বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

বিজয়া দশমী: আমাদের চাওয়া-পাওয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
বিজয়া দশমী: আমাদের চাওয়া-পাওয়া

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুরের পরাজয় ঘটে পুরাণের কাহিনিতে। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের সেই আখ্যান নিয়েই প্রতিবছর আসে শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, আরতির আলো আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে ওঠে পূজাম-প। কিন্তু পাঁচ দিনের আনন্দ শেষে বিজয়া দশমীতে যখন প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন চলে, তখন একটি প্রশ্ন সামনে আসে-দেবীর কাছে আমাদের চাওয়া কতটা পূরণ হলো, আর সমাজের জন্য আমাদের নিজেদেরই বা কী দেওয়ার আছে? বিজয়া দশমী একদিকে বিদায়ের বিষাদ, অন্যদিকে বিজয়ের আনন্দ।

 

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গা সন্তানদের নিয়ে পিতৃগৃহে আসেন। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পূজা শেষে দশমীতে তাঁর কৈলাসে প্রত্যাবর্তন। তাই প্রতিমা বিসর্জনের মুহূর্তে ভক্তদের মনে বিষাদ জাগে। ‘আসছে বছর আবার হবে’-এই উচ্চারণে প্রকাশ পায় আগামী দুর্গোৎসবের অপেক্ষা। কিন্তু উৎসবের এই আবেগের পাশাপাশি বিজয়া দশমী আমাদের সামনে তুলে ধরে আত্ম সমালোচনা ও আত্মশু দ্ধির সুযোগ।

 

পুরাণের বর্ণনায়, মহিষাসুরের অত্যাচার থেকে দেবতাদের রক্ষা করতে দেবী দুর্গার আবির্ভাব। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মহিষাসুরের পরাজয় ঘটে। এই কাহিনি শুধু একটি পৌরাণিক যুদ্ধের বিবরণ নয়; অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায় ও শুভ শক্তির সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও এর ব্যাখ্যা করা হয়। রামায়ণের কাহিনিতে রাবণের বিরুদ্ধে রামের বিজয়ও একই ধরনের নৈতিক বার্তা বহন করে।

 

যুগে যুগে এসব আখ্যান মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে এই বিজয়ের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তিজীবন ও সমাজ জীবনে কতটা কার্যকর হচ্ছে? পূজাম-পে অসুরবধের দৃশ্য দেখে আমরা আনন্দিত হই, দেবীর কাছে শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি। অথচ বাস্তব জীবনে দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, সামাজিক বৈষম্য, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার আমাদের সমাজকে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দুর্বলের অধিকার হরণ হচ্ছে, অন্যায়ের শিকার মানুষ ন্যায়বিচার পেতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

এসব অশুভ প্রবণতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে বিজয়ার শিক্ষা কতটা বাস্তবায়িত হবে? আমাদের চাওয়া হোক ন্যায় ও সমতা। এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মানুষ তার ধর্মীয় পরিচয়, আর্থিক অবস্থা কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে বৈষম্যের শিকার হবে না। নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে, শিশুরা নিরাপদে বেড়ে উঠবে, দরিদ্র মানুষ শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পাবে এবং শ্রমজীবী মানুষ তার কাজের ন্যায্য মূল্য পাবে। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষও সেই আনন্দের অংশীদার হতে পারবেন।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ বহু ক্ষেত্রেই সম্প্রদায়ের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শুভেচ্ছা বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও একসঙ্গে উৎসবে অংশ নেওয়া সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে। এই সম্প্রীতি যেন কেবল উৎসবের কয়েকটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রত্যেক মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা ও সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত আমাদের সম্মিলিত প্রত্যাশা।

 

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সম্প্রীতি মানে শুধু পাশাপাশি বসবাস নয়; একে অন্যের অধিকার ও মর্যাদাকে স্বীকার করাও সম্প্রীতির শর্ত। প্রতিবেশীর বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের শিকার মানুষের পরিচয় না দেখে তার ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কথা বলা এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ করাÑএসবের মধ্য দিয়েই সম্প্রীতি বাস্তব রূপ পায়। কোনো মানুষের প্রতি অবিচার হলে নীরব থাকা মানে সেই অবিচারকে প্রশ্রয় দেওয়া।

 

