সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে অনাবাদী জমি এখন তরমুজের ক্ষেত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে অনাবাদী জমি এখন তরমুজের ক্ষেত

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির): সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে এক সময় আমন পরবর্তী সময়ে শতশত হেক্টর জমি অনাবাদী পড়ে থাকত। কিন্তু সেই চিত্র এখন বদলে দিয়েছে পাঁচ শতকের ‘মিনি পুকুর’ প্রযুক্তি। বর্ষার বৃষ্টির পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তরমুজ খেতে সেচ দেওয়ার এই কৌশলটিই এখন আশাশুনি ও শ্যামনগরের প্রান্তিক চাষিদের ভাগ্য বদলের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে লোনা জমিতে তরমুজ চাষে সফল হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় ৪৭১ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায়। লোনা পানির প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ‘ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন’ প্রকল্পের আওতায় খনন করা মিনি পুকুরগুলোই এখন এসব উপজেলায় সেচের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।

উপকূলের কৃষকদের কাছে এই মিনি পুকুর মূলত একটি ‘মিষ্টি পানির প্রাকৃতিক ব্যাংক’। এটি সাধারণত চাষযোগ্য জমির এক কোণে নিদিষ্ট একটি জায়গাজুড়ে খনন করা গভীর একটি বিশেষ জলাধার। বর্ষা মৌসুমে যখন উপকূলে বৃষ্টিপাত হয়, তখন সেই পানি প্রাকৃতিকভাবেই নিচু এই পুকুরগুলোতে গিয়ে জমা হয় এবং পুকুরগুলো মিষ্টি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। পরে শুষ্ক মৌসুমে এই জমানো মিষ্টি পানিই হয়ে ওঠে চাষিদের একমাত্র সম্বল। কৃষকরা পুকুরের এক কোণে ছোট সোলার পাম্প অথবা ডিজেল চালিত পাম্প বসিয়ে ফিতা পাইপের মাধ্যমে পানি ক্ষেতে নিয়ে যান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপকূলের লোনা জমিতে এখন সারি সারি তরমুজের খেত। অথচ স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগে এসব অঞ্চলের বিলগুলোতে আমন ধান কাটার পর বছরের লম্বা একটি সময় জমিগুলো পতিত পড়ে থাকত। মাটির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে যেখানে পানির সেচ সংকট বেশি সেখানকার চাষিরা এই সময়ে বোরো আবাদে সাহস পান না। মূলত বোরো ধানের জন্য যে বিপুল পরিমাণ মিষ্টি পানির প্রয়োজন হয়, শুষ্ক মৌসুমে তা পাওয়া দুষ্কর। অন্যদিকে, তরমুজ একটি লবণসহিষ্ণু ফসল এবং এতে বোরোর তুলনায় পানির প্রয়োজন অনেক কম। ফলে মিনি পুকুরে জমানো সামান্য বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে বোরোর ঝুঁকি না নিয়ে চাষিরা এখন তরমুজকেই লাভজনক বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তরমুজ স্বল্পমেয়াদী ফসল হওয়ায় এটি তোলার পর জমি ফেলে না রেখে আরও একটি ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চৈত্র বা বৈশাখের শুরুতে তরমুজ বাজারজাত করার পর চাষিরা সেই জমিতে আউশ ধান, পাট বা গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এতে করে উপকূলের এক ফসলি জমিগুলো এখন নিবিড় চাষাবাদের আওতায় আসছে।

বড়দল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সত্যরঞ্জন বৈরাগী জানান, গত বছর তরমুজে কৃষকদের ব্যাপক লাভ হতে দেখে এবার তিনি নিজেও ১০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর আমাদের এলাকার অনেক কৃষক বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করেছিলেন। সেই আগ্রহ থেকেই এবার বড়দলের বিলগুলোতে তরমুজের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এবার মজুরি, সার ও বীজের দাম কিছুটা বেশি, তবুও ফলন ভালো হওয়াতে আমরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।

আর্থিক লাভের ক্ষেত্রে জামালনগর গ্রামের আফছার গাজীর গল্পটি এখন এলাকার কৃষকদের মুখে মুখে। গত মৌসুমে তিনি ১৬ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। তার মোট খরচ হয়েছিল ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা এবং তিনি প্রায় ১২ লক্ষ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করেন। এক মৌসুমে ৮ লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করায় তাকে দেখে এলাকার অনেক চাষি এখন নিজ উদ্যোগে মিনি পুকুর খনন করছেন।

আফছার গাজী বলেন, লবণাক্ততার কারণে আগে এসব জমিতে কিছুই হতো না। কিন্তু মিষ্টি পানির ব্যবস্থা হওয়ায় এখন লোনা মাটিতেও সোনা ফলছে।

বড়দল ইউনিয়নের আরেক বড় চাষি মাসুম সরদার এবার ৭০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি জানান, বিঘা প্রতি তরমুজের গড় উৎপাদন ৭০০ থেকে ৮০০টি। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলন ও বাজার দর ভালো থাকলে প্রতি বিঘা তরমুজ ৭০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়। এ থেকে একজন কৃষক বিঘা প্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ করতে পারেন।

তরমুজ চাষের এই কর্মযজ্ঞ উপকূলীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি করেছে। প্রতিদিন কয়েকশ নারী ৪০০ টাকা মজুরিতে চারা পরিচর্যার কাজ করছেন।

ঝর্ণা রানী নামের এক নারী শ্রমিক জানান, তরমুজ চাষ শুরু হলে এলাকার ৩ থেকে ৪ শত নারী প্রায় দুই মাস কাজের সুযোগ পান। তিনি বলেন, আগে এই সময়ে আমাদের কোনো কাজ থাকত না সে অর্থে। এখন তরমুজের খেতে কাজ করে আমরা সংসারে বাড়তি টাকা দিতে পারছি।

শ্যামনগর উপজেলার চিত্রও একই রকম। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শ্যামনগরে ১৫২ হেক্টর জমি তরমুজ চাষের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে কৈখালী ইউনিয়নে ১০৫ হেক্টর, কাশিমাড়ীতে ২০ হেক্টর এবং ঈশ্বরীপুরে ২১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে শ্যামনগরে চাষ হয়েছিল ১০০ হেক্টর জমিতে। জাম্বু গ্লোরি, ড্রাগন, পাকিজা ও ওয়ার্ল্ড কুইনের মতো উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ এখন উপকূলের মাঠে দেখা যাচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের চাষি আব্দুল মজিদ জানান, লোনা পানির কারণে এই সময়ে আগে তাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হতো। তিনি বলেন, আগে আমন কাটার পর আমরা বোরো আবাদ করতে পারতাম না, কারণ নদী-খালের পানি তখন বিষের মতো লোনা হয়ে যায়। এখন ছোট পুকুরগুলোতে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রেখে আমরা তরমুজ চাষ করছি। এই ফসলটি লোনা মাটি সহ্য করতে পারে এবং ধানের চেয়ে তিনগুণ বেশি লাভ দেয়। তরমুজ তোলার পর আমরা আবার সেই জমিতে আউশ বা সবজি লাগানোর সুযোগ পাচ্ছি।

কাশিমাড়ী এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, বোরো ধানে যে পরিমাণ সেচ আর সময় লাগে, তাতে আমাদের উপকূলে লাভ করা খুব কঠিন। কিন্তু তরমুজ লবণসহিষ্ণু হওয়ায় এবার ১৫ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। বাজার ভালো থাকলে বোরোর চেয়ে অনেক বেশি টাকা ঘরে আসবে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার লোনা মাটি তরমুজের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মাটির লবণাক্ততা সত্ত্বেও ‘ক্লাইমেট স্মার্ট’ প্রযুক্তির মাধ্যমে মিষ্টি পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা লোনা মাটিকেও চাষোপযোগী করে তুলেছে। বিশেষ করে রবি মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে খনন করা মিনি পুকুরগুলোই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।

তিনি আরও জানান,বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় আবাদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় অনেকাংশে বেড়েছে। প্রকল্পের আওতায় আমরা চাষিদের প্রশিক্ষণ, সোলার পাম্প ও সেচ সরঞ্জাম সরবরাহ করছি। সরকারি পর্যায়ে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং পচনশীল ফসল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা গেলে তরমুজ চাষ এই অঞ্চলের স্থায়ী অর্থনৈতিক ভিত্তি হতে পারে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা কাজের তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সাতক্ষীরা শহরের বাড়িতে একা হয়ে পড়া মেয়েটির ওপর তখন পরিবারের কার্যকর কোনো নজরদারি ছিল না। সেই সুযোগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পার হতেই সে জানতে পারে তার স্বামী একজন পেশাদার জুয়াড়ি। পাওনাদারদের চাপ, পারিবারিক কলহ আর স্বামীর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মুখে বাপের বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হয় সে। পরবর্তীতে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করে সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ-মাইনাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জীবনে বাল্যবিবাহের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে এই তরুণী এখন বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উল্লেখ করেন, অবুঝ বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সংসারে অশান্তি শুরু হয় এবং জানতে পারেন স্বামী নিয়মিত জুয়া খেলত ও ঋণের মধ্যে ছিল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে ফিরে এসে আবার পড়াশোনা শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিজের মতো করে জীবন গড়ে তুলতে চান।
সাতক্ষীরা শহরজুড়ে আইনি ফাঁকফোকর, সামাজিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে শতশত কিশোরীর জীবন এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের কলবাড়ি নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে এই কিশোর-কিশোরী এক সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়েছিল যে, বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই অঙ্গীকারনামা অমান্য করে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা জজ কোর্টের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করিয়ে ১৫ ও ১৬ বছরের দুই নাবালক-নাবালিকাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও আইনি ও দাপ্তরিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্য না চাইলে পুলিশ সরাসরি গিয়ে অভিযান চালাতে পারে না।
শ্যামনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য অফিশিয়াল নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি উপস্থিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলামের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এফিডেভিটের মাধ্যমে সামাজিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের বর্তমান গড় হার দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে, যার মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। উপকূলীয় এই অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত লবণাক্ততায় নিয়মিত কাজ করার ফলে কম বয়সে মেয়েদের শরীরের ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে সামাজিক ভীতি থেকে অভিভাবকেরা দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেন।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি হেলেনা বিলকিস জানান, ক্লিনিকে আসা গর্ভবতী নারীদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই বয়সে সন্তান ধারণের কারণে এবং অতিরিক্ত লবণাক্ত পরিবেশের প্রভাবে তাদের উচ্চ রক্তচাপ, এপিলেপসি ও রক্তস্বল্পতার হার বেশি। নদী পার হয়ে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে অনেক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ে বেআইনি। অসাধু নোটারি পাবলিক ও জালিয়াতি চক্র টাকার বিনিময়ে এফিডেভিট করে দিচ্ছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত জানান, কার্যকর নজরদারির অভাবের কারণেই অঙ্গীকারনামা থাকার পরও বাল্যবিবাহ রোখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকারের উদ্যোগ ও সঠিক সনদ যাচাই ছাড়া বিবাহ রেজিস্ট্রি বন্ধ করা প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, গোপনে ও এফিডেভিটের অপব্যবহার করে বিয়ে সম্পাদন করার কারণে সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না, তবে স্থানীয় নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

সংবাদদাতা: আশাশুনির প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপদ অপসারণ ও আগাম সতর্কবার্তা বিষয়ক পরিবারভিত্তিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর বাস্তবায়নে, ‘সিডিডি’-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে ‘রেজিলেন্স বিগিনস এট হোম’ প্রকল্পের অধীনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ২৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর কেয়ারগিভার অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসেন। বক্তব্য দেন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মো. মামুন আলী ও প্রজেক্ট ফোকাল এস এম মিজানুর রহমান।

আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি দখল করে বানানো খুপড়ি ঘর ও বেড়া আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অপসারনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কালিগঞ্জ থানার গোলঘরে অনুষ্ঠিত এক সালিশি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ১৪ আগস্ট রাতে গ্রাম পুলিশ সাইফুল ও তার সহযোগীরা জয়দেব রজক ও বাসুদেব রজকসহ ছয়টি পরিবারের জমিতে খুপড়ি ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে বাসুদেব রজক ও রীনা রানী রজক থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করলে শালিসি সভা ডাকা হয়।
সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল মীর জানান, সাইফুলের পক্ষ থেকে জমির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অবৈধ ঘর ও বেড়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শালিসি সভায় দক্ষিণ শ্রীপুর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলফিকার সাঁফুই ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তনামায় স্বাক্ষর করেন। কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম হাওলাদারকে বদলী করে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মো. শাহীন যোগদান করেছেন।