া থাকার কথা স্বীকার করলেও তাঁর নির্মাণাধীন ঘরের কারণে রাস্তার পরিমাপ ঠিক থাকছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রওশন আলী গাজী বলেন, “সরকারি রাস্তার ওপর ঘর তৈরি করতে আমি নিজে ইউনুছ ও জহুরুলকে অনেকবার নিষেধ করেছি। তারা আইন মানে না। নিজেদের ইচ্ছামতো যা ইচ্ছা তাই করে। লোকবল আছে বলে তারা কোনো নিয়ম মানতে চায় না। এ রাস্তা নিয়ে অনেকবার সালিস হলেও তারা তা মানেনি।”
সার্বিক বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে গত দুদিনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ধুলিহরে দুটি টিউবওয়েল স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ধুলিহরে দুটি টিউবওয়েল স্থাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে দুটি নলকূপ (টিউবওয়েল) স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) আসরের নামাজের পর ধুলিহর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর কেন্দ্রীয় মাঞ্জেখানা মসজিদ ও বালুইগাছা আল মদিনা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই নলকূপ দুটির উদ্বোধন করা হয়।
ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও জার্মানপ্রবাসী জুলফিকার হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আব্দুল ওয়াদুদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সদস্য শামীম সানা, আব্দুল হাকিম, আতাউর রহমান রিংকু ও মেহেদী হাসান শিমুল। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী।

দেবহাটায় শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হননি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হননি

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলায় শাশুড়িকে চেতনানাশক স্প্রে করে এবং চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার একমাত্র আসামি আসাদুল ইসলাম (৩৮) ঘটনার দেড় মাস পরও গ্রেপ্তার হননি। মামলা হওয়ার পরও আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। উপরন্তু মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি দেবহাটার নাজিরের ঘের গ্রামের নুর ইসলাম সানার মেয়ে নার্গিস খাতুনের (৩৬) সঙ্গে বিয়ে হয় কাশিপুর গ্রামের আইজুদ্দীন মোড়লের ছেলে আসাদুল ইসলামের। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে এবং ঘটনার সময় নার্গিস ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারণে নার্গিসের ওপর নির্যাতন চলত।
অভিযোগে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে অন্তঃসত্ত্বা নার্গিসকে মারধর করা হলে তাঁর বাবা-মা মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসাদুল ওই রাতেই শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হন। সেখানে শাশুড়ি আদুরীনেছাকে (৭০) একা পেয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে অচেতন করেন এবং চাকু দিয়ে কুপিয়ে চোখ ও মুখম-লসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে বৃদ্ধাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সখিপুর হাসপাতাল এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর দেবহাটা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে ঘটনার ২০ দিন পর দেবহাটা থানা মামলাটি (সিআর ৮৭/২৬) রেকর্ড করে। তবে মামলা দায়েরের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও আসাদুলকে গ্রেপ্তার হয়নি।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন বাওয়ালী দেবহাটা থানা থেকে বদলি হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনার সময় অন্তঃসত্ত্বা থাকা নার্গিস খাতুন সম্প্রতি একটি সন্তানের জন্ম দিলেও আসামি আসাদুল সন্তান বা স্ত্রীর কোনো খোঁজ নেননি।
নার্গিস খাতুনের বৃদ্ধ বাবা নুর ইসলাম সানা (৭৮) বলেন, “আমরা এখন জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমার স্ত্রীকে যে মানুষটা কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে, সে এখন বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। দেড় মাস হয়ে গেল অথচ পুলিশ তাকে ধরছে না। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলিম বলেন, মামলাটিতে একজন আসামি এবং এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামি যদি বাদী পক্ষকে কোনো ধরনের হুমকি দিয়ে থাকে, তবে থানায় এসে জানালে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।