মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব তুলা দিবস: সাদা তন্তুর বিশ্ব অর্থনীতির বুনন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব তুলা দিবস: সাদা তন্তুর বিশ্ব অর্থনীতির বুনন

সাকিবুর রহমান বাবলা

তুলা শুধু একটি প্রাকৃতিক তন্তু বা পোশাক তৈরির কাঁচামাল নয়; বিশ্ব অর্থনীতি, কৃষি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য। সাদা রঙের এই আঁশ তাই বিশ্বজুড়ে ‘সাদা সোনা’ নামে পরিচিত। প্রতি বছর ৭ অক্টোবর বিশ্ব তুলা দিবস পালিত হয়। তুলা উৎপাদনকারী কৃষক, শ্রমিক, শিল্পোদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অবদান তুলে ধরা এবং তুলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উন্নয়নের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এ দিবসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

বিশ্ব তুলা দিবসের উদ্যোগের পেছনে রয়েছে আফ্রিকার চারটি তুলা উৎপাদনকারী দেশ—বেনিন, বুরকিনা ফাসো, চাদ ও মালি। সম্মিলিতভাবে পরিচিত ‘কটন ফোর’ দেশগুলো তুলার বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদর দপ্তরে প্রথম বিশ্ব তুলা দিবস পালিত হয়। পরে ২০২১ সালের আগস্টে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৭৫/৩১৮ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ৭ অক্টোবরকে বিশ্ব তুলা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে দিবসটি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক দিবসের ক্যালেন্ডারে স্থায়ী স্থান পায়।

বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে তুলা চাষ হয়। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ মিলিয়ন টন তুলা উৎপাদিত হয়। চীন, ভারত, ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রধান তুলা উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। কাঁচা তুলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তুলা চাষ ও এর সঙ্গে যুক্ত সরবরাহব্যবস্থায় বিশ্বের বিপুলসংখ্যক কৃষক, শ্রমিক ও পরিবার জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তুলার ব্যবহারও বহুমুখী। পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে তুলার আঁশ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলেও তুলাবীজ থেকে তেল ও পশুখাদ্য উৎপাদিত হয়। চিকিৎসা ও কাগজ শিল্পেও তুলার ব্যবহার রয়েছে। ফলে তুলা একটি কৃষিপণ্য থেকে জিনিং, সুতা উৎপাদন, বয়ন, পোশাক তৈরি ও রপ্তানি পর্যন্ত দীর্ঘ শিল্পকৃঙ্খল তৈরি করেছে। এ কৃঙ্খলে কৃষক থেকে শুরু করে শিল্পশ্রমিক—বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

তুলা উৎপাদনের সঙ্গে কৃষকের জীবন ও শ্রম সরাসরি যুক্ত। বীজ বপন, পরিচর্যা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ, রোগ-পোকা দমন এবং তুলা সংগ্রহ-প্রতিটি ধাপে শ্রমের প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে তুলা উৎপাদনে উন্নত বীজ, সেচ, সার, নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহার, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক কৃষিপদ্ধতির গুরুত্ব রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, খরা, পানির প্রাপ্যতা ও উৎপাদন ব্যয় তুলা চাষের ওপর প্রভাব ফেলছে। তুলার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও জৈব তুলা উৎপাদনের প্রতিও বিশ্বে আগ্রহ বাড়ছে।

বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব তুলা দিবসের গুরুত্ব বিশেষ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু বিশাল এই শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮৫ লাখ বেল তুলার চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন প্রায় ২ লাখ বেল। ফলে দেশের চাহিদার মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদন থেকে আসে এবং প্রায় ৯৭ শতাংশ চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়। যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে তুলা চাষের বিস্তার রয়েছে। ঝিনাইদহ দেশের অন্যতম প্রধান তুলা উৎপাদনকারী জেলা। দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি তুলা চাষের জন্য উপযোগী। সাধারণত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বীজ বপন এবং জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে তুলা সংগ্রহ করা হয়।

দেশে তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির দায়িত্বে রয়েছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। ১৯৭২ সালে গঠিত এ প্রতিষ্ঠান দেশীয় তুলা উৎপাদন সম্প্রসারণ, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চরাঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল ও উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় তুলা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও তুলা উৎপাদনে অবস্থান তুলনামূলকভাবে নিচে। দেশের স্পিনিং ও টেক্সটাইল শিল্পের প্রয়োজন মেটাতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কাঁচা তুলা আমদানি করা হয়। ব্রাজিল, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের তুলার অন্যতম উৎস। এ আমদানিতে প্রতিবছর কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।