দুর্গাপূজার আরেকটি বড় শিক্ষা নারীর শক্তি ও মর্যাদা। দেবী দুর্গাকে শক্তিরূপে আরাধনা করা হয়। অথচ বাস্তবে নারীরা যখন সহিংসতা, অবমাননা ও অধিকারহীনতার শিকার হন, তখন দেবী বন্দনার সঙ্গে আমাদের সামাজিক আচরণের বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নারীকে সম্মান করা, তাঁর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়েই শক্তির আরাধনা অর্থবহ হতে পারে। বিজয়া দশমীতে আমাদের পাওয়ার হিসাবও কম নয়।

 

উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষ আনন্দ পায়, পরিবার ও বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে মিলিত হয়, পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে ঝালিয়ে নেয়। পূজাম-পে মানুষের সমাগম, শিল্পীদের সৃজনশীলতা, স্বেচ্ছাসেবীদের পরিশ্রম এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ সামাজিক জীবনে প্রাণ সঞ্চার করে। কিন্তু এই প্রাপ্তির পাশাপাশি দায়িত্বও রয়েছে। উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধার কারণ না হয়, পরিবেশ যেন দূষিত না হয় এবং বিসর্জনের সময় নদী-জলাশয় যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু অন্যায়, হিংসা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সমাপ্তি ঘটে না। বরং উৎসব শেষে দৈনন্দিন জীবনে ফিরে গিয়ে আমরা কীভাবে আচরণ করছি, অন্যের অধিকার রক্ষায় কতটা সচেতন হচ্ছি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার হচ্ছিÑসেখানেই বিজয়ার প্রকৃত পরীক্ষা।

 

আমাদের চাওয়া শুধু শান্তি নয়, ন্যায়ভিত্তিক শান্তি; শুধু সম্প্রীতি নয়, সমান অধিকার ভিত্তিক সম্প্রীতি; শুধু উন্নয়ন নয়, বৈষম্য কমিয়ে সবার জীবনে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া। আমাদের পাওয়া যেন কেবল উৎসবের আনন্দে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার চর্চায় প্রসারিত হয়।দেবীর বিসর্জনের সময় প্রচলিত মন্ত্রে তাঁকে আবার ফিরে আসার প্রার্থনা জানানো হয়-
“গচ্ছ গচ্ছ পরম স্থানং স্বস্থানম পরমেশ্বরী।
যৎ পূজিতং ময়া দেবী পরিপূর্ণং তদস্তুমে।।
গচ্ছ গচ্ছ পরম স্থানং যত্র দেব মহেশ্বরঃ।
সমবৎসরব্যতিতেতু পুনরাগমনায় চ।।”

হে পরমেশ্বরী দেবী, আপনি নিজ স্থানে পরম ধামে গমন করুন। আমরা যে আপনার পূজা করলাম, তা যেন আপনার কৃপায় পূর্ণতা লাভ করে। আপনি সেই পরম স্থানে গমন করুন যেখানে মহেশ্বর (শিব) বিরাজ করেন, এবং এক বছর অতিক্রান্ত হলে আবার যেন আপনার আগমন ঘটে।দেবীর বিদায় বেলায় তাই আমাদের প্রত্যাশাÑমানুষের মন থেকে হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হোক, সমাজ থেকে অন্যায় ও বৈষম্য কমুক, নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক এবং সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকুক।

 

আমরা যেন অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করি, দুর্বলের অধিকার হরণ না করি এবং নিজের স্বার্থে মানবিক মূল্যবোধ বিসর্জন না দিই। বিজয়া দশমীর সার্থকতা শুধু দেবীর বিজয় স্মরণে নয়, সেই বিজয়ের শিক্ষা জীবনে ধারণ করার মধ্যে। প্রতিমা বিসর্জন হবে, উৎসব শেষ হবে; কিন্তু ন্যায়, মানবতা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় যেন বিসর্জন না হয়। এটাই হোক বিজয়া দশমীতে আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া, আর মানুষের জন্য কাজ করাই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

 

 

Ads small one

কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোমিও চিকিৎসকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোমিও চিকিৎসকের মৃত্যু

