বাংলাদেশকে ১.১ বিলিয়ন ডলারের জরুরি অর্থায়ন বিশ্বব্যাংকের
আর্থিক সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ১.১ বিলিয়ন ডলারের জরুরি অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থায়ন বাংলাদেশকে কর্মসংস্থান, জীবিকা এবং জরুরি সেবাগুলো সুরক্ষিত রেখে দ্রুত অর্থনৈতিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৭ জুন) রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সার, জ্বালানি ও খাদ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করতে বাংলাদেশকে ১.১ বিলিয়ন (১১০ কোটি) মার্কিন ডলারের জরুরি অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপ কমাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বৈদেশিক অর্থায়নের চেষ্টা করছে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বৈশ্বিক সংকটের ধাক্কা সামলাতে বিশ্বব্যাংকের এই প্যাকেজের অধীনে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৩০০ মিলিয়ন ডলার মোট বরাদ্দের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে ‘খাদ্য নিরাপত্তার জন্য জরুরি সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায়। এই অর্থ দিয়ে আগামী ধান চাষের মৌসুমের জন্য ছয় লাখ মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে। কারণ, বাংলাদেশ তার চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি সার আমদানি করে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে এক বিবৃতিতে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী মূল্য এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র চাষী এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।” এই প্রকল্পটি ১৪ লাখ হেক্টরেরও বেশি (৩.৪৬ মিলিয়ন একর) ফসলি জমিতে ধান চাষে সহায়তা করবে।
জরুরি ব্যয়ে ৭১৩ মিলিয়ন ডলার, বাকি ৭১৩ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করা হয়েছে ‘কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ প্রকল্পের অধীনে। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ছোট ব্যবসার জন্য নগদ অর্থ হস্তান্তর এবং জীবিকা সহায়তাসহ জরুরি ব্যয় নির্বাহে ব্যবহৃত হবে।
এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য বিতরণ, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহের মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলো সচল রাখতে জ্বালানি ও শক্তি আমদানিতেও এই তহবিল সহায়তা করবে।বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই অর্থায়ন বাংলাদেশকে কর্মসংস্থান, জীবিকা এবং জরুরি সেবাগুলো সুরক্ষিত রেখে দ্রুত অর্থনৈতিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।