তুলা শিল্পের সঙ্গে শ্রমিকের জীবনও নিবিড়ভাবে জড়িত। মাঠের কৃষিশ্রমিক থেকে জিনিং, স্পিনিং ও টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক-বিস্তৃত কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এ খাতে। শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, কর্মঘন্টা, ন্যায্য মজুরি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। তুলার ধুলাবালি ও কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের সংস্পর্শে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, নিরাপদ কর্মপদ্ধতি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্ব তুলা দিবস তাই শুধু একটি কৃষিপণ্যের দিবস নয়; এটি কৃষক, শ্রমিক, শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি বৈশ্বিক দিবস। তুলার ন্যায্য মূল্য, কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা, শ্রমিকের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থার গুরুত্ব এ দিবসে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের জন্যও এ দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দেশীয় তুলা উৎপাদন বাড়ানো, অনাবাদি ও বিকল্প জমিতে চাষ সম্প্রসারণ, উন্নত জাতের বীজ ও প্রযুক্তি ব্যবহার, কৃষকের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা জোরদারের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তুলা উৎপাদন বাড়লে দেশের কৃষক যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের কাঁচামাল সরবরাহেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর সেই সম্ভাবনার কেন্দ্রেই রয়েছে সাদা তুলার ছোট্ট আঁশ-
যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের শ্রম, শ্রমিকের জীবন, শিল্পের গতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির বিশাল এক প্রবাহ।

Ads small one

দীর্ঘ ৯ বছর পর আবাদের হাট বাজার কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন, সভাপতি গফফার ও সম্পাদক রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ ৯ বছর পর আবাদের হাট বাজার কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন, সভাপতি গফফার ও সম্পাদক রেজাউল

নিজস্ব প্রতিনিধি: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৯ বছর পর সাতক্ষীরার আবাদের হাট বাজার কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দুটি প্যানেলে ৩৪ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ৬ জন প্রার্থী অংশ নেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল দুটি ছিলÑআব্দুল গফফার ও এস এম আজিমুল্লাহ (ময়না) প্যানেল এবং মো. আকরাম ও মো. আব্দুল মজিদ প্যানেল। নির্বাচনে ৬০২ জন ভোটারের মধ্যে ৫৫৬ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, সভাপতি পদে আব্দুল গফফার-আজিমুল্লাহ প্যানেল ১০টি, আকরাম-মজিদ প্যানেল ৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২টি পদে জয়লাভ করেছেন।

কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আব্দুল গফফার (বাস প্রতীক) ৩৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আকরাম হোসেন (মোটরসাইকেল প্রতীক) পেয়েছেন ১৯৬ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল ইসলাম (ডালিম প্রতীক) ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহিনুর রহমান (বই প্রতীক) পেয়েছেন ৯৬ ভোট।

সহসভাপতি পদে মো. শফিকুল ইসলাম (কলম প্রতীক, ২৬১ ভোট) ও মো. শামসুর রহমান (হরিণ প্রতীক, ২২৪ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মাসুম বিল্লাহ (উড়োজাহাজ প্রতীক, ৩৪৩ ভোট) ও জালাল উদ্দিন (টেবিল ফ্যান প্রতীক, ২৭৮ ভোট) জয় পেয়েছেন।

অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেনÑসাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন (হাতি, ২৮০ ভোট), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ হোসেন (চেয়ার, ৪৫৬ ভোট), কোষাধ্যক্ষ আমিনুল এহসান ( ব্যাট, ২৭৫ ভোট), দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর ইসলাম (মোরগ, ৩৫১ ভোট), প্রচার সম্পাদক আব্দুস সামাদ মিন্টু (মাইক, ৩১২ ভোট), ধর্মবিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান (ঘুড়ি, ৩৪৭ ভোট) এবং ক্রীড়া সম্পাদক মামুনুর রহমান (আনারস, ৩২২ ভোট)।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেনÑআমিরুল ইসলাম (কেটলি, ৩৫৪ ভোট), সালাউদ্দিন (হাঁস, ২৮৩ ভোট), শাহাজান আলী (বাইসাইকেল, ২৬১ ভোট) ও মনিরুল ইসলাম (টেবিল, ২৫৯ ভোট)।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ১১ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ও ৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এবং সদস্যসচিব ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম ভোটিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রে পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আবুল কালাম জানান, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রার্থীরা নিজ নিজ সমর্থনের ভিত্তিতে জয়ী হয়েছেন।

সাতক্ষীরায় শিশু অধিকার দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিশু অধিকার দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘শিশুর অধিকার হোক সুরক্ষার অঙ্গীকার’Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিঠুন চক্রবর্তী, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল।

জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের অধিকার নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রতিটি শিশুর কথা শোনা ও বোঝার চেষ্টা করা সবার দায়িত্ব। পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীত, কবিতা, গল্প, চিত্রশিল্প, নৃত্য ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিশুদের প্রতিভাকে বিকশিত করে যাচ্ছে। এই বিশ্বাসকে ধারণ করে শিশুদের জন্য গৃহীত উদ্যোগগুলোকে আরও সময়োপযোগী করতে হবে।

তিনি আরও জানান, শিশু একাডেমি শিশুদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে দেশজুড়ে চিত্রাঙ্কন, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটক, খেলাধুলা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মতো নানা সৃজনশীল কোর্স পরিচালনা করে আসছে। এসব প্রশিক্ষণ শাখার মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এ ছাড়া একাডেমির প্রকাশনা শাখা থেকে নিয়মিত শিশুতোষ ও সৃজনশীল বই প্রকাশ করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি শিশুর হাসি যেন উন্নয়নের সবচেয়ে সুন্দর সূচক হয় এবং শিশুর নিরাপত্তা যেন রাষ্ট্রের সবচেয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি হয়Ñসেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপরই একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নির্ভর করে। তাই প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিনোদন ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নির্যাতন, সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বৈষম্য প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

শিশু অধিকার দিবসে শিশুদের ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
শিশু অধিকার দিবসে শিশুদের ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত

এম. এম হায়দার আলী

একটি শিশুর হাসির চেয়ে নির্মল দৃশ্য পৃথিবীতে খুব কমই আছে। সেই হাসির মধ্যে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি সমাজের সম্ভাবনা এবং একটি দেশের আগামী দিনের প্রতিচ্ছবি। আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক-কেউ হবে শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ সাংবাদিক, কেউ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। তাই শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও অন্যতম প্রধান শর্ত।

শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সেই জায়গা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত হলে ১৫০ জন শিশু ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য-‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে এমন একটি আয়োজনে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটায়। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই আয়োজন থেকে শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র কী ধরনের বাস্তব অঙ্গীকার গ্রহণ করে এবং সেই অঙ্গীকার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। কারণ শিশুদের ভবিষ্যৎ কেবল একটি দিনের অনুষ্ঠান, বক্তব্য কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রতিদিনের রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে জড়িত। শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’Ñপ্রতিপাদ্যটি তাই অত্যন্ত সময়োপযোগী। কারণ শিশুর ভবিষ্যৎ বলতে শুধু তার হাতে বই তুলে দেওয়া বোঝায় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নিরাপদ ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসার অধিকার, খেলাধুলার সুযোগ, নির্মল পরিবেশ, নিরাপদ চলাচল, সাইবার নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং ভয়মুক্তভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার।

 

আমরা প্রায়ই বলি-‘শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। কিন্তু নিজেদের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে, সেই ভবিষ্যৎকে আমরা কতটা নিরাপদ করে তুলতে পেরেছি ? একদিকে রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে নানা আয়োজন হচ্ছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে, ছবি আঁকা হচ্ছে, স্মারক উপহার দেওয়া হচ্ছে, স্মরণিকা প্রকাশিত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের কোনো কোনো প্রান্তে এখনো এমন শিশু আছে, যার কাছে বিদ্যালয়ে যাওয়ার চেয়ে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। কেউ শ্রমে যুক্ত হচ্ছে, কেউ বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে, কেউ বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে, কেউ নির্যাতনের ভয় নিয়ে বেড়ে উঠছে। আবার কেউ মাদক, সহিংসতা, সাইবার অপরাধ কিংবা মানব পাচারের ঝুঁকিতে পড়ছে। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবায়। একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত হয়, যখন উন্নয়নের সুফল সমাজের সবচেয়ে অসহায় শিশুটির কাছেও পৌঁছে যায়। শহরের নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু যেমন সুযোগ পাবে, প্রত্যন্ত চর, উপকূল, নদীভাঙন কিংবা দুর্গম এলাকার শিশুটিও তেমন সুযোগ পাবে,এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তিও এই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অর্ধশতাব্দী ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শিশুর পৃথিবীও বদলে গেছে। একসময় শিশুর বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল মাঠ, গল্পের বই, রেডিও কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখন শিশুর হাতে স্মার্টফোন, সামনে ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন পৃথিবী। তাই শিশু অধিকার রক্ষার সংজ্ঞাটিও এখন আরও বিস্তৃত।
একটি শিশুকে শুধু শারীরিক নির্যাতন থেকে রক্ষা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাকে অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং, প্রতারণা, অনলাইন আসক্তি ও ডিজিটাল অপরাধ থেকেও সুরক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির সুফল ব্যবহারের সুযোগও দিতে হবে।

 