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলায় ১৩ শতক সরকারি জমি দখল ও কলা কাটাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানী (৫২) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই নারীকে আটক করেছে। এর আগে সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মঠবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঠবাড়ী মৌজার গ্রামীণ সড়কের পাশে ১৩ শতক সরকারি জমি ও কলাগাছের কলা কাটাকে কেন্দ্র করে হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদারের (২৬) বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দা, শাবল, রড ও লাঠির আঘাতে গোলাম রব্বানীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহত অন্য তিনজন হলেন গোলাম রব্বানীর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগম (৫৫)।

আহতদের প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেও চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য গোলাম রব্বানীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোনো মামলা হয়নি, তবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে।

হেমন্তের শান্ত বলুয়া নদীতে বিজয়া দশমীর নৌকাবাইচ: তালের ছন্দে মুখর দুই তীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
হেমন্তের শান্ত বলুয়া নদীতে বিজয়া দশমীর নৌকাবাইচ: তালের ছন্দে মুখর দুই তীর

আসাদুজ্জামান সরদার: কার্তিকের সোনাঝরা রোদ আর স্নিগ্ধ বাতাসের স্পর্শে প্রকৃতিতে তখন হেমন্তের রূপময় উপস্থিতি। শারদীয় দুর্গাপূজার মহাবিজয়াদশমীর বিষাদ ও আনন্দের মিশ্র সুরের মাঝেই গ্রামীণ জনপদে বেজে উঠেছিল উৎসবের অন্যরকম এক বাদ্য। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বলুয়া নদীর শান্ত বুকে স্বর্গীয় বাশিরাম স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বর্ণিল ও রোমাঞ্চকর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।

 

বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা আর প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বলগ্নে নদীমাতৃক বাংলার এই প্রাচীন রূপ দেখতে বলুয়া নদীর দুই তীরে উপচে পড়ে হাজারো মানুষের ভিড়। স্বচ্ছ জলের আলপনায় নদীর বুকে তখন সাজ সাজ রব। বৈঠার জাদুকরী ছন্দে চঞ্চল হয়ে ওঠা জলের ঢেউ আর দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ঐতিহ্য ও উদ্দীপনার এই প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলো হলোÑসোনা বাঁধাল, দাদপুর, বনবিবি, চর মাগুরা, কুলপোতা, মহিষাডাংগা কালিমাতা ও মহিষাডাংগা জয়মা।

নৌকাগুলোর গতি আর মাঝিদের সমস্বরে গাওয়া ভাটিয়ালি ও জারি গানের সুরে নদীর দুই তীরের দর্শকেরা আনন্দে মেতে ওঠেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয় বিজায়ীদের নাম। এতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে কুলপোতা। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে চর মাগুরা এবং তৃতীয় হয় মহিষাডাংগা কালীমাতা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দিন। সহকারী অধ্যাপক হিরুলাল বিশ্বাস ও দেবব্রত বিশ্বাস দেবুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীদুর রহমান, কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ছাকী পলাশ, চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ও মেহেদী হাসান সগর।

 

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন। হেমন্তের এই আনন্দময় সন্ধ্যায় বিজয়াদশমীর অনন্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বলুয়া নদীর তীরে উপস্থিত মানুষের মনে দীর্ঘদিনের জন্য এক অমলিন উৎসবের রেশ রেখে গেছে।

 

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

খলিষখালি (পাটকেলঘাটা) প্রতিনিধি: দীর্ঘ পাঁচ দিন ধরে দেবী দুর্গাকে আপন মনে পূজা-অর্চনা করার পর ২১ অক্টোবর সাতক্ষীরা ও তালার খলিলপুর, দলুয়া, মাগুরা, ইসলামকাটি, কুমিরা ও পাটকেলঘাটাসহ বিভিন্ন পূজাম-পে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামকাটি কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ হাজির হন প্রতিমা বিসর্জনের জন্য। শুধু তাই নয়, নদের দুই তীরে বসেছিল নানা রকম মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কসমেটিকস ও হরেক রকমের মিষ্টির দোকান।

বিকেল থেকে দলুয়া শালিকা নদীর তীরে, মাগুরা কপোতাক্ষ নদের তীরে ও ইসলামকাটি কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগমে উৎসব ও আনন্দে একাকার হয়ে যায় চারপাশ। অবশেষে সন্ধ্যা নামতেই প্রতিমা বিসর্জনের কাজ শুরু হয়। বিসর্জন শেষে নারী-পুরুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে বাড়ি ফিরে যান।