সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিভিন্ন স্থানে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
বিভিন্ন স্থানে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপন

সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলা ও স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বর্ণাঢ্য রথ শোভাযাত্রা, বিশেষ পূজা-অর্চনা, কীর্তন ও ভক্তিমূলক সংগীতের মধ্য দিয়ে জেলাজুড়ে এই উৎসব শুরু হয়। স্থানভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সংবাদগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পাটকেলঘাটা: পাটকেলঘাটায় শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের শুভ রথযাত্রা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় পাটকেলঘাটা বলফিল্ড রথ মন্দির থেকে শত শত নারী, পুরুষ ও শিশুর অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রাটি কালীবাড়ি সড়ক, গোডাউন সড়ক ও বলফিল্ড সড়কসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ ছাড়া উপজেলার খলিশখালী ও দলুয়া বাজারেও আনন্দঘন পরিবেশে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। দলুয়া বাজার মন্দির থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি কৈখালী ও টিকরামপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাজারে এসে শেষ হয়। কুমিরা বাসস্ট্যান্ডেও রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। উৎসবের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 


শ্যামনগর: শ্যামনগরের গোপালপুর রাধাগোবিন্দ মন্দিরে মহাসমারোহে জগন্নাথদেব, বলদেব ও সুভদ্রা মহারানীর শুভ রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী।

উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুল ওয়াহেদ, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপন ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
রাধাগোবিন্দ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ কৃষ্ণ সখা দাস ব্রহ্মচারীর পরিচালনায় আলোচনা সভা ও পূজা শেষে রথটান শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি গোপালপুর রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকে বের হয়ে নকিপুর হরিতলা সার্বজনীন মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এ ছাড়া উপজেলার সোনামুগারী রাস মন্দির, বল্লভপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরিনগর সাধুপাড়া কৃষ্ণ মন্দির এবং বুড়িগোয়ালিনীতে রথ উৎসব উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করা হয়।
লাবসা: সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা পূর্বপাড়া সার্বজনীন কালী মন্দির (কর্মকর পাড়া) প্রাঙ্গণে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও লাবসার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ ম-ল, ইউপি সদস্য নজিবুর রহমান টুটুল, মন্দির কমিটির সভাপতি অমিত চক্রবর্তী, রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আনন্দ কর্মকর ও সদস্য সচিব অসীম কর্মকর।
ব্রহ্মরাজপুর: ব্রহ্মরাজপুর জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রহ্মরাজপুর রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার সাহার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুর রউফ। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা, সদর উপজেলা সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি গৌর দত্ত ও মন্দিরের অধ্যক্ষ ভীম বন্ধু দাস কৃষ্ণদাস অধিকারী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কানাইলাল সাহা।


তালা: তালায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার মাঝিয়াড়া শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্দির কমিটির সভাপতি প্রভাষক আহ্লাদ ঘোষের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বসু ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তালা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম শফি এবং তালা প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক এসএম নজরুল ইসলাম।
বুধহাটা: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা দ্বাদশ শিব ও কালী মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রথ শোভাযাত্রাটি মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নওয়াপাড়া মন্দির, শ্বেতপুর মন্দির এবং বুধহাটা দক্ষিণপাড়া মন্দির প্রদক্ষিণ করে মাসির বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়।

 


কাটিয়া কর্মকারপাড়া: সাতক্ষীরা সদর উপজেলা (কাটিয়া কর্মকার পাড়া) সার্বজনীন পূজা মন্দিরের উদ্যোগে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি গৌর দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র, কিরণ্ময় সরকার, মনোরঞ্জন কর্মকার মন্টু, স্বপন কুমার সাহা ও সমীর কুমার বসুসহ মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্য ও ভক্তবৃন্দ।

 


কলারোয়া: কলারোয়ায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মঙ্গল আরতি, গীতাপাঠ ও ভজনকীর্তনের মধ্য দিয়ে ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে। কলারোয়া পৌরসভার হরিতলা পূজাম-প, গোয়ালঘাটা পূজাম-প ও উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়া পূজাম-পে পৃথকভাবে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। রথযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার পাল জানান, গোয়ালঘাটা ও হরিতলা পূজাম-প যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে। অন্যদিকে, উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়ায় কলারোয়া সনাতন ধর্ম স্বেচ্ছাসেবক পরিষদের উদ্যোগে এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহযোগিতায় উৎসবের সূচনা হয়।

 


কালীগঞ্জ: কালীগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দকাটিতে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী। তিনি গোবিন্দকাটির রথযাত্রা মন্দির প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং আয়োজক কমিটি, সেবায়েত ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তা ও সুবিধা নিয়ে কথা বলেন। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হাসান শাহরিয়ার রিপন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলী আহসান খান হাবলু এবং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী প্রমুখ। পরিদর্শনকালে অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলী সবাইকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

 

Ads small one

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, বাদীপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার আদালতে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি নিতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেন তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম।

গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তাকে বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী ও এড. আবু বক্কর।

 

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম (৪৮)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার সেহারা গ্রামের মৃত সামত আলীর ছেলে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে থানায় কর্মরত এসআই সোহাগ মিয়া ও এসআই সাহিদুর রহমান মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিলেন।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টার দিকে দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের নওয়াপাড়া ঢালাই রাস্তার মোড় থেকে ওয়াপদার দিকে যাওয়ার পথে জনৈক আব্দুল মান্নানের বাড়ির সামনে ইটের সলিং রাস্তার ওপর অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশ রেজাউল ইসলাম (৪৮) কে আটক করে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ১০ আগস্ট সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের মৃত নূর আহম্মদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল মোমিন সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলেন- তার নিলাম খরিদা ভূমি ছোট ভাই আব্দুল মালেক ও তার সহযোগী বড় ভগ্নিপতি মোঃ আমজাদ হোসেন ও সেজো ভাইয়ের স্ত্রী শাকিলা বেগম এর বক্তব্য দিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমার বৃদ্ধা মাকে ভুল বুঝিয়া এক মিথ্যা বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে কিছু না শুনে- না জেনে তার ও তার স্ত্রীর সম্মান হেয় করায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

একই দিন দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দিলিপ কুমার রায়। তিনি শ্যামনগর উপজেলা মিঠাচন্ডিপুর গ্রামের মৃত কাত্তিক চন্দ্র রায়ের ছেলে। দিলিপ কুমার তার লিখিত বক্তব্যে দাবী করেন, হরিনগর এলাকার দিলিপ মল্লিকের কন্যা চম্পা রানী তার স্ত্রী ছিলেন।

 

উক্ত চম্পা রানীর বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, জনৈক আব্দুল মান্নানকে দিয়ে তার ভিটা বাড়ি লিখে নেওয়ার জন্য হুমকি ও মারপিট করেন। এই ঘনটায় তিনি শ্যামনগর থানায় ১৫৮২ নং জিডি করেন।

 

এই ঘটনায় চম্পা রানী নিজেকে আহত দেখিয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদলতে মামলা করেন। দিলীপ দাবী করেন বর্তমান তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।