সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

বিলুপ্ত হচ্ছে না র‍্যাব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বিলুপ্ত হচ্ছে না র‍্যাব

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। র‍্যাব কি বিলুপ্ত হবে, নাকি পুনর্গঠন করা হবে—এই প্রশ্ন এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপ থাকলেও র‍্যাব বিলুপ্ত না করেও কাঠামোগত সংস্কার বা পুনর্গঠন সম্ভব। তবে সরকার যে সেই পথে স্পষ্টভাবে এগোচ্ছে, এমন কোনও ইঙ্গিত নেই।

সম্প্রতি র‍্যাবের জন্য নতুন যানবাহন কেনায় সরকারি বরাদ্দ অনুমোদনের পর প্রশ্ন উঠেছে—র‍্যাব কি সত্যিই বিলুপ্তির পথে, নাকি নীরবে পুনর্গঠনের দিকে এগোচ্ছে? একইসঙ্গে আলোচনায় এসেছে সংস্থাটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ কী?

এ পর্যন্ত সরকারিভাবে র‍্যাব বিলুপ্তির কোনও ঘোষণা নেই। বরং নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সাবেক কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত র‌্যাবের সম্ভাব্য কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকারি ক্রয় পরিকল্পনায় র‍্যাবের জন্য নতুন অপারেশনাল যানবাহন সংযোজনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। যদিও র‍্যাবের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের মতে, পুনর্গঠনের মাধ্যমে গুম ও ক্রসফায়ারের মতো বিতর্কিত অধ্যায় থেকে র‍্যাবকে বের করে আনা সম্ভব। কর্মকর্তারা আরও বলেন, র‍্যাব মূলত পুলিশের অধীন একটি ব্যাটালিয়নধর্মী বিশেষায়িত ইউনিট।

বাংলাদেশের এলিট বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই নিষেধাজ্ঞা হঠাৎ করে আসেনি। অন্তত এক দশকের বেশি সময় ধরে জমে ওঠা অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ধারাবাহিকতার ফল হিসেবেই এটি এসেছে।

২০০৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাহিনীটিকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পরপরই ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ বাড়তে থাকে এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরদারি জোরদার হয়।

বিশেষ করে ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার হয়ে ওঠে। ওই সময়ে কয়েকটি আলোচিত গুমের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ায়। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। একইসঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্টেও র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ফলে দেশি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে র‍্যাবের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে সতর্কবার্তা পেতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকরা ঢাকা সফরে এলে র‍্যাবের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগে মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়ে জোর দেন। নিরাপত্তা সংলাপ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতেও বিষয়টি নিয়মিত আলোচ্য ইস্যুতে পরিণত হয়।

সবশেষে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময়ের সরকার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে দাবি করে, অভিযোগগুলো বাস্তবতার প্রতিফলন নয় এবং সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে র‍্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখা হয় এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি বাড়ানো ও আচরণগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার র‍্যাব বিলুপ্তির পথে না গিয়ে বরং বাহিনীটিকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নেয়। দৃশ্যমান অভিযান কমিয়ে পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে যৌথ অপারেশন বাড়ানো হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও অনেকটা একই নীতি অনুসরণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একাধিকবার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি এলিট ফোর্স প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেটি বিলুপ্তির মাধ্যমে নাকি পুনর্গঠনের মাধ্যমে হবে, এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনও অবস্থান জানাননি।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রত্যাহার হয়নি। বিষয়টি কোন পর্যায়ে রয়েছে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, র‍্যাবের কাঠামো, বিশেষ করে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী থেকে ডেপুটেশনে কর্মকর্তা নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য র‍্যাবকে বিলুপ্ত করা নয়। বরং বাহিনীটির আচরণগত পরিবর্তন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চাপ সৃষ্টি করা। তাদের ধারণা—র‍্যাব কাঠামোগতভাবে টিকে থাকতে পারে, তবে অপারেশনাল নেতৃত্ব ধীরে ধীরে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর মতো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন র‍্যাবকে গুমের ঘটনায় জড়িত প্রধান বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত করে বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে। গত ৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে কমিশন উল্লেখ করে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের ঘটনায় র‍্যাবের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে র‍্যাবকে অন্যতম প্রধান দায়ী বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে সেটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল—র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সংযুক্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করে নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া। গুমের ঘটনায় জড়িত র‍্যাব কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে পুলিশের দক্ষ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি নতুন এলিট ফোর্স গঠন করা। তবে নতুন কোনও বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার মানদণ্ড ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয় প্রতিবেদনে।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম সংক্রান্ত কমিশনের সিনিয়র সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন  বলেন, ‘‘র‍্যাবকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গুম কমিশন থেকেও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে সরকার এখন পর্যন্ত সে পথে হাঁটেনি এবং নিকট ভবিষ্যতেও বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘জনগণের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব মূলত পুলিশেরই হওয়া উচিত। আমাদের অবস্থান হচ্ছে—র‍্যাব বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।’’

নূর খান লিটন বলেন, ‘‘সরকার যদি বাহিনীটি বহাল রাখতে চায়, সেক্ষেত্রে এটিকে নতুনভাবে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত। র‍্যাবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সংমিশ্রণ থাকা সমীচীন নয়। তিন বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করে শুধু পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে র‍্যাব পরিচালনা করা যেতে পারে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এলিট ফোর্স’ বলতে আলাদা কোনও ধারণার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ পুলিশের ভেতর থেকেই নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে একটি বিশেষ ফোর্স গঠন করা সম্ভব। আইন ও বিধিমালার আওতায় পরিচালিত একটি পেশাদার ইউনিটই জনগণের আস্থা অর্জনে বেশি কার্যকর হবে।’’

Ads small one

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত গফুর সানার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাল সানা, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল সরদার, বাবু গাজী ও হযরত আলী সানার সঙ্গে বাদীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি যাওয়ার পথে জামাল সানার বাড়ির সামনে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে।
এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই দ্বীন মোহাম্মদ সানা, ভাগ্নে জসিম ও সাহিদুল, এবং চাচাতো ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম সানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাদীর স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে।