সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৃদ্ধাশ্রম নয়Ñপ্রবীণ জীবনের নতুন দর্শন: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
বৃদ্ধাশ্রম নয়Ñপ্রবীণ জীবনের নতুন দর্শন: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় একসময় বার্ধক্য মানেই ছিল সংসারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান। পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা ছিলেন সিদ্ধান্তের অভিভাবক, অভিজ্ঞতার ভা-ার এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারক। যৌথ পরিবারের সেই দীর্ঘ সংস্কৃতিতে বাবা-মা বা দাদা-দাদিকে আলাদা কোথাও রেখে আসার ধারণা শুধু অচিন্তনীয়ই নয়, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে অসম্মানের বলেও বিবেচিত হতো।
কিন্তু সময় বদলেছে। নগরায়ণ, কর্মব্যস্ত জীবন, বিদেশমুখী প্রজন্ম, ছোট পরিবার, আর্থিক চাপ ও সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের প্রবীণ জীবনের বাস্তবতাও বদলে গেছে। আজ অনেক প্রবীণ মানুষ শারীরিক অসুস্থতা, একাকিত্ব, মানসিক অবসাদ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সেই বাস্তবতা থেকেই দেশে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে “বৃদ্ধাশ্রম”, “প্রবীণ নিবাস”, “রিটায়ারমেন্ট হোম” কিংবা “সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি”।
তবে আধুনিক সময়ে “বৃদ্ধাশ্রম” শব্দটির অর্থও বদলাচ্ছে। এটি আর কেবল অসহায় মানুষের আশ্রয় নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি হয়ে উঠছে স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, সঙ্গ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের বিকল্প আবাস।
বাংলাদেশে সংগঠিতভাবে বৃদ্ধাশ্রম চালুর ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন দাতব্য ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান অসহায় বৃদ্ধদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ধারণা করা হয়, ১৯৮০-এর দশকে ঢাকায় এবং কিছু জেলা শহরে প্রথম দিকের বৃদ্ধাশ্রম কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে সরকারি সমাজসেবা অধিদপ্তর, বেসরকারি সংগঠন, ধর্মীয় ট্রাস্ট ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রবীণ নিবাসের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
বাংলাদেশে বৃদ্ধাশ্রম ধারণার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজসেবকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার আগারগাঁও, মিরপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবীণদের জন্য নিবাস গড়ে ওঠে। পরে “প্রবীণ হিতৈষী সংঘ”, “চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার”, “আপন নিবাস”, “বিরাম”, “প্রবীণ নিবাস” ইত্যাদি নামের প্রতিষ্ঠান আলোচনায় আসে।
বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে কয়েক ডজন বৃদ্ধাশ্রম বা প্রবীণ নিবাস রয়েছে বলে বিভিন্ন সামাজিক সংস্থার তথ্যে জানা যায়। তবে সঠিক সংখ্যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, কারণ নতুন নতুন নিবাস গড়ে উঠছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান শুধু অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের জন্য, আবার কিছু উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত প্রবীণদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা ও আবাস সুবিধাসম্পন্ন।
একসময় সমাজে ধারণা ছিল-যারা পরিবার থেকে বিতাড়িত বা একেবারে নিঃস্ব, তারাই বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন। কিন্তু আধুনিক বাস্তবতা সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে। এখন অনেক বিত্তশালী, শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত মানুষও স্বেচ্ছায় প্রবীণ নিবাসে বসবাস করছেন। কারণ সেখানে রয়েছে নিয়মিত চিকিৎসা, নিরাপত্তা, সঙ্গ, মানসিক সহায়তা ও পেশাদার পরিচর্যা।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত “জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড হাসপাতাল” নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই আধুনিক প্রবীণ নিবাসে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপার্টমেন্ট, হাসপাতাল, কেয়ারগিভার, ফিজিওথেরাপি, লাইব্রেরি, হাঁটার জায়গা, এমনকি মানসিক প্রশান্তির ব্যবস্থাও।
এখানে শুধু অসহায় মানুষ নন, সাবেক রাষ্ট্রদূত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিদেশফেরত নাগরিকরাও বসবাস করছেন। অনেকেই বলছেন, এটি “বৃদ্ধাশ্রম” নয়; বরং বার্ধক্যের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।
বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়ছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি। জাতিসংঘের প্রক্ষেপণ বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রতি পাঁচজনের একজন প্রবীণ হবেন। ফলে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা আগামী দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।
প্রবীণদের বড় সমস্যা শুধু শারীরিক অসুস্থতা নয়; একাকিত্বও একটি ভয়াবহ বাস্তবতা। অনেক সন্তানেরা বিদেশে থাকেন, কেউ কর্মসূত্রে অন্য শহরে, আবার কেউ নিজ নিজ ব্যস্ততায় আবদ্ধ। ফলে বাড়িতে থেকেও অনেক প্রবীণ নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেন। আধুনিক প্রবীণ নিবাসগুলো এই একাকিত্ব কমাতে সামাজিক যোগাযোগ, সঙ্গ, মানসিক সহায়তা ও সক্রিয় জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।
সাতক্ষীরাতেও প্রবীণদের জন্য কিছু উদ্যোগ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে “বৃদ্ধাশ্রম”, “প্রবীণ সেবা কেন্দ্র” বা “প্রবীণ নিবাস” ধরনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের কথা স্থানীয়ভাবে জানা যায়। এর মধ্যে কিছু সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় পরিচালিত, আবার কিছু ব্যক্তিগত ও দাতব্য উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। সাতক্ষীরা শহর ও আশপাশে বয়স্কদের জন্য আশ্রয় ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এমন কয়েকটি সংগঠনের নাম স্থানীয়ভাবে শোনা যায়, যদিও এদের সবগুলো পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বৃদ্ধাশ্রম নয়।
তবে বাস্তবতা হলো, সাতক্ষীরার মতো জেলায় প্রবীণ নিবাসের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে। কারণ এখান থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। ফলে গ্রামে একা পড়ে থাকছেন অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা।
এই পরিস্থিতিতে শুধু বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ করলেই হবে না; প্রয়োজন প্রবীণবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা। পরিবার, রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব—সবকিছুর সমন্বয়েই একজন প্রবীণ মানুষ সম্মানজনক জীবন পেতে পারেন।
বার্ধক্য কোনো অভিশাপ নয়; এটি জীবনের স্বাভাবিক অধ্যায়। যারা একদিন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে শ্রম দিয়েছেন, তাদের শেষ বয়স যেন অবহেলা, নিঃসঙ্গতা বা অনিশ্চয়তায় না কাটেÑসেটিই হওয়া উচিত সভ্য সমাজের অঙ্গীকার।
আজকের আধুনিক প্রবীণ নিবাসগুলো হয়তো সেই নতুন বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ শুধু আশ্রয় নয়, খুঁজছেন সম্মান, যতœ, নিরাপত্তা ও একটু মানবিক সঙ্গ। লেখক: সভাপতি, উদীচী, সাতক্ষীরা জেলা শাখা

Ads small one

দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা ও জীবিকায় সাহায্যার্থে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ।
রোববার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় তালা উপজেলার মির্জাপুর বাজারে কাদের বক্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে নগদ টাকা ও ছাগল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. আলাউদ্দিন মল্লিকের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, “ধনী মানুষের সম্পদের ভেতরে আল্লাহ তাআলা গরিবের হক রেখে দিয়েছেন। আজকের সমাজে যদি জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকত, তাহলে কোনো গরিব খুঁজে পাওয়া যেত না। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ১০ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষকে ১টি করে ছাগল এবং ১ জনকে চায়ের দোকান দেওয়ার জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। ছাগলপ্রাপ্তরা হলেন বারাত গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ ও মোসাঃ সাজেদা বেগম, কুমিরার ফাতেমা বেগম, মদনপুরের আছিয়া বেগম, ভাগবা গ্রামের শিরিনা বেগম, সেনপুরের মফিজুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ, নোয়াকাটির নিসার আলী এবং জামাল উদ্দিন। এছাড়া চায়ের দোকান করার জন্য হাজরাপাড়ার কামরুল ইসলামকে নগদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, ভিডিএফের জেলা সভাপতি ডা. আফতাব উদ্দীন, তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ, সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাজমুল হক খান, কুমিরা ইউনিয়ন আমীর মাস্টার বকুল, সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম, মাস্টার মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ছাত্রনেতা জুবায়ের, সমাজসেবক আল মামুন, ডা. আবু হোসেন ও মতিউর রহমান।

 

সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কমিটি থেকে একযোগে ৮ নেতার পদত্যাগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির বর্তমান ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি প্রত্যাখান করে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৮ জন শীর্ষ নেতা। পদত্যাগকারীরা হলেন কার্যকরী সভাপতি শেখ সাঈদ আহমেদ রঞ্জু, সহ-সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুজ্জামান বাবলু, এবং কার্যকরী সদস্য যথাক্রমে আব্দুল মোমেন খান চৌধুরী (সান্টু), মো. আবু হাসান, মো. নুরুজ্জামান জামু, শেখ শাহাজাহান আলী ও মো. দেলোয়ার হোসেন সুজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পদত্যাগপত্রটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরবোর ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, গত ২৯ নভেম্বর সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদিত হলেও পরবর্তীতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের সুবিধাজনক ব্যক্তিদের নিয়ে ৯ সদস্যের একটি পৃথক কমিটি গঠন করে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন করিয়ে আনেন। বিষয়টি নিয়ে বারবার আপত্তি জানানো হলেও কোনো সমাধান করা হয়নি। এছাড়া অনুমোদিত কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তার নিজস্ব কোনো ট্রাক নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব অসাংগঠনিক কর্মকা-ের প্রতিবাদেই তারা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে কুশপুত্তলিকা দাহ

পত্রদূত রিপোর্ট: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে আন্দোলন অব্যাহত আছে। সংসদ সদস্য পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো শ্যামনগরে রোববার বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বাবলাতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এ সময় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঠিকাদার মো. শামসুদ্দোহা। বক্তব্য দেন রবিউল ইসলাম, আবদুস সালাম, মফিজুল ইসলাম, মো. রাসেল প্রমুখ।
মফিজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের নৈতিক প্রত্যাশা ও সংসদ সদস্যের পদমর্যাদার কথা বিবেচনায় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্য বক্তরা বলেন, শ্যামনগরের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গাজী নজরুল ইসলামকে ইতিমধ্যে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শ্যামনগর অচল কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার সব উপজেলায় একযোগে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্ক ও নির্বাচনী এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলার মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ জরুরি সভায় বসে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।