প্রযুক্তিকে ভয় দেখিয়ে দূরে রাখা নয়, বরং নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। শিশুর অধিকার মানে তার কথা বলার অধিকারও। শিশুকে শুধু নির্দেশ পালনকারী হিসেবে দেখলে চলবে না। তার স্বপ্ন কী, সে কী হতে চায়, কোন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে,সেসব কথাও শুনতে হবে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের যে কর্মসূচি রয়েছে, তার গুরুত্ব এখানেই। রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকেরা যদি শিশুদের সরাসরি কথা শোনেন, তাহলে বাস্তব সমস্যাগুলো বোঝার সুযোগ আরও বাড়ে। তবে সেই মতবিনিময়ের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হবে তখনই, যখন শিশুদের উত্থাপিত বিষয়গুলো নীতি ও বাস্তব কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হবে।

শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশও জরুরি। স্কুলে যাওয়া-আসার নিরাপত্তা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, নিরাপদ খেলার মাঠ, সড়কে নিরাপদ চলাচল,এসবও শিশু অধিকারের অংশ। শহরের অনেক এলাকায় খেলার মাঠ সংকুচিত হচ্ছে। গ্রামের অনেক শিশুরও নিরাপদ খেলাধুলার জায়গা নেই। অথচ খেলাধুলা কোনো বিলাসিতা নয়; শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অপরিহার্য অংশ। শিক্ষার ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করানোই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না।

 

একজন শিশুকে মানবিক, সৎ, দায়িত্বশীল, বিজ্ঞানমনস্ক ও সহনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত। তার প্রশ্ন করার অধিকার থাকতে হবে, ভুল থেকে শেখার সুযোগ থাকতে হবে এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার শিক্ষা থাকতে হবে। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। একটি শিশু কোন পরিবারে জন্মেছে, সেটি তার নিজের পছন্দ নয়। তাই পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষা, চিকিৎসা, পুষ্টি কিংবা নিরাপদ শৈশব থেকে বঞ্চিত না হয়,এ দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের।

বিশেষ করে পথশিশু, প্রতিবন্ধী শিশু, এতিম, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, শ্রমে নিয়োজিত শিশু এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার শিশুদের জন্য আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি প্রয়োজন। শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না; সেই নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
শিশু অধিকার দিবস তাই শুধু ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়। এটি নিজেদের কাছে একটি প্রশ্ন করার দিনÑআমরা কি সত্যিই আমাদের শিশুদের প্রাপ্য অধিকার দিতে
পারছি ? একটি শিশু যখন ক্ষুধার্ত থাকে, তখন তার কাছে সুন্দর বক্তৃতার মূল্য কম। একটি শিশু যখন বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, তখন তার হাতে স্মারক তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। একটি শিশু যখন নির্যাতনের শিকার হয়, তখন তার জন্য শুধু সহানুভূতি নয়,দ্রুত বিচার, মানসিক সহায়তা ও কার্যকর সুরক্ষা প্রয়োজন। একটি শিশু যখন বাল্য বিবাহের মুখে পড়ে, তখন পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। শিশুর অধিকার বাস্তবায়নে তাই প্রয়োজন রাষ্ট্র, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ। প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের কাছে এই দিবসের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হতে পারে, শিশুদের নিয়ে ঘোষিত প্রতিটি অঙ্গীকার যেন বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ নেয়। কারণ একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার কাজ কোনো একক ব্যক্তি বা সরকারের একার দায়িত্ব নয়; তবে রাষ্ট্রের নীতি ও নেতৃত্ব এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আজকের শিশু আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের চোখে যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকবে আগামী দিনের রাষ্ট্র। তাই শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তার পাশে নিরাপদ পরিবার তৈরি করতে হবে, মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, খেলাধুলার মাঠ দিতে হবে এবং তাকে ভয়মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।

শিশু একাডেমির ৫০ বছরের পথচলা আমাদের অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয়। আর শিশু অধিকার দিবস আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে শেখায়। সেই ভবিষ্যৎ যেন কেবল অনুষ্ঠানের মঞ্চে উচ্চারিত সুন্দর শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; তা যেন প্রতিটি শিশুর জীবনে বাস্তব অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আমাদের প্রত্যাশা একটাই, শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সত্যিই সুরক্ষিত। শিশুর অধিকার হোক কাগজের অঙ্গীকার নয়, বাস্তব জীবনের নিশ্চয়তা। কারণ আজকের শিশুকে আমরা যেমন বাংলাদেশ দেব, আগামীকাল সেই শিশুই আমাদের তেমন বাংলাদেশ ফিরিয়ে দেবে। শিশুর হাসি বাঁচুক, শৈশব বাঁচুক,সুরক্ষিত হোক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট