মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

বিলুপ্ত হচ্ছে না র‍্যাব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বিলুপ্ত হচ্ছে না র‍্যাব

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। র‍্যাব কি বিলুপ্ত হবে, নাকি পুনর্গঠন করা হবে—এই প্রশ্ন এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপ থাকলেও র‍্যাব বিলুপ্ত না করেও কাঠামোগত সংস্কার বা পুনর্গঠন সম্ভব। তবে সরকার যে সেই পথে স্পষ্টভাবে এগোচ্ছে, এমন কোনও ইঙ্গিত নেই।

সম্প্রতি র‍্যাবের জন্য নতুন যানবাহন কেনায় সরকারি বরাদ্দ অনুমোদনের পর প্রশ্ন উঠেছে—র‍্যাব কি সত্যিই বিলুপ্তির পথে, নাকি নীরবে পুনর্গঠনের দিকে এগোচ্ছে? একইসঙ্গে আলোচনায় এসেছে সংস্থাটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ কী?

এ পর্যন্ত সরকারিভাবে র‍্যাব বিলুপ্তির কোনও ঘোষণা নেই। বরং নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সাবেক কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত র‌্যাবের সম্ভাব্য কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকারি ক্রয় পরিকল্পনায় র‍্যাবের জন্য নতুন অপারেশনাল যানবাহন সংযোজনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। যদিও র‍্যাবের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের মতে, পুনর্গঠনের মাধ্যমে গুম ও ক্রসফায়ারের মতো বিতর্কিত অধ্যায় থেকে র‍্যাবকে বের করে আনা সম্ভব। কর্মকর্তারা আরও বলেন, র‍্যাব মূলত পুলিশের অধীন একটি ব্যাটালিয়নধর্মী বিশেষায়িত ইউনিট।

বাংলাদেশের এলিট বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই নিষেধাজ্ঞা হঠাৎ করে আসেনি। অন্তত এক দশকের বেশি সময় ধরে জমে ওঠা অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ধারাবাহিকতার ফল হিসেবেই এটি এসেছে।

২০০৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাহিনীটিকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পরপরই ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ বাড়তে থাকে এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরদারি জোরদার হয়।

বিশেষ করে ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার হয়ে ওঠে। ওই সময়ে কয়েকটি আলোচিত গুমের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ায়। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। একইসঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্টেও র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ফলে দেশি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে র‍্যাবের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে সতর্কবার্তা পেতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকরা ঢাকা সফরে এলে র‍্যাবের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগে মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়ে জোর দেন। নিরাপত্তা সংলাপ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতেও বিষয়টি নিয়মিত আলোচ্য ইস্যুতে পরিণত হয়।

সবশেষে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময়ের সরকার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে দাবি করে, অভিযোগগুলো বাস্তবতার প্রতিফলন নয় এবং সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে র‍্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখা হয় এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি বাড়ানো ও আচরণগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার র‍্যাব বিলুপ্তির পথে না গিয়ে বরং বাহিনীটিকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নেয়। দৃশ্যমান অভিযান কমিয়ে পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে যৌথ অপারেশন বাড়ানো হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও অনেকটা একই নীতি অনুসরণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একাধিকবার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি এলিট ফোর্স প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেটি বিলুপ্তির মাধ্যমে নাকি পুনর্গঠনের মাধ্যমে হবে, এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনও অবস্থান জানাননি।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রত্যাহার হয়নি। বিষয়টি কোন পর্যায়ে রয়েছে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, র‍্যাবের কাঠামো, বিশেষ করে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী থেকে ডেপুটেশনে কর্মকর্তা নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য র‍্যাবকে বিলুপ্ত করা নয়। বরং বাহিনীটির আচরণগত পরিবর্তন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চাপ সৃষ্টি করা। তাদের ধারণা—র‍্যাব কাঠামোগতভাবে টিকে থাকতে পারে, তবে অপারেশনাল নেতৃত্ব ধীরে ধীরে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর মতো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন র‍্যাবকে গুমের ঘটনায় জড়িত প্রধান বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত করে বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে। গত ৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে কমিশন উল্লেখ করে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের ঘটনায় র‍্যাবের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে র‍্যাবকে অন্যতম প্রধান দায়ী বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে সেটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল—র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সংযুক্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করে নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া। গুমের ঘটনায় জড়িত র‍্যাব কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে পুলিশের দক্ষ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি নতুন এলিট ফোর্স গঠন করা। তবে নতুন কোনও বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার মানদণ্ড ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয় প্রতিবেদনে।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম সংক্রান্ত কমিশনের সিনিয়র সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন  বলেন, ‘‘র‍্যাবকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গুম কমিশন থেকেও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে সরকার এখন পর্যন্ত সে পথে হাঁটেনি এবং নিকট ভবিষ্যতেও বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘জনগণের জানমাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব মূলত পুলিশেরই হওয়া উচিত। আমাদের অবস্থান হচ্ছে—র‍্যাব বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।’’

নূর খান লিটন বলেন, ‘‘সরকার যদি বাহিনীটি বহাল রাখতে চায়, সেক্ষেত্রে এটিকে নতুনভাবে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত। র‍্যাবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সংমিশ্রণ থাকা সমীচীন নয়। তিন বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করে শুধু পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে র‍্যাব পরিচালনা করা যেতে পারে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এলিট ফোর্স’ বলতে আলাদা কোনও ধারণার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ পুলিশের ভেতর থেকেই নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে একটি বিশেষ ফোর্স গঠন করা সম্ভব। আইন ও বিধিমালার আওতায় পরিচালিত একটি পেশাদার ইউনিটই জনগণের আস্থা অর্জনে বেশি কার্যকর হবে।’’

Ads small one

ঋশিল্পীতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ঋশিল্পীতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: “হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিক্যাল থেরাপির ভূমিকা”Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় ঋশিল্পীর স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্যোগে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রিহ্যাবিলিটেশন হেলথ বিল্ডিংয়ের প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঋশিল্পীর প্রেসিডেন্ট মনিকা তোজি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ খালেদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সেলিমুল ইসলাম, সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট ও হেড অব ফিজিওথেরাপি ইউনিট শংকর কুমার ঢালীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফিজিওথেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

আলোচনায় বক্তারা ঋশিল্পীর ফিজিওথেরাপি কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কর্মকা-, ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন, চলাফেরার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভর জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়। আলোচনা শেষে মানুষের স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ঋশিল্পীর স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

 

কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের উদ্যোগ

শেখ জিল্লু, কলারোয়া: বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলারোয়ার যুগিখালি গ্রামের তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় ২০২৪ সাল থেকে এ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে উপজেলার যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে রোপণ করা বীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। এ সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এবার পুরো উপজেলায় বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় বছরের মধ্যে কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে পর্যায়ক্রমে তালবীজ রোপণ করা হবে। ইতিমধ্যে জয়নগর, সোনাবাড়িয়া, কুশোডাঙ্গা ও দেয়াড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে তালবীজ রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

উচ্চ ভবনে বজ্রপাতের ক্ষতি কমাতে যেমন লাইটনিং অ্যারেস্টার ব্যবহার করা হয়, তেমনি গ্রামীণ এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে তালগাছের বিস্তার ঘটিয়ে বজ্রপাতের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রতিবছর বজ্রপাতে মানুষ ও গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটে। দীর্ঘমেয়াদে তালগাছের একটি প্রাকৃতিক বলয় গড়ে তুলে জীবনের ঝুঁকি কমানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এ উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবাসী এবং বিভিন্ন এলাকার গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিচ্ছেন। অনেকেই বিনামূল্যে হাজার হাজার তালবীজ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। প্রতিদিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় ভ্যানচালক, শ্রমজীবী মানুষ ও বিপুলসংখ্যক তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তরুণ প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও নানা নেতিবাচক কর্মকা- থেকে দূরে রেখে সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কাজে সম্পৃক্ত করাও তাঁর এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে এলে কলারোয়ায় একটি সবুজ জনপদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় সামাজিক কর্মকা- হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। উদ্যোগটি শুরুর আগেই আসিফ ইকবাল উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবহিত করেছিলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।

ব্যক্তিগত অর্থায়ন, স্বেচ্ছাশ্রম এবং তরুণদের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কলারোয়ার সড়কগুলো সবুজে আচ্ছাদিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনলাইন জুয়ায় বাড়ছে দাম্পত্য কলহ ও সামাজিক অপরাধ!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
অনলাইন জুয়ায় বাড়ছে দাম্পত্য কলহ ও সামাজিক অপরাধ!

এম শফিকুল ইসলাম: সর্বনাশা মোবাইল ফোনভিত্তিক অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটেছে সাতক্ষীরার গ্রাম থেকে শহরাঞ্চলে। এই ভয়াবহ অনলাইন জুয়ার থাবায় তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

সাতক্ষীরা সীমান্ত আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান বলেন, মোবাইল ফোনের পর্দায় কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই বড় অঙ্কের টাকা জেতার প্রলোভন দেখানো হয়। দ্রুত ধনী হওয়ার এই ফাঁদে পা দিয়ে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা পেশার মানুষ নিঃস্ব হচ্ছেন। চক্রের এজেন্টরা রাতারাতি কোটিপতি বনে গেলেও সাধারণ মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেন।

শাঁখড়া কোমরপুর আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ শরীফ ইকবাল উল্লেখ করেন, অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে ছোটখাটো এজেন্টরা গ্রেপ্তার হলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। ফলে এজেন্ট পরিবর্তন হলেও অনলাইন জুয়ার দৌরাত্ম্য থামছে না। জুয়ায় হেরে সহায়-সম্পদ বিক্রি করেও অনেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। এতে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি পরিবারে অশান্তি, দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদ বাড়ছে। একই সঙ্গে জড়াচ্ছে নানা সামাজিক অপরাধে।

ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজী বলেন, অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে বহু তরুণ ও যুবক। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জমজমাট জুয়া খেলা চলছে। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও বেকার যুবকেরা এ নেশায় ঝুঁকছেন। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন এবং মানসিক চাপে ভুগছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুন মাসে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়াড়ি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে মামলা করা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সদর থানা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক মাস্টার এজেন্ট আটক করা হয়। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর মেহেরপুর জেলার শিবপুর গ্রামের জিনারুল ইসলামের ছেলে মুর্শিদ আলম (২৫) ও বামনডাঙ্গা গ্রামের মাসুদুল আলমের ছেলে মুসাই আলমকে সাতক্ষীরা থেকে আটক করে পুলিশ।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতিয়ার সরদারের ছেলে ও মাস্টার এজেন্ট তৈয়ব হাসান (২৭) এবং আজিজুল সানার ছেলে তারেকুজ্জামান জুয়েলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটা ও তালা থানা এলাকা থেকে ১০ জন জুয়াড়িকে আটক এবং তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানেও অনলাইন জুয়াড়ি চক্রের মাস্টারমাইন্ড এজেন্টসহ দুই সদস্য আটক হয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অনলাইন জুয়ার বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেকোনো স্থান থেকে তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।