মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৃদ্ধাশ্রম নয়Ñপ্রবীণ জীবনের নতুন দর্শন: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
বৃদ্ধাশ্রম নয়Ñপ্রবীণ জীবনের নতুন দর্শন: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় একসময় বার্ধক্য মানেই ছিল সংসারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান। পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা ছিলেন সিদ্ধান্তের অভিভাবক, অভিজ্ঞতার ভা-ার এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক। যৌথ পরিবারের সেই দীর্ঘ সংস্কৃতিতে বাবা-মা বা দাদা-দাদিকে আলাদা কোথাও রেখে আসার ধারণা শুধু অচিন্তনীয়ই নয়, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে অসম্মানের বলেও বিবেচিত হতো।
কিন্তু সময় বদলেছে। নগরায়ণ, কর্মব্যস্ত জীবন, বিদেশমুখী প্রজন্ম, ছোট পরিবার, আর্থিক চাপ ও সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের প্রবীণ জীবনের বাস্তবতাও বদলে গেছে। আজ অনেক প্রবীণ মানুষ শারীরিক অসুস্থতা, একাকিত্ব, মানসিক অবসাদ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সেই বাস্তবতা থেকেই দেশে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে “বৃদ্ধাশ্রম”, “প্রবীণ নিবাস”, “রিটায়ারমেন্ট হোম” কিংবা “সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি”।
তবে আধুনিক সময়ে “বৃদ্ধাশ্রম” শব্দটির অর্থও বদলাচ্ছে। এটি আর কেবল অসহায় মানুষের আশ্রয় নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি হয়ে উঠছে স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, সঙ্গ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের বিকল্প আবাস।
বাংলাদেশে সংগঠিতভাবে বৃদ্ধাশ্রম চালুর ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন দাতব্য ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান অসহায় বৃদ্ধদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ধারণা করা হয়, ১৯৮০-এর দশকে ঢাকায় এবং কিছু জেলা শহরে প্রথম দিকের বৃদ্ধাশ্রম কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে সরকারি সমাজসেবা অধিদপ্তর, বেসরকারি সংগঠন, ধর্মীয় ট্রাস্ট ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রবীণ নিবাসের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
বাংলাদেশে বৃদ্ধাশ্রম ধারণার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজসেবকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার আগারগাঁও, মিরপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবীণদের জন্য নিবাস গড়ে ওঠে। পরে “প্রবীণ হিতৈষী সংঘ”, “চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার”, “আপন নিবাস”, “বিরাম”, “প্রবীণ নিবাস” ইত্যাদি নামের প্রতিষ্ঠান আলোচনায় আসে।
বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে কয়েক ডজন বৃদ্ধাশ্রম বা প্রবীণ নিবাস রয়েছে বলে বিভিন্ন সামাজিক সংস্থার তথ্যে জানা যায়। তবে সঠিক সংখ্যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, কারণ নতুন নতুন নিবাস গড়ে উঠছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান শুধু অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের জন্য, আবার কিছু উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত প্রবীণদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা ও আবাস সুবিধাসম্পন্ন।
একসময় সমাজে ধারণা ছিল-যারা পরিবার থেকে বিতাড়িত বা একেবারে নিঃস্ব, তারাই বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন। কিন্তু আধুনিক বাস্তবতা সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে। এখন অনেক বিত্তশালী, শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত মানুষও স্বেচ্ছায় প্রবীণ নিবাসে বসবাস করছেন। কারণ সেখানে রয়েছে নিয়মিত চিকিৎসা, নিরাপত্তা, সঙ্গ, মানসিক সহায়তা ও পেশাদার পরিচর্যা।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত “জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড হাসপাতাল” নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই আধুনিক প্রবীণ নিবাসে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপার্টমেন্ট, হাসপাতাল, কেয়ারগিভার, ফিজিওথেরাপি, লাইব্রেরি, হাঁটার জায়গা, এমনকি মানসিক প্রশান্তির ব্যবস্থাও।
এখানে শুধু অসহায় মানুষ নন, সাবেক রাষ্ট্রদূত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিদেশফেরত নাগরিকরাও বসবাস করছেন। অনেকেই বলছেন, এটি “বৃদ্ধাশ্রম” নয়; বরং বার্ধক্যের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।
বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়ছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি। জাতিসংঘের প্রক্ষেপণ বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রতি পাঁচজনের একজন প্রবীণ হবেন। ফলে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা আগামী দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।
প্রবীণদের বড় সমস্যা শুধু শারীরিক অসুস্থতা নয়; একাকিত্বও একটি ভয়াবহ বাস্তবতা। অনেক সন্তানেরা বিদেশে থাকেন, কেউ কর্মসূত্রে অন্য শহরে, আবার কেউ নিজ নিজ ব্যস্ততায় আবদ্ধ। ফলে বাড়িতে থেকেও অনেক প্রবীণ নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেন। আধুনিক প্রবীণ নিবাসগুলো এই একাকিত্ব কমাতে সামাজিক যোগাযোগ, সঙ্গ, মানসিক সহায়তা ও সক্রিয় জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।
সাতক্ষীরাতেও প্রবীণদের জন্য কিছু উদ্যোগ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে “বৃদ্ধাশ্রম”, “প্রবীণ সেবা কেন্দ্র” বা “প্রবীণ নিবাস” ধরনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের কথা স্থানীয়ভাবে জানা যায়। এর মধ্যে কিছু সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় পরিচালিত, আবার কিছু ব্যক্তিগত ও দাতব্য উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। সাতক্ষীরা শহর ও আশপাশে বয়স্কদের জন্য আশ্রয় ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এমন কয়েকটি সংগঠনের নাম স্থানীয়ভাবে শোনা যায়, যদিও এদের সবগুলো পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বৃদ্ধাশ্রম নয়।
তবে বাস্তবতা হলো, সাতক্ষীরার মতো জেলায় প্রবীণ নিবাসের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে। কারণ এখান থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। ফলে গ্রামে একা পড়ে থাকছেন অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা।
এই পরিস্থিতিতে শুধু বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ করলেই হবে না; প্রয়োজন প্রবীণবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা। পরিবার, রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব—সবকিছুর সমন্বয়েই একজন প্রবীণ মানুষ সম্মানজনক জীবন পেতে পারেন।
বার্ধক্য কোনো অভিশাপ নয়; এটি জীবনের স্বাভাবিক অধ্যায়। যারা একদিন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে শ্রম দিয়েছেন, তাদের শেষ বয়স যেন অবহেলা, নিঃসঙ্গতা বা অনিশ্চয়তায় না কাটেÑসেটিই হওয়া উচিত সভ্য সমাজের অঙ্গীকার।
আজকের আধুনিক প্রবীণ নিবাসগুলো হয়তো সেই নতুন বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ শুধু আশ্রয় নয়, খুঁজছেন সম্মান, যতœ, নিরাপত্তা ও একটু মানবিক সঙ্গ। লেখক: সভাপতি, উদীচী, সাতক্ষীরা জেলা শাখা

Ads small one

কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার রেজাকাটি শহীদ জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক নতুন ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বাধা দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও তাঁর সহযোগীর হাতে জমির মালিক দম্পতি লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই (সোমবার) জমির মালিক ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম ও সহকারী শিক্ষক কাকরকে অভিযুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসানপুর ইউনিয়নের ৫০ নম্বর রেজাকাটি মৌজার ৩৭৫৪ নম্বর দলিল ও সংশ্লিষ্ট খতিয়ান সূত্রে ফিরোজা খাতুন ডাঙ্গা ও অন্যান্য শ্রেণিতে মোট ১৮.৩৮ শতক জমির মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে বিভিন্ন ফলের গাছগাছালিও রোপণ করেছিলেন তিনি। তবে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের আয়াকে দিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলেন এবং উক্ত বিতর্কিত জমিতেই স্কুলের নতুন ভবনের কাজ শুরু করেন।
গত ২০ জুলাই সকালে ফিরোজা বেগম ও তাঁর স্বামী মো. আব্দুল হাদিস নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং সরকারি আমিন দিয়ে জমি মেপে ভবন করার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আব্দুল হাদিসকে মারধর ও গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম বলেন, মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। স্কুলে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে। ফিরোজা বেগমের জমি স্কুলের ভেতর রয়েছে কিনা তা তাঁর জানা নেই; সরকারিভাবে নকশা এলে জমি মেপে দেখা হবে।
যোগাযোগ করা হলে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন জানান, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা ভুয়া এবং স্বাক্ষর জালের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে শেষ ধাপের তদন্ত শেষে এ তথ্য জানা যায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তেরখাদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মতিয়ার রহমান ও খুলনা সদর থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এই অভিযোগের ওপর তদন্ত চালান। এতে উপজেলার ৩৪ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য লিখিত ও মৌখিকভাবে জমা দেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের রিট মামলার খরচ বাবদ শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ও সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীম মিলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করেছেন। তবে অভিযোগের মূল ভিত্তি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়।
তদন্তে হাজির হয়ে অভিযোগকারী হিসেবে নাম থাকা সহকারী শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমন কোনো কাগজে সই করেননি; তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। অন্যদিকে ফোনে যোগাযোগের পর অপর অভিযোগকারী সুভাষ চন্দ্র মন্ডলও একই কথা জানিয়ে বলন, মধুখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার তাঁর সই জাল করেছেন।
অবশ্য বাবুল আক্তার জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমতি নিয়েই অন্য প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন। এ বক্তব্যের পরই সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্বাক্ষর জালিয়াতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
পাইকগাছা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বলেন, ১০ম গ্রেড নিয়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি। শিক্ষক সংগঠনকে হেয় করতে একদল শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় আশাশুনি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের আর্থিক সহায়তায় এবং ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘আইসিআরডিসিভি-৩’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু।
ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শামসুল হক মৃধার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক সম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিতীশ চন্দ্র গোলদার, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মণ, এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির।
এ ছাড়া সভায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাস, বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রিজাউল করিম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী ও আবু বক্কর সিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিপিপি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো এবং টেকসই অভিযোজন কৌশলের ওপর জোর দেন বক্তারা। দুর্যোগ পূর্ববর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ ও ঝুঁকি হ্রাসে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।